স্মরণে || প্রবুদ্ধসুন্দর কর




পোস্ট বার দেখা হয়েছে

প্রশ্বাস


গানের ভেতর তোমার প্রশ্বাস স্পষ্ট শোনা যায়


মৃদু, তবু তীব্র এই শ্বাস ছাড়া যেন 

সমূহ অন্তরা আজ নিষিদ্ধ ঘোষিত হয়।


যেন গান অসম্পূর্ণ হয়ে ওঠে


সুরভ্রষ্ট হয়ে যেন গান ফিরে আসে 

তোমার মহার্ঘ শ্বসনের কাছে।


গানের ভেতর স্পষ্ট শোনা যায় তোমার প্রশ্বাস।


উদাহরণ


ভাদুঘর থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া হয়ে ভৈরব বাজার

শুনেছি, বাবার দৌড় এটুকুই ছিল।

আমি ঢাকা অব্দি গেছি।


বাবাকে পেরিয়ে যাওয়ার উদাহরণ

এ জীবনে আর কিছু নেই।

সম্মানী


তোমার গানের কাছে আজও অধমর্ণ এই অসুস্থ শিয়র

যে-শিয়রে ঔষধি সরিয়ে কোনো কোনো রাতে মৃত্যু এসে বসে।

মৃত্যুও সংগীতপ্রিয়, সুরের মূর্ছনা তাকেও বিভ্রান্ত করে

বাণীবিগ্রহের ফাঁদে পা দিয়ে তাকেও শুক্রগ্রহের জ্যোৎস্নায় 

গভীর নির্জন পথে শূন্যহাতে আপাতত ফিরে যেতে হয়। 


তোমার গানের কাছে আজও অধমর্ণ এই অসুস্থ শরীর 

অনিদ্রামুখর রাতে রুদ্ধবাক এক নিঃস্ব, রিক্ত শ্রোতা হয়ে 

ওগো শ্যামাঙ্গী বাঙ্ময় চোখ, তোমার গানের অপেক্ষায় থাকি।


নশ্বরতা যদি আজ প্রশ্ন করে, কী সম্মানী দিয়েছ শিল্পীকে?

জানি, অশ্রু ও স্তব্ধতা ছাড়া আর কিছু দিতে পারিনি তোমাকে।

ট্রাম


ভার্টিগো রয়েছে বলে প্রফুল্ল সরকার স্ট্রিটে যাইনি কখনো

ভার্টিগো রয়েছে বলে ঈশ্বরচন্দ্র নিবাসে যাইনি কখনো

ভার্টিগো রয়েছে বলে ম্যান্ডেভিলা গার্ডেনসেও যাইনি কখনো

ভার্টিগো রয়েছে বলে রাজনীতির দিকেও যাইনি কখনো

ভার্টিগো রয়েছে বলে জনসেবা কৃত্যকেও বসিনি কখ‌নো।


--ভার্টিগো না থাকত যদি? আমার সজনীকান্ত ঠোঁট টিপে হাসে

না, তবুও নয়। অতিনশ্বরতা ট্রাম হয়ে তাড়া করে আসে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ