দর্পণ || চন্দ্রশেখর ভট্টাচার্য্য || কবিতা গুচ্ছ




পোস্ট বার দেখা হয়েছে

ফাঁকা ছাদ


তোর নামে যদি কোনো লেখা হয়

তার নাম রাখা হোক চাঁদ ,

যেভাবে সবকিছু শেষে

ফাঁকা পড়ে থাকে একা ছাদ ।


সহসা উল্কাপাত হলে 

যেমন থাকিস চোখ বুজে ,

আমি আছি হাত বাড়িয়েই 

অন্ধকারে নিস খুঁজে ।


তোর নাম শুনে যদি গোঁসা হয়

যদি লজ্জায় রাঙা হয় চাঁদ ,

তুই আমি পাশাপাশি বসবো 

শুধু তুই আমি । আর ফাঁকা ছাদ ।


        -------

সবটাই তোমার হাতে 


কতটা শক্ত বেঁধে দিলে 

বাঁধনের দড়ি শক্ত হয়

কতটা আলগা করে দিলে

বাঁধনের দড়ি খুলে যায় ।


সবটাই তোমার হাতে ।


কতটা জল মেশালে

হুইস্কি পানের যোগ্য হয়

কতজন বন্ধু বসলে 

রাতের ডিনার, পার্টিতে বদলে যায় ।


সবটাই তোমার হাতে ।


কতটা আগুনের কাছে গেলে

আগুন সহসা গ্রাস করে

কতটা পোড়াবো মনে করে 

আগুনের কাছে হাত ধরো ।


সবটাই তোমার হাতে ।

হাতটাকে কি করবে বলো ?


       ------

অজুহাত 


যে বিকেল চলে গেছে 

সন্ধ্যা হওয়ার কিছু আগে


তাকে তুমি ফিরিয়ে আনবে কোন অজুহাতে ?


যে বিকেল মিশে গেছে

গোধূলির ম্রিয়মান তামাটে আলোয়


তাকে তুমি আলাদা করবে কোন অজুহাতে ?


যে বিকেল আটকে পড়েছে

দুপুরের অমোঘ মায়ায়


তাকে তুমি ছিন্ন করবে কোন অজুহাতে ?


অজুহাত ছাড়ো। সম্মুখে বলো ।


কি সাধ তোমার ।


   -------

এখন দুপুরবেলা


শুকনো পাতা । শব্দের খস্ খস্ ।

দল বেঁধে গাছের তলায় ।


ঘুমন্ত মা । জেগে থাকা দুপুরবেলা ।

চুপি চুপি পালিয়ে যাওয়া ।


কাঁচের বয়াম । আমের আচার ।

জিভে জল । লালা টপকায় ।


প্রত্যেক রবিবার। মাংসের গন্ধে

ম - ম রান্নাঘর। 


এখন দুপুরবেলা মোবাইলে বন্দি ।

এখন দুপুরবেলা বড়ো বেশি নিজ্ঝুম। 


           -------

ডাকবাক্স


সঞ্চিতার নামে আজকাল 

কোনো চিঠি আসেনা -


ডাকবাক্সের ওপর 

জমে থাকা ধুলোর আস্তরন। 


ধুলোর মধ্যে 

ঝগরা করে তিনটে শালিখ 


বাইশ বছর 

সঞ্চিতার নামে কোনো চিঠি আসেনি


অথচ বাইশ বছরের বেশি

সেগুন কাঠের ডাকবাক্সটা

রোদে, জলে ভিজে ভিজে ঠায় দাঁড়িয়ে 


ওর নামে একটা চিঠি আসবে বলে ...

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ