দর্পণ || সাপ্তাহিক সেরা কবিতা কোলাজ




পোস্ট বার দেখা হয়েছে

মেয়েটা বোরখার বদলে শিক্ষা চেয়েছিল

ভূতুম 


 মেয়েটি মুসলিম ।

বোরখা আবৃত হয়েথাকাটাই নাকি আল্লাহর নিদান।

সত্য মিথ্যার লড়াই আজও জেগে আছে।

জেদকরে মেয়েটা স্কুলের পথে পা বাড়িয়েছিল।

অনাবৃত বোরখায় ।

স্কুলগেটের আগেই একটা বুলেট এফুঁড় ওফুঁড়

হয়ে বেরিয়েগেছিল তার মাথার মাঝ বরাবর।

একটু দূরে শোনা গিয়েছিল-"আল্লাহ আকবর"।


উন্মুক্ত বোরখায় মেয়েটির মা ছুটেএসেছিল

মৃত না জীবিত তারই সন্ধানে।

ফের বুলেটের শব্দের পর-ইনশাল্লাহ শব্দে কেঁপেছিল স্কুল গেট ।


মেয়েটির বাবা আর ছোট্ট ভাইটি এসেছিল

লাশ দুটিকে কবরস্থ করার জন্য ।

ফিরে যেতে যেতে কা-পুরুষ বাবা বলেছিল- আল্লাহ মালিক তুমি আমার বিবি বাচ্ছা কে রেহেম দিও ,ওরা ভুল করেছে ।


বাচ্ছা টা বলে উঠেছিল- আব্বু কাদের জন্য রেহেম চাইলে? আল্লা তোমাকেও রেহেম করবে ?

পা থেমে গিয়েছিল বাবার, ক্ষনিকের তরে।

হাত ছাড়িয়ে ছুটেছিল বাচ্ছা টা ।

না-কবরে মাটি সে দেয়নি ।


আজও ছুটছে'সে অনেক বছর ধরে।

আল্লার দরবারে পৌঁছাবে বলে।

জানতে চাইবে শরিয়তি আইনের অন্ধকার আরও কতদিন বইবে শুদ্ধ কাফের রা ? 

কে ঠিক - আল্লাহর নির্দেশ নাকি তার ইচ্ছা ভুলের

বেয়াদপির ব্যবহার ।


ছেলেটা কবে যে পৌঁছাবে কেজানে ?

সে হয়ত এতদিনে বুঝেছে -

মিথ্যার সিঁড়ি অনেক লম্বা আর-

ধর্মের সুড়সুড়ি দেওয়া কংক্রিটে বড্ড মজবুত ।


বাহান্ন টা দেশ তাকে আতসকাঁচে ফেলেছে।

যদি আল্লাহর কাছে পৌঁছে সত্যিটা জেনে'যায়।


বুলেট তৈরিই আছে , কাফের বলে শুধু চালিয়েদেওয়া । 


কিছুটা দূরে ধর্মগ্রন্থ পোড়ার গন্ধ ।

ওটাও বিকৃত কাফেরদেরই কাজ হয়ত।

===

অলভিদা

সুমনা ভট্টাচার্য্য 


ছায়ার ব্লেড- হঠাৎ যেন  চিরে যাচ্ছে আলো

 আবার চোখ নিঃস্ব - চলে যাচ্ছে ক্যালেন্ডারে

শেষের তারিখ,  ফেরার তাগিদ খুবই জোরালো 

গ্রীষ্মাবকাশ- পর্যটন - তাও ব্যস্ত পরিসরে


গীটার-আঙুল যখন তখন তুলবে জাদু ঝড়-

ক্লান্ত সফর- তবু্ও  থামছে চর্চা-পদে,

ঘুম অছিলায় সে শহর জড়ায় নুনের সর-

আপোষসময় এখন জখম-সদস্যদের;


রোদ গুলো খুব মিথ্যে, ভীষণই অনিশ্চিত ;

মনিটরে অবাধ্য  ঢাল- পরিযায়ীর গিয়ার

মুহূর্তও সাক্ষী - ব্যথা পেশায় অতর্কিত;

"এ কনসার্ট ও চেনা " বলছে অডিটোরিয়াম...


গাড়ির কাচ ঝাপসা - অঝোর ঝরছে এ্যাকোস্টিক

রক্তাক্ত বুকের ভাঁজ,  এ শহর সংলাপের

কে কোথায়  দেনার দায়ে -সে মেঘই খবর নিক

আমদের তো গানকে ধরা -যেমন স্মৃতির মাপে


সেসব স্মৃতি অথৈ -যেন ক্লান্ত মফস্বল 

দু' এক পা হাঁটায় সেই ঘর জুড়ে যায়  ঠিকই -

হঠাৎ বললে " অলভিদা" আকাশ অনর্গল 

গানের আদলে আমরা যে মঞ্চবিদায় শিখি...

====

আরো সময় পেরিয়ে চলেছে  

ঋষি


বয়সের লোমে লাগছে সাদা সময়ের প্রলেপ ,


এখন অনেকটা সময় পেরিয়ে আমি বুঝতে পারি সময় হচ্ছে 


ক্রমশ নদীতট ভেঙে জল ঢুকছে জনবসতি জীবনে ,


ঢেউয়ের আঘাতে আস্তে আস্তে দুলছে একা নৌকা 


এইবার বোধহয় মিলিয়ে যাওয়ার সময় একলা সমুদ্রে। 


এখন আমি ঠিক টের পেয়ে যাই 


অপেক্ষার গল্পগুলো চিরকাল ক্লান্তিকর এবং অনিয়মিত 


এখন আমি ঠিক বুঝতে পারি 


মানুষের হাঁপিয়ে যাওয়াগুলো আসলে এক একটা লোভ 


আর মাংসের বাঁচতে চাওয়াগুলো কোনো অসমাপ্ত গণিতের সমাধান 


আসলে ইনফিনিটি। 


আমি জানি ভালোবাসার মানুষ গাছ হয়ে যায় প্রতি রাতে মনের  মাটিতে 


আমি জানি ভালোবাসা কখন যেন দূরে দেখা অন্ধকার আকাশের নক্ষত্র 


আসলে সকলে আশ্রয় খোঁজে এই পৃথিবীতে 


খোঁজে আশ্রয়ের মীমাংসা। 


আমি সময়ের গল্পে সেলাই করে রিপু করে চলি আমার অভিমান 


আমি শাক দিয়ে মাছ ঢেকে বোঝতে চাই আমার রাগ হয় না 


আমার খিদে নেই


আমার জেদ নেই,


কিন্তু সত্যিটা হলো সব মানুষের মতো আমার বাঁচা নেই 


কারণ মানুষ যেটা বেঁচে থাকা বলে সেটা ঈশ্বর না 


ঈশ্বর হলো একটা সম্পূর্ণ সমাধান।

====

মানুষ... 

মনিকান্ত  


যে পৃথিবী আমি খুঁজছি --


সেখানে হয়তো ঈশ্বরীয় কণায়

পাওয়া যাবে না ঈশ্বরের অস্তিত্ব,

কিংবা সমুদ্রের নিথর তলদেশে খুঁজতে হবেনা

প্রাণ সঞ্চারের আদিম ইতিহাস। 


সেখানে হয়তো মৃতপ্রায় দীর্ঘশ্বাস বাষ্পীভূত হয়ে

ভীড়ে যাবে না উদ্বায়ী মেঘেদের দলে, 

ফুটপাতের পাশে চিরাচরিত ক্লান্ত পা

অযথা আতঙ্কিত হবে না দুঃসহ আগামীর স্বপ্নে।


তবে সেখানে গাছ থাকবে, নদী থাকবে, 

থাকবে ফুল, পাখি, পাহাড় - আরোও কতকিছু, 


সর্বোপরি সেখানে "মানুষ" থাকবে, 

আর মানুষের ভেতর থাকবে "প্রাণ"......

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ