পোস্ট বার দেখা হয়েছে
২২শে শ্রাবণ
কুশল রায়
সেদিন চলে গিয়েছিল
বাঙালির অন্যতম আবেগের প্রাণ,
কেড়ে নিয়েছিল নিয়তি
এই ধরিত্রী হয়েছিল অম্লান ৷
কিন্তু বিশ্ব-সাহিত্যিক চলে গেলেও
আমাদের হৃদয়ে তিনি বিরাজমান,
আজও যার কবিতা মোরা করি পঠন
যার হাত ধরে বাংলা সাহিত্যের গঠন ৷
কবিগুরু বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
যার নামে গোটা বিশ্ব চিনলো বাঙালিকে,
যার রবীন্দ্র সংগীতের সাগর অপরম্পার
যিনি আজও বেঁচে আছেন তাঁর সাহিত্যে ৷
তিনি বর্তমানে স্থূল দেহে না থাকলেও
সূক্ষ্ম দেহে বিরাজমান আমাদের মাঝে,
তাই সাহিত্য অমর সাহিত্যিকের মৃত্যু হলেও
তিনি আদর্শ প্রত্যেক বাঙালি তরুন লেখকের কাছে ৷
তাই বলি হে গুরুদেব
তোমার চরণ ধুলায় দাও গো স্থান,
জাগাও এ বিশ্ব কে
হে নোবেলজয়ী তোমায় করি শতকোটি প্রনাম ৷
====
বাইশের প্রণাম
শ্বেতা ব্যানার্জী
সকাল থেকে শ্রাবণের চোখ লাল,
রোদের দেখা নেই তো সকাল থেকে।
রবি আজ অস্তাচলগামী ---
মেঘ ভাঙা গান দোয়াতে ই রেখে।
জমছিল মেঘ দুঃখ অভিমানে,
জমেছিল শোক অনুতাপের ঘরে,
তা-ই বুঝি শ্রাবণ দিল ডাক...।
বেহাগরাগে বেহালার ছড়ে।
বারান্দায় শুয়ে আছেন কবি,
না বলা কথা শুয়েই আছে পাশে।
বৃষ্টিরা সব ফুলের শোভা নিয়ে,
প্রণাম জানায় ভরা শ্রাবণ মাসে।
বকুল তলায় হাজার চোখের জল,
বাঁধ ভেঙেছে বন্যা এলো বুঝি!
আকাশ ঘরে ভুল ঠিকানার ছবি,
সেই ঠিকানায় রবিকে-ই খুঁজি।
আজ শুয়ে কবি রবির আলিঙ্গনে,
শহর জুড়ে বিছিয়ে গেছে ফুল...।
ঈশ্বর আসেন হাতে পায়েস নিয়ে,
রথ সাজিয়ে আসছে জুঁই -বকুল।
কবির কলম জেগে থাকি জানি,
বাইশ মানেই অস্তাচল নয়...।
ভুবন জুড়ে আসন তোমার পাতা,
সৃষ্টিতে ই তোমার পরিচয়...।
====
ছুঁয়ে যাওয়া শ্রাবণ
বন্দনা পাত্র
শ্রাবণের মালঞ্চ মঞ্চে আজ বাইশে শ্রাবণ-
সমস্ত প্রকৃতি আকাশ-বাতাস-মাটি শ্বেত-পুষ্প মালায় সুসজ্জিত---,
নয়ন রেখেছি ও পটের উপর জীবনকুঞ্জে
রবি ঠাকুর পাঠ করি দুঃখ,বেদনা,সুখ আনন্দে
ঝুলে থাকা মেঘেরা পৌরাণিক হয়ে যায়
আমাদের রঙীন কথোপকথনের শ্রাবণে,
শহর, গ্রাম সব ছুঁয়ে যায় শ্রাবণের মেঘ
শত যন্ত্রণার মাঝে "শেষের কবিতা'র 'লাবণ্য' হয়ে ওঠা
বাসন্তিক প্রেম আজও ছুঁয়ে যায়----
চোখের অব্যক্ত নীল ভাষা যেন ঘর বাঁধে
"ছিন্নপত্র"এর মতো---,
আকাশে নিবিড় একটা এক রঙা মেঘ আসে
শ্রাবণের কবি,ষড়ঋতুর কবি সাথে নিয়ে।
কবির চলে যাওয়া যাওয়া নয়
"ফাল্গুনী"পাঠে বুঝি জরা-বৃদ্ধ সব যৌবন
তোমার যাওয়াকে মনে করি কেবলই 'বাইশে শ্রাবণ'---,
তোমার যাওয়া তো আর এক আগমন।
তোমার ঐ খামখেয়ালি বর্ষাকালের নদী ইছামতি
ইচ্ছেগুলোই মৃদুস্বরে লিখেছিলে,
মেঘলা গোধূলির গল্প-
নীল আকাশ, সবুজ পৃথিবী সেইখানে তুমি রাজা
ইছামতীর মতোই বয়ে চলেছে 'বাইশে শ্রাবণ'-
সেতারে সুর তুলে দিই তুমিই "জীবন দেবতা",
তোমার যাওয়া যাওয়া নয়,
শুধুই 'বাইশে শ্রাবণ'---।
====
অশ্রুজলে ২২ শ্রাবণ
সুরেশ নন্দন আচার্য
মাথার ওপর তেত্রিশ কোটি দেবতা
আছে কিনা বলা যাবে না
বলা যাবে আছে -----
সাহিত্য ভুবনে যিনি সর্বভূতে বিরাজমান,
তিনিই মানুষ ঠাকুর শ্রী শ্রী রবীন্দ্রনাথ ।
হে ঠাকুর শ্রী রবি
হে গীতাঞ্জলি গীতিকার
হে কবিগুরু বিশ্ব কবি
হে দার্শনিক রবীন্দ্রনাথ ,
এখানে প্রতিদিন সূর্যাস্তের পর আঁধার নামে
তোমার অস্তাচলে তোমার অমলিন কিরণ
আমাদের সমাজ সত্তায় আজও সত্ত্ববান ।
আসলে তোমার দর্শন এখনও আমাদের
জীবন দর্শন হতে পারেনি বলেই---
আমাদের সাধের অস্থি-মজ্জায় ঘূণপোকা ।
আমরা বীরের মতো দেখতে, অথচ কাপুরুষ।
আমরা ভদ্র, সভ্য, অথচ অমানবিক।
দুর্বিনীত বিষাক্ত দুঃসময়ের দীর্ঘশ্বাসে
তোমার রাখী বন্ধন, আমাদের মানববন্ধন
দুইয়ের মাঝে খসে পড়ছে রক্তাক্ত লাশ..!
হে অশ্রুজলে সিক্ত ২২ শ্রাবণ
হে মানব দেবতা রবীন্দ্রনাথ -----
ধূপের সৃজনী ধোঁয়ায় ফিরে ফিরে এসো
আমাদের বাঁচাও, মানবতা বাঁচাও ,
" আমার মাথা নত করে দাও হে তোমার
চরণ ধূলার তলে.....! "
====
প্রেম ও পূজায় রবীন্দ্রনাথ
সোনালী দাস সরকার
ঊনবিংশ শতকের পরাধীন ভারতবর্ষের সংগ্রামকাল - যেমন একাধারে বিপ্লবী বীর পুরুষদের সঙ্গ প্রাপ্ত করেছে! তেমনই একাধিক মনীষী, গুনি,শিল্পী সাহিত্যিক দেশ প্রেমিকের আগমনে ভারতকে বিশ্বদরবারে গৌরাম্বিত করে শেষ্ঠ আসনে আসীন হয়েছে।সে সকল সময় ইতিহাসের স্বর্ণময় যুগ হিসাবে চিহ্নিত।
প্রতিভাবনায় মহামানব মহান ব্যক্তিত্বসম্পন্নরা আমাদের দৃষ্টি ভঙ্গিতে ভগবানের আর এক রূপ মনে করে থাকি।
তাঁর মধ্যে এক জন তো আমাদের সকলের প্রিয় মনের কথাকলি ঠাকুর
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
তাঁর বৈচিত্রপূর্ণ বিস্তৃতি জ্ঞানের ভান্ডার আমাদের মনের সব কথা উজাড় করে বলে গেছেন।নতুন সৃষ্টির কোনো আর ভাষা যেন নেই।
তাঁর দিগন্তব্যপি জীবন দর্শন,জীবনীশক্তি থেকে অল্প কথা তুলে আনা তে আমি নিজেই নিজে ভেবে আপ্লুত।
তাঁর সঙ্গীত জগৎ - শৈশব কাল তো কেবলি আপ্তবাক্যে কবি গুরুর নিদর্শন ভাষার বুলিতে!
জীবনের সংগ্রাম, ঘাত প্রতিঘাত, প্রেম,বিরহ,আকুতি,মিনতি,ধৈর্য, চেষ্টা, বিফল,সফল, হাসি কান্না,তেজ,জাগ্রতচিত্ত ধরে পাহাড়,নদী ব্যোমকেশ মেঘনাদ - কিসেরকিসের ভাবনায় তিনি অবতীর্ণ না করেন নি?
তিনি,সবার প্রেরণায় কবি,
এঁকেছেন সকল জগতের ছবি,
তিনি প্রতি নব প্রভার রবি!
প্রতিটি পর্যায়ের গান সুর তাল সে যেন সময়ের উপযোগী। জীবন ধারায় তার কথা ভাষা যথেষ্ট তাৎপর্যমন্ডিত।
কবি তাই প্রেম ও পূজা পর্যায়ের গান গুলিকে ২১ টি ভাগে বিভক্ত করেন।যাতে মানুষের জীবনের ভাবাবেগে তাঁর লেখা গান আজো নানান স্বাদে উপলব্ধি করতে পারে।রোমাঞ্চকর আবেগে মন উচাটনে কবি চেতনায়।
কখনো জড়া,কখনো উৎসব, বিবিধ সুন্দর, বাউল মন,কখনো শেষ বৈধ প্রণয়
সব পরিণয় কবির জীবনের সাথে মিশেছে অণু পরমাণু গুলি যন্ত্রণার।
তাই তো বিভক্তকরণের মধ্যে দিয়ে কবির বুদ্ধিদীপ্তির অফুরন্ত প্রকাশ দেখতে পাই।
জীবনমুখী অনুভূতি আমাদের কে
কাঁদায়।
তিনি তাই তো বলেছিলেন " তিনি রচে গেলে আমরা কি নেবো স্মরণ? "
গানে গানে শ্রদ্ধা কবি।তুমি কখনো
১/ সুরের গুরু দাওগো সুরের দীক্ষা।
২/কবে আমি বাহির হলেম।
৩/আলোকের এই ঝর্ণা ধারায় ধুইয়ে দাও।
৪/আমার মিলন লাগি।
৫/নিবিড় ঘন আঁধারে।
৬/দুঃখের তিমির।
৭/এই আঁধার ভালো।
৮/চোখের আলোয়ে দেখে ছিলেম
প্রভৃতি গানে ৳শেষ হয় না মূহুর্তেরা,সেই ক্ষণকাল আমাদের মন কে হাতছানি দেয়
।
আমরা গভীর ভাবে রবীন্দ্রপ্রেমী।এই বাংলা ভাষায় জন্মে গর্বিত।আমরা তাঁর দিগ নির্দেশনায় চালিত।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নামাঙ্কিত বেতার কেন্দ্র " আকাশবাণী "! শত মানুষের জীবনের পরিচয়ের কেন্দ্রস্থল।
১৯২৭ সালের ২৬ শে আগষ্ট বেতার কেন্দ্রের শুভ শুরু যাত্রা।
রবি ঠাকুরের গানেই হত জীবনে গান শিক্ষার পর্ব।যত মহান শ্রেষ্ঠ গায়ক হও না কেন।কবি গুরুতে গলার তালিম নিয়েই থাকে।তাল লয় ছন্দে ভাষার বাঁধার পরিপূর্ণ দক্ষতা দেখে আপ্লুত হৃদয় বলে" তুমি মহান পন্ডিত "!
তোমাকে শত প্রণাম কোটি প্রণাম।তোমায় পেয়েছি বেঁচে থাকার সুরে।
আজ মৃত্যুর তিথিতে এতো বছর পর ও মনে হয় জেন এই তিনি আমাদের মধ্যে মধ্যমণি হয়ে বসে আছে।মনে হয় ভুল হলে কানটি ধরে স্বরলিপি শেখাবেন।আমাদের অনুপ্রেরণার অভিভাবক।
"প্রভু তোমায় গানে স্মরণ করি তোমার আশীর্বাদ পাওয়ার জন্যে।" যুগযুগ তোমা স্মরণে বাংলার সভ্যতা সভ্য সংস্কৃতিতে বাঁচুক।

0 মন্তব্যসমূহ