পোস্ট বার দেখা হয়েছে
শ্রেয়ান সেই যে হাঁটুর ভেতর মুখ গুঁজে বসে ছিলো, সেভাবেই বসে রইলো। ওর একবারের জন্যও ইচ্ছে করলো না যে উঠে গিয়ে পত্রালীকে চলে যেতে বাধা দেবে। বরং ওর মনে হচ্ছিলো, -- এটাই হওয়ার ছিলো, দুদিন আগে আর দুদিন পরে। মন্দারের সাথে যে পত্রালী বেশ ভালো মতো জড়িয়ে গেছে সেটা সিক্তা বারেবারেই শ্রেয়ানকে বলেছিলো, কিন্তু সিক্তার বলার পেছনে যেন একটা উদ্দেশ্য ছিলো। সিক্তা কাঁটা দিয়ে কাঁটা তুলতে চেয়েছিলো। ও চেয়েছিলো শ্রেয়ানের সাথে ওর কিছু ঘনিষ্ঠ মুহূর্তে ছবি মন্দারকে পাঠিয়ে দিয়ে নিজের মনের জ্বালা মিটিয়ে মন্দারের জ্বালাকে বাড়িয়ে তুলতে। সিক্তার ডাকে সেকারণেই স্বাভাবিকভাবে কোনো হৃদয় দৌর্বল্যের ছায়া দেখতে পায়নি শ্রেয়ান। শুধুমাত্র একটা নারী শরীরের টানে ঘনিষ্ঠতা করতে সেকারণেই শ্রেয়ানের মন সায় দেয় নি।
সিক্তা চলে গেলো ঠিকই কিন্তু রেখে গেলো ওর হারমোনিয়ামটা। ওটাকে মাঝেমাঝেই গুড়োগুড়ো করে ফেলার কথা মনে হয়েছে ওর কিন্তু সেসময়েই যেন অদৃশ্যভাবে মঞ্জিলা এসে দুহাত দিয়ে হারমোনিয়ামটাকে আগলে দাঁড়িয়েছে। যেন এক আশ্চর্য স্বপ্নালু দৃষ্টিতে তাকিয়ে থেকেছে শ্রেয়ানের দিকে।
পরে শ্রেয়ান অনেক করে ভেবেছে কথাটা,ভালোবাসি -- সামান্য এই চার লাইনও সে কখনও বলে উঠতে পারেনি মঞ্জিলাকে। মঞ্জিলার কাছে এ খবর কখনোই গিয়ে পৌঁছোয় নি যে ওর জানার আড়ালে একজন বিবাহিত সদ্য যুবক ওর গাওয়া গানকে বুকের মধ্যে আসন গেঁড়ে বসিয়ে রেখেছে। যদিও সেই ফাংশনের আগে কেউ একবারের জন্যও অন্যজনকে চোখে দেখেছে কিনা সেটা ওদের দুজনের একজনও মনে করতে পারবে না।
ফাংশনের পর থেকে যেন নিয়তি নির্দিষ্ট নিয়মেই দেখা হয়ে যেতো ওদের। ধীরেধীরে পরিচয় থেকে আলাপ, টুকটাক কথাবার্তা বলা এসবকিছুই হয়েছে, কিন্তু এরফলে যে শ্রেয়ানের মনে, ওর জন্য চুপিসারে একটা আসন পাতা হয়ে গেছে , সে কথাটুকু মুখফুটে যেমন শ্রেয়ানের বলা হয়ে ওঠেনি, ঠিক একইভাবে মঞ্জিলার পক্ষেও কোনোদিনও জেনে ওঠা হয়ে ওঠেনি।
সেকারণেই শ্রেয়ান যেদিন মঞ্জিলাকে ওদেরই পাড়ার বিভাসের সাথে দেখতে পেলো, তখন শ্রেয়ানের বুকভাঙ্গা নিশ্বাস মঞ্জিলার মনের বাগানে খবর হয়ে পৌঁছুলো না। এরকম যে কতবার হয়েছে যে শ্রেয়ান কী বলবে সে কথা সারাদিন ধরে রিহার্সাল দিয়েও মঞ্জিলার সামনে এসে সব কথাগুলো কেমন যেন সাবানের ফেনার মতো ফেটে গেছে।
( ক্রমশ )

0 মন্তব্যসমূহ