পোস্ট বার দেখা হয়েছে
এলোমেলো আমাকে সাজাতে পারো তুমি। বাউন্ডুলে উদাসী মনটাকে বেঁধে পালতোলা নৌকার উদ্দামতায় ভাসাতে পারো তুমি, একমাত্র তুমি।
তোমাকে কাছে পাওয়া আমার বসন্তদিন। শিমুল-পলাশের সানন্দ ঘোষণা, কোকিলের
কুহুগান, হাওয়ার শরীরে অদ্ভুত শিহরণ। সব মিলে যেন এক নতুন কাব্যের প্রস্তাবনা।
তোমার আমার পরিচয়- এর সংযোগ সেতু রচনা করেনি কোন স্বজন বন্ধু বা সোশ্যাল মিডিয়া। হাজার মানুষের ভিড়ে, তোমাকে চিনে নিয়েছিলাম আমি।
ইদানিং ব্যস্ততা বেড়েছে দেখা হয় কম, চিঠি লেখার পুরনো অভ্যাসটাও গেছে মরে।
তুমি কথা দিয়েছিলে তাই প্রতি বছর নিয়ম করে বসন্তদিনে পাঠাও রঙিন চিঠি।
যতই সারা বছর কথা বলো, মেল কর, অডিও ক্লিপ পাঠাও কিংবা বাক্স ভর্তি অনলাইন উপহার। বসন্তের দিনে তোমার চিঠি আমার জীবনে অন্য উৎসব বয়ে আনে।
সারপ্রাইজ ভিজিটে চমকে দিতে একবার এসেছিলে লাল মাটির দেশে। পায়ে পায়ে আমরা শাল মহুয়ার শুকনো পাতা মাড়িয়ে বহুদূর এগিয়ে গিয়েছিলাম।
হঠাৎ খোয়াই এর বুকে সন্ধ্যা নামলো।
নিভে যাওয়ার সূর্যের অস্পষ্ট আলোয় আমরা পরস্পরকে আঁকড়ে ধরেছিলাম। মাথার ওপর ঝরে পড়ছিল হাজার ফুলের শুভেচ্ছা । নাম না জানা হাজার পাখি গেয়ে উঠেছিল গান। আমাদের প্রাণময়তায় জেগে উঠেছিল আকাশ ছুঁতে চাওয়া নিস্তব্ধ বনবীথি।
তোমার পুরনো চিঠি গুলো এখনো পড়ে শোনায় আমার হস্টেলের আদিবাসী মেয়েটি।
ও এখন ভালই বাংলা শিখেছে। চিঠি পড়তে পড়তে ও হেসে লুটিয়ে পড়ে। বলে - ' দিদিমণি, দিদিমণি তোমার মানুষটা বড় ভালো বটেক '
অস্ত্রোপচারের পর সেদিন আমার চেকআপ হল। ডাক্তার কাকু জানালেন আমি নাকি চিকিৎসায় ভালো সাড়া দিচ্ছি। এভাবে সব ফেলে আর কতদিন বিশ্রামে থাকবো বলো !
দুর্বৃত্তদের ছোঁড়া বোমায় হারাতে বসেছিলাম চোখ।
যতই বাধা আসুক, দেখো তুমি আমাদের স্কুলটিকে একদিন আমরা ঠিক মনের মতো করে গড়ে তুলবই।
পৃথিবীতে মানুষ গড়ার পাঠশালা বেশি বেশি দরকার আজ।
আমরা কি স্কুল কলেজ হাসপাতাল পুরো সমাজটাকে ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরায় মুড়ে ফেলবো ? মানুষের চেতনার উপর বিশ্বাস হারিয়ে আমরা শুধু প্রযুক্তিকেই আলিঙ্গন করব ?
উড়ান বাতিল করে অপরেশনের দিন ছুটে এসেছিলে। আবার আসছো তুমি। আমার বসন্তদিন আসছে।
তাই বুঝি প্রকৃতিও সেজে উঠেছে অন্য মায়ায়। দূর থেকে ভেসে আসছে রবীন্দ্রগান।
যেন অমর্ত্য থেকে ছড়িয়ে পড়ছে অনাবিল এক লাবণ্য...
আমার মুগ্ধতা ছুঁয়ে তোমার কবিতা।
তুমি আসছো, অন্ধকার মুছে বসন্তদিন আসছে....
--------------------------------------------
প্রথম প্রকাশ - কাব্যগ্রন্থ-
বড় ঘড়ির নিচে থেকো তুমি (আনন্দ প্রকাশন, ২০২০)
--------------------------------------------
দূরের পাঠকদের জন্য ডাকযোগে পাওয়া যাচ্ছে -
আবৃত্তির কবিতা - কবিতার আবৃত্তি / জয়দীপ চট্টোপাধ্যায়
প্রকাশ - কলকাতা আন্তর্জাতিক বইমেলা ২০২৬,
(মূল্য ১৬০ ভারতীয় রুপি)
প্রকাশক - নিজস্ব কমিউনিকেশন
ফোন - 9432135598
Email - nijoshocommunication@gmail.com

0 মন্তব্যসমূহ