দর্পণ || জয়ীতা চক্রবর্তী আচার্য || কবিতা গুচ্ছ




পোস্ট বার দেখা হয়েছে

অযাচিত বেদনা 


চিন্তার অসম তটে-

অস্ফুট ইচ্ছেগুলো,

উঁকি দেয় ছেঁড়া চাঁদ

উন্মত্ততায় ভরিয়ে দেয় আমায় অযাচিত বেদনা!

বিষন্নতার রোদ্দুরে...শূন্য আঙিনা

অবরুদ্ধ কায়া..

দিনলিপি! রাতলিপি!

হাতছানিতে ডাকে দিঘল রজনীতে,

নিঃসঙ্গতায় ডুবি

ভালবাসার পাশে।।


***************

অনুভব 


বোধের অবাধ্যতাকে প্রশ্রয় দিই না


শূন্যতায় পুণ্যতা,


কচুরিপানায় ভাসমান খই --


উড়োমেঘে মন রেখেছি


নালিশের ভাষা আজানা বা অ-মানা


জোট বাঁধা সব ধাঁধা...মন খারাপ মেঘের মতো


সব সন্ধানী বিক্ষোভ,


বেঁধে থাকি, নিজস্ব সীমা 


চতুর্দিক আবছা আলো! অন্ধকার,


অনুভবের সাত-কাহন


বুকের মাঝে গুমরে ভাঙে


শার্সি মনের কাচ!

************

এক চিলতে রোদ্দুর 



বেআবরু হয়েছে অতীত।

রাংতা-জীবনে মুড়ে  প্রাচীন দীর্ঘনিঃশ্বাস

ভেতর ফড়িং উড়ে বেড়াচ্ছে, এক চিলতে রোদ্দুরের স্বপ্নটুকু মৃত তটে, একলা পড়ে আছে... ।।


নিজেকে বিয়োগ করছি,বেজে উঠেছে যে নিঃসঙ্গতা।  আজন্ম তৃষিত জ্বরশোকে

রাত্রির রঙে ডুব দেয় ইশারা...


সম্পর্ক দূরে দূরে হাঁটে,সমস্ত তিতিক্ষাকে

তীরবিদ্ধ করে,অনুভব না অনুভূতি কার ভেতর কতটা সুখ? 

এক প্রবাহ মাত্র।

যুগান্তর ব্যাপী সকাল

দিনে দিনে ফুরিয়ে যায়।। প্রতিটি যোগ্য 

 মুহূর্ত থেকে বিষাদের অঙ্ক শিখে নেই।।

*****************

আজন্ম তৃষ্ণা 


দূরগামী ব্যস্ত বাসস্টপ

সামনে জীর্ণ ডাকবাক্স

নীরব সাক্ষী হয়ে থাকে... 

যৌবনের গাঢ়বন্ধ শব্দের পিছনে।


প্রেম, অভিমানী মুখ, হৃদয় অসুখ

সবেতেই অদ্ভূত চঞ্চল ....


আমার আজন্ম তৃষ্ণা চেয়ে থাকে

নিভে আসা একটা ছিন্ন ছবি 

ঘর ময় গুমোট রাত,সম্পর্কের ঢেউ

আমাদের হাতে উষ্ণতা ..


নগ্ন দু’চোখে খেলা করে পিপাসার ঢেউ

বুভুক্ষ আগুন

অঙ্কুরিত‌‌ হলো বীজ,

শরীর জুড়ে উড়ন্ত পাহাড়

ঠোঁটের পরে ঠোঁট ঘনিয়ে- 

বহুস্পর্শী জ্যোৎস্নায়

ভেসে যায়..অশ্লীল লিপ্সায় লালায়িত লগ্ন।।

*****************

ভালোবাসা


অসমাপ্ত গল্প কথা আমার 

পরে রয়, নিষিদ্ধ পরজীবি

চৈতন্য কামনায়,ণিজন্ত অন্ধকারে। 


ঠোঁট চায় এক কম্পাঙ্কে কাঁপতে

অপলক দৃষ্টি চায় এ নয়ন।।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ