দর্পণ পত্রিকা || ফেসবুক সাপ্তাহিক নির্বাচিত কলম




পোস্ট বার দেখা হয়েছে

========================

নির্বাচিত কলমে 

( Selected Pen )


সোমনাথ শাস্ত্রী , মনির আহমদ  , অকবি , জয়ীতা চক্রবর্তী আচার্য , মহারানী (বেবী মন্ডল) , Maruf Sheikh , গীতা ভট্টাচার্য্য,  Dr. Balaram Ghosh ,   সঞ্জীব সাহা , তাপস দাস, মালা সেন দে,  চিন্ময় বসু , সঞ্জীব চক্রবর্তী, শিবাজী সান্যাল,  Daniela Marian, অয়ন দাস

=============================

মা

সোমনাথ শাস্ত্রী 


তোমার পায়ের কাছে এসে বসি

স্পর্শ করি রোজ

চেয়ে থাকি পরিযায়ী চোখে

যা তোমাদের কাছে দর্শন বলে

মনে হয়


কিছু চাইতে নয় বরং

বাছাই করা কিছু প্রশ্ন রাখি

নিঃশব্দে

সাদা খাতা,উত্তর মেলে না

ত্রিনয়নী প্রশ্নপত্রে বিভোর


চুক্তিভিত্তিক মন নিয়ে ফিরে আসি।

===

ভরম্ভর্তী সংসার::::

মনির আহমদ           


ডঁঅর বউয়ে কুডের-বাছের

নানান ডইল্যা তরহারী।

মাইঝ্যা বউয়ে ধোর-ফা'লের

যিয়ান রাঁধন্ দরহারী।

সাইঝ্যা বউয়ে এক কিনার্দি

হোলর্ ঝিরে দুধ খা'বার।

আমানদিচ্তাত্ দুকি ঔরী

মাইট্যাইয়েরে ফান চাবার।


গুরা ফুত্যুয়া গেল্দে বছর

দুবাই গেইয়ে চঅরী লই।

রাইতুত্ হাঁদে ইতার বউয়ে

"আঁর জামাই গেল্গুই হই"?

হাম্যুয়া বেডি মাছ কুডের্দে

টিহলর্ ফাক্কা গোড়াত্।

ফেঁডাফুঁডায়িন ফেলের দে ইথি

ডাগদির্ হাঁছারা জোড়াত্।


ডঁঅর ফুত্যুয়া চঅরী গরে

চকবাজারর্ মেডিক্যাল্।

বুড়ীর চিন্তা বুইজ্যা কিল্লাই

এ'সুখ্খিন ফেলি গেল্?

ফাঁচ্যুয়া বছর আগে বুইজ্যা

দুম্মুর গরি গেল্ মরি।

বুইজ্যার মঅত দেইয়েরে বুড়ী

থিয়াত্তুন গেল্ ফড়ি।

ডঁঅর ফোয়াউয়া হোলত্ তুলি

দূঁড় দিয়িল্ অস্ফিটাল।

ইন্ডিকশন দঅনর্ ফরে

বুড়ীর য়োঁশ ফিরি আইল্।


মাইঝ্যা ফুতে ঘাঁঢার আগাত্

খুইল্যে একখান দোয়ান।

আরা দিন্টুয়া বেচের এন্ঢে

নানান রহমর্ ছামান।

সাইঝ্যা ফুতে চিঞ্জি চলায়

হাফ্তাই রাছ্তার মাথাত্।

একদিন ইথা মাথা ফাডাইল্

চাক্কা ফইড়জিল গাঁথাত্।

এ'দিন অইতে ফড়ি রইয়ে

ব্যান্ডিশ বাঁধিয়েরে ঘরত্।

তার বউয়া যাইত্ ন ফারিল্

নাইয়ুর আর বঅরত্।


বেয়ানে নাছ্তা খাইয়ে ব্যাকে

হাট্টলর রস উড়ুম দি।

ফিঢাঅ হউয়া ভাজি লইয়িল্

রস আর চইলুর গুড়ি দি।

চাইরু বউয়ুর ফুত-ঝিঅল

আইজু ফড়ি ঘুম যার।

ইস্কুল-মদ্রাছা ব্যাক্ বন্

সঅরে উডন্ কি দরহার?

~~~~~~~~~~~~        ~~~~~

অনুবাদ::::

~~~~~~

বড় বউটা কুটা-বাছাই করছে

নানা রকমের তরকারী।

মেঝ বউ ধুয়ে সাফ করছে

যেটা রান্না করা দরকারী।

সেঝ বউ এক পাশে

কোলের মেয়েকে দুধ পান করাচ্ছে।

হামানদিস্তায় পান পিষে

শাশুড়ী বুড়ী মাড়ী দিয়ে চিবুচ্ছে।


ছোট ছেলেটা গত বছর

চাকুরী নিয়ে দুবাই গেছে।

তার বউটা কাঁদে রাতে

"আমার বরটা কোথায় চলে গেল''?

কাজের বুয়া মাছ কুটছে

চাপাকলের পাকা গোড়ায়।

নাড়িভূড়িগুলি ফেলছে সে

পাশের নোংরা নালায়।


বড় ছেলেটা চাকুরী করে

চকবাজারের মেডিকেলে।

বুড়ী চিন্তা করছে বুড়ো কেন

এত সব সুখ ছেড়ে গেল চলে?

পাঁচটা বছর আগে বুড়ো

হঠাৎ করে গেল মরে।

বুড়োর মরণ দেখে বুড়ী

দাঁড়ানো অবস্থা থেকে গেল পড়ে।

বড় ছেলে তাকে কোলে নিয়ে

দৌড়ে হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিল।

ইঞ্জেকশন দেবার পরে

বুড়ীর হুঁশ ফিরে এসেছিল।


মেঝ ছেলে বাড়ীর সীমানায়

খুলেছে একটা দোকান।

সারা দিনিভর বিক্রী করে সেখানে

নানা রকমের মালপত্র।

সেঝ ছেলে সিএনজি চালায়

কাপ্তাই রাস্তার মাথায়।

একদিন সে মাথা ফাটালো

চাকা পড়েছিল গর্তে।

সেদিন থেকে পড়ে আছে

ব্যান্ডেজ লাগিয়ে ঘরে।

তার বউটা আর যেতে পারল না

বাপের বাড়ীতে নাইওর।


সকালে নাস্তা করেছে সবাই

কাঁঠালের রস দিয়ে মুড়ি।

পিঠাও কিছু ভেজে নিয়েছিল

রস-চালের গুড়ো দিয়ে।

চারটে বউয়ের ছেলে-মেয়েরা

এখনো পড়ে পড়ে ঘুমোচ্ছে।

স্কুল-মাদ্রাসা সব বন্ধ

তাড়াতাড়ি উঠার কি দরকার?

====

 বিপ্লব

অকবি


মানুষকে ভালোবাসার স্বপ্নে ভেসে সুন্দর পৃথিবীর

গড়ার আশাতে আর একান্ত আলাপচারিতায়

আমাদের নির্ঘুম রাতগুলো কাটাতাম!

আমাদের সেই নির্ঘুম রাতগুলো যদি সঙ্গবদ্ধ হয় -

থেমে যাবে সময়, নদীর স্রোত, জনবহুল রাস্তা!

অবিশ্বাস্য হলেও, এমন বিশ্বাস নিয়েই বাঁচতাম …

বিশ্বাস করতাম,

একদিন এই নষ্ট পৃথিবীর বুকে জন্ম হবে

এক পবিত্র শিশু।

ভেজা মাটির সোঁদা গন্ধ আগলে রাখবে

সেই শিশুটিকে।

মানুষ তাকে আশ্রয় ও প্রশয় দেবে,

সৃষ্টির একান্ত ইচ্ছায় শিশুটি বেড়ে উঠবে!


মানুষ ভালোবাসে সুন্দর স্বপ্ন দেখতে  

আমরাও তো স্বপ্ন দেখতাম-

বলতাম দেখিস একদিন সব ঠিক হয়ে যাবে ।

অগ্নি স্ফুলিঙ্গ থেকেই সৃষ্টি হবে নতুন প্রজন্মের,

নুতুন ঝকঝকে প্রভাত দেখবে নতুন পৃথিবী ।

অনাগত সেই শিশুর নাম রেখেছিলাম 'বিপ্লব'।


আজ এই কঠিন মুহূর্তে পৃথিবীর মানুষ

সেই বিপ্লবের অপেক্ষায়…

ক্রান্তিলগ্নে পৌছে গেছি আমরা-

সেই শিশুটির হাতে ধরে ভালোবেসে 

এবার সত্যিই বাঁচতে চাই।

====

ক্রন্দন

জয়ীতা চক্রবর্তী আচার্য


এত আলো চায় না তো চোখ

এই চার দেওয়াল । গোপন ইতিহাস।

গুমোট ব্যথায় চোখের জলেই একটা নিভাঁজ ছবি হয়ে যায়। চোখ বুজে আসে‌। রাস্তার ম্যানহোলে পড়ে গেছে,।


ক্ষুধার্ত শব্দ ছুটে, উত্তর থেকে দক্ষিণ মেরু,

ভাতের হাঁড়িতে আগুন ফুরায়, সারা বছরের বিমর্ষ দিনগুলি মুছে যায়।

দুঃখ কি এতই হালকা, বাতাসে ভেসে বেড়ায়?

আতিথেয়তায় কোনো ফাঁক নেই। খড়কুটো সব নদীর জলে । জন্মের কাছে, খানিকটা আশ্চর্য শুন্যতা,আমি নিঃশব্দে ডুবে যাই ,

জন্ম-মৃত্যুর পথে । কেউ হয়তো  আগুন জ্বেলেছে। পদ্ম ফুটে আছে একা। সময়ের ভগ্নাংশ,গাণিতিক-জীবনবাদে।

====

 স্পষ্ট বক্তা মানে শত্রু 

 মহারানী (বেবী মন্ডল) 

  


             পৃথিবী ভরে গেছে বহুরূপীতে  

                       যে যখন খুশী রং বদলায় , 

    বড্ড ঘেন্না লাগে মানুষের এই পরিবর্তন দেখে, 

                       মানুষ আজ আর মানুষ নেই, 

               সব যেন এক একটা গিরগিটি, 

  মুখ আর মুখোশ চেনা বড্ড দায় .............. 


       আমাদের সমাজে এক ধরনের মজার চরিত্র  আছে।

 তারা বেস সুন্দর ধাতুতে গড়া।      

    এরা মনে করে, পৃথিবী এদের চারিদিকে ঘোরে।  

 এরা অদ্ভুত নিষ্পাপ❗   

 এরা কোন ভুল করে না,, 

 এরা সুন্দর যুক্তি দিয়ে বোঝাবে,,        

    তারা কত কিছু বোঝে।

 তারা যে আপনার থেকে

 শ্রেষ্ঠ,   সেটাও আপনাকে বুঝিয়ে দেবে। চেনেন নাকি  এরকম মানুষকে❓


তিনটি জিনিস দীর্ঘ সময় লুকিয়ে রাখা যায় না...... 

                    সূর্য, চাঁদ এবং সত্য। 


         সঞ্চয় করেছি অনেক ............. 

         তবে, টাকা নয় কিছু বাস্তব অভিজ্ঞতা। 


                    প্রয়োজন আছে বৈকি ............. 



      প্রয়োজন আছে বৈকি। নদীর শান্ত জলের প্রবাহ যে বড় বেশি নিরাপদ। একবার যে ফুঁসতে হবে। প্রবল হতে হবে। উচ্ছ্বাসে আঘাত হানতে হবে।   বাকে যে অসংখ্য আবর্জনা। 


        প্রয়োজন আছে, নিজেকে বোঝানোর।

               নিজের অস্তিত্বকে বোঝানোর। 


       প্রয়জন আছে, ভদ্রতাকে ছুঁড়ে ফেলে    

                  রূঢ় হবার। কর্কশ হবার। 


       সচেতনতা  আসেনি এখনো কিছু মানুষের মুখে কেবল  যুক্তির চুইংগাম। 

              চাপ দিয়ে অন্ধকারকে আলো করা যায়   

        চাপ তো একদিন তার মাত্রা ছাড়াবে। 

 সব আলো নিভে যাবে, সব জ্ঞান, সব সত্য ........


          মিথ্যে জিতে যায় ঠিকই, তবে .......... 

                  বুনে যায় পতনের চারা।।

=====

Poetry: Ah, what a humanity!

   The Tragic Poet : Maruf Sheikh 

       

       Dogs and cats are not humans.

       no conscience

       emissions anywhere

       Covering the silt with soil.


       where people are eligible.

        Dogs and cats are inappropriate in the image of society.


       But

       People deserve to live where they deserve the most.

       There dogs and cats are quite fit.

       Dogs and cats are humans.

       Man is cruel and wild by nature.


       Dogs and cats are loyal with a little love.

       And why unfaithful even after getting people's love?

=====

  সমাজের কাণ্ডারী

   ( কাগজ কলম )

গীতা ভট্টাচার্য্য

                  


          জীবনের চলার পথে ব্যবধান সৃষ্টির 

           চক্র ব্যুহ তৈরি করে আপন জনরাই।

           কালও ছিল আজ ও বর্তমানে আছে

            আর ভবিষ্যতে ও এমনই থাকবে 

            এই টাই কিন্তু এক দম বাস্তব সত্যি।

      

তার প্রমাণ বর্তমান দেশের সমাজের নানাবিধ পরিস্থিতির রূপরেখা  ----    আজ দেশের মধ্যেই ঐক্যের অভাব!

তারই ফলে মানুষের জীবনে নেমে এসেছে এক ভয়াবহ জীবন যাপন কাহিনী।

আজ দেশের প্রতিটা জিনিস দুর্মূল্যের মানুষের 

কেনার ক্ষমতা নেই। বিশেষ করে সাধারণ দরিদ্র মানুষের মধ্যবিত্ত রাও হিমশিম খাচ্ছে,

তার উপর চাকরীর বাজার নেই বললেই চলে। 


ঘরে ঘরে সন্তানেরা বেকার বাপ মার কাছে নিজেকে বোঝা বোধ করঝে। এরা মানসিক 

ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে আত্ম হত্যার পথ পয্যন্ত বেছে নিচ্ছে এমনই অবস্থায় এসে দাঁড়াল 

মানুষের মনের। 


এই ভয়াবহ অবস্থার পরিবর্তন করতে হলে এগিয়ে আসতে হবে- " কাগজ কলম " হাতে দেশের মানুষের মধ্যে যারা শিক্ষিত বুদ্ধিসম্পন্ন -মহান মনের  মানবিক চৈতন্যের আধিকারী সাহিত্যিক ও কবি গণদের। 


এই লেখক কবিরাই নিজেদের লেখনীর শৈল্পিক কারুকার্য্যে বিপ্লবীক লেখনীর মাধ্যমে-

সমাজের মানুষের মধ্যে মানবিকতার বীজ রোপণ করতে পারে । আর মানুষ কে জাগ্রত করার ক্ষমতার অধিকার ভুক্ত এই কবি ও লেখকেরা এক মাত্র পারে তাদের কলমের দ্বারা। 


ঐক্যের বন্ধনে আবদ্ধ করার ক্ষমতা রাখে। 

এই লেখক কবিরাই লেখনীর মাধ্যমে বোঝাতে পারে এই " ঐক্যবদ্ধই "

দেশ কে সুষ্ঠ ভাবে এগিয়ে নিয়ে যেতে সক্ষম হবে ও দেশের মঙ্গল সাধন সম্ভবপর। 


প্রমাণ স্বরূপ --- বৃটিশ আমলে সমাজ ও সভ্যতার পরিবর্তন এই কবি ও লেখকেরাই  করে ছিলেন তাঁদের-

 বিদ্রোহী ও বৈপ্লবিক লেখনীর সাহায্যে মানুষের 

মনে জাগ্রত করেছিলেন- বিদ্রোহী ও বৈপ্লবিক উদ্দীপনা সমাজের মানুষের ঘরে ঘরে।


এই কাজে এগিয়ে এসেছিলেন অনেক অনেক কবি লেখকেরা- যেমন বিদ্রোহী ও বিপ্লবী কবি

আমাদের প্রিয় কবি  -কাজী নজরুল ইসলাম -

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর- মুন্সী প্রেম চন্দ্র - বঙ্কিম চন্দ্র-

শরত্চন্দ্র ইত্যাদি মহান বিপ্লবীক সাহিত্যিক ও  

কবি যাদের লেখা পড়ে মানুষের মধ্যে বৈপ্লবিক 

চেতনা ভীষণভাবে জাগ্রত হয়েছিল। 


এই বৈপ্লবিক চেতনাই কেঁড়ে আনতে পেরেছে

বৃটিশের হাত থেকে " স্বাধীনতা " -!

কবি ও সাহিত্যিকের কাজ সমাজ ও সভ্যতাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে পথ চলা-।    লেখক কবিদের মধ্যে একতার মনোভাবনার অত্যন্ত প্রয়োজন। 

এই লেখক লেখিকা কবিরা এক উদ্দেশ্যেই তাদের কলম চালানোর প্রয়োজন বোধ করছি। 

যার সাহায্যে দেশের দশের সার্বিক উন্নয়ন সম্ভব। বর্তমান সমাজের পরিস্থিতে এই লেখক কবিদের উপর ভয়ংকর গুরু দায়িত্ব। 


যে গুরু দায়িত্ব এক সময়ে আমাদের দেশের কবি সাহিত্যিকেরা নিজেদের লেখনীর মাধ্যমে

সহস্র নব যুবক যুবতীদের আহ্বান করেছেন। 


কাজী নজরুল ইসলাম ছিলেন আমাদের সেই

            " বিপ্লবী ও বিদ্রোহী কবি "

বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম- তাঁর লেখনীর মাধ্যমে-- প্রলয় নাচন নাচিয়েছিলন 

               " বৃটিশ রাজ শক্তিকে " !

বর্তমানের অবস্থা তো অমন নয় বিদেশিদের 

কাছে আমাদের প্রিয় দেশ নয় এখন। 

তবে আমরা যদি-

ঐক্যবদ্ধ না হই তবে ধীরে-ধীরে-- 

এই দেশ আবার কব্জা করতেই পারে যে কোন 

দেশের মানুষেরা। কারণ একটাই আমাদের দেশের রাজনৈতিক নেতাদের আদর্শের অবনতির কারণ। 


এই আমাদের দেশের প্রতিটা রাজনৈতিক দলে

নিজেদের মধ্যেই ঐক্যের অভাব। 

এমনই প্রতিটা রাজনৈতিক দলের এক অবস্থা। 

এ মত অবস্থা দেখে অন্যান্য দেশ ভাবতেই পারে 

এই দেশ কে কব্জা করা খুব সহজ। 

কারণ আজ ভারত বর্ষ দুর্বল।  ওরা নিজেরাই 

নিজেদের মধ্যে লড়াই করতে ব্যস্ত। 


অত এব বিদেশীদের হাতে চলে যেতে পারে--।

এখনও সময় আছে। সব দেশ বাসিন্দাদের 

একত্রিত করার জন্য যা কিছু করার করতে হবে 

আর এই কাজ অ-রাজনৈতিক বৈপ্লবিক চেতনা

সৃজন করার জন্য লেখক লেখিকা ও কবিদের এগিয়ে আসতে হবে কাগজ কলম নিয়ে। 


      লেখক লেখিকা ও কবিরা এগিয়ে আসুন,

            এই দেশ কে সুসংগঠিত করতে। 


=====

Name of poem :  22 years of solitude

               Poet        : Dr. Balaram Ghosh 

               

I had had  seen the sky  standing all 'lone, no one to have a talk with him .

I was in the sea and realised she's no one to cry with.

I feel  the Himalayas are growing and crossing himself day by day,  but no one's there for him to accompany or share  sorrows,  pains and darknesses of life .

I am seeing and listening to the wind ,

"Don't stop, please keep blowing like me!"

I'm walking, but always fearful of the sarcasm I have to bear that surrounding human world, has in store for me. 


Someone whispered, "This works, but move ahead."

So have I been walking, running for 22 years, haunting the meaning of "This works , but move ahead ... ", but couldn't  reach to realise to feel the meaning for the same...  

Earth is whispering ,  "Please learn, listen and see , how I tolerate every torture but never do I blame others ."

Taking all these words in my mind, I am returning to my home that finds no address...

=====

রেডিও নাটক

সঞ্জীব সাহা


আমাদের ছোটবেলায় রেডিওর একটা বিশেষ আকর্ষণ ছিল। এখনকার মত তখন তো এফ এম ছিল না ,আবার এতগুলো টিভি চ্যানেলও ছিল না। কম্পুটার মোবাইল বা ইন্টারনেটও ছিল না। ফলে ঘরে বসে অবসর বিনোদন বলতে রেডিও শোনা , ঘরের বাইরে সিনেমা হলে গিয়ে উত্তম-সুচিত্রা বা অমিতাভ-রেখাদের বাংলা-হিন্দি সিনেমা দেখা । সঙ্গে সব সময়ের জন্য বই তো ছিলই।  সিনেমা আমি প্রচুর দেখলেও রেডিও শোনা আর বইয়ের উপর আমার আকর্ষণ ছিল প্রবল। একটা উপন্যাস পড়তে শুরু করলে যেন ডুবে যেতাম। কোনও খেয়াল থাকত না—চোখের সামনে  চরিত্রগুলো আমার চেনা জানা মুখ হয়ে  ঘুরে বেড়াত। লেখকের বর্ণনায় যে ছবি ফুটে উঠত, সে ছবি যেন আমার চেনা ছবি। আমার কল্পনার  ক্যানভাসে আমি নিজে নিজেই ছবি আঁকতাম—এই তো সেই পুকুরপার , যার পারে দুটো খেজুরগাছ, যার একটি আবার হেলানো। ঐ তো গল্পের নায়িকা নীরজা যে আসলে আমাদের পাড়ার অনিতাদি। গল্পে যে রেলগাড়ি চলছে, সে তো আমাদের পাড়ার পাশ দিয়ে  হুইসেল দিয়ে চলে যাওয়া রেলগাড়ি , এমনি আরও কত কী ! সবই তো আমার চেনা !   লিখেছেন শুধু অন্যজনে। এই যে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে নিজের চোখের সামনে ভেসে ওঠা চেনা চরিত্র , চেনা পরিবেশ রচনা করা সে ছিল এক অদ্ভুত আনন্দ। স্বাধীনতাও।  তাই সিনেমার চেয়ে আমার বই ছিল বেশি প্রিয়। 

ঠিক একই রকম স্বাধীনতা ছিল রেডিও নাটকে। রেডিও নাটকেও একইভাবে সংলাপ আর আবহসংগীতে এমন এক পরিবেশ তৈরি করা হত যে, তাকে ভাল না বেসে কোন উপায় থাকত না।  সেখানেও যে চরিত্রগুলো কথা বলত , মনে হত এই তো আমাদের পাড়ার সেই ছেলে বা মেয়ে, যাদেরকে আমি ছোট থেকেই চিনি ।  কখনও তার সঙ্গে মিল খুঁজে পেতাম পড়ার শ্যামলদাকে , কখনও বা অতসীদি। আবহসংগীতে রাতের ঝি ঝি পোকার ডাক শুনলে মনে হত আমাদের আম বাগান পেরিয়ে যে জল- জঙ্গল আছে, সেখানেই গভীর রাতে ঝি ঝি পোকা ডাকছে।  এমনি আরও কত কী।  রেডিও নাটক শুনতে শুনতে  শুধু ক্ল্পনা করা।  জগন্নাথ বসু ছিলেন  তখন আমাদের কাছে আর এক উত্তম কুমার। ওঁর গলার রোমান্টিকতায় সব মেয়েরা পাগল। শম্ভু মিত্র- তৃপ্তি মিত্র শাঁওলি মিত্র শ্রাবন্তী মজুমদার শ্রীলা মজুমদার নির্মল কুমার অজিতেশ বন্দোপাধ্যায় এক একজন শুধু কন্ঠমাধূর্য আর বৈচিত্র্যে মাতিয়ে রাখতেন বাংলার প্রতিঘর।   সিনেমায় যে ছবি আমরা দেখি সেটা তো অন্য একজনের তৈরি করা ।  সেখানে দর্শকের নিজের কিছু রচনা করার অবকাশ থাকে না।   সিনেমা  হল দর্শকের উপর আরোপ করা চলমান ছবি, যা একটা সম্পূর্ণ অন্য মাধ্যম।   কিন্তুু গল্পের বই আর রেডিও নাটকে সেই স্বাধীনতা থাকায় পাঠক লেখকের লেখাটাকে নিজের মত করে গড়ে নিতে পারে ।  এইখানেই আসে বৈচিত্র্য। পাঠকও লেখকের লেখার মধ্যে ঢুকে গিয়ে নিজেই লেখক হয়ে যান। রেডিও  নাটকের মধ্যেও এই স্বাধীনতা থাকার জন্যে এত ভাল লাগা ছিল । আমরা অপেক্ষা করে থাকতাম শুক্রবার রাত আটটা বা রবিবার বেলা আড়ইটার রেডিও নাটকের জন্য।

=====

তুমি নেই বলে

  তাপস দাস

       

তুমি নেই বলে আলপনা হয়নি মাটির দেওয়ালে।

মৌয়াল আজও ফেরেনি গিয়েছে বনে কত কালে!

তুমি নেই বলে কোকিলের আসেনা বসন্ত।

পথিকের পথে বারবার আসে অন্ত।

তুমি নেই বলে আবার যুদ্ধ বেঁধেছে, এবার রাশিয়া-অষ্ট্রিয়ায়।

গোধূলীর আসার আগেই সূর্য ডুবে যায়।

তুমি নেই বলে শুকনো পাতায় ভরে গেছে বৃক্ষতল‌।

মারিয়ানার গভীর খাতেও শুকিয়ে গেছে জল।

তুমি নেই বলে বিলীন হয়েছে প্রেমের মমতা।

সাইবেরিয়া উষ্ণ ভীষন নেই কোনো শীতলতা।

তুমি নেই বলে বহুযুগ বৃষ্টি নেই,শুধু কালো মেঘে ঢেকে যায় আকাশ।

কোটি আলোকবর্ষ ধরে পাথরের কথাগুলো হয়না প্রকাশ।

তুমি নেই বলে বঞ্চিত হচ্ছে দূর্বল যারা বারবার।

প্রবল বাতাসে সাঁজের আলো নিভে গেছে আবার।

তুমি নেই বলে আমি কখনো মিছিলে হাটিনি।

প্লাবিত বিলে কলার ভেলায় খেলার ছলে ভাসিনি।

তুমি নেই বলে পোস্ট অফিসে কতযুগ চিঠি আসেনি।

ধূলোয় ভরা ডাকবাক্স খুলে কেউ ঝাড়েনি।

তুমি নেই বলে তপ্ত দাবদাহ ময় চারপাশ,

ক্লান্ত আজ যাযাবর,করছে নিরবে গৃহে বসবাস।

তুমি নেই বলে অনেক খুঁজেও পাইনা আমার আমাকে।

কেন এতো বদলে গেছি বলা হয়নি তোমাকে।

তুমি নেই বলে বেঁচে আছি মিশরের মমির মত।

হয়না আজ জাগ্রত,প্রেরনা ছিল যত।

তুমি নেই বলে হিমালয়ের মতো দাঁড়িয়ে থাকলে পারিনি।

সমুদ্রে আর কখনো নৌকা ভাসাতে পারিনি।

তুমি নেই বলে পিকাসোরা আঁকে না আর ছবি,

লেখেনা আর কোনো কবিতা কবি।

জেলে ধরেনা মাছ,কৃষক করে না চাষ।

তুমি নেই বলে নিজ গৃহে গৃহস্থের পরবাস।

তুমি নেই বলে,

শুধু তুমি নেই বলে

=====

ঈশান কোণে

মালা সেন দে


বর্ষা এসেছে, আমার শহর ভীষণ একলা এখন,

ঈশান কোণে মেঘ জমেছে ,ঘিরেছে একরাশ অন্ধকার ।

আস্তে আস্তে ঝাপসা হচ্ছে পথ,চোখে তার অনন্ত জলরাশি,

হাওয়ায় কত কথা জমানো চিঠি ,নাম জানিনা, জানিনা ঠিকানা তাদের ।


দামিনী তুমি কি পেয়েছ বাঁধা, দাঁড়িয়ে আছ কেন?

এতো অন্ধকারে ভালোবাসাও আজ ভিখারী ।

তোমার স্বভাব সুলভ অবাধ্যতায় বুকের মধ্যে সাড়া পাই,

বেঁচে থাকার ইচ্ছেটায় ছুটতে ছুটতে হাঁপিয়ে পড়ি ।

দূর থেকে ঠিক বোঝা যায় না,হাওয়ায় উড়ছে ধুলো ,

শরীর আমার ভিজে যায় বিষন্নতায়।

ভিজে যাওয়া এ শহরে পায়ের ছাপও থাকছে না,

ভিজে যাওয়া ব্যস্ত মুখরতা পড়ে থাকে শুনশান ।

আস্তে আস্তে ভালোবাসাগুলো প্রাচীন হচ্ছে,

শুকিয়ে যাওযা় ঠোঁট ভিজতে কাটিয়ে দেবো কি অনন্তকাল।


ফিরে এসো, তোমাকে ছাড়া এ শহর  ভালোবাসা বুনতে জানেনা,

একলা থাকার  মনগুলো আজ বয়েস খুঁজে কাব্য লেখে!

তোমার জন্য ,শুধু তোমার জন্য অনেক পথ চলতে পারে ॥

====

বিষাদ

চিন্ময় বসু



বিষাদের আদিম ইতিহাস আছে, 

আমাদের সবাইকে ঘিরে আছে বিষাদ। 

আমি যখন আকাচা নোংরা বিছানায় 

কুঁকড়ে শুয়ে থাকি 

ম্লান নীল রংএর ঘোলাটে দেয়াল 

আহাম্মকের মত 

সামনে দাঁড়িয়ে থাকে

ঠায়, আর কিছু হয় না। 


এই মন খারাপে এত অভ্যস্ত হয়ে উঠেছি 

যে আমি যেন আদর করে ডেকে আনি

পুরোনো বন্ধুর মত। 


গত প্রেমের জন্য পনের মিনিটের মত 

দুঃখ করে তারপর

ঠাকুরকে ডাকি, তাও খুব কষ্ট হয়, 

খুবই! কমে না। 

তারপর উঠে দাঁড়াই,

বেশ অনেকটা ঝরঝরে লাগে;

যদিও এক ফোঁটাও সমাধান মেলে না। 


এই জন্য বলে না, 

চোয়ালে থাপ্পড় যদি কম হয় তো

লাথি মারি ওরকম দেবতার ***। 

অমন প্রেমের ****ও ঝাঁটা, 

যা থেকে ওর এত ভালো চলে, 

এত বুদ্ধি, সংসার, আর ছেনালি। 


কিন্তু থামুন এতও রাগের কিছু নেই

আমারই দুঃখের কোনো শেষ বা শুরু নেই

প্রেমের ব্যাপারটা তো জাস্ট একটা 

একটু বড় ধাক্কা, লোকসান। 


মাকোসার ড্রাম বাজছে কানে, 

ইউটিউবে ধরেছি। 

দাঁতে খিঁচুনি লাগছে, বিরক্তি যাচ্ছে না। 


আরো কিছু গন্ডগোল আছে 

আমার নির্ঘাত;

শুধুই বিষাদ না।

=====

মা

সঞ্জীব চক্রবর্তী


আমি সেই রাতগুলো মনেই করতে পারি না,

যে রাতে আমি ভিজে গেছি বলে না ঘুমিয়ে

তুই বারবার কাঁথা পাল্টেছিস।


আমি সেই দিনগুলো ভুলেই গেছি

যে দিনগুলো আমাকে মাছের বড়ো টুকরোটা দিয়ে

তুই শুধু আলু আর ঝোল চেটেপুটে খেয়েছিস।


আমি সেই মুহূর্তগুলো মনেই করতে পারি না

যেদিন আমার সামান্য সাফল্যে

তুই পাশের ঘরে গিয়ে 

আঁচলে চোখ মুছেছিস।


নিজের জন্য নয়

শুধু আমার বড়ো হওয়া,

আমার ভালো থাকা আর

আমার সুরক্ষার জন্যই

ঠাকুরের কাছে তোর মাথা কুটবার

সেই সব সময়গুলো 

আমার আর মনেই আসে না।


বড়ো হলাম,

কত কত মানুষ জানালো

তারা খুব ভালোবাসে,

তুই কোনোদিন বলিস নি 

তুই ভালোবাসিস।

তুই শেখালি, অথচ ভুলেই গেলাম যে,

সত্যিই ভালোবাসলে তা মুখে বলা যায় না। 

মুখে বলতে নেই।


ছোটবেলায় যেভাবে শীতের রাতে 

তোকে ভিজিয়ে দিতাম,

সেভাবেই কত রাতে 

তোকে চোখের জলে ভিজিয়েছি,

তিরস্কারে,ধিক্কারে,

আকথা-কুকথায় কাঁদিয়েছি তোকে,

তুই বুঝিয়েছিস ভালোবাসলে

অভিমান করার সুযোগ থাকে না,

মেনে নিয়ে, মানিয়ে নিয়ে,

সব ভুলে যেতে হয়।

ক্ষমা করে দিতে হয়।


যে আরাধনায় দেবতার ঘুম ভাঙে,

যে আশ্বাসে সব পাখি বিকেলে বাসায় ফেরে,

যে পুষ্টিতে রুগ্ন গাছেও ফুল ফোটে,

যে বিশ্বাসে রাষ্ট্রবিপ্লব ঘুন ধরা

অরাজকতার অবসান ঘটাতে চায়,

যে ভরসায় জংলা গাছ

দেয়ালের ফাটলে বাড়তে চায়,

সেই সব আস্থার নাম তুই।


আমার শহরে রোজ 

কত অল্প কারণে মন ভাঙে,

কত টুকরো অবিশ্বাসে মানুষ মরে,

কত সামান্য ঘৃণায় ঘর পুড়ে যায়,

কত মিথ্যে লোভে আর আশায়

একরাতে পাল্টে যায় মনের মানুষ,

কত বেইমানিতে এই শহরেই মানুষ

অপেক্ষা করে দড়ি হাতে,

সব অবহেলা আর তাচ্ছিল্য শেষে

প্রতিটা বিবাগী মানুষ যেন

তোর মেখে দেয়া ডাল-ভাত আর

আলুসেদ্ধ খেয়ে মুক্তি পায়।

তামাম ভাঙা পাঁজরের ফোকরে

একটা করে মা বসতি করুক।

সব নিভে যাওয়া আলোতে

একটা করে মায়ের হাতে ধরা

তৃপ্তির হ্যারিকেন জ্বলে উঠুক না।


তুই শুধু একবার মাথায় হাত রাখ,

শুধু আর একবার তেল চিটচিটে,

বারোয়ারি মশলার গন্ধ মাখানো

আঁচল দিয়ে

চোখ মুছিয়ে দ্যাখ,

শুধু একবার স্যাঁতস্যাঁতে জলে

ভিজে ফেটে যাওয়া পাদুটো

আমার মাথায় রেখে দ্যাখ,

আমার ভারী হওয়া চোখদুটো

তোর বুকে জড়িয়ে দ্যাখ,

সব তামাশা আর ঘৃণাকে

এই শহরের হাওয়ায় হাওয়ায়

সস্তা দামে উড়িয়ে,

জামার কলার উল্টিয়ে,

রক্তে রক্তে জীবনের গন্ধ বুলিয়ে,

সব হেরে যাওয়ার গল্প ভুলে,

তোর সন্তান হবার সাহস দেখাবো।

====

বিস্ফোরণ 

শিবাজী  সান্যাল


ওরা অবুঝ, চারদিকের অস্থিরতা বোঝে না

হঠাৎ এই ব্যস্ততা, কেন এই মিছিল মিটিং বোঝে না

একরাশ পতাকা ওড়ে, মানুষ ভিড় করে

লাইন করে গাড়ি এসে দাঁড়ায়, নেতারা মঞ্চে ওঠে

সবাই স্লোগান দেয়, মাইকে গর্জে ওঠে কন্ঠ

অগণিত আশ্বাসে ক্ষুধার্ত চোখগুলো অবাক্ তাকায়

বারবার প্রতারিত মন দোলে কালো অবিশ্বাসে । 


ওরা অবুঝ, কিছুই  বুঝতে পারে না

গাড়িগুলো চলে গেলে ভিড়ও কেটে যায়

ওরা রঙিন বেলুন নিয়ে মাঠময় দৌড়ে বেড়ায়

খালি মাঠে ওরা বল নিয়ে খেলায় মাতে

বল ছোটে  এদিক ওদিক, ওরা চিৎকার করে

উল্লাসে কাঁপে পাশের ধানক্ষেত। বল গড়িয়ে যায়

একটি ঝোপের মাঝে, নিতাই আনতে ছোটে

আর তখনই প্রচণ্ড বিস্ফোরণে ধোঁয়াময় চারদিক  

নিতাই ছিটকে পড়ে, অজ্ঞান - রক্তাক্ত । 


সবাই নিতাইকে নিয়ে ছোটে, অসহায় কাঁদে

নিতাই কোন দলের নয়, ও দল বোঝে না

নিতাই অনেক পোস্টার দেখেছে, যা রোজ বদলে যায়

নানারকম পতাকা ওড়ে, কেউ এসে হাত জোড় করে

ভোট চায়, কেউ এসে হুমকি  দেয়, ভোট চায়

ওর বাবা মা দাদা পিসি সবাই ভয়ে দিন কাটায়

কিন্তু ও তো কিছুই বোঝে না, কেন তবে ওর রক্ত ঝরে ?


স্বাস্থ্য কেন্দ্র থেকে ওরা ওকে নিয়ে ছুটল শহরে

সেখানে ওকে আলাদা ঘরে রাখল, অজ্ঞান 

দলবেঁধে একে একে নেতারা এল, ভীষণ দুঃখী 

বলল আগামীতে ওরা সব বদলে দেবে 

সকলেই দিল অঢেল ব্যবস্থার আশ্বাস, কিছু টাকা।


হাসপাতালের  করিডোরে বসে থাকে নিতাইয়ের বাবা মা

তিনদিন হয়ে গেছে, এখনও নিতাইয়ের জ্ঞান ফেরেনি ।

=====

I'm waiting for you...

Daniela Marian  


I'm waiting for you beyond the sunrise

In unknown horizons.

A desire burns in my heart,

To be in another life with you.


I write poems on your eyelids,

From my wet eyes, I flow,

My dear boyfriend

I will never forget you.


I feel like you're still here...

Far away in a world of our own

weaving star sparks,

You are lonely, thoughtful

You have designed your angelic face

In the whites of my pigmented eyes.


A magical lace from your green

With brown drops from my eyes,

Nostalgic dreams with night loves,

I weave eternal love.

Our souls meet,

Love never sets.

====

চেনা ভয় অচেনা আপোষ 

অয়ন দাস


অপরূপ শরীরী বিভঙ্গে তখন  আগুন জ্বালিয়ে দিচ্ছে এক উদ্ভিন্নযৌবনা আরবিয়ান নর্তকী।

দুবাই এর হোটেল জে ডব্লিউ ম্যারিওট এর নসিলি রাতে তখন ককটেল পার্টির চরম উত্তেজনা ক্লাইম্যাক্স এ পৌঁছে গেছে।ব্ল্যাক ডগ আর সিভাস রিগাল ঢেউ তুলেছে শরীরের তন্ত্রীতে তন্ত্রীতে।  ছোটবেলায় পড়া আরব্যরজনীর পৃষ্ঠা গুলো যেন চোখের সামনে হাজির হয়ে যাচ্ছে একের পর এক।কাজলকালো চোখ আর দুধে আলতা গায়ের রং এর অসম্ভব রূপবান এক সাড়ে ছ ফুট লম্বা আরবিয়ান যুবককে দুপাশ থেকে সাপের মত জড়িয়ে ধরে প্রবল আশ্লেষে নিঃশেষ করে চলেছে আমেরিকা থেকে আসা দুজন কৃষ্ণকায়া যুবতী। তাদের দেখলে ভেনাস ও সেরেনা উইলিয়ামস এর কথা মনে পড়বেই।চারদিক থেকে ভেসে আসছে আরবিয়ান ধনকুবের ও তাদের বিদেশী সঙ্গিনীদের লাস্যময়তা।আমার তখন ব্ল্যাকডগের চার নম্বর পেগ চলছে,সঙ্গে চিকেন সসেজ।স্কচের একটা সুবিধা হল ধুম করে ফেলে দেয়না,স্কচ খুব ধীরে ধীরে তুরীয়  আনন্দের দিকে নিয়ে যায়।

সুনীল লিখেছিলেন- ভ্রুপল্লবে ডাক দিলে দেখা হবে চন্দনের বনে -ঠিক এমনই দুরন্ত ভ্রুপল্লবে কয়েক হাত দূরে থাকা এক আরবিয়ান বিনোদিনী আমার সঙ্গে একলা হওয়ার নিষিদ্ধ হাতছানি দিচ্ছে।সাড়া দেবো কি দেবোনা এই দোলাচলে রয়েছি এমন সময় আচমকা ঘাড়ে এক বলিষ্ঠ পুরুষ হাতের স্পর্শে চমকে উঠলাম। পিছনে তাকিয়ে দেখি আমাদের কোম্পানির জেনারেল ম্যানেজার মিস্টার রাঘবন।জলদ গম্ভীর কন্ঠে বললেন - ডোন্ট স্টে হেয়ার,দিস প্লেস ইজ নট সেফ ফর ইউ।

আমি কখনো সুন্দরবনের জঙ্গলে রয়াল বেঙ্গল টাইগার দেখিনি কিন্তু আমি এই দশাসই কৃষ্ণবর্ণ তামিল ব্রাহ্মণকে দেখেছি যে মদ ও সিগারেটকে ঘোরতর অপছন্দ করেন  এবং একই সঙ্গে দেখেছি কোম্পানির বহু কেষ্টবিষ্টু মাতব্বরকে ঠিক বাঘের মত কামড়ে ধরে ছিন্নভিন্ন রক্তাক্ত করে দিতে।


যেকোনো কারণেই হোক রাঘবন স্যার আমাকে পছন্দ করতেন কিন্তু মুখে তা প্রকাশ করতেন না।আমাকে সামনা সামনি  ধমকাতেন কিন্তু পিছনে প্রশংসা করতেন।রাঘবন স্যার ছিলেন চূড়ান্ত পারফেকশনিস্ট। পান থেকে চুন খসলেই ওঁর ভয়াল রূপ বেরিয়ে আসতো।ওঁর একটা উপদেশ আজও ভুলিনি। উনি বলেছিলেন, যখন তোমার কমিউনিকেশনের সময় অনেকক্ষন,ধরা যাক আধ ঘন্টা তখন সেই কমিউনিকেশনের ধার ও ভার নিয়ে তোমাকে ভাবতে হবে।কিন্তু তার চেয়ে পাঁচগুণ সময় নিয়ে তোমাকে ভাবতে হবে যখন তোমার কমিউনিকেশনের সময় হবে তিন মিনিট থেকে পাঁচ মিনিট।শর্ট টাইম কমিউনিকেশন অনেক বেশি কঠিন লঙ টাইম কমিউনিকেশনের তুলনায়। 

একবার প্রায় আট লাখ টাকার প্রোডাক্ট কোনো একটি স্টকিস্ট এর থেকে ফেরত এলো।আমাদের মিটিংয়ে রাঘবন ঢুকলেন ঠিক আহত বাঘের মত।তারপর আমাদের জোনাল ম্যানেজারের উপর নেমে এলো কালবৈশাখী ঝড়।আমাদের জোনাল ম্যানেজার এবং রিজিওনাল ম্যানেজারকে জাস্ট কামড়ে ধরে ছিন্নভিন্ন করে দিলেন আমাদের চোখের সামনে। ওই দৃশ্য আমি সারা জীবনেও ভুলব না।

একবার আমাদের মিটিংয়ে একটু দেরি করে এলেন রাঘবন স্যার। মুখে একদিনের না কামানো দাড়ি,চোখের তলায় ঘন কালি।কথা বলতে গিয়ে হাঁপাচ্ছেন।আমরা সবাই একটু চমকে গেলাম।যে মানুষের মাথার চুল থেকে পায়ের নখ পর্যন্ত নিখুঁত টিপটপ থাকে সে মানুষের এ কী অবস্থা! উনি কি অসুস্থ? 


মিটিং শেষ হওয়ার একটু আগে স্যার বললেন, আমি আর থাকতে পারছি না,আমাকে বাড়ি যেতে হচ্ছে কারণ গতকাল  আমার একমাত্র মেয়ে মারা গেছে।তাকে দাহ করে তবেই এই মিটিংয়ে আসতে পেরেছি।


রাঘবন স্যার এর এই চূড়ান্ত পেশাদারিত্ব সত্যিই নজিরবিহীন ছিল।তার নেতৃত্বেই আমরা আমাদের জীবনের সেরা সময় কাটিয়ে ছিলাম।একসময় সাফল্যের চূড়া থেকে আমাদের অবনমন শুরু হল।আর সেই সময় থেকেই রাঘবনের উপর চাপ বাড়াতে শুরু করল কোম্পানি। যে মানুষটির কাঁধে চেপে কোটি কোটি টাকার মুনাফা অর্জন করেছে কোম্পানি আজ সেই লোকটাকে সরানোর ফন্দী আঁটা শুরু হল।একসময় দেখলাম তার মাথার উপর তারই র‍্যাংকের একজনকে বসিয়ে দিয়েছে কোম্পানি। রাঘবন ছিলেন ভয়ানক ইগোইস্টিক।উনি সঙ্গে সঙ্গে চাকরি ছেড়ে দিলেন।

কর্পোরেট দুনিয়ায় ততক্ষণই কদর যতক্ষণ সে কোম্পানিকে মুনাফা দিতে পারছে।টানা পারফর্ম করে গেলেও কেউ তা মনে রাখে না।তাকে নতুন করে আবার শূন্য থেকেই শুরু করতে হয়।একজন মানুষের জীবনে যখন চূড়ান্ত সাফল্যের পর নেমে আসে ব্যর্থতা, বদলে যেতে থাকে চেনা মানুষজনের মুখের ও চোখের ভাষা, তখন সেই মানুষটির বুকের ভিতর নীরবে হতে থাকে রক্তক্ষরণ যা সে ছাড়া আর কেউ দেখতে পায় না।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ