দর্পণ || রবীন্দ্র -নজরুল সংখ্যা || কবিতা




পোস্ট বার দেখা হয়েছে

অখণ্ড ভারত

অন্নপূর্ণা দাস


তাঁর অখণ্ড ভারতের স্বপ্ন দেখেছিল

তাই একজন রাখী বাঁধার  ডাক দিয়েছিল

অন্যজন 'মোরা একবৃন্তে দুটি  কুসুম.....'

এই জাতি,ধর্মের উর্দ্ধে ওঠার  ভারতবর্ষ

তারা বুঝতে পেরেছিলেন ভারত খন্ড হবে

এতে সমস্যা আরও বাড়বে......

ভারত খন্ড হল,সমস্যার সমাধান আজও হয়নি,

তাই জাতি নিয়ে আজও দ্বন্দ্ব চলছে

রবীন্দ্রনাথ,নজরুলের ভারত কাঁদে নীরবে 

মানুষের মানবিক মানবতাবোধই মুক্তির উপায় 

তাই তাদের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে এগিয়ে.....

*******

অনন্তে বহিছে ধারা

 বাসুদেব সেন 

       ‌          

 এক ।

               পথ অনন্ত । অনন্ত পথ । অরণ্যের গভীর শেকড়ে প্ররোচিত নব জীবনের খোলা খাতা । শেকড়ের পথ মিশে যায় হৃদয়ের মাঝে। হৃদয়ের মোহনায় । দাবানল ছড়িয়ে পড়ে ওপরে ওপারে । নিচে ভালবাসায় সিক্ত হয়ে যায় মাটি ও ভিতের সুপ্ত । গুপ্ত রথ ।


 দুই ।

        যে কবি শিশু ভোলানাথ থেকে ভানুসিংহ বনে যান , যে কবি আগুন ও পতঙ্গের খেলা বোঝেন তাকে সাক্ষী রেখেই শেষ দিনের লাইনে দাঁড়িয়ে থাকেন বেচারা অমল । আমরা মহাভারতের গান্ধারীকে একবার দিগন্তের আভায় প্রজ্জ্বলিত দেখি । আবার সন্তানের শোকে । পাহাড়ের গোপনচারীতায় শেষের কবিতা শুরু হবে বলে অজস্র গীতিনাট্যে নেচে ওঠেন চিত্রাঙ্গদা। আমরা সবাই পরমসুখে বিলীন হতে চাই তাই দেখেছিলাম রবিকে শান্তির আলয়ে । শান্তির আশ্রয়ে ।


 তিন ।

       কবিগানে যিনি মাতেন তিনি যুদ্ধের সাজেও সাজেন । একটা অবলা পশুকে বধ করতে যারা এগোন, তাদের বিরুদ্ধে তোলেন আওয়াজ। এ শব্দ চুরুলিয়া থেকে চৌরঙ্গী ঢাকা আর সারা বিশ্বের দরবারে হাজির হয়ে যায় ।ফরিয়াদ ,কৈফিয়ত  যেন অসহায়ের সহায়বন্ধ রূপ । মায়ের কাছে অবনত জবা ।


 চার ।

       আমরা সঞ্চিতা বা সঞ্চয়িতা যে পথেই হাঁটি সে পথেই বন। সে পথেই গাছ, পাথর আর কাঁটা। ঝলমলিয়ে ওঠে বেঁচে থাকার মানে। জ্বালা । একটা নকল গড় , আয়ু যার হিসেববিহীন ।  চরে কালরাত্রি,মেঘে ঢাকা দিগন্ত, সকাল থেকেই অযাচিত অতিথির সাদা  পাল।  অনেক যোজন দূরে হাত নাড়াতে থাকেন পশুপতি । নটরাজ । যেমন সেদিন তেমন আজ ও। যদিও দুঃখ তবুও আসে প্রেম ও  বসন্ত । বাতাসে বাতাসে । গভীর মাটিতে । হাঁটু গেড়ে বসে শিখা । গভীর কান্নায়, অশ্রু সাগরে। অনির্বাণ আলোয় ।

****

রবি নজরুল

ছন্দা দাম


বাংলা মায়ের দুটো নয়নের

একটিতে অনল অন্যটিতে জল,

মায়ের ঠোঁটের ঝঙ্কৃত কথার...

একটা রবি আরেক নজরুল।


পুরবে মায়ের অঙ্গচ্ছেদ হলে...

পশ্চিমে সন্তানেরা হয় কেঁদে

আকুল,

মায়ের কোলহারা অসহায় সন্তানের কথা...

চিৎকার করে বলে রবি নজরুল।


বজ্র নির্ঘোষে কলমের বল্লম

অত্যাচারীর কেল্লায় ফাটল ধরায়,

রবি আর দুখু বাংলা মায়ের

এক হৃদয়ের অলিন্দ নিলয়।


 কবিতার ছন্দে,গানের সুরে...

ভালোবাসার নদী বয় কুলকুল,

গঙ্গা পদ্মার স্নেহময় স্রোতধারা...

একজন রবি আর জন নজরুল।


বাঙালির অস্তিত্বের প্রতি ফোঁটা লহু...

যাদের ভালোবেসে হয় হরপল আকুল,

যুগ যুগ ধরে বাঙালির হৃদঘরে....

হৃদয়ের মহারাজা রবি নজরুল।।

***********

 স্মরণে নজরুল  

অভিজিৎ পাল


হে কবি -

তুমি মানবতার অগ্ৰদূত, জন্ম চুরুলিয়া গ্ৰামে

সমধিক পরিচিত তুমি, বিদ্রোহী কবি নামে । 

বিদ্রোহ সে তো তোমার কারোর বিরুদ্ধে নয় , 

বিদ্রোহ মানেই তো 'না বোঝাটা' স্বীকার করা হয় ।


হে কবি -

তুমি আত্মভোলা, সৃষ্টি তোমার অগ্নিবীণা, দোলনচাঁপা, ফণীমনসা

শুনিয়েছো তুমি সাম্যের গান মোদের, দিয়েছো পথের দিশা । 

কান্ডারী হুঁশিয়ার, মানুষ, বিদ্রোহী আজীবন রইবে অবিনশ্বর

তোমার সৃষ্টিতে সম গর্বিত, আল্লা আর ঈশ্বর ।


হে কবি -

ধর্মের গোঁড়ামিকে করেছো চূর্ণ, তোমার কলমে তুলে শান

তুমিই গেয়েছিলে সম্প্রীতির গান, "একই বৃন্তে দুটি কুসুম... হিন্দু-মুসলমান"। 

বাংলা সাহিত্যে তোমার সৃষ্টির উত্তাল ঢেউ, দুর্বার গতির বিচরণ  

রইবে অমর, চিরকাল, তুমি হে চির যৌবন ।

****

 তোমাকে পাই 

শেখর বণিক


আমার সকালটা ভাঙ্গে তোমার সঙ্গীতে । 

এরপর নিজেকে  গুছিয়ে যখন 

অফিসে যাই ,

পথে কারো না কারো  বাড়িতে  শুনতে

পাই তোমার সঙ্গীত  । 


অফিসে নির্ধারিত সময়ের  আগে 

যন্ত্রসঙ্গীতে চলে তোমার সুর । 


আর রাতে শোবার  আগে তোমার গান

শোনা আমার এক নেশা ভরপুর । 


শহরের  প্রতিটি মোড়ে পুলিশের  ঘেরা 

 টোপে শুনি তোমারই লেখা সুরেলা গীতি । 

অবকাশে শুধু  ভাবি এ বাংলায়

রবীর আলোয় কতোনা রাত পোহাল । 


কত আগন্তুক হারিয়ে  ফেলা সময়ের

প্রাণ পেলো ,

কত অর্বাচীন তোমার অনন্য আলোয়

আলোকিত হোলো। 


আমি এক কাকতারুয়া সাহিত্য মাঠের

ধারে খাড়া । 

তোমার আলোকধারা আমিও খুঁজি ,

তোমার যে আলো পাই তাতে

আমার মুন্ডিত মস্তক যারপরনাই দোলে। 


অথচ দেখো তোমার ছবিআঁকা একটি 

জামা আমার শীর্ণ গায় ! এখানেও তুমি । 


আমার নেশা চলার পথে তাল কাটে  ,

আবার খুজে পাই শান্তিনিকেতন । 


হে কবিগুরু  এই কাকতারুয়ার দেহে

একটি প্রাণ দিও , একটি কথা দিও ,

আর দিও সারা । 

আমি চাই চিরদিন উন্নত থাক তব চুড়া। 

**** 

 কাজী নজরুল

 মহুয়া হাজরা 


কাব্য দুনিয়ার এক জ্যোতিপুঞ্জ তুমি, 

জীবনে হয়েছো জয়ী ধন্য জন্মভূমি।

নত করোনি মস্তক কভু কারো কাছে ,

জননী গর্বিত মনে ক্রোড়ে নিয়ে আছে।

রুধির গরম হয় তোমা গান শুনি,

লহ অঞ্জলি প্রভাতে বহে সুরধুনী।।

****

 নজরুল 

আসরফী খাতুন


সুখের কবি দুঃখের কবি 

দেশের কবি তিনি,

লেখার তরে আগুন ঝরে 

তারে সবাই চিনি।


বিদ্রোহী কবি গানের কবি

ছড়ায় জাদু আছে,

ছোট বড় সবার সাথে

আছেন সবার কাছে।


লেখক কবি নীরব কবি 

লেখা ছিল বাকি, 

কবির পাশে বিশ্ববাসী

কবির সাথেই থাকি।

****

 হে কবি

 বিজুরিকা চক্রবর্তী


কবি, তোমায় দেখা হয়নি আমার, 

তবুও তুমি আমার ভীষণ চেনা;

তোমার সাথে সময় কাটাই প্রায়ই-

এ সত্যতা হয়নি তোমার জানা । 


তোমার তেজ এ বিশ্ব আলোকিত, 

সৃষ্টি তোমার অফুরান অপার, 

উত্তরসূরী সে তেজ এ সমাদৃত-

যোগ্য তারা কাব্যিক কৃপার । 


আমি তোমার উত্তরসূরী নই-

বন্ধু বলেই পরিচিত হতে চাই;

শিল্পী অর্থে নিজেকে চেনার থেকেও-

মনের ভাব কে সৃষ্টিতে খুঁজে যাই । 


তাইতো আমি জীবনের প্রতি ধাপে-

প্রতি অনুভূতি তোমার মধ্যে পাই, 

কবিগুরু তাই তোমার পথেই আমি-

জীবনকালেই মোক্ষ পেতে চাই ।। 


*********

চেতনার  চৈতন্যে   

বীথিকা ভট্টাচার্য 


হৃদয়ে রবি ঠাকুর, কাব্য সুধা ভারাতুর, বটবৃক্ষ ছায়া সমতুল,

সকল চৈতন্য জুড়ে, অনুভবে আছো ভরে, চেতনায় তুমি নজরুল। 

হৃদি মাঝে তোলে ঝড়, তব গাথা সমাহার, বর্ণে শব্দে আছো সমাহিত, 

বিপুল প্রতিভা রাশি, সহস্র কীর্তিতে ভাসি, চিত্ত মাঝে সদা বিরাজিত। 

দুই করপুট পরে, অঞ্জলি দিনু ভরে, আলোকিত দুটি ধূমকেতু, 

ভক্তির আসন পেতে, সুধারসে আছি মেতে, দুই পাড় বাঁধে এক সেতু।

দোহের প্রসাদ বারি, শতরূপে পড়ে ঝরি, আছো হৃদে দোহে সমতুল, 

বিদ্রোহের রুদ্র বাণী, কণ্ঠে সাম্যের ধ্বনি,  প্রতিবাদে তুমি নজরুল । 

ধরার উজ্জ্বল রবি,ভূধর শিখর ছবি, বিকাশিত  জ্যোতি বর্ণ ছটায়। 

চেতনে বিদ্রোহী কবি, রত্ন গর্ভা বঙ্গভূমি, মানবতা ভরা চেতনায়। 

অন্তরের অন্তস্থলে, রূপে রসে অনুভবে, কাব্যের নব নব ধারা,

সৃষ্টির উৎস স্থান, স্রষ্টার অমোঘ দান, এক আকাশে দুটি ধ্রুবতারা।  

বাঙালীর হৃদিমূলে, মুকুলিত শতদলে, সুললিত সুরে বাজে বীণ,

যদিও রয়েছো দূরে, সৃষ্টির সুধা নীড়ে, আছো  দোহে আত্মায় বিলীন। 

সদা জুড়ে হৃদি প্রাণ, বিধাতার অমোঘ দান,গুল বাগিচায় গানে গানে, 

হৃদয় উজাড় করা, সুরে তানে মাতোয়ারা, গীতরসে জুড়ে মনপ্রাণে।

সব তরঙ্গ মিলে মিশে, একি সুর ওঠে ভেসে, বাজে প্রাণে সাম্যের ধ্বনি,

বাংলার কোল জুড়ে একত্রে বিরাজ করে,গানে সুরে ওঠে রণরণি। 

রয়েছো অমর হয়ে, স্বীয় কীর্তি ধ্বজা ধরে, দুই পাড়ে দুই মহারথী। 

শ্রদ্ধাবনত শিরে, জুড়ি দুই করজোড়ে, জানাই বিনম্র প্রণতি।

****

 ভগীরথ হও

চন্দন চক্রবর্তী


এগারোই জ্যৈষ্ঠে এসে বুলবুল

চারদিক দেখে হল সে ব্যাকুল

দিশেহারা কেন জুঁই,বকুল

ভয়ে মেলে না দল !


ঊর্ধ্ব গগনে বাজে না মাদল

নিম্নেও নেই ফাঁকা ধরাতল

প্রেমের গেমে মত্ত তরুণ দল

ঠিকানা শপিং মল ।


ঊষার দুয়ারে হানবে আঘাত ?

বেলায় ওঠে,দেখেনি প্রভাত

ফোনে গেম খেলে কেটে যায় রাত

নেই মেরুদণ্ডে বল ।


মুখে মুখে ফেরে বিদেশি গান

বলাৎকারের ঠেক ফাঁকা শ্মশান

বছরে বাড়ে কোটিতে প্রাণ

জন জোয়ার এর ফল ।


দেশ তো কবে হয়েছে স্বাধীন

শিক্ষা পেয়ে ভবিষ্যৎ যে ক্ষীণ

হৃদয় তন্ত্রীতে বাজে না বীণ  

মিছিল,স্লোগানের চল । 


ফিরে গেল পাখি মুখ করে ভার

শিক্ষায় চলেছে লাভের কারবার

প্রতিভাবানেরা খাচ্ছে মার

যেন শয়তানের কল !


জৈষ্ঠ্যের এগারো হবে বুঝি শেষ

রাতে এসে কবি বলেন শেষমেশ

ভগীরথ হয়ে বাঁচাবি দেশ

আছে তো গঙ্গার জল ।

*****

গুরুজী ও তার কাজী

মধুমিতা আদক 


পরম শ্রদ্ধেয় "গুরুজী"র, সে অতি প্রীত "কাজী"।

কাজী সে 'বিদ্রোহী কবি', কাজী নজরুল ইসলাম;

আর স্বয়ং রবি ঠাকুর ছাড়া, কেবা হবে তার গুরুজী!

সচীব সুধাকান্তের নজরুল স্তুতি,গুরুজীর আহ্বান;

ঠাকুর বাড়ির প্রাঙ্গনে,প্রথম সাক্ষাৎ যেমন তেমন।

আতি স্নিগ্ধ,রমনীয়,শান্ত,গম্ভীর, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর!

নজরুলের থরহরি হৃদয়, অতি দ্রুততর স্পন্দমান।

বয়সের ফারাক, প্রায় পঁয়ষট্টিটা বৎসর!

হৃদ্যতা সাথে, প্রশ্রয় আর মান্যতার অবিচ্ছেদ্য বন্ধন!

চুরুলিয়ার দুখুমিঞা'য়, মগ্ন যবে কোলকাতা ইতিউতি ;

কোলকাতার রবিতে, জাজ্বল্যমান বীরভূমের প্রকৃতি।

রতনে রতন চেনে কবিগুরু, সম্ভাবনাময় বিদ্রোহীকে !

'বিজলী পত্রিকা'হাতে, কাজীর প্রচন্ড চিৎকার অক্ষুন্ন;

ঠাকুর বাড়ির প্রান্তে, "গুরুজী আপনাকে হত্যা করব এখন"! তাতেও শান্ত গুরুজীর, অতি প্রশ্রয় প্রচ্ছন্ন !

পাশে বসিয়ে মান বাড়ালেন, কুলীন হলেন জাত কবি;

গুরুজীর কাজী, বাংলার বুকে নামে "বিদ্রোহী কবি"!

গুরুজী করলেন কাজীর নিকটে, এও ভবিষ্য বাণী;

সেলি,কীটসে'র মত ট্রাডেজি, কাজী তোমারও জীবনী!

কাজী যখন জেল বন্দি, সম্পূর্ণ বিদ্রোহের সংসর্গ;

অনাত্মীয় হয়ে ও, লাভ করলেন রবির প্রথম লেখা উৎসর্গ!

কাজী ও রাখলেন গুরুজীর,স্নেহের যথার্থ সম্মান;

তাইতো কবির প্রয়ানে, লিখালেন সেই মর্মাহত গান!

একের পর এক সন্তান হরিয়ে, বিদ্রোহী তখন বিদেহী;

গুরুজীর বাণী সত্যি করে, জীবনে ঘনালো ঘোর ট্রাজেডি!

কবিগুরু বা বিদ্রোহী কবি, কবি গগনে দুই অস্তহীন তারা;

গুরুজী যেন বলে গিয়েছিলেন,তার স্নেহের কাজীর কাছে- "তোমার হল শুরু,আমার হল সারা..........."!

*****

সাম্যের কবি,বিদ্রোহী ছবি

 মোঃ আতিকুর রহমান মিরন


সাম্যের কবি,বিদ্রোহী কবি 

তোমাদের দেয়া কাব্য,

বাংলার আঁতু ঘরে

জ্বালিয়েছে প্রদীপ আলো। 


আলোতে আলোকিত হয়ে

বাংলাকে,বিশ্ব দরবারে,

শির  উঁচু করে

বাঁচতে শিখিয়েছে বাঙালিকে।


আজ বিশ্ব দরবারে মোরা

জাতিসংঘে বাংলায় দিয়েছি ভাষণ,

বাংলা ভাষাকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে

 আন্তর্জাতিক ভাষায় স্বীকৃতি।


তোমরা রয়েছে বাঙালির হ্রদয়ে

থাকবে যে চিরকাল,

বাঙালির চেতনায় একেছে ছবি

রবি ঠাকুর ও নজরুল।

*****

 কাজী নজরুল ইসলাম

অভিজিৎ দত্ত


বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্ম যার

পরবর্তীকালে বিশ্বে ছড়িয়ে পরেছিল

বিপুল নাম-ডাক তার।

কবি তার অসাধারণ লেখনীর জন্যে

প্রিয় হয়েছিল সবার।


দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই

করে যে উঠেছে 

সে কী দারিদ্র্যকে কখনো

ভুলতে পেরেছে ?

তাই যেখানে ,যত

শোষিত, নিপীড়ত মানুষের লড়াই

নজরুলের সমর্থন, সহযোগিতা

সবসময় পেয়েছে সবাই।


যেখানে যত শোষিত মানুষের

উপর হয়েছে অত‍্যাচার

নজরুলের কলম শোষকের বিরুদ্ধে

গর্জে উঠেছে বারংবার।


নজরুলকে জীবনে 

সহ্য করতে হয়েছে অসহ্য যন্ত্রণা

সন্তান শোক, পত্নী বিয়োগের ব‍্যাথা

 তবুও তার কলমকে যাই নি নীরব রাখা।


সাম‍্যবাদী,মানবতাবাদী কবির প্রতি

যদি প্রকৃতই শ্রদ্ধা জানাতে চাও

অন্যায়ের বিরুদ্ধে সকলে রুখে দাঁড়াও।

*****

নাইওর

কে দেব দাস


শণ-শণিয়ে, পবন চলে-

                                      গগন-তলে!

গগন-তলে, গগন-তলে -

                     ছুটছে সবাই, হণ-হণিয়ে!


ও রে-মাঝি , ও রে-মাঝি -

                     ছুটলে কোথায়, হণ-হণিয়ে!

ভাটি গাঙে, নাও বেয়ে যাও -

                     উজান পানে, নেইকো সুজন!


পাল তুলে-দে,পাল তুলে-দে-

                     আর যে, দেরী নাই!

ভাটির টানে, নাও ছেড়ে-দে-

                    ভিড়বে গিয়ে, ময়নামতির ঘাটে!


নাও খানা তোর, ভাঙ্গা মাঝি -

                         সামলে তুমি-যাইও!

আমার ভাইরে-কইও তুমি-

                         নাইওর-নিতো আইয়া!

****

রবি ঠাকুরের জন্মদিনে

মোঃ আব্দুর রাজ্জাক রঞ্জু


বছর ঘুরে আবার এলো

পঁচিশে বৈশাখ 

বিশ্বকবির জন্মদিনের

উঠলো বেজে ঢাক।


জোড়াসাঁকোর ঠাকুরবাড়ির

জমিদারের ঘরে

রবীন্দ্রনাথ জন্ম নিলেন

ঘরটা আলো করে।


হাসি-খুশি আনন্দ আর

ব্যথা বেদন শোক

ছোটো থেকেই আঁকাআকি 

লেখালেখির ঝোঁক। 


কবিতা আর উপন্যাস

গল্প শত শত

সুরে তানে গানে গানে

গীতি নাট্য যত।


এমন কোনো ক্ষেত্র নাই 

পায়নি পরশ তাঁর

সবাক ছিলো তাঁর লেখনী

তিনিই অহংকার। 


কথা-সুরে কবিতা আর

ফুটলো গানের ফুল

এই প্রকৃতির বায়ু- পানি

আরও নদীর কূল।


সব কিছু তাঁর কলম ছোঁয়ায়

পেলো ব্যঞ্জনা

সৃষ্টি যে তাঁর বহুরূপী

নানান বন্দনা। 


পদ্মভূষণ, নোবেল প্রাইজ

শোভিত তাঁর হাতে

বাংলা ভাষার খুললো দুয়ার

তাঁহার লেখনীতে।

****

 মনের আঙ্গিনায়

স্বপ্না মজুমদার


মনের আঙ্গিনায়  সুর বেজে চলে

রবীন্দ্র নাথ, নজরুল

প্রেমের  বীনায় সুর ভেসে ওঠে

 রবীন্দ্রসঙ্গীত,গ্ৰাম বাংলার 

কাব্যকথন

ভুলি না একচুল!


বিদ্রোহী গান কবিতায় মন 

গুনগুনিয়ে ওঠে

সে নজরুল কাব্য,গীত,

নজরুল মানে একই বৃন্তে আহ্বান

হিন্দু, মুসলিম,

সম্প্রীতি জাগানো,বিদ্বেষ হীন

মনে ভালোবাসার প্রীত!


বিদ্রোহী যতো কবিতা,গানে

নজরুল ইসলাম,

যায় না ভোলা,যাবে না ভোলা

অগ্নিবীণায় নাম!

গীতি বিতানে, রবীন্দ্রনাথ,

গীতাঞ্জলীতে পুরস্কার নোবেল সন্মান

মনের আলোয় পথ চলি আজো

ফিরে ফিরে দেখি শান্তিনিকেতনে 

মনোরম পরিবেশ,

ছাতিম তলায়, একসাথে কতো শত 

প্রিয় গান!

বিশ্ব কবি,প্রানের কবি হৃদয়ে 

রবীন্দ্রনাথ

চেতনায় জাগে বিদ্রোহী কবি

নজরুল প্রিয় অনবদ্য নাম।।

*****

 তোমায় দেখা

পিন্টু কর্মকার


তোমার শব্দে শব্দে ইতিহাস…

বাংলাকে তুলেছো সাহিত্যের এভারেস্ট!

দুঃখের সাগর থেকেও এনেছো অমৃত…

ভাবনার বিচিত্র লীলায় একজীবনেই দেখেছো বহুজীবন!

একশো নোবেলও কম, তোমার পুরস্কার।

তোমাকে মাপা তো এক আত্মছলনা;

তবে তব সৃষ্টির আলোয় তোমায় দেখার একটু প্রয়াস…

*****

 "রবি" পূজা 

  চম্পক ব্যানার্জ্জী                  

                   

বিশ্বকবি  তুমি আমার 'ঠাকুর'-

বিশ্বজোড়া তোমার নাম।

প্রতি প্রভাতেই তোমায় নমি-

ধূপ-দীপ জ্বেলে করি প্রণাম।


জ্ঞানের আলো প্রথম দেখা-

ছোট্ট খোকার অ-আ শেখা,

সহজপাঠেই 'ঠাকুর' দেখা।


শিশু মনের চাওয়া-পাওয়া-

সকল কিছুই তোমার দেওয়া।

যত কিছুই শিক্ষা নিলাম -

তোমার সহজপাঠেই পেয়ে গেলাম।


শ্রেণীর যতই উপরে উঠি -

পাতায় পাতায় তোমায় দেখি।

সব লেখাটাই মনের মাঝি-

তোমার লেখার মাঝেই জীবন খুঁজি।

জীবন খাতার প্রতি বাঁকেই -

তোমার ছকা পথ যে চোখে-

অন্য পথে একা লাগে।


শরীর-মনে ক্লান্তি এলে-

তোমার গানেই যায় যে চলে।

গান তো নয় -মনের ক্ষুধা,

জুরায়ে জ্বালা ঢালছে সুধা।

তোমার সুরেই হৃদয় জুড়ে -

মনকে মাতাল দেয় যে করে।


এমন 'ঠাকুর' জীবন ঘিরে-

সকল কিছুই পূর্ণ করে ।

আজকে তোমার জন্মদিনে -

পূজার খুশি মনে- প্রাণে ।

ধূপে-দীপে ফুলের সাজে-

তোমার পুজা সকাল- সাঁঝে,

উলুধ্বনি শঙ্খধ্বনি উঠল বেজে।

পরিয়ে মালা -তোমার গলে,

বসেছি তোমার চরণতলে।

তোমার পুজার মন্ত্র বলি-

তোমার লেখা কবিতাগুলি ।

যেন এমন তরই চলতে থাকে-

প্রতি বৎসরে পঁচিশে বৈশাখে।।

*********

মিলন মেলায় শব্দ খুঁজি

বিনিময় দাস 


জীবন দোটানায় ভগ্ন,

তাই ভগবানকে করে‌‍ যাই প্ৰশ্ন ।

ডাক শুনে কেউ কাছে না এলেও আমি

আজ সৃষ্টি‍ সুখের উল্লা‍সে হারা‍ই,

একটুকু ছোঁয়া লাগে---

লৌহ কপাটের আবদ্ধতায় আমি,

হতে পারি‍ পথহারা‍, সৰ্বহারা‍,

তবু সাম্যবাদের গান গাই ।

কেউ বলে লিচু চোর,

ছোটনদী চলে-- করে‌‍ আপন মনে  শোর ।

আমি সংঘাতে ---

ছুটিতে ছুটি নেয় ফটিক,,

বিজয়িনী বলে বেহশতে কে যাবি আয় ---

সঞ্চি‍তা, সঞ্চয়িতা, গীতবিতান জীবনের পথ দেখায় ঠিক ।

*****

কবিবন্দনা 

মাধুরীসাহানা


রবি কিরণে প্রস্ফুটিত সাহিত্যের বাগিচায়

প্রবেশ করি বই পোকা হয়ে। 

লেখনীর সুধা পান করি আকন্ঠ।

ভ্রমরকে সাথি করে ঋতুরঙে 

নেচে উঠি তা থই থই।

আবার কখনো ইচ্ছে সাজি চিত্রাঙ্গদা।

অথবা, নয়িকার চরিত্রে মায়ার খেলা।

হৃদয়ে একটি রবীন্দ্রনাথ খুজে পাই

মানুষটির কন্ঠে গীতাঞ্জলি,

হাতে বই রবীন্দ্র রচনাবলী।

উজ্জ্বল এক  ধূমকেতু বঙ্গসাহিত্যে 

বর্ণালী সৃষ্টি সুখ দিয়েছেন,

তিনি নজরুল।

বাঙালি মননের সন্ধ্যা কেটে যায় 

 রবীন্দ্র নজরুল বন্দনায়।।

***

সত্যিই সেই বাঁশি আর

সায়ন্তন ধর


কবি, তুমি বলেছিলে, "যদি আর বাঁশি না বাজে"

সত্যিই সেই বাঁশিতে আর দীপক রাগ বাজেনি,

আর বাজেনি বলেই তোমার কামালের তুর্কি এখন

ধর্মের নামে যুদ্ধ করে,

তোমার শাতিল আরব বিধৌত ইরাক জ্বলে ছারখার হয়।

সেই বাঁশি আর বাজলো না বলে

তোমার কাণ্ডারী হারিয়ে ফেলেছে পথ

সেই বাঁশি আজ নীরব বলে সাম্যের গান আর বাজেনা মানুষের হৃদয়ে

কবি, তুমি আবার 'চোখ চাও'

ওই বাঁশির স্তূপ থেকে তুলে নাও সবচেয়ে সুরেলা বাঁশিটি

তারপর পৃথিবীর আনাচে কানাচে

ছড়িয়ে দাও তোমার সুর

তোমার সুরের যাদুতে জেগে উঠুক অর্ফিয়াস

প্রেম ঢেলে দিক স্বর্গ-মর্ত্য-পাতালে

প্রয়োজনে মঙ্গলে বা চাঁদে।

এই মায়া মমতাহীন পৃথিবীতে প্রেমই এখন দরকার।

******

জৈষ্ঠ্যপুত্র

পিয়াংকী 


লগ্নজাত বিদ্রোহতে তোমার নামে গান

চুরুলিয়ার মাটি জানে ধ্যানের অবসান  

আয়না বুকে ধরতে পারো প্রকাশিত শিখা

মাঝি লেখে খিদের কারণ এবং 'কুহেলিকা'


আগুন জমে লোহা হল 'ঝিঙেফুল'-এ নদী 

'সাম্যবাদী' কবি তখন পায়নি জলের হদিশ

প্রহর শেষের ভাটিয়ালি কিংবা গর্ভঋণ

'গুলবাগিচা'র 'দোলনচাঁপা'য় বিছিয়েছে আস্তিন


চব্বিশে মে আসতে থাকে বছর ঘোরে আবার 

কইমাছেতে পোস্তবাটা তোমার প্রিয় খাবার 

পানের খিলি আর প্রমিলা, কে যে বাজায় বাঁশি

চায়ের কাপে প্রবন্ধ আর কবিতার তল্লাশি 


পারকিনসনে বরফ হলে শীতল হল যজ্ঞ 

সাতাত্তরে অস্ত গেল সূর্যের  বৈরাগ্য 

জন্মদিনে শঙ্খ বাজে প্রদীপ জ্বলে ঘরে

বুকের ভিতর তুফান ওঠে আগুন ব্যবহারে...

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ