পোস্ট বার দেখা হয়েছে
জীবন পবিত্র, তার সমাপ্তি একটি ইচ্ছা মাত্র
”অনন্দা নাম তে লোকা অন্ধেন তমসাবতাঃ।
তাংস্তে প্রেত্যাভিগচ্ছন্তি যে কে চাত্মহনো জনাঃ।।”
(ঈশ উপনিষদ,৩)
অনুবাদ : অন্ধকরা অন্ধকারে আবৃত একটি লোক আছে। তার নাম অনন্দলোক। যারা আত্মহত্যা করে তারা মৃত্যুর পর সেই লোকে যায়।
কখনো মনে হয় পৌঁছে গেছি, তারপর চারদিকে অন্ধকার, উপরে আরও উপরে যাওয়ার প্রবণতায় ধ্বংসের দেরাজ খোলে, নির্গত হয় আকাশ কুসুম ইচ্ছেগুলো , দমফাটা পরিস্থিতিতে নিজেকে অজান্তেই আলাদা করে নেওয়া সমগ্র পৃথিবী থেকে। তারপর গ্রাস করে একাকীত্ব, আসলে সবটাই নিজের তৈরী! সুখের আসক্তি এতোটাই নির্বিকার করে নেয় সেখানে প্রবল প্রতাপে হতাশারা ঘর বানায় , কুরে কুরে খায় বর্তমান এবং আগামীর বিচ্ছিন্নতাবাদ ।
সব পেয়েও কোথাও যেনো মনসিক অপ্রাপ্তি , আবার কখনও সবকিছু হারিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর ইতিহাস মনে পড়ে না, কখনো সবকিছু একসাথে এক লহমায় পেতে গিয়ে সময়ের খাদে পড়ে হাতড়ে নিঃসঙ্গ হয়ে যায় পরিণতি। দরদর করে ঘামছে শরীর, কিছুক্ষণের জন্য সবকিছু শুনশান হয়ে যায়, এই সেই সময় তৈরী হয় অবোধ বোধ , জীবনটা যেনো অপরাধ, বেঁচে থাকাটাই কিংবা লড়াই করার প্রবণতা ঠুনকো হয়ে আসে।
বড়ো অদ্ভুত এই সময়, কোটি কোটি টেকনোলজির ভিড়ে কর্মক্ষমতা, নিজের অস্তিত্বটুকু বিপন্ন হয়ে চলেছে। ঘর ভুলে পাশের বাড়ির রোশনাই কষ্ট দ্যায় বেশী , অপরকে দেখে, তাদের এগিয়ে কিংবা পিছিয়ে যাওয়া দেখে আমরা নির্ধারণ করতে থাকি নিজের সুখ -দুঃখ গুলো।
মানসিক দৃঢ়তা হারিয়ে পাহাড় খুঁড়তে যাই তুলোর মতো নরম হাতিয়ার নিয়ে। বিপত্তি তো পিছু করবেই, আমাদের ঠেলে ফেলে দেয় সময়ের খাদে, যাঁরা প্রবল আত্মবিশ্বাসে ফিরে আসে জটিলতা ভেদ করে সূর্য তারাই দেখে । বাকিরা তলিয়ে যায়, জোর করে নিজেকে সবকিছু থেকে বিপন্ন করে সুন্দর জীবনকে শেষ করার প্রবণতা পথ পায়।
এই আলোচনা নতুন করে বাঁচর শপথ নিক, এই আলোচনা বাঁচার আশায় আরও আত্মবিশ্বাস নিয়ে আসুক। জীবন একটাই, এবং অপূর্ব সুন্দর সেই পথ। কেবলমাত্র নিজেকে বুঝতে জানতে হবে।
সারাবিশ্বে প্রতি ২সেকেন্ডে একজন মানুষ আত্মহত্যার চেষ্টা করছেন এবং প্রতি ৪০সেকেন্ডে একজন সফলভাবে আত্মহত্যা করছেন। বিশ্বব্যাপী আত্মহত্যার পরিস্থিতি দিনকে দিন আরও ভয়ংকর রূপ ধারণ করছে।আমাদের দেশের চিত্রও খুবই উদ্বেগজনক।
বিশেষ করে উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তরুণ-তরুণীরা এই প্রবণতায় জড়িত হন বেশি। সাথে সাথে উচ্চপদের কর্তা, বুদ্ধিজীবী, শিল্পী, কর্মজীবী, দিনমজুর, ব্যবসায়ীগণ মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়ে আত্মহত্যা করে থাকেন। পৃথিবীতে প্রতি বছর প্রায় দশ লাখ লোক আত্মহত্যা করে থাকেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাব মতে দেশে প্রতি বছর দশ হাজার একশত সাতষট্টি জন মানুষ এই পথে পা বাড়ায়।
পারিবারিক ও সামাজিক অবক্ষয়জনিত কারণে স্বাভাবিক মৃত্যুকে না মেনে অনেকেই আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়। মানুষের মধ্যে উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা, অস্থিরতা ও মানসিক বেদনা ও অর্থনৈতিক দৈন্যতা বেড়ে গেলে চরম হতাশা কাজ করে। হতাশাই নিজের মধ্যে নেতিবাচক ধারণাগুলো তৈরি করে। এক পর্যায়ে মানুষ আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলে। তখনই মানুষ আত্মহত্যা করে। একাজ যারা করেন তাদেরকে আত্মঘাতক বা আত্মহনকারী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
ক্রমবর্ধমান আত্মহত্যা এবং হৃদয় বিদারক একেরপর এক ঘটনায় মন ভারাক্রান্ত হয়ে ওঠে । জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় গুলো পর হয়ে যায়।
এই উপস্থাপনার মাধ্যমে আত্মহত্যা এবং সেই সংক্রান্ত মানসিক দিকগুলো নিয়ে আলোচনা করার চেষ্টা করবো।
★ আত্মহত্যা কী ? এবং তার প্রকারভেদ।
আত্মহত্যা বা আত্মহনন (ইংরেজি: Suicide) হলো সেই প্রক্রিয়া যেখানে একজন মানুষ ইচ্ছাকৃতভাবে নিজের জীবন বিসর্জন দেয় কিংবা স্বেচ্ছায় নিজের প্রাণনাশ করে থাকে । ল্যাটিন ভাষায় সুই সেইডেয়ার থেকে আত্মহত্যা শব্দটি এসেছে, যার অর্থ হচ্ছে নিজেকে হত্যা করা। ডাক্তার বা চিকিৎসকগণ আত্মহত্যার চেষ্টা করাকে মানসিক অবসাদজনিত গুরুতর উপসর্গ হিসেবে বিবেচনা করে থাকেন। ইতিমধ্যেই বিশ্বের অনেক দেশেই আত্মহত্যার প্রচেষ্টাকে এক ধরনের অপরাধরূপে ঘোষণা করা হয়েছে এমকি অনেক ধর্মেই আত্মহত্যাকে মহা পাপ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
আত্মহত্যার প্রচেষ্টার কারন সবার ক্ষেত্রে সমান হয়না।
যে ক্ষেত্রে আত্মহত্যা সংগঠিত হয়, তাদের কারো কারো কাছে আত্মহত্যা দীর্ঘস্থায়ী মানসিক বা শারীরিক ব্যথার একমাত্র সমাধান হিসেবে দেখা দেয়। আবার কারও কাছে হতাশা বোধ এবং জীবনের নেতিবাচক ঘটনাগুলির সমাধান করতে অক্ষমতা কাজ করে। আবার কিছু ক্ষেত্রে , আত্মহত্যার প্রচেষ্টা অন্যদের তাদের গুরুতর কষ্ট এবং তাদের প্রয়োজনের গুরুতরতা জানানোর একটি মাধ্যম হতে পারে।
মূলতঃ যখন জ্ঞান-বুদ্ধি-উপলব্ধি-অনুধাবন শক্তি লোপ পায়, নিজকে অসহায়-ভরসাহীন মনে হয়, তখনই মানুষ আত্মহত্যা করে বসে।
মানুষের আত্মহত্যার মূল কারণ হল হতাশা। কখনও মস্তিষ্কে সেরোটোনিন নামক হরমোনের নিঃসরণের হার কমে গেলে আসতে আসতে হতাশার পরিমাণ বাড়তে থাকে । এই হতাশা বাড়তে বাড়তে একটা সময় মানুষ হারিয়ে ফ্যালে আত্মবিশ্বাস এবং জীবনে লড়াই করার প্রবণতা। সেখান থেকেই আত্মহত্যার সূত্রপাত হয়।
মানুষ অত্যন্ত সেন্সেটিভ প্রাণী হওয়ার কারণে অহরহই আত্মহত্যার খবর আমরা পেয়ে থাকি।
প্রায় ২৭% থেকে ৯০% এরও বেশি সময় আত্মহত্যার সাথে মানসিক অসুখের সম্পর্ক থাকে ।
( চলবে ........)

1 মন্তব্যসমূহ
বিশিষ্ট একটি বিষয় নিয়ে আলোচনা শুরু হল। চমৎকার শুরু। ভালো লাগলো।
উত্তরমুছুন