দর্পণ || কবিতা গুচ্ছ ~ মৌলি বণিক




পোস্ট বার দেখা হয়েছে

নলবন খাগড়ায়

_____________


চৌপড় দিনভর খোঁজাখুঁজি শেষে

নলবন খাগড়ায় পৌঁছেছি এসে।

চাদ্দিকে উল্লাস, খোঁনাসুরে চিৎকার

নিশুতি গভীর রাত সময় জলসার।


হৈ চৈ রৈ রৈ ভূতেদের আখড়া 

পেত্নীর উল্লাস ছুঁড়ে মারে বাখড়া।

হঠাৎ মামদো ও মেছো মিলে ঝগড়া 

হিম্মত কার বেশি, কে বেশি তাগড়া।।


ভয়কে করেছি জয়, ডেকে বলি বাপু হে,

আগুন জ্বালে যে, হিম্মত রাখে সে।।


এই শুনে বেম্মো গেল মহা রেগে

মগডাল থেকে নেমে এসে ঝড়ো বেগে

কিল চড় ঘুসি লাথি মেরে দুই চার

বলে দূর হ তুই, নলবন ছাড়।।


ভয়কে করেছি জয়, বলি, ব্যাটা বেম্মো

আমায় দাবড়াবি? সে নয় তোর কম্ম।

কোথায় তোদের রাজা ডাক তাকে এখুনি

করুক বিহিত এর- কি রায় দেয় শুনি।।


ফিসফাস কানাকানি শুরু হলো অমনি

স্কন্ধের চোখে জ্বলে ধিকিধিকি অগ্নি।।


অবশেষে দেঁতো হেসে গলা খাকড়িয়ে কেশে

বলে বাপু, রসো হে, রাজা গেছে ভিন দেশে,

দেখা তার পাওয়া ভার, কি তোমার দরকার

সমাধান দেব আমি তোমার সমস্যার।।


হেসে বলি বাপু হে, নিধিরাম সর্দার,

তোমার দেশে এ কি বিচিত্র কারবার!

রাজাটি ঠুঁটো বুঝি? আহারে জগন্নাথ!

তাই বুঝি নলবনে আঁধার দিনরাত।।



কষ্টকথা

________


নষ্ট হওয়ার বীজ বুনেছি আমার আমি এবং তুমি

ভিতর ভিতর রিক্ত সবাই, যেমনটি শীত মরসুমী।

সহিষ্ণুতায় ভর করেছে, কয়েকজনা ভদ্র নিপাট

জংলী জীবন না সয় যদি, সভ্যতাতেই ঠাঁট-বাট। 


শীতের মরা নদীর মতো বইছে জীবন চর ভরা

নুড়িপাথর বালির বোঝা- খরস্রোতার অসুখ খরা,

বহু যোজন দূরের জীবন বইছে শুধুই ওতোপ্রোত

কষ্টকথার টানাপোড়েন গল্প বোনে নিজের মতো।


জ্ঞানপাপী সব আমরা যারা নিয়মনীতির করি স্তব

সব গিয়েছে, যায়নি শুধু মুঠো মুঠো স্বপ্ন শব

স্তব্ধ যাপন জানেনা তার কোষে কোষে ক্ষয় রোগ

জং ধরা এক শেকল বাঁধা এইতো তার রোগ ভোগ।


ধর্ম ধর্ম খেলাচ্ছলে মানবধর্ম উধাও যদি

ব্যক্তিজীবন বিবেক বিচার নিহত নীল নিরবধি।

স্বার্থ এখন নগ্ন কৃপাণ আঁচড় দেয় মুহূর্তে

প্রতিবাদী শব্দ চুরি, লোভনীয় লক্ষ শর্তে।


জোছনা বোনে সুখ পৃথিবী হাত বাড়িয়ে ধরতে যাই 

মনে পড়ে নগ্নতাতে উথালপাথাল কষ্টকথা দিচ্ছে ঘাই।

অন্তরেতে একলা সবাই স্বীকার করে জীবন বোধি 

যোজন দূরে বইছে জীবন পুণ্যতোয়া স্নিগ্ধ নদী।।


চারুবাসনা

____________

তুমি বলো তুমি নাকি জলের অভাবে

জ্বলন্ত কাঠ - এমন বহ্নিমান!

আর আমি আমার আজন্ম স্বভাবে

নরম নিস্তরঙ্গ নদীর মতো বহমান।


তুমি বলো তুমি নাকি সে নদীর বুকে

অবগাহন করো সহস্রবার,

আমি বলি আমি তাই উল্লসিত সুখে

সহস্রবার জন্মাই ও মরি- আড়ালে সবার। 


তুমি বলো ভালোবাসার কস্তুরীগন্ধে পাগল

ছুটেছো মায়া মরীচিকার পিছে আজীবন -

আমি বলি আমি ধন্য- প্লাবনের জল

দিয়েছে দুইই- নিঃস্বতা ও সাত রাজার ধন।


তুমি বলো আজ হঠাৎ একি বিপর্যয়!

প্লাবন এসে গরীবের যৎসামান্য চায়;

আমি বলি যাকনা ভেসে দিনের সঞ্চয়-

নিঃস্বতা থেকে যাক অনন্ত চারুবাসনায়।



বাদলা দিনের চিঠি

__________________


বৃষ্টি বিকেল থমকে আছে জানলা ফ্রেমের বাইরে

এক কাপ চা ধোঁয়ার রেখা উদ্বায়ী ধীরে ধীরে ;

নিঃসাড়ে চুপ বন্ধ ফোন

আবার বুঝি নেমেছে শ্রাবণ

স্মৃতিরা ঝলসে ওঠে বিদ্যুৎ হয়ে আকাশ চিরে চিরে।


যত্নে পোষা অবহেলা সোহাগ করে আমার সাথে,

একলা চাঁদ অন্ধকারের উজান বেয়ে আসে ছাতে-

দিনান্তে এইতো আমার দিনযাপন-

ভাবছো জানি শোকের বিজ্ঞাপন

যার যাওয়া নেই, আসলে তাকেই পরিক্রমণ দিন ও রাতে।


ইচ্ছেরা কাঁটাতারের কাঁটায় আটকে যায় শত শত

বাদলা রাতে আকাশ জুড়ে তারাই জ্বলে তারার মতো।

সহজিয়া সুর আজকে বেসুর,

আলোকবর্ষ তবু আঁকেনি দূর

সেই ডাকনামে আজও ডাকি, জানেনা তোমার নীরবতার আঘাতও।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ