পোস্ট বার দেখা হয়েছে
গরমের মুখে ছাই
স্নেহাশিস পালিত
পারদ চড়েছে ছেচল্লিশে প্রাণ করে আইঢাই,
আরাম করে ঘুমাতে হলে উপায় খোঁজা চাই।
বরফের চাঁই কোলে নিয়ে -
আলতো চাদর ঢাকা দিয়ে...
নিমোনিয়ায় মরবো তবু গরমের মুখে ছাই।
*********************
কবিতারাও কথা বলে
মাধুরসাহানা
নিশি
নিস্তব্ধ নিশুতি রাতের পৃথিবীতে
গ্রহ নক্ষত্র আলো জ্বেলে রাখে।
মানুষে দেখতে চায়।
অন্ধকার দেখতে চায় না,
অন্ধকার দেখতে দিতেও চায় না।
আঁধারে পেচকের ডাক শুনে,
কালপুরুষ মিটিমিটি হাসে।
নিশাচর বাদুড়
এক ডানা মেলা পিশাচ হয়ে ওঠে।
অন্ধকারের ময়াল নাগপাশে গিলে খায় শিকার।
গভীর রাতে ইঁদুর গর্ত খোঁড়ে শিকড়ের গভীরে।
পৃথিবীর রাত নিশুতি অন্ধকার।
নিশুতি নিস্তব্ধ রাতে,
কালি নৃত্যে মাতে।
অন্ধকার বড়োই উলঙ্গ, আলোয় তা দেখা যায় না।
চন্দ্রমা যে আলো,
তারও পিছনে থাকে গভীরতম আঁধার।
মানুষের আলো চাই সাধনার,
পৃথিবীর রাত নিশুতি হয় না আর।
**********************
গুহার গর্ভ থেকে মঙ্গল -নগরে
অসীম দাস
তারপর ভূগোলক ফুঁড়ে বেরিয়ে এলো
সারি সারি ছায়ার জাহাজ ।
নাবিকের দল আলোর খোঁজে পৌঁছে গেলো
আকাশ- সিঁড়ির শেষ সভ্য-ধাপে ।
সূর্য বললেন-- সহযোগী চেতনায় সঠিক ব্যবহার শিখলে
তবেই পাবে জোতির্ময় আলো ।
শুরু হলো শেকড়- সভার তদারকিতে
ব্যবহার শিক্ষার পাঠশালা ,
গুহার গর্ভ থেকে মঙ্গল নগরের সবখানে ।
সময়ের তালু থেকে বারবার পিছলে যাচ্ছে চাঁদ ।
বিজ্ঞ কুয়োর তলে হাবুডুবু খেতে খেতে
এখনও হাঁপাচ্ছে অপটু আলোর শৈশব ।
*********************
খুচরো স্মৃতি
ফিরে দেখা- অপরিচিত বন্ধু
কাকলী দাশগুপ্ত
আনন্দ অফিস থেকে ফিরে এসে বলল... শ্রী আজ চায়ের সাথে মুড়ি দিও, তেলে ভাজা এনেছি। রাগ করোনা প্লিজ ... আচ্ছা বলো তো কতদিন খাই না । জানি, বাইপাস হওয়ার পর খাওয়া বারণ। রাগ করোনা... আজকে শুধু খাবো। শ্রী কিছু না বলে চা বানাতে চলে গেল। আনন্দ খুব অবাক হল, শ্রী আজ কোনও কথা বলল না আর প্রতিবাদও করল না, আশ্চর্য! যাই হোক আনন্দ হাত মুখ ধুয়ে ড্রইং রুমে বসে টিভি অন করল। শ্রী চা নিয়ে এলে আনন্দ বলল - এ কি! শুধু চা বিস্কুট, মুড়ি তেলে ভাজা কই? শ্রী লজ্জা পেল। কী করে ভুলে গেল? স্বামীর হার্ট এটা্র্কের পর চাকরি ছেড়ে দিয়ে ছিল। মুড়ি তেলে ভাজা দিয়ে ভাবল সকালের ফোনের কথা..
সকাল থেকে শ্রী নানান কাজে ব্যস্ত থাকে। এখনও আনন্দ পুরোপুরি সুস্থ নয়, তাও অফিসে যায়। চিন্তায় থাকে। ফোনটা বেজে উঠল আর ফোন বাজলেই ভয় করে। চিন্তিত মনে ফোন ধরে - হ্যালো বলতে গিয়ে দেখে অপরিচিত একটা নম্বর। কে... কে... বলছেন ? এটা কার নম্বর??? ওনার আবার কিছু হল না তো??? নাহ্ এটা তো অফিসের না। তাহলে??? রাস্তায় কিছু হয়েছে হয়নি তো ? শরীরটা তো ভালো না। আবার কী হলো?? ভয়ে কেঁপে উঠল সারা শরীর... কোনো রকমে... হ্যালো। কে?
ওপর দিক থেকে নম্বর জিজ্ঞাসা করলেন।
শ্রীর খুব চেনা চেনা মনে হলো , খুব পরিচিত আওয়াজ, বুঝতে পারছে না । কিন্তু কে???
.. ভালো আছ শ্রী...
... কে বলছেন, আপনি, মাাাানে... কে আপনি?
.. ভয় পেলে নাকি ????
.. কে? (গলার আওয়াজ খুব চেনা কিন্তু মনে করতে পারছে না) । বুঝতে পারছি না, কে বলছেন?
.... আমি তোমার সেই অপরিচিত বন্ধু। কেমন আছ শ্রী ?
শ্রীর মনে পড়ল... একটা অদ্ভুত শিহরণ খেলে গেল সারা শরীরে। মনে পড়ে গেল সব।
... শ্রী কেমন আছো বললে না তো?
... ভালো আছি । আপনি মানে তুমি কেমন আছো?
...খুব ভালো। তোমার সব খবরই রাখি /পাই । তাও ভাবলাম ফোন করি। কাল তোমার অফিসে গিয়ে ছিলাম। তোমার সেক্শন থেকে ফোন নম্বর নিয়েছি।অনেক খবর পেলাম। তাই ভাবলাম একটা ফোন করি। তোমার সুরেলা আওয়াজটা অনেকদিন শুনিনি। আনন্দবাবু কেমন আছেন? বড় ইচ্ছা হল... রাগ করলে নাতো? কী হল চুপ কেন? কিছু বল প্লিজ.... কথা বলতে অসুবিধা আছে কি? কিছু বল। চুপ করে থেকো না প্লিজ শ্রী...
.. না, ভাবছিলাম হঠাৎ এত বছর পর! তুমি- তুমি তো রিটার্ড করেছ নিশ্চয়ই? বাড়ীর খবর সব ভালো তো?
.. তোমার নম্বর জানতাম না... আমার বাড়ির সব খবর ভালো।
... অনেক অনেক কথা জানতে ইচ্ছা করছে। এবার তো বল তোমার নাম, কোন ডিপা্র্টমেন্টে ছিলে?
.. শ্রী কি হবে জেনে ... আমি থাকি না তোমার সেই বন্ধু... অপরিচিত বন্ধু....
মাথায় আবার তোলপাড় শুরু হলো। কে হতে পারে? অথচ অফিসের। আরো কিছুক্ষণ কথা হলো।
শ্রী আর কিছু শুনতে পেল না, মনে পড়ে গেল প্রথম দিনের কথা সেই কবেকার- কত বছর হয়ে গেল। কয়েক মাস হয়েছে সবে চাকরিতে ঢুকেছে। একটা পুরনো কেসের ফাইল খুঁজে বের করছে। এতই পুরোনো পাওয়া খুব মুশকিল জানেও শ্রী তাও খুঁজে বের করতেই হবে তানাহলে ভদ্রলোকের যে পেনশন পাবেন না। এমন সময় ম্যাডাম বললেন - শ্রী আপকা ফোন হ্যায়। উফ!! বাবাও সময় পেলেন না ফোন করার। ফোনটা তুলেই বলল - বাবা বল.. কী হল? আমি খুব আজ ব্যস্ত।
ও পাশ থেকে... আমি আপনার বাবা নই... বন্ধু। ধরে নিন বন্ধু - অপরিচিত বন্ধু। (এখনো কানে বাজে সেই গম্ভীর পুরুষালি আওয়াজ)। ভয়ে কাঁপতে লাগল ম্যাডাম জিজ্ঞাসা করলেন - কোন কিছু হয়েছে? ঈশারায় "না" জানায়। কান, গাল গরম হয়ে আগুন বেরোচ্ছে, গরম হয়ে শরীর কাঁপছে. এ এক অদ্ভুত অনুভূতি। এর পর অবশ্য আলাপ পরিচয় হয়... আর ফোনই কথা হতো।
... হঠাৎ কী হল শ্রী? কথা বলছ না কেন... কিছু বলবে না...
... হুমম । কী আশ্চর্য! এবার তো নিজের পরিচয় দিতে পারো?
... থাক না শ্রী, আমি তোমার অপরিচিত বন্ধু হয়ে থাকি। মাঝে মাঝে ফোন করব। ফোনেই কথা হবে আগের মত... ভালো থেকো শ্রী। আবার কথা হবে।
...তুমিও ভাল থেকো বন্ধু।
আনন্দ বুঝতে পারল শ্রীর কিছু হয়েছে। চা ঠান্ডা হচ্ছে। জিজ্ঞাসা করল - কী হয়েছে শ্রী তোমার? চা ঠান্ডা হয়ে গেল।
"কিছু না" - বলে শ্রী রাত্রের রান্না করতে চলে গেল।
************************
মে দিবসের কথা
শিবানী গুপ্ত
রোদে পুড়ে ঘাম ঝরিয়ে
শ্রমিক করতো কাম,
মালিক পক্ষ নিঠুর বড়ো
দেয়নি ন্যায্য দাম।
বারো ঘন্টা শ্রমিকেরা
কাজ যে করতো ভাই,
পেতো নাকো ন্যায্য মূল্য
কষ্টে থাকতো তাই।
এতো অন্যায় সইতে নারে
ডাকলো মিছিল সব,
আমেরিকার হে' মার্কেটে
শ্রমিক কণ্ঠে রব।
বারো ঘন্টা কাজ বদলে চায়
আটঘন্টার কাজ,
মালিক পক্ষ চালায় গুলি
নেইকো মনে লাজ।
লুটায় শ্রমিক চালায় স্লোগান
হাজার শ্রমিক প্রাণ,
মালিক পক্ষ বাধ্য হয়ে
দেয় শ্রমিকের মান।
**************************
শেষ দুয়ারের নাম
সুজিত চক্রবর্তী
হয়তো বা এভাবেও ফিরে আসা যায়!
দিনের অন্তিম লগ্নে, সূর্য ডোবার আগে
অতি অনায়াসে পরম নিশ্চিন্ত ঠিকানায়।
তোমার দিন কেটে যায় চরম ব্যস্ততায়।
তোমার কাছে অন্য কিছু আশা করে এই
বসে থাকাটাই হয়তো আমার ভীষণ অন্যায়!
মৃত্যুই শুধু লিখে দিতে পারে শেষ অধ্যায় ?
রহস্যময় গল্পে যেমন খুনী কোন জন
জানতে চাইলে যেতে হবে ঠিক শেষ পৃষ্ঠায় !
এত সহজে কি বলো শেষ কথা বলে ফেলা যায় ?
শেষ দুয়ারের নাম কী ছিল সেকথা না জেনে
কারা তবু নেমেছিল রাতে বাইরের বড় রাস্তায়!
****************************
আজকে সত্যজিৎ রায়ের শতবর্ষের জন্মদিনের আমার শ্রদ্ধাঞ্জলি....
joy writes
পথের শুরুতেই শোনালে পথের পাঁচালি।
ফেলুদার মগজস্ত্রে সমাধান কত হেঁয়ালি।
তখন ছিলো জ্ঞানের ভান্ডার সিধু জ্যাঠা।
গুগল করে করে হতো না হাত ব্যাথা।
অবাক করতো শঙ্কুর কান্ডকারখানা।
নায়ক আছে বাংলায় ষোলো আনা।
কত আড্ডা দিলাম তারিনিখুড়োর সাথে।
অপু দুর্গার সাথে দৌড়লাম মাঠে।
মন ভরে ঘোরালে অভিযানে বেরিয়ে।
কাঞ্চনজঙ্ঘা, আর সোনার কেল্লা পেরিয়ে।
পরশ পাথরের দিয়েছো মোদের পরশ।
গুপি বাঘা র গানে সে কি হরষ।
আবার কখনো অরণ্যের দিন রাত্রি।
কখনো জনঅরণ্য মহানগরের যাত্রী।
ঘরে বাইরে হতে হতে শেষে,
হয়ে এলাম হীরক রাজার দেশে।
এমন আগন্তুক তো বড়োই বিরল।
গল্প বলাই হোক বা বিষয় চলচিত্র।
তুমি অপরাজিত,
তোমার প্রতিদ্বন্দি মেলা ভার।
একবার দুবার নয়,
এক ডজন বারো নয়, হাজার বার.....
জয় বাবা মানিকনাথ,
তোমারে সেলাম।
মোরা সেই কথাই
জানাতে এলাম।

0 মন্তব্যসমূহ