পোস্ট বার দেখা হয়েছে
।। এক।।
বৃষ্টি চেয়েছিলাম
আমি বৃষ্টি চেয়েছিলাম।
আকাশ বলল, চাইলেই পাওয়া যায় নাকি ?
আমি বললাম , না চাইলে তুমি জানবে কিভাবে ?
সে বলল , তা নয় । জানো তো মূল্য দিতে হয় ।
তুমি জল দাও , বাষ্প দাও , সময় দাও।
আমি বরফ দেব , মেঘ দেব , ফসল দেব তোমাকে।
মাটিও উর্বর হয় কর্ষণে জেনে রাখো।
বললাম , জ্ঞান দিও না মেলা। এসব আমার জানা ।
আকাশ বিরক্ত হলো স্পষ্ট বোঝা গেল।
বলল , সুন্দর করে দাড়ি কামিয়ে
আর বিদেশী পারফিউম লাগিয়ে এলেই
বিজ্ঞাপন পাওয়া যায় না আজকাল ,
সে তোমার কবিতা যতই মর্মস্পর্শী হোক।
আজকাল মানুষ ঠকানো এতটা সহজ নয় !
ll দুই ll
পছন্দ
আমার প্রথম পছন্দ ওই ধ্যানমগ্ন পাহাড় চূড়া
ঈশ্বরের উপস্থিতি সেখানে সর্বদাই প্রখর ।
তুমি চাইছিলে নিরন্তর ফেনায় ফেনায় মিশে
খুশীর ঢেউ ছড়িয়ে দিক তোমার মনে সাগর !
রাজনৈতিক উপন্যাস তোমাকে তেমন টানে না ,
পছন্দ চোদ্দ অক্ষরের জাদুকর রবি ঠাকুর ।
আউল-বাউল-কীর্তনে একাকার হলো চরাচর
গোপন গভীরে শরীর জুড়ে বাজছে তারই সুর !
ফুলের গন্ধে মাতাল হয়ে হাসছিলে একা একা
চাও নি তুমি সেদিন বুঝি একটা লাল গোলাপও !
তখন শুনি অবাক হয়ে গাইছিলে গান একমনে,
"রূপে তোমায় ভোলাব না,ভালোবাসায় ভোলাব।"
ll তিন ll
নববর্ষের সানাই
মন খারাপ আর দিন খারাপ
যেমন খুশি তেমন সাজো ,
তার আশাতেই দিন গুনছে
গাজন মেলার সন্ন্যাসীরা আজও !
বছর দুয়েক পর আবার
হচ্ছে কাবু ভাইরাস,
আইপিএলের মাঠ পেরিয়ে
লাফিয়ে যেন বাইরে আসে উচ্ছাস !
নতুন রঙের ছোঁয়ায় যেন
নববর্ষের সানাই কোথা বাজে ,
নতুন খুশি দিচ্ছে উঁকি
এবার সবাই বেরিয়ে পড়িস কাজে ।
ll চার ll
সেদিন যদি
সেদিন যদি বাড়িয়ে দিতে সাহায্যের শক্ত হাত
খরস্রোতা নদীর বুকে হারিয়ে যেত না লজ্জা !
রক্ত সেদিনও ছিল জলের চেয়ে অনেকটা ঘন
হাহাকার তবু মিশে গিয়েছিল পাহাড়ের খাঁজে ।
পাথরের পায়ে মাথা ঠুকে লাভ নেই কোনও
আজন্ম লালিত বিশ্বাস আজ ক্ষতবিক্ষত লাশ !
বিচারের শেষে এসে পড়ে রায় ঘোষণার দিন ।
কার দীর্ঘনিশ্বাসে রিরংসায় রক্তিম হয় বাতাস
কত শত হিমবাহ গলে যায় বাঁচাতে সংস্কৃতি !
কতখানি ব্যস্ত হলে মানুষ ভুলে যায় বাল্যপ্রেম ,
সবার চোখের আড়ালে একা কাঁদে জন্মদাগ ।
রাজা নেই রাজগৃহে , আমরাও যুগ যুগ ধরে
এ দেশের ইতিহাস পড়ে বড় হয়ে হয়তোবা
ভেবেছি অমরত্ব লাভ ক'রে ধন্য হবে আত্মত্যাগ ।
আজ বুঝি মুদ্রিত অক্ষরে শুধু মিথ্যে লেখা আছে ,
অর্থের বিনিময়ে কেনা যায় যে কোনও সম্মান !
ll পাঁচ ll
উত্তর চাই
পা রাখার সঙ্গে সঙ্গে ট্রেনটা চলতে শুরু করেছিল ,
পেছন ফিরে তাকাবার সুযোগ ছিল না আমার।
অনেক কিছুই ফেলে যাচ্ছি হয়তো ভুলে,
আবার কবে আসা হবে সেকথাই বা কে জানে!
অকৃতকার্য হতে কারই বা ইচ্ছে করে !
তবু কারা যেন বছরের শেষে মুখ লুকোয় হঠাৎ !
বাহান্নটি সপ্তাহের মধ্যে একটাই যে কেন
সততার সপ্তাহের মর্যাদা পেতে মরিয়া হয়ে ওঠে ?
যে ঘোড়া আস্তাবলে টগবগ করে ফুটতে থাকে
তাকে কেন রেসের মাঠের বাইরে থেকে যেতে হয় !
ট্রেন কেন সহজে মনস্থির করে উঠতে পারে না
কোন লাইনে এগিয়ে চলবে সৃষ্টিশীলতা ,
কোন পথ তার পরিত্যাজ্য , কারণ তা দক্ষিণে যায়!
উত্তর চাই । সব প্রশ্নের উত্তর চাই আমাদের ।
তীক্ষ্ম হুইসেল খান খান করে দেয় রাতের নীরবতা,
ছুটে যেতে ইচ্ছা করে অন্ধকার দিগন্তের কাছে।
বলতে ইচ্ছে করে , না ! আর হিরোশিমা নয় !
জ্বলে পুড়ে খাক হয়ে যাওয়া মানুষের স্বপ্নে লেখা
চিত্রনাট্য দেখে দেখে আমরা বড়ো ক্লান্ত আজ !

0 মন্তব্যসমূহ