পোস্ট বার দেখা হয়েছে
রত্নাকর সত্যজিৎ
নীলাঞ্জন চট্টোপাধ্যায়
চিত্রকর- গীতিকার - সাহিত্যস্রষ্টা- চিত্রনাট্যকার - সঙ্গীতকার - পরিচালক ; নানা সত্তায় বিভাজিত
এক পূর্ণাঙ্গ মানব, সুকুমার রায়ের পুত্র সত্যজিৎ রায়, এক এমন সময়ে তাঁর জীবন পথে এগিয়ে চলেছেন,
যে সময়টা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তর কালের এক চঞ্চল,অগ্নিগর্ভ সময়।
একটি মানুষ জীবনের পথে চলতে চলতে নিজেকে মেলে ধরতে লাগলেন.. গোলাপের কুড়ি
থেকে ফুল হতে যেমন পাপড়ি খুলে যায়, বিকশিত হতে থাকে ফুলটি ; ছড়িয়ে পড়ে সৌরভ, তেমন করেই
সত্যজিৎ রায় পল্লবিত হতে থাকলেন জীবনের নানা ক্ষেত্রে ।
সাহিত্য, চলচ্চিত্র,গীতরচনা,চিত্রকলা, সঙ্গীতরচনা, চলচ্চিত্র পরিচালনা ; প্রতিটি ক্ষেত্রেই তিনি তাঁর প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন।
সাহিত্যের শব্দ- ছবি কে তিনি চিত্রনাট্য, সংলাপের বাঁধনে অসাধারণ দক্ষতায় চিত্রায়িত করেছেন
সেলুলয়েডে, যেখানে সাহিত্যের ভাষা জীবন্ত হয়ে উঠেছে সাহিত্যস্রষ্টা সৃষ্ট কাহিনির চরিত্রকে আশ্রয় করে।
সাইত্রিশ চলচ্চিত্র নির্মাণের পথে তিনি সমাজকে নানা বার্তা দিয়ে গেছেন, সমৃদ্ধ করেছেন জীবনের
সামাজিক পথ ও তার পরিক্রমা।
আগন্তুক ছবিতে তিনি সামাজিক অবক্ষয় ও কূপমন্ডুকতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছেন, বার্তা দিয়েছেন।
দেবী চলচ্চিত্রের চরিত্র গুলির মধ্যে, ধর্মীয় কুসংস্কারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছেন। সমাজকে মুক্তমনা, উদার হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সত্যজিৎ রায়। শাখা- প্রশাখা চলচ্চিত্রের মাধ্যমে তিনি বার্তা দিয়েছেন, দূর্নীতি মুক্ত সমাজ গড়বার জন্য। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাই যে মানুষ কে মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে সাহায্য করেনা, শাখা- প্রশাখা, সীমাবদ্ধ চলচ্চিত্রর মাধ্যমে, সেই বার্তা দিয়েছেন সত্যজিৎ রায়।
অরণ্যের দিনরাত্রি চলচ্চিত্রে, অন্য পরিবেশ, পরিস্থিতিতে মানুষের মনের পরিবর্তন বা প্রেমের উন্মেষের বার্তা দিয়েছেন। চারুলতা, ঘরে - বাইরে ছবিতে তথাকথিত সমাজ - বহির্ভুত প্রেমের জন্ম এক অর্গল রুদ্ধ পরিবেশে কিভাবে জন্ম নিয়ে মুক্তির গান গায়, সেই বার্তা দিয়েছেন এই চলচ্চিত্রে।
কু - সংস্কারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছেন গণশত্রু ছবিতে। হীরক রাজার দেশে ছবিতে, রাজনৈতিক
পীড়ন,শোষণের বিরুদ্ধে বার্তা দিয়ে,রাজ অত্যাচার, দমন,পীড়ন, শোষণ অবসানের ইঙ্গিত দিয়েছেন সত্যজিৎ রায়। সর্বোপরি পথের পাঁচালী ছবিতে তিনি এক কুড়ি থেকে ফুল হয়ে অ-পরাজিত যাপনের বার্তা দিয়েছেন, বার্তা দিয়েছেন, এঁকেছেন, একটি ছোট্ট ঘরে, আশা- নিরাশা, পাওয়া - না পাওয়ার দোলাচলে এক অসামান্য যাপনের চালচিত্র।
এক কথায় সমাজে, মানুষ হয়ে ওঠার বার্তায় মুখরিত হয়ে আছে তাঁর চলচ্চিত্রায়ন।
শতবর্ষ পার করে আজ ও আগামী দিনেও সত্যজিৎ রায় তাঁর সৃষ্টি নিয়ে সমান প্রাসঙ্গিক,চিরকালীন।।

0 মন্তব্যসমূহ