দর্পণ || পরিচালকীয় কলম




পোস্ট বার দেখা হয়েছে

অভি না করো জানে কি বাত ....

দে বা শী ষ


ছুঁয়ে থাকা, অব্যক্ত পরিসংখ্যানিক ভিড়ে ,

মৃত কূপ প্রবেশ আশ্রয় প্রতিনিধি,

পাল্টে ফ্যালে যায় বোধ এবং চিন্তাশক্তিগুলো,

কথাদের পথে ফাটল - জনসমুদ্র ঠেলে প্রশ্বাসে আনুসাঙ্গিক নিঃশেষ ঘোষণা -

এবং আর আসেনি ফিরে,

জমা হিসেবে উড়ন্ত রোশনাই মোড়া চাবুক

ঘামের দামে শিল্প সত্ত্বা -

এতো ঠাসাঠাসি প্রবাহ, সময়ের চলে যাওয়া,

আমরা নস্টালজিক হতে প্রস্তুত থাকি,

আমরা ঘটনার পর ঘটনা হয়ে যাই,

আর নিদান জড়িয়ে সাজা ঘোষণা হয় রাতে,

ফুটফুটে সকাল আসে কোনমতে।


আমাদের ব্যর্থতারা আসলে জমাপুঁজি,

উদ্দেশ্য আসলে মিশে থাকা রুটি রুজি,

তারপর পুড়ছে আগামী -

উল্লাসের চিরন্তনী থালায় - পান্তা ফুরিয়ে ফিরিস্তি ঢেলে খাও,

খাও - গেলো - আরও খাও,

কিছুতেই বেরোতে পারছিনা পরিণতি যাকে বলে ,

আমরা ধিরে ধিরে রাজনৈতিক কবলে।

আমরা ধিরে ধিরে শোকের উর্দিধারী কথা 


ফিরে আসবেনা জানি - 

যে যায় ফিরে আসেনি কোনদিনও,

শরীর পুড়েছে আমরা কবেই পুড়ে ছাই হয়ে গ্যাছি অকারণেও ,

রয়ে যায় লেখা রয়ে যায় দুচোখে জল - রাতজাগা অভ্যাসগুলো,

ভালোবাসতে পারলে জেগে থাকতে হয়।

====

গ্রন্থ উন্মোচন 

শিবাজী  সান্যাল


অনেকেই এসেছে কবিতাকে ভালবেসে

কবিতা গ্রন্থ উন্মোচনে। এক খ্যাতনামা  কবিকে

দেওয়া হল শাল , পুষ্পস্তবক , প্রধান অতিথি রূপে। 

প্রথমদিকে অঢেল প্রশংসা হল কবির

পড়া হল কিছু নির্বাচিত কবিতা । তারপর সভার

মোড় গেল ঘুরে। শুরু হল বিদগ্ধ পণ্ডিতদের

গভীর আলোচনা। রবি , মাইকেল শুরু করে

ইতিহাস থেকে তুলে আনা হল বিভিন্ন দশকের কবিদের

ছন্দ , অন্তমিল , গদ্য , সমর্থন ও বিপক্ষের নানা কথা

চুপচাপ বসে রইল মূল কবি , দেখল তার গ্রন্থ 

একটি  মাত্র মেয়ের হাতে , মুখে তার অপার মুগ্ধতা । 


অনুষ্ঠানের চা সিঙ্গারা শেষে , ধীরে ধীরে 

চলে গেছে সবাই। একটিমাত্র  বই হয়েছে বিক্রি 

কিছু বই নিয়ে গেছে মঞ্চের অতিথিরা ,

বাকিগুলো কবি রেখে নিল ব্যাগে। 


একটি দীর্ঘশ্বাস , ছিল অপেক্ষায় , অনেক সময় থেকে।

====

 কেবল জুয়াড়িদের উৎপাত

এ কে আজাদ 


অবিশ্বাসী খুন্তির তীব্র আঘাতে হৃদয়-ঘরের পলেস্তরা

ভেঙে চুরমার হয়ে গেলে, 

লোনা ধরে ভালবাসার ইটের দেয়ালে,

মনের রঙ দিয়ে সে ঘর কি আর রঙ করা যায় কখনও?


বুকের সাগরে ভেসে যায় ফেলে আসা কিছু সুখ দুঃখের ঢেউ,

জরাজীর্ণ দেহের ঘরে তখন কেবল 

অপাঙ্ক্তেয় কুকুরের অপ্রীতির ঘেউ ঘেউ। 


কখনও উথলে ওঠে স্মৃতির সাগর,

কখনও চোখের আরশিতে ভেসে ওঠে নয়ন ডাগর,

কখনও করুণার চোখ চেয়ে থাকে পথপানে,

কখনও হত আবেগ জেগে উঠতে চায় জয়গানে,

কখনও ভাঙা বুক মেলে ধরে উন্মুক্ত হৃদয়,

আসলে এই সবের কি কোন মানে হয়?

সুন্দরবনের বাঘের কাছে 

দাবী করা যায় কি মনুষ্যত্বের পরিচয়?


পশুদের কাছে মনুষ্যত্ব খুঁজতে গেলেই

পাশবিক আঘাতে ক্ষত বিক্ষত হয় মানুষের শরীর।


এই পৃথিবীর মেলায় খেলায় কেবল 

প্রবঞ্চক আর জুয়াড়িদের উৎপাত;

কোথায় মায়াবী মাটির মানুষ -

তুলে খাওয়াবে একটু প্রেমের দুধভাত?

====

 মৃত্যু ফাঁদ 

তন্ময় রানা


শহরটা বড়ো প্রিয় ছিলো তার 

অথচ জানতো না,

সে শহরটাই পেতে রেখেছিলো 

ওর মৃত্যুর ফাঁদ।

শহরটা সেদিন গায়ে মেখেছিল

ভীষণ উত্তাপ,

আলো চুঁইয়ে নেমে আসছিলো

তাপ

তবুও,

থামাতে পারেনি তাকে তার পেশাদারি গায়কী বোধ।


"হাম রহে না রহে কাল ইয়াদ আয়েঙ্গে ইয়ে পল" 

তারুণ্য ভেসে ছিলো শুধু ছেলেটার আবেগী সুরের মূর্ছনায়,

নিমেষেই জয় করে নিয়েছিল একে একে লরেটো সেঞ্জেভিয়াস

কলেজ প্রাঙ্গন থেকে শুরু করে,পুরো শহরের মন।


কিন্তু তবুও থেমে গেলো গান!

চরম

অব্যবস্থাপনা আর অবহেলায় প্রিয়

শহরটার মুখে,

কালিমা মাখিয়ে অকালে ঝরে গেলো একটা তাজা প্রাণ!


কে নেবে এর দায়?? অজানা!

তবে এটা জানি

এরপরই চলবে দায় এড়ানোর কিছু

চাতুরীপনা।

কান পাতলে শূন্য অডিটোরিমে গানটা

তখনো শুনতে পাওয়া যাবে

হয়তো,

"হাম রহে না রহে কাল ইয়াদ আয়েঙ্গে ইয়ে পল"

ছেলেটার সব গান থেকে যাবে চিরদিন

আর থেকে যাবে আমাদের প্রিয় শহরটার বুকে

কালিমা লেপে যাওয়ার লজ্জা।

===

 জীবন যুদ্ধ

 রতন চন্দ্র রায়


নগ্নপায়ে ছেঁড়া কাপড়ে রাস্তার মাঝে

      ময়লার স্তুুপের পার্শ্বে, আহার করে যারা,

তাদের পানে তাকালে, মনে হয়

     সভ্য সমাজে নেই,  আজ কোন মানবতা।


অনাহারে, অভাবের তাড়নায় নেমেছে যারা

      রাজপথের মাঝে....

টোকাই বলে ডাকে তাদের

       বাড়ায় না কেউ, মানবতার হাত।


রোধ বৃষ্টি ঝড়ে, তারা থাকে রাজপথের মাঝে

       দিন শেষে সন্ধ্যা ঘনিয়ে এলে, আদপেটো খেয়ে

স্টেশনের প্লাটফর্মের মাঝে, ক্লান্ত শরীরে

      ছেঁড়া কাঁথায় ঘুমিয়ে পরে...

চিন্তা বিহীন মন নিয়ে, খোলা আকাশের নীচে।


রাত্রী শেষে ভোরের আলোতে.....

     সূর্য কে সাথে নিয়ে

আবার শুরু হয়, জীবন যুদ্ধ।

===

ছায়ার মায়া 

শুভ্রাপাল 


          কল্পনার শরীর ঘুরে বেড়ায় । নিঃশব্দ চরণে । পরিত্যক্ত পরিবেশে ,শান্ত নিঝুম সন্ধ্যায় । এই ঘরে এখোনো আলো জ্বলেনি । এটা আমার ঘর । ইস্ বিছানার চাদরটা কুঁচকে আছে ,কেউ কি এখোনো  এঘরে ঢোকেনি  ? 

        দক্ষিণের জানলা দিয়ে দিলখোলা মুক্ত বাতাস আছড়ে পড়ছে । উড়ছে কাপড়ের পর্দা, ফরফর করে উড়ছে বইয়ের পাতা আরো কতকিছু । মাধবীলতা কি দুলে দুলে আমায় অভর্থনা জানাচ্ছে! একটা মিষ্টি গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে চারিদিকে । আমার বড় প্রিয় ফুল । বাড়ির পিছনের গন্ধরাজ ফুল সবুজকে দাবিয়ে সিগ্ধ আঁখি মেলে যেন চেয়ে আছে, তার গন্ধ ছেয়ে আছে নির্জন  আঙিনা জুড়ে । আঃ কি শান্তি ...। 

           আম গাছে প্রচুর ফলন এসেছে এবার । পাশ দিয়ে - ঐ দূরে - পিচঢালা পাকা সড়ক দেখা যাচ্ছে । জীবন্ত সচল জগৎ । ঐ খানেই তো ! সকালে, খুব জোরে ' ধাই ইইই ক্যাঁচ ক্যাঁচ ' শব্দ উঠেছিল । আর তারপর ....!

           ঘন কাশবনে হাওয়ার খেলা চলছে, ঠিক আগের মতো । এই সবুজ মখমলি ঘাসের বুকে পা ফেলে ফেলে আরো এগিয়ে যাব ...নাকি ফিরে যাব দীর্ঘশ্বাসে ভরা গল্পের আস্তানায় । ---- ভাবছি ......

====

কবির বেড়াল

জয়তী


কবিকে এড়িয়ে চলো

দূর থেকে দেখেই, গুটিয়ে নাও নিজেকে। 

কখন তোমার ভেতর থেকে মাটি তুলে এনে গড়ে নেবে  প্রতিকৃতি -


যৌগ অযৌগ, ধাতু অধাতু ছেঁকে তুলে 

হলমার্ক বসিয়ে দেবে তোমার ভগ্নাংশে, 

তোমার ভূ-ম্যাপ থেকে চুরি হয়ে যাবে 

চৌকাঠ থেকে চোরকুঠরি -


রঞ্জক লেপন করে 

মোনালিসার হাসি গলিয়ে নেবে

মোম পুতুলের ছাঁচে,

অপরূপ জ্যোৎস্না বনে শেয়াল ঢুকিয়ে 

চুপিসারে দেখে নেবে তোমার অসুখ গাছের নাম-


গুপ্তসন্ধানীর ছদ্মবেশ খুলে 

জানিয়ে দেবে তোমার শহরে কতগুলো যুদ্ধ ট্যাঙ্কার মজুত ছিলো,

পৃথিবীর হাটেবাজারে অন্ধকার কেন এত উজ্জ্বল! 


তারপরই ছিটিয়ে দেবে শান্তিজল 

শূন্যের বিকল্প শূন্যেই লিখবে আগুনে 

সবটুকু বিয়োগাত্মক লিখে নেবে মহাযোগে -

====

যন্ত্রণার শেকল 

সায়ন্তিকা 


অথচ ۔۔

যন্ত্রণার শেকল ছিড়ে বেরিয়ে আসা এই আমি'ই না নারী আর না মাটি,

অযৌতিক শব্দরা মুখে আগুন জ্বালিয়ে বসে আছে ۔۔۔۔۔۔۔

স্যাঁতস্যাঁতে রোদের খোসায় পুড়ছে সংসার ,

অথচ আমি চিতায় মুখ ঢুকিয়ে বসে থাকি রোজ !

এখানে ভুল বানানগুলো সিঁড়ি বেয়ে নেমে আসে ,

বুকের মাঝখানে হলুদ চিৎকার গুঁজে বসে আসে হরিতকি বন ,

গারদের রেলিং চুয়ে নেমে আসে শোক !

তুমি যাবতীয় খোলস ছেড়ে ফেলে হয়ে ওঠো ভাদ্র মাস ,

আর আমি প্রতিদিনই কবিতা পুষছি , কবিতা ভাঙছি , কবিতা গড়ছি !


সাপ সিঁড়ির ইমারত থেকে বেরিয়ে আসছে মা মাটির পাঁজর ,

গলির মোড়ে মোড়ে ধ্বনিত নামকীর্তন ۔۔۔۔

বুঝিনি কখন য্যানো সুরগুলো তন্ত্রী ছিড়ে বেরিয়ে এসেছে রাস্তায় ,

যন্ত্রণার শেকলে বাঁধা পড়ে গ্যাছে নদীটাও ,

জলের স্তর ভেঙে উপচে পড়েছে এক গ্লাস সমুদ্রে ۔۔۔۔۔۔

আর তোমার ভেজা শরীরে ভিজে যাচ্ছে আমার  পোড়া স্তন থেকে সবুজ অরণ্য ,

উফফ ! এই বৃষ্টি আসলে পোড়াতেই আসে !

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ