দর্পণ || কবিতা গুচ্ছ ~ সুজিত চক্রবর্তী




পোস্ট বার দেখা হয়েছে

 

        ।। এক।।


  বৃষ্টি চেয়েছিলাম 


আমি বৃষ্টি চেয়েছিলাম। 

আকাশ বলল,  চাইলেই পাওয়া যায় নাকি ? 

আমি বললাম , না চাইলে তুমি জানবে কিভাবে ? 

সে বলল , তা নয় । জানো তো মূল্য দিতে হয় । 

তুমি জল দাও , বাষ্প দাও , সময় দাও।  

আমি বরফ দেব , মেঘ দেব , ফসল দেব তোমাকে।  

মাটিও উর্বর হয় কর্ষণে জেনে রাখো।  

বললাম , জ্ঞান দিও না মেলা। এসব আমার জানা ।

আকাশ বিরক্ত হলো স্পষ্ট বোঝা গেল।  

বলল , সুন্দর করে দাড়ি কামিয়ে 

আর বিদেশী পারফিউম লাগিয়ে এলেই 

বিজ্ঞাপন পাওয়া যায় না আজকাল ,  

সে তোমার কবিতা যতই মর্মস্পর্শী হোক। 


আজকাল মানুষ ঠকানো এতটা সহজ নয় !


                      ll দুই  ll 


 পছন্দ  

আমার প্রথম পছন্দ ওই ধ্যানমগ্ন পাহাড় চূড়া 

ঈশ্বরের উপস্থিতি সেখানে সর্বদাই প্রখর । 

তুমি চাইছিলে নিরন্তর ফেনায় ফেনায় মিশে 

খুশীর ঢেউ ছড়িয়ে দিক তোমার মনে সাগর ! 

রাজনৈতিক উপন্যাস তোমাকে তেমন টানে না , 

পছন্দ চোদ্দ অক্ষরের জাদুকর রবি ঠাকুর ।

আউল-বাউল-কীর্তনে একাকার হলো চরাচর 

গোপন গভীরে শরীর জুড়ে বাজছে তারই সুর ! 

ফুলের গন্ধে মাতাল হয়ে হাসছিলে একা একা 

চাও নি তুমি সেদিন বুঝি একটা লাল গোলাপও ! 


তখন শুনি অবাক হয়ে গাইছিলে গান একমনে, 

"রূপে তোমায় ভোলাব না,ভালোবাসায় ভোলাব।"


                ll তিন   ll


নববর্ষের সানাই 


মন খারাপ আর দিন খারাপ 

যেমন খুশি তেমন সাজো ,

তার আশাতেই দিন গুনছে 

গাজন মেলার সন্ন্যাসীরা আজও ! 

বছর দুয়েক পর আবার 

হচ্ছে কাবু ভাইরাস,  

আইপিএলের মাঠ পেরিয়ে 

লাফিয়ে যেন বাইরে আসে উচ্ছাস ! 

নতুন রঙের ছোঁয়ায় যেন 

নববর্ষের সানাই কোথা বাজে , 

নতুন খুশি দিচ্ছে উঁকি 

এবার সবাই বেরিয়ে পড়িস কাজে ।


         ll চার ll 


 সেদিন যদি 


সেদিন যদি বাড়িয়ে দিতে সাহায্যের শক্ত হাত 

খরস্রোতা নদীর বুকে হারিয়ে যেত না লজ্জা !

রক্ত সেদিনও ছিল জলের চেয়ে অনেকটা ঘন 

হাহাকার তবু মিশে গিয়েছিল পাহাড়ের খাঁজে ।  

পাথরের পায়ে মাথা ঠুকে লাভ নেই কোনও 

আজন্ম লালিত বিশ্বাস আজ ক্ষতবিক্ষত লাশ  ! 

বিচারের শেষে এসে পড়ে রায় ঘোষণার দিন ।

কার দীর্ঘনিশ্বাসে রিরংসায়  রক্তিম হয় বাতাস 

কত শত হিমবাহ গলে যায় বাঁচাতে সংস্কৃতি  ! 

কতখানি ব্যস্ত হলে মানুষ ভুলে যায় বাল্যপ্রেম , 

সবার চোখের আড়ালে একা কাঁদে জন্মদাগ ।  

রাজা নেই রাজগৃহে , আমরাও যুগ যুগ ধরে 

এ দেশের ইতিহাস পড়ে বড় হয়ে  হয়তোবা 

ভেবেছি অমরত্ব লাভ ক'রে ধন্য হবে আত্মত্যাগ ।


আজ বুঝি মুদ্রিত অক্ষরে শুধু মিথ্যে লেখা আছে ,  

অর্থের বিনিময়ে কেনা যায় যে কোনও সম্মান !


            ll পাঁচ ll 


   উত্তর চাই  


পা রাখার সঙ্গে সঙ্গে ট্রেনটা চলতে শুরু করেছিল , 

পেছন ফিরে তাকাবার সুযোগ ছিল না আমার। 

অনেক কিছুই ফেলে  যাচ্ছি হয়তো ভুলে,  

আবার কবে আসা হবে সেকথাই বা কে জানে! 

অকৃতকার্য হতে কারই বা ইচ্ছে করে ! 

তবু কারা যেন বছরের শেষে মুখ লুকোয় হঠাৎ ! 

বাহান্নটি সপ্তাহের মধ্যে একটাই যে কেন 

সততার সপ্তাহের মর্যাদা পেতে মরিয়া হয়ে ওঠে ?

যে ঘোড়া আস্তাবলে টগবগ করে ফুটতে থাকে 

তাকে কেন রেসের মাঠের বাইরে থেকে যেতে হয় ! 

ট্রেন কেন সহজে মনস্থির করে উঠতে পারে না

কোন লাইনে এগিয়ে চলবে সৃষ্টিশীলতা ,  

কোন পথ তার পরিত্যাজ্য , কারণ তা দক্ষিণে যায়! 

উত্তর চাই । সব প্রশ্নের উত্তর চাই আমাদের ।

তীক্ষ্ম হুইসেল খান খান করে দেয় রাতের নীরবতা, 

ছুটে যেতে ইচ্ছা করে অন্ধকার দিগন্তের কাছে। 

বলতে ইচ্ছে করে , না ! আর হিরোশিমা নয় !

জ্বলে পুড়ে খাক হয়ে যাওয়া মানুষের স্বপ্নে লেখা 

চিত্রনাট্য দেখে দেখে আমরা বড়ো ক্লান্ত আজ !

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ