পোস্ট বার দেখা হয়েছে
সংকট
কে দেব দাস
প্রতিবাদের ভাষা-আজ শংকিত,নানান দন্দে।
শেষে যদি-
বিশ্ব প্রলয় হয়-নিউক্লিয়ারের গন্ধে।
বারুদের লেলিহান শিখা-
গ্ৰাস করেছে,ইউক্রেনের-আকাশে,বাতাসে।
বাঁচার আশা, যা ও ছিল-
ফিকে হয়েছে তত, কুহেলিকার মত।
ক্ষমতার দম্ভ আর অস্ত্রের ঝংকারে,
গৃহহীন শত সহস্র-নর নারী।
মরছে-উলখাগরার মত-
প্রাণের ভয়ে হয়েছে -দেশান্তরী।
নতযানু,আজ জনগণের ভাষা,
তবু নেই নিস্তার।
প্রাণের ভিক্ষা হয়েছে আজ,
নরসংহারের দীক্ষা।
হতবাক পৃথিবী, উল্লাস কর!
নরমেধ যজ্ঞ যত হয় হোকনা,
তাতে কি?
আমি তো,রয়েছি বেঁচে এতবদি।
যারা মরছে-না হয়, মরুক নিরবধি।
*************************
ভালো কি আছো
কল্যাণ ভট্টাচার্য্য
দোকানীর তেলে ভাজায় সবে তখন সান্ধ্য
চায়ের গভীরে ঝুলছে বিতর্ক আর তাচ্ছিল্য
প্রৌঢ় তত্ত্বে ওজন মাপছে একাল-সেকাল
কলারের নীচে সুগন্ধীতে ঢাকা সভ্যতার কঙ্কাল।
মানুষ কি ভয় পায় নিজকে থামিয়ে দিতে !
থামলেই নিজের আঁকা ছবি থেকে রং ঝরে
মুহূর্ত গুলো খোরপোসে আহুতি দেয় নীরবে
গভীরতা ডুবে থাকে বারান্দার ঝুলন্ত অন্ধকারে।
শহরের গলি বেয়ে ছায়ারা ভীষণ ছুটছে
নিঃশব্দ কান পেতে অরণ্য শব্দ শুনছে
আকাশে প্রতিধ্বনি, ভালো নেই ভালো নেই—
আদি অনন্ত তৃষ্ণার্ত চিল ওড়ে আকাশেই !
*****************************
একটি কোট /ডব্লু বি ইয়েটস
মোফাজ্জেল হক
আমি আমার গানকে কোট বানিয়েছিলাম,
এমব্রয়ডারি আবৃত করে,
পুরানো পৌরাণিক কাহিনী থেকে,
গোড়ালি থেকে গলা পর্যন্ত।
কিন্তু বোকারা এটা ধরে ফেলেছিল।
পৃথিবীর সামনে এটাকে পরেছিল,
যেন তারা এটা পরিশ্রমে বানিয়েছিল।
গান! তাদেরকে এটা নিতে দাও,
কারণ, অনেক উদ্যোগ আছে নগ্ন হাঁটতে পারায়।
**************************
এখনও নিরুত্তাপ দাঁড়িয়ে ?
প্রহ্লাদ ভৌমিক
এখনও নিরুত্তাপ দাঁড়িয়ে ?
চারপাশে ধ্বংসের উল্লাস,মৃত্যুর হাহাকার ও তীব্র ভাঙচুর
আর নির্মম নিষ্ঠুরতার দৃশ্য-বদল ক্রমাগত...
নিজের ভিতরে নিজেই নিভৃত হয়ে উঠছ,
সে কোন অভিমানে ?
এখনও নিরুত্তাপ দাঁড়িয়ে ?
কি এমন অনুযোগ অত বুকের ভিতরে ?
জীবনের সত্যকে বাস্তবতার সত্যে নিয়ে এসে
স্রোতের উজানে যাও,স্পর্শ করো স্বপ্ন-শিহরন,
জেনে নাও সমস্ত বৈপরীত্যের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে করতে
একজন কবিও কিভাবে একক যোদ্ধা হয়ে ওঠে ।
ফিরে তাকাও পরিবর্তমানতার দিকে,
ফিরে তাকাও সৃষ্টির দায় ও দায়বদ্ধতার দিকে,
বেরিয়ে এসো নিজের ভিতর থেকে,
ঘুরে দাঁড়াও,যাপন জুড়ে জেগে উঠুক
জীবনের অনন্ত প্রবাহ...
এখনও নিরুত্তাপ দাঁড়িয়ে? কেন ?
নিভৃত থেকে আগে নিজেই দেখে নাও
নতুন সৃষ্টির বীজে অঙ্কুরিত হচ্ছে নতুন চেতনা।
**************************
দায়িত্ব
নভশ্রী
যেখানে শুধুই আমার ভালোবাসা একা,
সেখানে উড়িয়ে দিলাম আকাশে গাঙচিল।
পেছন পায়ে পড়ে থাক যত পিছু ডাকা,
প্রেমে আর মৃত্যুতে কী নির্ভুল মিল!!
আশরীর শূন্যতা, নীরবতা সাবলীল চোখে,
পিছুডাক.... সে আসলে আঁধারের ব্যর্থ দোটানা।
বৃত্তীয় শোক ঘেষে ধাবমান প্রতি স্পর্শ থেকে
অনুভূত... " মন ভাঙা রূঢ়তম প্রসব বেদনা।"
অথৈ চোখের কোণে টলোমলো মূক ভাষা দেখে...
বুঝে নেওয়া.... মন ছোঁয়া মানুষেরা বড়ো অস্থাবর।
হঠাৎই একসাথে অসংখ্য ব্যথা যদি কেঁদে ওঠে শোকে,
সেদিনও হৃদয়েরা ভালোবেসে পুড়ে যাবে,
সংজ্ঞাহীন ইচ্ছের কোন' হয় না উত্তর ।
তবুও কবিতা সাগরে মগ্ন দিয়েছি ডুব,
ওপারে কি সুখ আছে?
না কি কোন' ভয়?!
এসব প্রশ্নের কিছুদূরে বসে আমি খুব
একান্তে লিখে চলি একমনে স্বীয় প্রত্যয়।
কারণ, যাদের হুতাশে কাটে তারা ভরা রাত....
ভেবেছি যাবার আগে তাদের শোধ দেবো দেনা,
নোনা জলে সব রেখা ওদের ধুয়ে নিক হাত ,
যে নারীরা ভেবেছিলো...
কোন'দিন... আর কেউ পড়বে না।

0 মন্তব্যসমূহ