পোস্ট বার দেখা হয়েছে
মনে রাখার মতো কেউ নেই
ছোটবেলায় আকাশটা যেখানে দেখেছিলাম
আজও সেখানেই আছে, শুধু
আমার উচ্চতা একটু বেড়ে গেছে বলে
মনে হয় আর একটু উপরে
উঠে গেছে, তাই ঠিক মতো থা পেতে
কষ্ট হচ্ছে, এইটুকু আমার আপসোস
মাঝের কয়েকটা বয়স
বৃদ্ধি পেয়েছে শুধু
২
ছোট্টবেলায় যে ডোবাখানা দেখাছিলাম
আজ দু পাড়ের মাটি ভেঙে ভেঙে
বড় হয়ে উঠেছে, আমি সহজে ভেসে যেতে
পারতাম এপার ওপার, আজ আর
তেমন দম নেই এক নিঃশ্বাসে
পার হয়ে আসি
মাঝে মধ্যে অক্সিজেনের অভাব বোধ করি এখন
৩
ছোট্টবেলায় যার হাত ধরে ইস্কুলে যেতাম
পড়তে বসতাম একসাথে, কান ধরে
দাঁড়াতাম বেঞ্চির উপর, ফিরতাম একসাথে
আজ সে বড় ঘরের গৃহিনী
খুব নামডাক, বিদেশে থাকে স্বামী
এখন সে তার মেয়েকে ইস্কুলে
দিয়ে আসে হাত ধরে
যেমন একসময় যেতাম আমি
৪
এখন ভাবি তাকে, সে ছাড়া আর
মনে রাখার মতো কেউ নেই
ভেঙে পড়া করতালি থেকে
টুকরো টুকরো শব্দ কুড়িয়ে আনি
আর বাড়ি ফেরার পথ অত মসৃণ নয় জেনেও
ফিরতে হয় বারংবার
অন্ধকার পুকুর ঘাট, গাছের গুঁড়ি সাজানো
যেন মিথ্যেগুলো ভাঁজে ভাঁজে রাখা মানিব্যাগ
সযত্নে রুমাল, আনুষাংগিক কিছুটা
ধুলোমাখা জোছনা রাত
আমার ফিরে আসা আর না আসা পাড়ার লোকের
কিছু আসে যায় না, শুধু নিজের পায়ের শব্দগুলি
করতালি মনে হয় রাত দশটা পর্যন্ত।
===
ভীষ্ম
চোখ বন্ধ করে অনুভব করি মৃত্যুকে
ভাবি, সেটাও খুব সহজ নয়
বললেই প্রেমে পড়ে যাবে
বুঝেছি তার জন্য মেহনত করতে হয়
দিনরাত এক করে দিতে হয়, শরশয্যায়।
===
হিরণ্যময়
হরিণটি চায়, আমি কিছুক্ষণ হলেও
এই ঘন নিবিড় অরণ্যে দাঁড়াই
তার চকরা বকরা ত্বক ছুঁয়ে দেখি
শিং এ হাত বোলাই, অভ্যাসের দাসের মত
আর সরু শীর্ণ রাস্তাটা যেদিকে চলে গেছে
অরণ্য আরও গভীরে, সে চায়
সেই পথে হারিয়ে যেতে
আমি তার চোখে চোখ রেখে
দাঁড়িয়ে আছি বহুক্ষণ
তার জঙ্গলের বৃষ্টিপাতে ভিজবো বলে
তবে লক্ষণের মতো নয়।
====
দণ্ডাবত
তুমি বললে, দণ্ডি কাটতে পারি
নাক ছেঁড়াতে ছেঁড়াতে নিয়ে যেতে পারি
তোমার পায়ের কাছে। থুতু ফেলে
চেটে তুলে নিতে পারি এক নিমিষে, তবুও
ঘাড়ে গামছা নিয়ে বেড়িয়ে পড়ব
ধূলোয় কাদায় আলে বসে
পান্তা খাব বর্ষায়...
তুমি বললেই, কেঁদে ফেলতে পারি একবার
যেভাবে প্রিয়জনের শোকে কাঁদে, ঘাড় ধরে
কিছুটা মায়া না হয় সরিয়ে রেখ
সেই মৃত্যুদিনের জন্য

0 মন্তব্যসমূহ