পোস্ট বার দেখা হয়েছে
রাণা চ্যাটার্জী
"হ্যাঁ রে রতন, তুই কি কোনো পাগলকে কোনদিন খেতে
দিয়েছিলি?"
কেন কি হয়েছে গো মা? অবাক চোখে রতনের কৌতূহলী প্রশ্ন।
আরে দুদিন ধরে ঠিক দুপুর হলেই কড়া নাড়ছে দেখছি একটা ভবঘুরে আধপাগলা।তুই তো কলেজ যাস নৈলে দেখাতাম। ভাবলাম ,তোর দরদ একটু বেশি,হয়তো প্রশ্রয় দিয়েছিলি,আমরা দিন কয়েক ছিলাম না যখন।রতন আন্দাজ করতে পারছে কে হতে পারে,কে খিদের জ্বালায় দরজা ঠেলতে পারে।
বাজারে সেদিন পল্টুর দাদাকে ,অগোছালো ছেঁড়া জামায় দেখে রতন আশ্চর্য্য হয়েছিল ।ভাবতে পারে নি এই সেই মাধ্যমিকে দারুন রেজাল্ট করা বিল্টুদা!ছোটবেলায় যত বার পল্টুর বাড়ি গেছে,অঙ্ক কষতে -দেখতো মৃদু ভাষী বুদ্ধিমান বিল্টুদা সব সময় কিছু না কিছু পড়াশোনা নিয়ে ব্যস্ত।পড়া নিয়ে কত্ত গল্প বলতো সময় পেলেই আর রতন হাঁ করে শুনতো।তার কিনা এমন পাগলের দশা!
আরে এ অন্য কেউ হতেই পারে না,এক মুখ দাড়ি ধুলো ময়লা মাখা মুখ-খালি গা হলেও সেই উজ্জ্বল চোখ এক ঝলক দেখেই চিনেছে রতন।
ও বিল্টুদা!কোনো সাড়া না পেয়ে একটা পাউরুটি কিনে দিতেই গোগ্রাসে গিলেছিল। দোকানের কাকু জানালো,"পথ দুর্ঘটনায় ওর বাড়ির সবাই মারা যেতে,স্মৃতি হারিয়েছে।"
সেদিন অঝোর বৃষ্টি! ডুবল রাস্তা।তেমনি পাল্লা দিয়ে লোডশেডিং।রতন ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে অদ্ভুত মাদকতায় ব্যাঙের ডাক শুনছিল। রাত প্রায় একটা, কেমন যেন খস খস শব্দ নীচে !টর্চ জ্বেলে দেখে,আরে ,বিল্টুদা তো!বৃষ্টি থেকে বাঁচতে পরিত্যক্ত ঝুপড়িতে সেঁধিয়ে আছে!
"এই এভাবে কেউ ভেজে,উঠে এসো বারান্দায়" বলে চাবি খুলে দেয় রতন।ভোরে ঘুম ভাঙতেই এক দৌড়ে গিয়ে দেখে বারান্দা খোলা, বিল্টুদা নেই।মনটা খুব খারাপ হয়ে যায়।অসহায় মানুষের কত কষ্ট ,আত্মসুখী আমরা চোখ থাকতেও দেখি না। ঘোর কাটতেই রতন দেখে কোনরকম বৃষ্টিও হয় নি কাল তবে কি পুরোটাই ছিল স্বপ্ন!আজ রাস্তায় বেরিয়ে খুব খুব খুঁজছিল রতন পাগল বিল্টুদাকে। কারা যেন জটলা পাকিয়ে কি সব বলাবলি করছিল!উঁকি মেরে চক্ষু ছানাবড়া রতনের! ইস এ সে কি দেখছে,কোনো ভারী ট্রাক পিষে দিয়েছে ডাস্টবিনের পাশে বাসি খাবার খেতে আসা ভোররাতের বিল্টু দাকে।আফসোস রয়ে গেল রতনের কালকের স্বপ্ন যদি সত্যি হতো বাঁচাতে পারতো!

0 মন্তব্যসমূহ