পোস্ট বার দেখা হয়েছে
লান্দাই
স্নেহাশিস পালিত
(১)
ইচ্ছে খুশি
তোমার ছাগল কাটবে তুমি ধড়ে কিম্বা লেজে,
খেতেই পারো ইচ্ছে খুশি কষে কিম্বা ভেজে।
(২)
স্বভাব
নরম মাটি খুঁজে মরো বিড়ালের জাতভাই
দুর্ভাগ্যের শিকার যখন কিচ্ছু করার নাই।
(৩)
অনধিকার
নাকটাও হয়েছে তেমন, যেখানে সেখানে ঢোকে -
বলা নেই কওয়া নেই সবকিছুই শোকে।
(৪)
পরাধীন
হেঁসেলটাকে গন্ডি করে সেবার ধর্ম নিয়ে
ঢুলি পরে আছিস বলেই সবাই গেছে পেয়ে।
(৫)
বুদ্ধিমান
ঝোপ বুঝে মারছে কোপ যত বুদ্ধিমান
উপায় কী? গাড়োল তুই কর অভিমান।
(৬)
সবাই সমান
এ বলে আমায় দেখ, ও বলে আমায় -
লাল-নীল-সবুজ-গেরুয়া সুযোগ বুঝে কামায়!
====
Untrodden Steps
Ms Gargi Saha (C)
Life's like a staircase untrodden
And when it begins
Each stair to be ascended
Everytime new steps, new methods, new plans
And they become exhaustive
Again begins another phase
Yet a different stair
New avenues to be followed
And it continues till the end
New phase, new stairs
Untrodden ones become known, carved
Yet for a beginner
Everything remains evergreen
New mysteries to be solved
And begins the
peregrination
In a new era.
====
"অন্ধকার"
কৌশিক গাঙ্গুলী
আমার হাতে নেই ভুবনের ভার,
এই গরমে কালবৈশাখী নিদেন বৃষ্টির খুব দরকার।
ঘর থেকে রাজপথ
চারিদিকে রাজনৈতিক খেলা চলে,
মিথ্যাই বাঁচার শপথ।
দুর্বলরা চুপ, শক্তিমানেরা কথা বলে।
কাঁধে ঝোলা মুখে হাসি ভুবন ভোলা,
ঘুরি পথে প্রান্তরে,
মা হীন একাকী সংসার
টান নেই ফেরার ঘরে।
বিকিকিনির হাটেতে
যারা বিবেক ফেরি করে,
তারা জিততে চায় সবকিছুতে,
যুগ তাদের সাবাস সাবাস করে।
দু'হাতে তারা বাড়ায় সম্পদ
সমাজ হয় দূষিত বাড়ে বিপদ।
গিরগিটিদের বড় কদর সমাজে, সংসারে,
সব খেলাতেই তারা জেতে, অন্যরা হারে।
কালো দিন আলোকে ঢেকে দেয়,
খারাপের জয় ভগবানও মেনে নেয়।
জয় অন্ধকারের জয়
নইলে মরার ভয়।
====
শুধু যেন অবিকল কবিতা-ই থাকি
অসীম দাস
না-লেখা কবিতার সঙ্গে
আমার কথা হয় মাঝে মাঝে !
কবিতার ডাক শুনি
-- কি এতো ভাবছো বলো তো ?
আমি বলি-- তোমাকে কোথায় নিয়ে যাব,
বিশুদ্ধ প্রেমের কাছে নাকি
প্রতিবাদে প্রতিরোধে বিদ্রোহে মিছিলের স্রোতে !
কবিতা চুপিচুপি বলে
-- যেখানেই নিতে চাও সেখানেই যাব ।
উলঙ্গ হিমে হু হু শিশু কাঁপুনির রাতজাগা ভোরে ,
ইশ্বর পাটনীর নির্লোভ সেঁউতি ফুটোয়,
বন্ বন্ কালরুদ্র চড়ক পাটায় !
বিহু ছোঁ ধামাইল গানে,
ভূগোলের বিচ্ছিন্ন সীমান্ত ভাগে ,
রণতরী রণপার তুরন্ত গতিতে,
বিরহের বৈশাখী ঝাঁ ঝাঁ ঝিম একলা দুপুরে !
ভূমিকম্পে চাপা- পড়া আহতের ধুকপুক শ্বাসে,
বয়স্ক জম্বু মুকুলের প্রথম কুঁড়িতে ,
সদ্য সন্তান হারা মাতৃ হাহাকারে ,
দীর্ঘগামী প্রাণঘাতী লক্ষ লক্ষ লঞ্চারের মুখে !
নির্জন ব্যথাতুর প্রেমিকার
নির্ঘুম শত শত ঝিঁ ঝিঁ ডাকা রাতে ,
ভীড়ে ভীড় ভিড়াক্কার রেলবগি ঝুলে
কচি চোর ছোট চুরি পকেটের
নাকফাটা রক্তের মারে !
প্রকাশ্য দিবালোকে সহস্র কোটিপতি
উড়ন্ত ডাকাতের
আহা ওহো ফূর্তির ভিসা পাশপোর্টে !
বহুমুখী কবিতা আমার শোনো,
তোমাকে আরও কত শত শত
কঠোর বাস্তবে, বাস্তবের আরও উত্তরে
নিয়ে যেতে পারি, তুমি যাবে ?
আহা পবিত্র প্রিয়তমা কবিতা আমার ,
শুধু নরম কোমল মৃদু গাঢ়স্বরে ফিসফিস করে
-- যেখানেই নিতে চাও সেখানেই যাব
শুধু যেন অবিকল কবিতা- ই থাকি !
====
" অযাচিত "
বিপ্লব কংস বনিক
আমার মাথার চুলের পরিপাটিতে
ঢেকে রাখতে চেয়েছিলাম তোমার ভুল।
পরিবর্তে আমার কপালে ভাঁজ ফেলে দিলে,
তোমার পরিবর্তিত রুচিবোধ, ব্যস্ততা নির্ভুল ।।
আমার চোখের চাউনিতে,
ঘুরিয়ে দিতে চেয়েছিলাম
তোমার চেতনার অভিমুখ ।
পরিবর্তে আমার চোখে জল এনে দিলে,
তোমার একটা দীর্ঘশ্বাস ,কৃত্রিম সুখ--
আমার ঠোঁট দিয়ে স্পর্শ করতে চেয়ে ছিলাম
তোমার বেদনার অমৃত দুঃখ ।
পরিবর্তে আমায় ফিরিয়ে দিয়েছো
অভিমানী মুখ।।
আমার বুকে স্হান দিতে চেয়ে ছিলাম
তোমার পরিশ্রান্ত ক্লান্ত দুপুর ।
পরির্বতে পাথর সম তাচ্ছিল্য
অবজ্ঞায় চাপা দিলে অভিসারের সুর।।
আমার দু’হাতের মুষ্ঠিতে
মুঠো করতে চেয়ে ছিলাম
তোমার দৃষ্টির স্ফুরণ জ্যোতি
পরিবর্তে তুলে দিলে সম্পর্কের সুউচ্চ পাঁচিল ।।
আমার পা দুটিও মেলাতে চেয়ে ছিলাম
তোমার পথ চলার পদ চিহ্নে,
পরিবর্তে তুমি ফিরিয়ে দিলে
অযাচিত জীবন, বিদিশার মেঘ অপরাহ্নে।।
===
প্রতিশ্রুতি
বনানী
হয়তো কোকিল ডেকে উঠবে
মরমী পথের সাথে দেখা হবে ফাগুনে তোমার...
যে জমির বুকে
আমাদের প্রিয় অক্ষর
শুধু বাসা হয়ে থেকে গেছে ইঁটের সারে।
সেদিন বসন্ত আসবে এলোমেলো জলপথে,
তুমি চাইবে খুব করে জুড়ে যেন দেওয়ালেরা পাথর হয়...
কোনো এক স্নিগ্ধ বিকেল তার ছায়ে যেন
গেঁথে ফেলে বাগান ঘেরা বসতবাটি
কতকটা শান্ত আকাশ
আর সখ্যের দোল!
তার আগেই চলো সহস্র ভাঙ্গন লিখি ইতিহাসের পায়ে!
যেন পিছলে যায়.. যেন পিছলে যায় আলোকবর্ষব্যাপী
শ্যাওলার মুখে
কখনও ফের দেখা হলে প্রথম স্পর্শেই কোনো
পুরুষ চিনিয়ে দেওয়ার মান্ত্রিক ঠোঁট...
কথারা বহুদিন কথা রাখেনি এ রাতের পাতে......
====
বন্দিনী সুগন্ধিতা.....
অমিতাভ দত্ত
কোথায় গেলে বলতো হাসি খুশি ভরা,
পূর্ণযৌবনা সুন্দরী লিপিকা মালায় সজ্জিতা , ----
যৌবনদীপ্ত নৃত্য মুদ্রার সুগন্ধিত মুক্তবাতাস পাই !
বৈষম্যের দগ্ধদহন জ্বালায় মাথা কুটে বাতাসেরা,
শ্বাপদসংকুল কুৎসিত পাহাড়ের উচ্চ চূড়ায়।
কেতকী আজও তুমি রয়েছ নয়নে সমুখে,
কণ্টকাকীর্ণ ধারালো পাতায় শাণিত আস্ফালনে...
এ ক্লেদাক্ত গ্লানিময় তাপ উত্তাপে নিষিক্ত জ্বালায়,
লোনা উষ্ণ অশ্রুজল নিঝ্ঝুম নিশির শিশির ঝরে,
খণ্ডিত পৃথ্বীর ক্ষীণ শীর্ণ দীর্ণ জীর্ণ মাটির শয্যায়।
কেতকী, তুমি রয়েছ তরঙ্গায়িত উথালি পাথালি ঢেউয়ে,
তুমি রহস্যাবৃতা চিরযৌবনা ভালোবাসা; তুমি সাহসিকা,
জাগাও মুক্ত স্বাধীন সুদৃঢ় কবিতার পংক্তিমালা,
অসীমের সন্ধানে উচ্ছ্বসিত তরঙ্গাঘাতে শুধু বেদনায়....!
====
বিজয় দিবসে প্রত্যাশা
সরদার মুক্তার আলী
ভেঙ্গে ফেলো আবার বিভেদের চীনের প্রাচীর
সরাও হাজারো অনৈক্যের বুনো জঞ্জাল
অসাম্যের পাহাড় ভেঙ্গে গড়ো স্বাধীনতার সমভূমি
মরু সাহারায় ঝরাও ঐক্যের অবিরাম বারিধারা
শান্তি পাক বেশুমার ক্ষত বিক্ষত অতৃপ্ত আত্মারা
নাব্যতা ফিরে আসুক মানবতার মহাসাগরে
আমার এই সুজলা সুফলা সোনার বাংলাদেশে
আজ এই বিজয় দিবসে।
এক আত্মা এক প্রাণ
কে করে তারে খান খান
ত্রিশ লক্ষ শহীদের রক্তের সাথে বেঈমানি
না না না না আজ তোমাদের দোহাই মানি
স্বাধীন সার্বভৌম আমার মায়ের প্রতি ইঞ্চি মাটি
তার সন্তান সর্বসাধারণ
সবাই হোক ভিতরে বাহিরে খাঁটি।
আমার এই সোনার বাংলাদেশে
হাতে হাত কাঁধে কাঁধ গলায় গলায় মিলে
নির্ভেজাল নির্মল ভাবে হাসি
স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের
প্রতি ইঞ্চি মাটি মায়ের মত ভালোবাসি।
বিশাল আকাশে ভাসমান মেঘ
প্রভাতের উদীয়মান সূর্য
আবাধে প্রবাহমান সমীরণ
কে করতে চায় সে স্বাধীনতা হরণ
আমার সোনার বাংলাদেশ
লাল সবুজের পতাকা উড়ে
স্বাধীন সার্বভৌম থাক আবহমানকাল
আজ বিজয় দিবসে সেই প্রত্যাশা।
=====
কবি এক মা
নীলাঞ্জনা ভৌমিক
কবিতা এক জন্ম নেয় এক শিশুরই মতো
কবির হৃদয়ে জমে যেমন ভাবনা শত শত।
দশ মাস দশ দিন যেমন থাকে সে মাতৃজঠরে
সব আবেগ জমা হয় তেমন এক কবির অন্তরে।
আমার সৃষ্টির সময় যেমন আমিও এক মা
কবিতা হোক বা সে শিশু সে আমার পরমা।
যাতনা যেমন সে লগ্নে মাকে আষ্ঠেপৃষ্ঠে ধরে
শব্দরা যখন দেয় না ধরা কবির হৃদয় পরে।
সূর্য যেমন প্রকাশিছে ধারাপাতের অন্তে
আনন্দও জেগে ওঠে তেমন কবির সৃষ্টিতে।
শিশু যেমন জন্ম নিয়ে মায়ের কোলে হাসে
কবিতাও তখন মগ্ন থাকে কবির উল্লাসে।
রাগ-অনুরাগ-বিরহ- বিচ্ছেদ সবই যেমন আছে
মিলনের আকুলতাও আছে অনুভবের মাঝে।
ধীরে ধীরে ব্যথা যেমন মনবীণায় বাজে
অনুরাগও মগ্ন তখন অমৃতধারার মাঝে।
সৃষ্টিকর্তা যেমন তুমি বিশ্ব সৃষ্টি কর--
কবিতা হয়ে তেমন তুমি আমারই হাত ধরো।
মায়ের বুকের সুধাধারায় শিশুর দিন যায়
কবি হয়ে আমার দুচোখে অশ্রুধারা বয়।
কবিও তাই মায়ের মতন সাহিত্যকে ভরান
শিশুর হাতটি ধরে যেমন মা হাঁটতে শেখান।
====
শুশ্রূষায় বাঁধো
সুরেশ নন্দন আচার্য
শরীরী ভাষা বোঝাতে ---
ঘোমটা খসিয়েছে কলাবউ ।
বেশ্যাপীড়িত মাটির উপর ---
সারা গায়ে চৈতন্য মেখে ঝাঁক বেঁধে
দুহাত তুলে নেচেই চলে কীর্তনীয়া নারী ,
---- হরে কৃষ্ণ হরে রাম ।
সাঁঝবেলায় সূর্য ঘুমোতে গেলে----
জেগে ওঠে -- হাপিত্যেশ বিবস্ত্র উনুন ,
মাংসাশী শীৎকারে হররোজ বিক্রি হচ্ছে
বিশিষ্ট বৈশিষ্ট্যতায় পুরুষতন্ত্র ।
শোষকের একটি হাত ---
গান্ধী মার্কা নোটের তাড়ায় থাকলেও
অন্যটি চেপে রাখে , কানুন ।
সাঁওতাল বউ'এর পিঠে গামছায় বাঁধা
তিন বছরের ফ্যালফ্যালে ভবিষ্যৎ ,
কেটে যায় দাঁতে আটার শক্ত বিস্কুট ।
জলঙ্গির নদীর ধারে জেগে থাকে ক্ষত ,
ভেসে যায় স্রোতে , শুশ্রূষার বাঁধন ।
বেয়াড়া ফাতরামোর অবগাহনে বীতশ্রদ্ধ
আমাদের লাল চক্ষুর বিশ্বামিত্র রাষ্ট্র ।
=====
"দিনলিপি "
শান্তি দাস
জীবনের একটা মুহুর্ত থেমে নেই চলছে গতির ধারায়,
ঘড়ির কাঁটার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার জন্য চলছে সংগ্রাম।
সকাল থেকে সন্ধ্যা দিনের শুরু থেকে শেষ নেই বিশ্রাম,
ঘুম ভাঙার পর থেকেই নিত্যদিনের রুটিনে চলা।
নিত্য দিনের কাজ শুরু পাখির কলকাকলিতে জাগে সকলে,
সকালের ক্লান্তি দূর করে চায়ের কাপে চুমুক দিয়ে শুরু,
সকাল দুপুর সন্ধ্যা এর মধ্যে কত কিছুই না ঘটে সকলের।
পৃথিবীর মাঝে সবাই নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত যার যার কর্মস্থলে,
আপ্রাণ চেষ্টা নিজের জীবনকে ঘুছাতে এই সময়ের মাঝে।
একটা একটা মুহুর্ত করে কাটে বেলা জীবনের দিনলিপিতে,
নিজেকে পরিপাটি করে তুলতে গিয়ে কত কত স্বপ্ন দেখা।
সূর্য অস্তগামী সকাল গড়িয়ে দুপুর বেলা শেষে ক্লান্ত মন,
প্রাত্যহিক জীবন সারাদিন ধরে চলছে ঘর সামলানো।
সারাদিন ব্যস্ততার অলসতা জড়ানো দেহমন,
সূর্য অস্ত গেল সন্ধ্যা ঘনিয়ে সন্ধ্যা দিতে গৃহবধূ।
দিনলিপি যদি ডায়েরির পাতায় ধরে তুলি,
জীবন খাতায় প্রতি পাতায় অনেক নামতা লেখা হতো।
কত শত ব্যথা লুকায় মনে সারাদিনের ক্লান্ত অবসানে,
রাতের গভীর ঘুমে যেদিন আর ফিরে আসবো না শেষ হবে দিনলিপি।
====
গোড়ালিতে চাকা বাঁধা
লেপচাখা
সুস্মিতা চক্রবর্তী
লেপচাখা এক স্বর্গের কাছাকাছি স্বপ্ন।বক্সা ছাড়িয়ে আরও দু কিলোমিটারের বেশী মেতে হবে ৷ বৃষ্টির জন্য গাড়ি সান্তারাবাড়ি থেকে বেশী যেতে পারল না৷ সান্তারাবাড়িতে কমলালেবুর হাট বসে৷ ওখানে বক্সায় ঢোকার অনুমতিপত্র নিতে হয়৷ গাইড ও ওখান থেকেই নিতে হয়৷ওখান থেকে হাঁটা শুরু৷ অনেকেই জিরো পয়েন্ট অব্ধি গিয়ে ফিরে আসে৷ খুব খাড়া রাস্তা ৷ মোটামুটি ঘণ্টা খানেক ধীরে সুস্থে হেঁটে বক্সা ফোর্ট পৌঁছলাম৷ পথের সৌন্দর্য অবর্ণনীয়৷ সারা রাস্তার দুপাশে নানা ধরনের গাছ৷ মাঝে মাঝে ছোট ছোট বসতি, ছোট ছোট ফুলগাছে ভরা পাহাড়ী ঘরবাড়ি ৷ প্রতি বাড়িতে কমলালেবুর গাছ৷ বক্সা নদী রাস্তায় আমাদের সঙ্গে ছিল৷ পাথরের সঙ্গে লড়তে লড়তে নেমে যাচ্ছে নীচের দিকে৷ চারপাশের পাহাড়, এসব ছবি ক্যামেরায় তুলতে ইচ্ছা করে না৷ আমার ডানপায়ের উপর দিয়ে অটো চলে গিয়েছিল৷ তাছাড়া আমি বাথরুমে পড়ে গিয়ে পায়ে চোট পেয়েছিলাম৷ কিন্তু হাঁটতে কষ্ট হবে বলে শুধু স্নিকার পড়ে গিয়েছিলাম৷
এরজন্য পায়ে লাগছিল৷ আমাদের গাইড ছেলেটা একজন ছাত্র ৷ ইলেভেনে পড়ে৷ ছুটিতে গাইডের কাজ করে৷ একেক দিন তিনবার ট্যুরিস্ট নিয়ে যায়৷ কি মারাত্মক পরিশ্রমী হয় এরা ! বক্সা পৌঁছে গাইড রাজু বলল-"ম্যাডাম রাস্তা বহুত খাতরা হ্যায়" , তো কি আছে, একবারইতো মরবো, অত ভয় পেলে চলে না৷ সত্যি একটু পরে রাস্তা সত্যি খারাপ৷ কিন্তু পাহাড়ে উঠবার সময় ভাবতে হয় বাহ একশ মিটার তো চলেই এলাম, এই ভাবে ভাবলে হাঁটতে কষ্ট হয় না, কিন্তু রাস্তা বর্ষার জন্য সত্যি খারাপ৷ অনেকেই বক্সা অবধি হাঁটতে পারে না৷ বক্সা ফোর্টে কিছু প্রায় নেই৷ একটা ছোট সেল আছে, আর সব ভাঙাচোরা ৷ওখান থেকে লেপচাখা সত্যি খারাপ ছিল রাস্তা৷ তবে হেঁটে গেলাম৷ মাঝে মাঝে পায়ে লাগছিল ৷ ধীরে হাঁটছিলাম৷ রাজু বলছিল কোনখানে পা ফেললে বিপদ নেই৷ কোথাও ধ্বস নেমে রাস্তা ভাঙা৷ এভাবে চলতে চলতে একসময় দেখলাম এক স্বর্গে পৌঁছে গেছি ৷ অসম্ভব সুন্দর ৷ মেঘ ছিল, তবু মেঘের স্বর্গরাজ্য৷ থাকার বন্দোবস্ত করা ছিল না, তাই নেমে এলাম, স্বর্গ হতে বিদায় নিয়ে৷
=====
বইয়ের মলাট
সাগর শর্মা
না না বইটিকে
মুড়িও না কাগজে,
চাঁদপানা মুখ তার
অতি সুদর্শনা।
দুর্লভ রূপের দেখা
পাবে না গো সহজে-
লাবণ্যে লবঙ্গ লতা
ঠিক যেন সোনা।
শ্রীময়ী বইটি কেন
মলাটেতে ঘেরা?
স্বাধীন হবার তার
আছে অধিকার।
দুয়ে মিলে কাজ করে
হবে দেশ গড়া!
দু নয়ন সুখ পাবে
রূপ দেখে তার।

.jpeg)
0 মন্তব্যসমূহ