পোস্ট বার দেখা হয়েছে
ঋতু
দেবাশীষ ভট্টাচার্য্য
শব্দ হয়তো জীবন্ত রয়ে গ্যাছে -
আমি স্তরে স্তরে এঁকে ফেলি হাজারো স্মৃতিকথা,
শূন্যতা বলে আর কেউ নয় -
আর্তি খোঁজে কাজের পরিচিত গাঁথা।
এখনও জেগে আছে, এখনও চোখ রাখে ক্যামেরায় সময় -
রোদের বারুদে ঝলসানো দুপুর - জলের খোঁজ পেতে চায়,
আবেগ সমান্তরালে আষ্টেপৃষ্ঠে রাঙিয়ে যায় মন -
ঋতুপর্ণ এখনও সরল প্রবল দাবদাহে জলের মতোন ।
===
ঋতুপর্ণ
সায়ন্তিকা
সকালটা আজ জেব্রা ক্রসিংয়ের ওপর দিয়ে চলে যাচ্ছে ,
পর্দার ফাঁকে ভাঁজ পড়ে গ্যাছে মঞ্চে ۔۔۔
"লাইট , ক্যামেরা , একশন "۔۔۔۔
চলেছে ঋতু !
বসন্ত এলো , বসন্তে বসন্তে বৃষ্টি এলো ,
ভেজা ভেজা শরীর মাখলো ঋতুপর্ণকে ,
নন্দনের উঠোনে পুড়লো সিনেমা ,
চিত্রনাট্যকার লিখলো ۔۔۔۔۔۔
"পিয়া তোরা ক্যায়সা অভিমান!"
না ۔۔۔۔সেদিন আমার কোনো অভিমান হয়নি ,
শুধু কোলকাতায় বুকে নদীটা ভেঙে গেছিলো ,
জলের স্তর কেটে র۔ফলা হয়ে বসেছিলো রাসবিহারী থেকে রবীন্দ্রসদন !
অথচ তুমি এলে আজও কোলকাতার রাস্তাগুলো ট্র্যাফিক সিগন্যালে আটকে থাকে ,
গাড়ির ঝাপসা কাঁচ নামিয়ে একটা ঋতু প্রশ্ন করে ۔۔۔۔۔
"সব চরিত্র কী সত্যিই কাল্পনিক ?"
চিত্রাঙ্গদারা উত্তর খুঁজতে আসেনি কোনোদিনও,
একটা উনিশে এপ্রিলে কেবল তীব্র দহনে জ্বলে ছিলো এই আবহমান কালে ۔۔۔۔۔
তবুও তুমি ফিরে এসো ঋতুপর্ণ ۔۔۔
পরজনমে রাধা হয়ে অথবা কেবল একটা ঋতু হয়ে !
ততদিনে কোনো কবিতায় লেখা হবে ۔۔۔
"সখী হাম , মোহন অভিসারে যাউ ۔۔۔۔۔"!!
====
ইচ্ছে করে
শংকর ব্রহ্ম
ইচ্ছে করে আজ নারী হয়ে
হৃদয় তোমার পড়তে শিখি
নারী ছাড়া নারীর হৃদয়
বোঝা অত সহজ নাকি?
সত্যি যদি রাধা হতাম
বুঝতাম তার জ্বালা কত,
কৃষ্ণ হয়েই ঘুরে বেড়াই
কদম তলায় অবিরত।
আপন মনে বাজাই বাঁশি
শুনে রাধার হৃদয় পোড়ে
ননদিনী সব লক্ষ্য রাখে
তাই থাকে সে দূরে দূরে।
ইচ্ছে করে আজ নারী হয়ে
হৃদয় নারীর পড়তে শিখি
নারী ছাড়া নারীর হৃদয়
বোঝা অত সহজ নাকি?
আপনিও তা চেয়েছিলেন বুঝি?
ঋতুপর্ণ আপনাকে আজও খুঁজি।
====
বাঁচুক ঋতুর ছবি
সুচন্দ্রা বসু
তোমার মৃত্যু বার্ষিকি যে আজ
কেমন ছিল তোমার সে সমাজ
তুমি কি সত্যি করে জানতে না
কে শিখিয়েছিল সেই ডাক মা।
প্রথম কথা বলতে শেখায় কে
চাদরে নক্সায় চিনলে পাখিকে
কাঁপি বলে ডেকেছিলে তাকে
খোঁজে আজ ভাঙা মন ঋতুকে।
তেল মাখাতে মাখাতে চানের আগে
মাসিমণির গান তোমার ভালো লাগে
ঠাকুমা শেখালেন তেতো প্রথম পাতে
গরমে কুঁজো আর কাঁথা নিতে শীতে।
পথের পাঁচালী দিয়েছিল ছোট পিসিমণি
শ্যামলা রঙ বাঁধতো একটা মোটা বিনুনি।
ভাবতে তুমি যদি সে হতো তোমার দিদি
দুজনের মধ্যে ছিল এতোই সম্পর্ক প্রীতি।
বাবা শেখালেন ফাউন্টেন পেনে লেখা
হয়েছিল বাবার সাথেই জাদুঘর দেখা
ইউ’ ছাড়া শুধু ‘কিউ’ দিয়ে হয়না বানান
ইংরেজি হরফের আসল নাম রােমান।
বড় হয়ে চাইলে পুরুষত্বের পরিবর্তন
নারীত্বের অনুভূতির এতোই প্রয়োজন
নিজের শরীরে ধরালে মারণ অসুখ
জীবনে পেলে কি আর সেই শান্তি সুখ?
অমূল্য তোমার সেই হীরের আংটি
প্রতিটি ছবি যে তোমার অপূর্ব সৃষ্টি
সবাই স্তম্ভিত হলো দেখে নৌকাডুবি
আবহমানকাল বাঁচুক ঋতুর ছবি।
===
সম্পূর্ণ ঋতুপর্ণ ?
শৈলেন্দ্র নাথ চক্রবর্তী
ঋতুপর্ণ ।
কেন কিসের জন্য
চলচ্চিত্র শিল্প আজ ধন্য
আর তাতেই তুমি অনন্য।
মোটেই হবে না কথা ভিন্ন।
আজ ঋতুপর্ণ
খোলা মনের অর্গল হয়নি উম্মোচনও ।
চিত্রনাট্য তরঙ্গায়িত হয়েছে যেজন্য
তারও কাণ্ডারী তুমি ঋতুপর্ণ।
চারুকলা শিল্পের মহা অঙ্গনও
হয়েছে উৎকীর্ণ।
শোনো ঋতুপর্ণ ,
তোমার কতো রূপ কতো বর্ণ
চারুশিল্পে কতো কীর্তি তার পর্যবেক্ষণও
আজও হয়নি সারা , আজও অসম্পূর্ণ।
তবু ঋতুপর্ণ ,
বিরল প্রতিভা , জনবরেণ্য
কবি গীতিকার নাট্যকার , আছে অঙ্কনও।
অকাল প্রয়াণে হিয়া বিদীর্ণ
শোকার্ত আমরা ছিন্ন বিচ্ছিন্ন।
হে ঋতুপর্ণ ,
আমরা তোমাতে আচ্ছন্ন।
তামাম দুনিয়ার মুক্ত চক্ষু কর্ণ
তোমার বৈদগ্ধে মুগ্ধতায় পূর্ণ।
চারটি মোটে বর্ণ , এতে তুমি সম্পূর্ণ ?
বলো কতো কাজ রেখে গেলে অসম্পূর্ণ !
তোমার অভাব জানি কখনো হবে না পূর্ণ।
===
হীরক দ্যুতি
মেখলা ঘোষদস্তিদার
বৃষ্টি ভেজা শহরে প্রান্তরে
কে ঢালে তান কর্ণ কুহরে
ধুয়ে যায় সব ব্যথা কলহ
অন্তর থেকে অন্দর গৃহ,
আনন্দ -স্নাত ছমছমে রাতে
সে কোন্ সাধিকা জোছনা প্রপাতে
যমুনা বিলাসী স্রোতে ভাসে
পরজনমের কথাকলি আশে
আসবে কী সে ফিরে অবশেষে
রাধিকা বা বনমালী বেশে,
বিরহ সরিয়ে এসো প্রেম উদ্যানে
শৈল্পিক গুণে চেনা সৃষ্টি বরিষণে,
সেতার বলে ওঠে সে - তার গুঞ্জনে
ঋতু আছে মননে বসন্ত জাগরণে
সময়ে অসময়ে হীরক দ্যুতি হয়ে
ফাগুনে আগুনে শ্বাসে প্রশ্বাসে।

0 মন্তব্যসমূহ