দর্পণ || কবিতায় ~ নীলাঞ্জন দরিপা




পোস্ট বার দেখা হয়েছে

উঁচু নীচু দিনের খোদাই


১।

এ সেই কবিতা আমি যাকে লিখতে চেয়ে

হেঁটেছি নষ্টের পথ, মৃদু পায়ে ফিরেও এসেছি

ছেড়েছি চমক, ভণ্ড সঙ্কেতের রূপ, ক্লিশে দুঃখ,

কিম্বা নতুনের ঝোঁকে অসংলগ্ন ভাঁড়ামোর নেশা

কপট গাম্ভীর্যে মুড়ে, কেতাবি তথ্যের ডানা মেলে

মারিনি মূর্খের ঝাপ্টা, অনুকরণের অন্ধ-দিনে

অসৎ-নির্বোধ কোনো হাততালির ডেরা থেকে ক্রমে

আমাকে সরাও, দেখো, যেন ভয় রাগ ক্ষোভ খিদে 

তেষ্টা, জ্বালা, প্রতিশোধ, ঈর্ষা বা রক্ষণ তাগিদেও

আমার কবিতা জুড়ে না ফোটে মিথ্যের স্তুতি-গান


২।

তোমার জীনসের মধ্যে কুয়ো আছে অলীক স্বপ্নের

একথা স্বীকারে একটি গ্রাম ফুটে ওঠে, ছোটো পাপের কুটির,

ঢেকে দেওয়া ঝোপঝাড়ে সবুজাভ হতাশামর্ম্মর

দরজা ঠেলে বাইরে এলো এলেবেলে লোচ্চার বেহেড, ওই দ্যাখো

গায়ের স্যান্ডোটা খুলে চালে ছুঁড়লো (পাপ ঢাকতে), তালে দিব্যি ঠিক,

জানি সে কথাই ভাবছো, কিন্তু ওই লকলকে সরু দুটো হাত

এখনো চনমন ক'রে ঝোপের ভেতর থেকে কাঁটা বেছে নিলে

বিদেশী থুতুর দলা লাথিয়ে যাচ্ছে তো বিঁধে, গিলতে গেলে, সস্তার মাতাল


৩।

ভালো না বাসার শক্তি ধরা দেয় ধীরে, মৃত মন

অকস্মাৎ নিরুত্তাপ টেনে তুলল ডুবন্ত পাথর

এখন পাথর কিছু আরও শক্ত হয়ে উঠবে বলে

অবিশ্বাসে মৃদু হাসে কিন্তু কিছু ভালো সে বাসে না

অথচ জীবিতকালে উপচে গেছে শহরের পথে

তামাম দুঃখীর কান্না বেজেছে উন্মাদস্বরে তারই

ভালো না বাসার শক্তি ধীরে এলে যে কোনো শিশুরই

স্তন্যের অভাবে চোখে স্মিত হাসি আসে কিছু ভালো সে বাসে না


৪।

পৃথিবী টিটকিরি দেবে, সেই ভয়ে, দ্রুত ভাঙবে জেনেও কখনো

করব না রাগের চেষ্টা, তাই হয়? যাব অবশ্যই

তা বলে তো সসম্মানে যাব না কখনো প্রেমহীন

অপ্রয়োজনের কথা বলেছি অধিক, জানি, জানি তুমি চাও না সেভাবে

যেভাবে চেয়েছে ঝরা আশ্বিনের শিউলি, কেউ কুড়িয়ে জমাক

যতক্ষণ ঘ্রাণে তার ছটফটাচ্ছে প্রাণ-ধ্বনি; প্রতিটি কান্নাই

যেভাবে চেয়েছে শক্তি, ছোটরাত্রি, দুর্লভ নিভৃতি;

বস্তুত, এসবই কিছু না পাওয়ার চাওয়া, তাই জ্বলে 

অনাথ শিখায়, দেয় ছাইজন্ম, এই দহনের বিন্দু ভেঙে 

এও কি বুঝিনি তুমি চাওয়া না চাওয়ার মাঝে রয়েছো বিপদে 

চলে যেতে পারো, সেই গাঢ় ভয়ে, ভেঙে পড়ব জেনেও কখনো

প্রণয়ের স্পর্ধাকালি ছেটাব না, তাই হয়? যাব অবশ্যই 

তবুও তো সসম্মানে যাব না কখনো প্রেমহীন

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ