পোস্ট বার দেখা হয়েছে
এটা কবিতা না
ঋষি
কে কে জেগে আছে আমার সাথে
চোখের নেশায় আলোগুলো ক্রমশ ছোট ছোট ঘর।
কে কে পড়েছেন যামিনী রায়
মাফ করবেন যামিনী রায় পড়বার না তবে অনেকটা রঙিন কিছু ক্যানভাস।
শিশির ঝরছে বাইরে লাস্যময়ী প্যাটায়া কিংবা সমুদ্র
গরম উষ্ণতায় কবিতার শহর খুলে দিচ্ছে বুকের আবরণ
গড়িয়ে নামা নাভি।
.
এই রাতে শরীরের সাথে শরীর
গড়িয়ে পড়ছে নেশা পাত্র তোমার জিভের স্বাদে।
জানি তুমি ঘুমোওনি
কিন্তু তুমি জানো না কবিরা লম্পট হলে কবিতা অশ্রাব্য হয়ে যায়।
ভিজে যাচ্ছে শহর আবছা কুয়াশা
ঋত্বিক ঘটক মেঘে ঢাকা তারা
সত্যজিৎ রায় তিনকন্যা ,আমি দেখেছি যেদিন তোমায় চিনলাম।
ফেলুদার হাতে কম্পাস
কম্পাস ঘুরছে আমার সমান্তরাল তোমাতে ,
তুমি সমান্তরালের মাত্রা লিখতে চাইলে
আমি লিখলাম তোমায়।
.
এই রাতে কত আলো ,অনেক বড়ো বড়ো হোটেল ,বড় বিষাক্ত হোডিং
তুমি হাসছো
তোমার কাঁধ থেকে খুলে যাচ্ছে তোমার ব্রায়ের কাঁধ
আমার কাঁধ ঝুঁকে পড়ছে।
দৃষ্টির কাছে ঝুঁকে পড়ছে ক্রমশ লালচে হতে থাকা তুমি
নিঃশ্বাসে লেগে আছে নাইট ল্যাম্প ,ল্যাপটবে ওয়ালপেপারে দীর্ঘশ্বাস
সারি দেওয়া বড় বড় ল্যাম্পপোস্ট
একটানে খুলে ফেলি তোমার সময়ের পেটিকোট ।
আমার কবিতা তোমায় শুঁকছে ঠিক ফুটপাথে কুকুর
আমার নেশায় লাগা শরীর।
তোমার চোখ ,চোখের থেবড়ে যাওয়া কাজল
আমি পাগল ,আমি পাগল
তুমি হাসছো
জড়িয়ে ধরছো
বলছো শান্ত হ ,এটা কবিতা না।
====
প্রণামী অর্ঘ্য কমল
মেখলা ঘোষদস্তিদার
আজও চাঁদ ওঠে
তবু আঁধার আরো বেশী চেপে ধরে,,
ঘনীভূত বিষন্নতায়
ফুল- কলি
দ্বার খুলতে থাকে
একে একে
হতাশা- বেদনা - জরা,
কালের ঘন্টার ধ্বনি
ছড়িয়ে পড়ে মৃত্যুর প্রতিধ্বনি হয়ে,
বদলায় না কিছুই,,,
শতবর্ষ আগে সূর্যোদয়ের ভৈরবী রাগে ছুঁয়ে থাকে মন
শিরা- উপশিরায় আবেগ মূর্ছনা,
ভঙ্গুর সমাজের ভগ্নরেখা - অবক্ষয়- ক্ষুধার জ্বালা- অন্ধকার ভবিতব্য,
হেমন্তের বিবর্ণতায় লালে লাল পৃথিবী,,,
মেঘনা- পদ্মা- যমুনা
বয়ে যায় এক বুক ব্যথা চেপে,
স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে
কেউ কথা রাখে না
পরিবর্তনের হাওয়ায় দুর্বিষহ কথামালা,,
খসে যাওয়া তারা
ঝরা পাতার মতোন,
অতিমারীর দাপটে অন্য ছায়াছবি,,,,
হারিয়ে যায় বসন্ত ফিকে পলাশের বেকারত্বে,,
সর্বত্র অমানবিক মুখ ঝংকৃত অট্টহাস্যে
ব্যাভিচারের শাখা- প্রশাখায়,
চারুবাকের মিষ্টি ভাষে লতিয়ে লতিয়ে বাড়তে থাকে পঙ্কিলতা,
কিছুই বদলায় না,,
তোমার জীবনদর্শনে ছিলো মানবতাবাদ,
মুহূর্তকে বেঁধে রেখেছিলে সুতীক্ষ্ণ দৃষ্টির মধ্যে,
রূপকের আড়ালে গভীর ব্যঞ্জনা যাপনের নিটোল বুনন,
এই গ্রহের পরে তোমার রশ্মি পথ দেখায় শেখায় জাতি- ধর্ম- বর্ণ নির্বিশেষে
আট থেকে আশিকে
সৃজনশীল করিশ্মায়,
আজ শববর্ষ পরে
তোমার চরণে প্রণামী অর্ঘ্য কমল,,,
সঙ্গে জলপ্রপাত ।
====
শতবর্ষে সত্যজিৎ
কুমারেশ সরদার
রায় বংশে জন্মেছিলেন
লেখায় তিনি সেরা,
কল্পবিজ্ঞান গোয়েন্দা
রহস্যে-তে ঘেরা।
উপন্যাস ও ছোটগল্প
উত্তেজনায় ভরা,
হাতে তৈরি সন্দেশ যেন
হাঁড়ির মুখে সরা।
সিনেমা আর সাহিত্য
দক্ষ হাতের কৃষ্টি,
গানে সুরে রং- তুলিতে
ঝরতো শুধু সৃষ্টি।
বুড়োধাড়ী কচিকাঁচা
সবার জন্য যিনি,
শত আলোকবর্ষ তে
পা রাখলেন তিনি।

0 মন্তব্যসমূহ