দর্পণ || বর্ষা সংখ্যা ২০২২ || পর্ব -২




পোস্ট বার দেখা হয়েছে

কলু 

দেবাশীষ ভট্টাচার্য্য 


ভয় পাই যদি -

টেনে নিয়ে যাও কষ্টের সাগর অবধি ;

দুর্লভ প্রতিকূল জলবায়ু,

নিম্নচাপের আকাশ জানে মেঘেদের আয়ু ;

কিংবা ঝলসে রেখে যায় সূর্যের আশায়,

একটানা বৃষ্টি সবকিছু নয় -


জমাজল উদ্বিগ্ন এই বুকে -

প্রেমের শস্য ফেলে কারা য্যানো চলে গ্যাছে ছুটে,

কোথাও রক্তিম টিলা - কোথাও অন্ধকার শীতল মরু ,

ঠিকরে আসে ক্লান্ত দুচোখ তবু - কুঁচকে থাকে ভ্রু ।


অপ্রাস‌ঙ্গিক অনিয়মিত আসা যাওয়া ;

জীবনের একটাই সাঁকো - 

একটাই গন্তব্য, ফুটন্ত ঝড়ের গান গাওয়া।


সময়ে তছনছ হয় ; কখনও অগোছালো যাপন ;

আতঙ্ক বিশেষ কিছু নয় -

ঘটনার  আত্ম-বিশ্লেষণ ।


সময় পর্যন্ত সবকিছু তুলে রাখা কাজে ;

আমার গুরুত্বেরা অকারণে ঘুমিয়ে গিয়েছে,

আর নয় উঠে দাঁড়িয়ে আকাশ ধরতে চাও -

প্রাপ্তি আবেগে নেই - লড়াই করে, পেতে হয় ভালোবাসা'ও!

====

কোলকাতা এবং কোলকাতা 

সায়ন্তিকা 


একটু বৃষ্টিতেই  ভিক্টোরিয়ার পরী নেতাজির ঘোড়ার ওপর চেপে বেরিয়ে পরে বিশ্বভ্রমণে ! জলমগ্ন ব্রিগেড হয়ে ওঠে মিডলটন রোডের লরেটো ! বর্ষারা কোনো রকমে ছাতার নিচে ঢুকে পড়বেই ۔۔۔۔রেনকোট পড়া চিৎপুর অথবা খিদিরপুর অবশ্য নৌকায় চড়ে ঘুরে বেড়ায় ! কোলকাতার বাড়িগুলো শান্তিনিকেতন হয়ে উঠলেই , প্রতিটা অমুক কাকু কিংবা তমুক দাদা একালের বিশ্বকবি ! আচ্ছা রবীন্দ্রনাথ কী কোনোদিনও বৃষ্টির দিনে ফুটপাতে হেঁটে ছিলেন?আজকাল রবীন্দ্রনাথ কিম্বা কোলকাতাকে জানতে ইচ্ছে হলে আমি গীতবিতানের একশো একুশ নম্বর পৃষ্ঠাকে চিবিয়ে খেয়ে ফেলি ! এমন সময়ে মনে হয় তুমুল শীতকাল ۔۔۔গরম কাপড়ে য্যানো মুখ ঢেকেছে বাহাত্তর , ফুল প্লান্টের চেনে ঝোলানো চাবি থেকে এই বুঝি বেরিয়ে আসবে অবিনশ্বরঃ লাশগুলো !

আমি ভিজে যাই ۔۔۔۔۔তখন কোলকাতায় সদ্য জরুরি অবতরণ করেছেন গালিব ! বাড়িগুলো বৈঠকখানায় বসে গড়গড়া টানছে , ধোঁয়া মাখছে কেবল সিলিং ! বিষাক্ত কার্বন ছড়িয়ে পড়ে শিরা উপশিরায় , তারপরেই সজোরে ধাক্কা মারে হৃদপিন্ডে ! সোনাগাছির ঘরগুলো থেকে শোনা যায় পোশাক বদলানোর শব্দ ۔۔۔۔আসলে এভাবেই আমরাও বদলে যাই, পড়ে থাকে কেবল একটা নীল অন্তর্বাস আর একটা বিস্ময়কর ঘড়ি ۔۔۔۔۔কাটায় বিঁধে থাকে কেবল সময়টুকুই ! কোলকাতা এবং কোলকাতা ۔۔۔এই দুইয়ের পার্থক্যের ভেতরেই লুকিয়ে আছে পৃথিবীর সমস্ত রহস্য ۔۔۔একটু বৃষ্টিতেই তাই ট্র্যাফিক সিগন্যালে আমরা আটকে পড়ি۔۔۔

অথচ ۔۔۔۔বর্ষা মাসে প্রতিটা কবিই ধার্মিক হয়ে ওঠে ! আমি কেবল ভিজি ۔۔۔۔۔۔۔!

এইটুকুতেই ভীষণ জ্বর এসে যায় , বাতিল হয় কবিতার প্রচ্ছদ এবং আরও একটা আন্দোলন !

====

 মত্ত মেঘের মনমরা সব মূর্চ্ছনা

 পারিজাত ব্যানার্জী


" বোকাদের বৃষ্টি ভালো লাগে। আমার না।" দাওয়ায় বিড়ি ফুঁকতে ফুঁকতে হাঁটু গেড়ে বসে ফোড়ন কাটে তপন। 


মোহন কোনো উত্তর দেয় না। সে শুধু তাকিয়ে থাকে গোমড়া মুখো ফ্যাকাশে আকাশটার দিকে একমনে। দাওয়ার এই কোনটা থেকে সামনের দিকে তাকালে কোনও বেড়া বা বাধায় নজর আটকা পড়ে না। সব মুছে সেখানে শুধু আলগোছে ভেসে থাকে দিগন্ত বিস্তৃত অম্বররেখা। যেই মহান ব্যাপ্তি জুড়েই মোহন টের পায় আজ অদেখা কেউ বিছিয়ে দিয়েছে উদাস মায়ামাখানো তার মায়ের মৃত্যুসজ্জায় গায়ে লেপ্টে থাকা ঘিয়ে রঙের সুতির শাড়িটার আঁচল! 


তপনের বাঁ কনুই দিয়ে মারা আলতো এক ধাক্কায় যেন ঘোর ফেরে মোহনের। ব্যাঁকা হাসি হাসে তপন। "কিরে, এক্কেবারে হাঁ হয়ে গেলি তো! তার মানে দাঁড়ালো তুই পড়িস ওই বোকাদের দলেই। এই বৃষ্টি, কাদা প্যাচপ্যাচে রাস্তাঘাট, জমা জল, বন্যা - তোর সবটা দেখলেই বেশ কবি কবি ভাব জাগে! ঠিক ধরলাম?"


মোহন হাসে। মাথা নাড়ে। "না দাদা, মজুর খেটে তোমার আমার মতো দিন চলে যাদের, তাদের মধ্যে অমন কবি ভাব জাগলে বেঘোরে পেটের দায়ে যে মারা পড়তে হবে গো! ওসব কিছু না। তবে হ্যাঁ, এই বৃষ্টি নামার আগের মুহূর্তটায় আকাশের দিকে চাইলে বড় অসহায় লাগে আমার। হঠাৎ টের পাই কতটা অপ্রয়োজনীয় আমরা আর আমাদের চাহিদারা। যাই ভাবি, যতই বাঁধ গড়ি, যে যার নিজের ঘরে এক একটা দ্বীপের মতো দোর দিয়ে বসে থাকিনা কেন, যদি বৃষ্টি একবার এসেই পড়ে, যে যেখানে যেমন অবস্থাতেই থাকিনা কেন, কেউই বর্ষার আর প্রকৃতির এই অমোঘ খেলাকে এড়িয়ে যেতে পারিনা! সবই উপরওয়ালার দয়া!"


তপন তার আধ খাওয়া পুড়ে যাওয়া বিড়িটা ছুঁড়ে ফেলে দেয় সামনের দাওয়ায়। লুঙ্গিতে ডান হাতটা মুছে নেয় আনমনে। " এত কথা বলিস আর তুই কবি নোস! কে জানে বাবা। বেশি পড়াশোনা করলে তোর মতো দুটো পাশ দিলে সত্যিই বোধহয় কথাবার্তার ধাঁচ আর তেজ পাল্টায়! তবে হ্যাঁ, এ কথা ঠিক,  উপরওয়ালার মেহেরবানিতেই বাঁচি আমরা সবাই। যদিও আমার মতে আমাদের মতোন এই হাভাতেদের ঘরে তাঁর দয়া আর নজরদারির একটু বেশিই প্রয়োজন। যাক, বাদ দে ওসব কথা! নে নে, ওঠ দেখি এবার! বাড়ি পৌঁছনোর আগেই নাতো মনে হচ্ছে পুরো ভাসিয়ে দেবে এই কালনাগিনী! আর দেরী করা বুঝলি কিছুতেই ঠিক হবে না!"


মোহন মাথা নাড়ে। কি ভেবে বলে ওঠে তারপর, "নাঃ, তুমি একাই এগোও দাদা। আমি তার চেয়ে তোমার কথা মতো ওই বোকাদের দলেই ততক্ষণে নাম লেখাই বরং। সত্যি কথা বলতে, ওই বৃষ্টিতে ভেজাটা আমার ভালোলাগার না তবে প্রয়োজনের দায়। নানা, ভুল বুঝো না দাদা, এই ঝড় জলে পুরোনো কোনও প্রেমের স্মৃতি উসকে ওঠে না আমার। বা ভেসে ওঠেনা ছোটবেলাকার কোনো কাগজের নৌকো বানিয়ে পুকুরে ভাসানোর বর্ণনা। শুধু কি হয় জানো, মনে পড়ে মায়ের চলে যাওয়ার দিনটা। ওদিনও সকালটায় এমনই মুখ ভার ছিল আকাশের। দুপুর গড়াতেই নেমেছিল ঝেঁপে বৃষ্টি চারিদিক কালো করে। যত সময় বয়ে যাচ্ছিল আমিও টের পাচ্ছিলাম মনে মনে, এ যাত্রায় আর মাকে কিছুতেই ধরে রাখতে পারব না। তবু শেষবারের মতো 'মোহন!' বলে আর্ত চিৎকার করে অতদিনের রোগে ভোগা পাতলা শরীরটা একেবারে যখন ছেড়ে দিল মা, বাইরে তখন জোর কদমে চলছে ঝোড়ো হাওয়া আর ব্যাঙেদের ব্যাঞ্জনা। আমার হাতের মুঠোয় ধরে রাখা মায়ের শিথিল হয়ে যাওয়া কঙ্কালসার আঙুলগুলো বিছানায় আলতো করে নামিয়ে রেখে দরজার ছিটকিনিটা খুলে আমি বেড়িয়ে এসেছিলাম ওই তোলপাড় করা বৃষ্টি মাথায় করেই বড়রাস্তায়। 'রাস্তা' যাকে বলছি, সে অবশ্য ততক্ষণে ছোটখাটো একখানা ঘোলা জলের ডুবপুকুর। বর্ষার তোড়ে একহাত সামনের জিনিসও সেখানে দেখা যাচ্ছে না। জানো তপনদা, মা যতদিন বেঁচে ছিল, অন্তত আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছিল টিকে থাকার, আমি যেন মনে মনে নিজেকে গুছিয়ে নিতে চেয়েছিলাম ঠিক ওই মুহূর্তটার জন্যই। ভেবেছিলাম খুব কাঁদব যাতে সেই জলের ফল্গুধারায় চেপেই মা নিশ্চিন্তে পেতে পারে পরপারের সন্ধান। কিন্তু কি আশ্চর্য, আমার চোখে 'অঝোরধারা' তো দুরে থাক, তার পাতায় সামান্য ক'ফোঁটা নোনাজলও জমল না। ভাগ্যিস ওদিন বৃষ্টি তার মায়াজাল বুনেছিল আমার তোলপাড় হয়ে যাওয়া মনের ভাঙা টুকরোদের আঙিনায়; তাই এখনও মনে মনে কিছুটা হলেও শান্তি পাই এইভেবে যে যাক, অন্তত মাকে একলা আর বৈতরণী পার হতে হল না। তোমার কথা কাটতে পারলাম না যদিও দাদা, আমাদের মতো বোকাদেরই সত্যি মানায় এ বর্ষাকাল - আমাদের মননেই যে বাজতে থাকে সবসময় মত্ত মেঘের মনমরা সব মূর্চ্ছনা!"

====

বৃষ্টি জল টলমল.....

নিবেদিতা দে


দেখো,জোরে বৃষ্টি এলো, 

বৃষ্টি হয়েই চলেছে। 

এক নাগাড়ে বৃষ্টিশব্দ

আমায় ভাসিয়ে নিয়ে চলছে। 

আমার কুল নেই, কিনারা নেই, 

নেই কোন ঠিকানা। 


তুমি আর্য্য পুরুষ ভ্রাম্যমাণ কৃষ্ণকালো মেঘ হয়ে নেমে এসেছো আমার হৃদয়ের মাটিতে। খড় কুটোর মতো ভেসে চলেছি তোমার টানে। তোমার সোঁদা গন্ধে,

বৃষ্টিস্নাত সুখে সবটুকু উষ্ণতা মেখে।


ঠোঁটে ঠোঁট বুকে বুক মাখিয়ে এঁকে চলি স্নেহের চুম্বন দু চোখে স্বপ্ন মেখে। 


 কৃষ্ণকালো ঘনমেঘ ঘোর বর্ষা হয়ে নেমে এলেই বৃষ্টি আসে নুপুর পায়ে রিমঝিম সুরে। আমি বাড় বাড়ন্ত যৌবনা নদী,বয়ে যাই প্রেমের জোয়ারে বন্যা আসে উথালি পাথালি বুকে। 


কি অসম্ভব বৃষ্টি! 

যেন একটা উৎসবে মেতেছে ধরনী! বর্ষার ঔরসে বৃষ্টির গর্ভে জন্ম নেয় নতুন প্রেম,নতুন কবিতা! 

চরাচর জুড়ে সবুজের সমারোহ নব কিশলয়ে।রোদের পরশ লাগতেই বৃষ্টি কৃষ্ণকালো মেঘের আড়ালে কাজল কালো চোখে যায় হারিয়ে। 


থেকে যায় বর্ষার বুকে বৃষ্টির গভীর ভালোবাসার দাগ।


 দেখো, রোদ উঠেছে... 

তুমি তখন আকাশের বুকে শঙ্খচিল। আমি তখন পদ্মপাতায় ফোটায় ফোটায় বৃষ্টি জল টলমল।।

====

বর্ষা

হামিদা বানু


বৃষ্টি যখন সৃষ্টি জুড়ে নষ্ট চাষের জমি

নিভে গেলো কাঠের আগুন ভাত রাঁধবে রুমি।

শুকনো সে কাঠ কোথায় পাবো চারপাশে জল থৈ

মা গো, তুমিএমন সময় লুকিয়ে আছো কই?

জল ভেজানো ভাত যে ছিলো নুন মেখে তাই খাবো

খাল বিল সব কোমর জলে এমনি প'ড়ে রবো।

ধানের আড়ৎ মশলা মুদি সব ভাসছে জলে

আর একটু বষ্টি হ'লে আমিও অতল তলে।

সেই কবেকার জল ভেজা ভাত খেয়েই দিব্যি ঘুম

স্বপ্ন এলো চোখের পাতায় গরম ভাতের ধুম।

বষ্টিপড়ে টাপুর টুপুর ঝুমুরঝুমুর ঝুম

শান্তি ভাসে হাল্কা রুমির ভাঙ,লনা আর ঘুম।

দুরের পাড়ে ত্রান এসেছে বাড়িয়ে সবাই হাত

লক্ষ মানুষ দাঁড়িয়ে ভেজে নেইতো কারো ছাদ।

পাশ দিয়ে তার যাচ্ছে ভেসে স্বপ্ন ঘুমে মেয়ে

ব্যস্ত সবাই চিঁড়ে মুড়ি খাবার পুঁটলি নিয়ে

ঝড় উঠেছে মাতাল ঘোরে ঝঞ্জা ভারে হাওয়া 

"ময়নার মা ময়না মতি "দেখছে ভেসে যাওয়া।

কুল হারিয়ে ময়না পাখি যাচ্ছে দূরে ভেসে

''বষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর "মত্যু ওঠে হেসে!

===

শ্রাবণ বর্ষা

 বন্দনা কুন্ডু


নিমন্ত্রণ কার্ডটা হাতে নিয়ে পড়ার পরই একরাশ দ্বিধা...দ্বন্দ নিয়ে সোফায় বসে পরলো বর্ষা। মনের ভিতর গভীর দোলাচল।সেই আবার কত আত্মীয়-অনাত্মীয়'র মুখে একই প্রশ্ন শুনতে হবে আর তার উত্তর শোনানোর পর একগাদা জ্ঞান।

এটা.....ওটা..... সেটা..... বিরক্তিকর।


বছর এগারো আগে দুই বাড়ির অমতে পালিয়ে শ্রাবণকে বিয়ে করেছিল বর্ষা। পরে অবশ্য দুই বাড়িই মেনে নিয়েছিল ওদের কে, কিন্তু মন থেকে কোনো পক্ষই মানতে পারেননি। তার উপর দীর্ঘ এত বছরে বর্ষা কোনো সন্তানের জন্ম দিতে পারেনি। শ্রাবণ এ নিয়ে কখনই কিছু বলেনি,বরং এরকম পরিস্থিতিতে বুক দিয়ে আগলে রেখেছে বর্ষাকে।সকল গঞ্জনার আঁচ বর্ষাকে ছোঁয়ার আগেই দেওয়াল হয়ে দাঁড়িয়েছে শ্রাবণ।


অফিস থেকে ফেরার পর শ্রাবণকে কার্ডটা দেখিয়ে বর্ষা বলেছিল.... এবারে ও যাবে না। কিন্তু শ্রাবণ ওর হাতটা শক্ত করে চেপে ধরে বললো....."না গেলে ভালো দেখায় না বর্ষা,আর আমি তো আছি ই।"

বর্ষা শেষমেশ আর না বলতে পারেনি।


যথাসময়েই অনুষ্ঠানের দিন আগত। সকাল থেকে মুসলধারে বৃষ্টি। সন্ধ্যাবেলা ওদের বেরানোর সময়েও একই ভাবে  বারিধারা ঝরে চলেছে।থামার কোনো আশাই দেখা যাচ্ছে না। একপ্রকার অনিচ্ছা সত্ত্বেই রেনকোট নিয়ে শ্রাবণের হাত ধরে অনুষ্ঠানে পৌঁছালো বর্ষা।

কিছুক্ষণ পরেই শুরু হলো সেই প্রশ্নবাণ......

'এখনও হলো না?'

'চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছো তো?'

'আচ্ছা,কত বছর হলো যেন?'

'ডাক্তার দেখাচ্ছো?'

আমার চেনা একটা বড় ডাক্তার আছে,যদি বলো ঠিকানাটা ম্যাসেজ করে দিই?'


... এরকম আরো... আরো... আরো... অনেক প্রশ্ন উত্তরের পর বর্ষা বাড়ি ফিরতে চাইছিল। পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হচ্ছে দেখে শ্রাবণও  জোর করলো না।সৌজন্যতা দেখিয়ে মিথ্যে পেট ব্যথার বাহানা করে না খেয়েই বেরিয়ে পরলো ওরা। বাইকের কাছে এসে বর্ষা রেনকোট বার করতেই,শ্রাবণ বাধা দিয়ে বলল...."এগারো বছর আগের মতো চলো আজকে বৃষ্টিতে ভিজে বাড়ি যাই আমরা।"

বর্ষা বলল..."যদি সর্দি হয়?"

শ্রাবণ বলল...."হলে একে অপরের দেখাশোনা করে সুস্থ করবো।"

বর্ষা বলল..."আর যদি কোভিড হয়?"

শ্রাবণ বলল..."তাহলে যদি বাঁচি একসাথে বাঁচবো,আর যদি মরি একসাথেই মরবো।"

হো হো করে হাসতে হাসতে বাইকে উঠে বসলো বর্ষা। শ্রাবণ স্টাট দিলো।

ঝমঝমে বৃষ্টির মধ্যে ধীরে ধীরে মিলিয়ে গেলো প্রাণবন্ত একজোড়া প্রেম। জীবনসঙ্গী নামটার যথার্থ মর্যাদা যেন বহন করে নিয়ে গেলো ওরা ওদের সঙ্গে।।।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

1 মন্তব্যসমূহ

  1. খুব ভালো লাগলো সব কটি লেখা।
    অনেক শুভেচ্ছা রইলো সকলের জন্য 💐💐

    উত্তরমুছুন