পোস্ট বার দেখা হয়েছে
খুন
কন্যা সম্প্রদান এর আগে
মেয়েকে আড়ালে নিয়ে
বাবা বললেন পরমস্নেহে,
"ভয় পাস নে মা,
শিল্পীর হাতের তুলিতে
যে ছবি ফুটে উঠছে --
তাকে আমি সারা
পৃথিবীতে ছড়িয়ে দেবো,
তুই এতদিন রানী ছিলি,
আজ রাজরানী হবি।
বাবা চলে যাওয়ার পর
কবরে হাত রেখে
রানী জিজ্ঞেস করল ,
"বাবা আমার স্বপ্ন!"
ঈশ্বর উত্তর দিলেন,
" শিল্পীর আঙ্গুলে পচন ধরেছে ,
আজ তাই সে অন্ধকারে।"
ব্যর্থ অবয়ব খুন হয়ে যায়,
সভ্যতার কান্না শোনা যায়!
------------------------
আবাসভূমি
ঘরভর্তি অন্ধকার নিয়ে
যে লোকটা সারাজীবন
ঠুকটুক ঠুকটুক করে কাটিয়ে দিল,
তার কড়াপড়া হাতের প্রার্থনা
তুমি সহ্য করো কী করে ঈশ্বর,
তোমার লজ্জা করে না ?
তবু তুমি শুধু ডাকো তাকে,
অহর্নিশি নির্বোধের মত
কাল থেকে কালান্তরে,
যতই তুমি জানো না কেন ---
উন্মুক্ত পৃথিবী তার ঘর নয়,
হতে পারে না ইহকাল পরকালে।
------------------------
ঘৃণা
স্মৃতি সৌধের পাশে নিভৃত সায়াহ্নে
সদ্য অষ্টাদশী-র কোমল আঙুলে
একটা সস্তা আঙটি পরাতে পরাতে
সে বলেছিল, " আমিই তোমার ঈশ্বর,
আমি প্রাণ সৃষ্টি করতে পারি। "
বাড়ি ফিরলে ছোটভাই জিজ্ঞেস করে,
" দিদি তুই ঈশ্বর দেখেছিস ?"
পারানি বলে , " দেখেছি, ওয়াক্ থু!"
দিন যাই,পুষ্প ফোটে সন্ধ্যার আঁধারে,
প্রকৃতি নি:স্ব হয় ক ্স কারাগারে।
----------------------
নারী
চিৎ হয়ে শুয়ে থাকতে থাকতে
মেয়েটি বলেছিল ,
"আমার বৃত্ত আড়াই হাত জমিনে ।"
বন্ধ চোখ অন্ধকারে, দেহে শিহরন!
লতা পাতা অঙ্গ ছাড়িয়ে
সে বলেছিল, " আমার স্বপ্ন ছুঁয়ে যাক
আকাশের কোণ, বিস্তৃত উঠোনে।"
পাখিরা নিজেদের মতো চলে, কথা বলে--
বিস্তৃত উঠোন ছুঁয়ে নারী যায় অস্তাচলে।
-------------------------
অসীম
ছেঁড়া কাঁথা ভাঙা তক্তাপোষে শুয়ে থাকে সে। কবিতার কথাগুলো উড়তে উড়তে ফিরে যায়, বুকে মুখে চোখে মৃতপ্রায় শ্বাসে, জন্মান্তরে বয়ে যাওয়া অযুত ঘাসে, আলোময় কবিতার আঁধারে ডুবে যায়, সেই অতল থেকে তুলে আনে ফুল শব্দ শ্রমিক, পথশিশু পথ ভুলে যায়, সন্ধ্যায় মিশে যায় অসীম ঈশ্বরে।

0 মন্তব্যসমূহ