পোস্ট বার দেখা হয়েছে
তুলসি গাছের কথা
শরণ্যা
তুলসী গাছ তো সবাই দেখেছেন।সবারই বাড়িতে রয়েছে এই গাছ।এই গাছের পাতা সব পুজোতেই ব্যবহৃত হয়।বিশেষ করে নারায়ণ পুজোতে তো এটি লাগবেই!কিন্তু এই তুলসী কেন নারায়ণের প্রিয়?কেন এটি ওষুধ হিসেবেও কার্যকর?আসুন জেনে নিই পৌরানিক উপাখ্যান।
কালনেমির কন্যা বৃন্দা ছিলেন বিষ্ণুর মহান ভক্ত।তার বিবাহ হয় শিবের তৃতীয় নয়ন থেকে সৃষ্টি মহাবীর অসুর সম্রাট জলন্ধরের সাথে।জলন্ধর স্বর্গ,মর্ত ও পাতাল জয়ের জন্য বেরিয়ে পরেন এবং কৈলাস ছাড়া ত্রিলোকের সকল স্থান তিনি জয় করেন।
এরপর নারদ একদিন এসে জলন্ধরকে জানান,যে তার কাছে পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর মহিলা স্ত্রী রূপে নেই,যা শিবের কাছে রয়েছে।এরপর তিনি পার্বতীর রূপ বর্ণনা করেন এবং জলন্ধর প্রতিজ্ঞা করেন যে পার্বতীকে জয় করবেন।পুরো সেনা বাহিনী নিয়ে তিনি যান শিবের সাথে যুদ্ধ করতে।শিব,নন্দী ও শিবের সমস্ত রুদ্র রূপ যুদ্ধে নামেন।যুদ্ধের সময় একদিন জলন্ধর শিবের রূপ নিয়ে পার্বতীর কাছে যান।কিছুক্ষণ থাকার পরই পার্বতী বুঝতে পারেন যে ইনি শিব নন,এবং ক্ষিপ্ত হয়ে পালিয়ে যান।
এরপর তিনি বিষ্ণুকে বলেন তার হয়ে প্রতিশোধ নিতে।
বিষ্ণু জলন্ধরের রূপ নিয়ে বৃন্দার কাছে যান।এদিকে স্বামী যুদ্ধে গেছেন,বৃন্দা তার বিজয় কামনায় নানা পুজো ও ব্রত করছেন।স্বামীকে ফিরে পেয়ে তিনি খুবই খুশি হন।বিষ্ণু বেশ কিছুদিন থাকেন বৃন্দার সাথে।এরই মধ্যে বৃন্দা সেই পুজোগুলির দ্বারা এক বিশেষ সিঁদুর পান,তিনি নিজের স্বামীকে বলেন এই সিঁদুর পড়িয়ে দিতে এবং
জলন্ধর রূপে বিষ্ণু নিরুপায় হয়ে তা করে বসেন।এরপর বৃন্দা জানতে পারেন তার স্বামী এখনো যুদ্ধরত,বিষ্ণু তার সতিত্ব নস্ট করার জন্য এসেছেন।তিনি তখনই আগুনে দেহ ত্যাগ করেন এবং বিষ্ণু কে শাপ দেন যে তাঁর পত্নীরও এই হাল হবে,তিনি দরিদ্র হয়ে ঘুরে বেড়াবেন এবং তাকে বাঁদরদের সহায়তা নিতে হবে(রামায়ণে ঘটেছিল)।
বৃন্দার ছাই থেকে এক প্রকার উদ্ভিদ উৎপন্ন হয় এবং সেই স্থানটি ভরে যায়।এই স্থানটি বৃন্দাবন এবং উৎপন্ন গাছটি তুলসী।এই জন্যই তুলসী এত পবিত্র ও সব পূজায় ব্যবহৃত।
এই ছোট্ট তথ্যটি আপনাদের কাছে তুলে ধরতে পেড়ে ধন্য হলাম।

0 মন্তব্যসমূহ