পোস্ট বার দেখা হয়েছে
তুমি বললে বলে
তুমি যখন আমায় জলের কথা লিখতে বলো -
আমি না চাইলেও বরফ জমে যায় অক্ষর খাঁজে
যখন তোমার জন্য লিখবো ভাবি ঢুঢু সৈকত - বেখেয়ালে বালির ভিতর ডুবে যায় নিব
যখন বিকেল চশমায় আদর করে সিঁদুর রঙের রোদ
তোমার চোখে চোখ পাততে ইচ্ছা করে ।
তুমি আমায় প্রেমের কবিতা লিখতে বলেছিলে,
যেখানে অক্ষর বয়ে যাবে নদীর মতন, ঝর্ণার নাম হবে সহজ, কলমের আল ধরে ছুটবে আবেগ...
আমার ভিতর যে প্রেমিক হারিয়ে গেছে, দাহ হয়নি তার ।
তবুও তো প্রতি যুদ্ধের শেষে কোনো গোলাপের চারা অক্ষত থেকে যায় ...
আমার স্বেচ্ছাচারী কলমের কান মুলে কেউ দেখিয়ে দেয়নি সেই শিশু গাছটিকে , তুমি ছাড়া ।
তাই নারকেল পাতায় যখন মেঘের সাথে সোম খেলা করে,
যখন কথার ভাঁজে কথা হারিয়ে ফেলি, যখন কাজের ফাঁকে চোখ চলে যায় গাঙ শালিকের ঝাঁকে -
আমার ভীষণ তোমায় দেখতে ইচ্ছা করে, তোমায় লিখতে ইচ্ছা করে, অজান্তেই ।।
===
২. দেওয়াল
যে মানুষটা শেষদিকে আমার কথা ভাবতে ভাবতে মিলিয়ে গেলো
বহু বছর পরে কোনো এক সন্ধ্যায় তার ছাই জমিয়ে রাখছি এ্যাশট্রে'তে
একটা কেমন কেমন, যাকে শূন্যতা ভাবছো তা বহু গ্রীষ্মের শেষে গেঁয়ো সরকারি নলকূপ
সামান্য'টুকু জমে আছে স্মৃতির নীচ বরাবর বাতিল-স্তরে
সেই কবেকার ফুরিয়ে যাওয়া বিকেল, চশমা, ঘড়ি, পানের বাটা
এক পা দু পা টান কাটিয়ে ধুলোর সাথে হারিয়ে যাবে মরা চাঁদের মতন
এক্ষুণি যে লন্ঠন স্মৃতির নামে ঝুলিয়ে রাখলে এতোয়া মুন্ডা, একদিন তোমার লোধাশুলিতে বিদ্যুৎ এলে ওটি জঞ্জাল হয়ে যাবে।।
কবরের উপর সময় বুড়ো হলে কেবল বাতাস মনে রাখে, নিয়ম করে ছড়িয়ে দেয় বকুল ফুল
তখন আমরা শুধু পলাশকালে পুরুলিয়া যাই আর ভুল করে কোনো এক সন্ধ্যায় এ্যাশট্রে'তে রাখি অস্থিশেকড় ।।
জীবনের ক্ষুদ্র ভিতর'ঘরে আরও কত জীবনের ঢল
কাজেই, সমস্ত মৃত্যুকে মৃত্যুর আগে দু'ছটাক দেওয়াল কিনতে হয়...
===
৩. স্বাধীনতা অনাবিল
কতটুকু আর ছেড়ে এসেছি
কতটুকু আর এগিয়ে দিলো দ্রুত পা
সবটা ভুলেছি ভেবেও গুড়ো অতীত মেখেছি
বড় হয় রাত, ঘুমোয় স্লিপিং পিলের হতাশা
জানিনা মোমবাতি কেনো পুড়তে ভালোবাসে
জানিনা কতটা কষ্ট থাকে অঙ্কের ভাগশেষে
হয়তো সবার জীবনেই কোনো নতুন প্রবেশ আসে
তবু গায়ের গন্ধ থেকে যায় শুধু কলারের অবশেষে
যদি পারতাম আমি রুখে দিতে এই রুদ্ধ দিনের আখ্যান
সন্ধ্যা নামার আগেই যদি নোঙরে শেকল বাঁধতাম
যদি মন খুনিদের শাস্তি লিখতো আইনের বই খুব গভীরে
পৃথিবীর যত কারাগারে আজ তিল ধরতো না কয়েদির ভিড়ে
কতটুকু আর ছেড়ে এসেছি
কতটুকু আর ছেড়ে আসা যায় ?
কত মলমের খালি খাপ জমা হলে
কত কলমের কালি কেঁদে ক্লান্ত হলে
আবার কোনো আঙুলের ফাঁকে ভালোবাসা যায় ?
আজ তুমি যদি আমায় লিখতে বলো আরেকটি প্রেমের গল্প
আমি তোমার বুকে মাথা রেখে উড়িয়ে দেবো একজোড়া শঙ্খচিল
আজ তুমি যদি আমায় ভালোবাসতে বলো শেষ রাতের দিকে
চিবুক জুড়ে পদ্য লিখবো " স্বাধীনতা অনাবিল" !

0 মন্তব্যসমূহ