পোস্ট বার দেখা হয়েছে
ভ্রমণ ও ফটোগ্রাফি
সুজিত চক্রবর্তী
(স্থান : অরুণাচল প্রদেশ )
ভ্রমণের টুকিটাকি ( এক )
জিরোর পথে
সাল 2019 , সেদিন চলেছি গৌহাটি থেকে তেজপুর, ইটানগর হয়ে জিরো । অরুণাচল প্রদেশের এই প্রান্তিক গ্রামের নাম খুব ছোটবেলাতেই শুনেছি ।কারণ,আমাদের এক পরিচিত জনের কর্মস্থল ছিল জিরো l
সে যাই হোক,একে তো পথ ফুরোয় না সাথে অন্ধকার , বৃষ্টি আর জনমানবশূন্য এবড়োখেবড়ো রাস্তায় জলের নীচে পথ উধাও, বাঁকের পরে অনিশ্চিত বাঁকা যেন ভবিষ্যতের দিশা ... মহিলারা ইষ্ট নাম জপছেন বেশ উচ্চকণ্ঠ সমবেত উচ্চারণে ।
আমরা ,ওনাদের পুরুষ সঙ্গীরা চিন্তা করছি এখানে না এলেই বোধহয় ভাল হত ।
তখন সম্ভবত রাত ন' টা বেজে গেছে । থামলাম এই জায়গায় । কিছু দোকান পাট আছে । তারাও বন্ধ করছে ঝাঁপ । জানা গেল ওখান থেকে ঘন্টা দেড়েক গেলেই পেয়ে যাব আমাদের রিসর্ট ।
শুনে চমকে উঠেছিলাম, এখনও দেড় .... হ্যাঁ । রাস্তার অবস্থা খুবই খারাপ । হায় ভগবান ! সেই ভোর পাঁচটার সময় গুয়াহাটি শহরের একটি হোটেল থেকে যাত্রা শুরু করেছি আমরা ......
.... কতদূর আর কতদূর ?
অতঃপর ......
বি দ্রঃ : এখানে যে ছবি দেখা যাচ্ছে সেটা ওই জায়গায় , কিন্তু ওই রাতে তোলা ছবি নয় , ফেরার পথে তোলা ।
ভ্রমণের টুকিটাকি ( দুই )
( জিরোর কাছাকাছি )
সত্যি সে এক বিরাট এডভেঞ্চার ছিল বটে। সেখানে চা- টা খেয়ে যাত্রা শুরু করতে আরও পনের মিনিট। জিরোতে পৌঁছে দেখা গেল আর এক সমস্যা। যে রিসর্টে যাব তাকে খুঁজে পাই কি করে ? রাস্তায় অন্ধকারে প্রায় মিশে যাওয়া একটা দু'টো কালো ষাঁড় ছাড়া কিছু নেই। ইন্টারনেটের নাম গন্ধ নেই সেই অসম ছাড়ার পর থেকে। মানুষের দেখা নেই। বৃষ্টি হচ্ছে অবিরাম। অতঃ কিম ?
অসহায়ের মতো তাকিয়ে থাকি । হঠাৎ যেন দেবদূতের মতো উদয় হলো মোটরসাইকেল আরোহী এক যুবক। দেখা গেল সে হিন্দি এবং ইংরেজি মিশিয়ে আমাদের সাথে কথোপকথনেও বেশ সাবলীল। তার চেয়েও বড় কথা সে চেনে আমাদের গন্তব্য সেই ' সিরো রিসর্ট ' ।
আগে আগে মোটর সাইকেলে চলল পথ প্রদর্শক সেই যুবক। পেছনে আমাদের টেম্পো ট্র্যাভেলার । কিছুদূর গিয়ে সে ড্রাইভারকে বাকী রাস্তা কিভাবে যেতে হবে বলে দেবার পর নিজের বাড়ির রাস্তা ধরল । সেসময় আমাদের তরফে যে ধন্যবাদ তাকে জানানো হয়েছিল তা কতটা আন্তরিক ছিল সেটা অনুমান করতে আশা করি কাউকে খুব একটা কষ্ট করতে হবে না।
কিছুক্ষণ পরে আমরা পৌঁছে গেলাম সিরো রিসর্টে।
তবে একটা কথা। এই গ্রামের নাম কিন্তু Zero নয় , ZIRO.
(দিরাং মনেস্টারি)
সৌন্দর্যের রাণী যেন এই দিরাং মনেস্টারি বা বৌদ্ধ মঠ ।অরুণাচল প্রদেশের কামেং জেলায় অবস্থিত এই গ্রাম ।
যেমন সুন্দর এই মনেস্টারির স্থাপত্য তেমনি দর্শনীয় এখানকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য।
মঠের বাইরে ও ভেতরে অজস্র ছবি তোলার পরও যেন মনে হয় আরও কিছু ছবি নিলে হতো !
এই পরিবেশে দাঁড়িয়ে আমরা যেন নতুন করে উপলব্ধি করলাম , আমরা অমৃতের পুত্র।
জরা , ব্যাধি অথবা মৃত্যুর ভয়ে আমরা পিছিয়ে পড়ব না।
বুদ্ধং শরণং গচ্ছামি !
আমি বুদ্ধের শরণ নিলাম।
ভ্রমণের টুকিটাকি ( চার )
অরুণাচল প্রদেশ
(সে লা পাস )
গত কয়েক দিনের অন্তহীন ধস নামা পথ পার হওয়ার শেষে তখন আমরা সেলা পাস-এর কাছাকাছি এসে পৌঁছেছি।
হঠাৎ দেখা গেল পাহাড় চূড়ায় বরফের কুচি । ঘাড় ঘুরিয়ে ফিরিয়ে দেখছি সবাই ।
এবার মনে হচ্ছে এত কষ্ট ও অর্থব্যয় সার্থক হতে চলেছে ।
আমরা অনেকটা ওপরে উঠতে পেরেছি তাহলে ।
ঘাড় ঘুরিয়ে ভাগ্যিস বরফের কুচিকে ক্যামেরা বন্দী করেছিলাম সেদিন !
অরুণাচল প্রদেশ
বুমলা সীমান্ত
ছবিটি তোলা অরুণাচল প্রদেশের বুম লা পাসে ।
তিব্বতের ( চীন) কোনা শহর ও অরুণাচল প্রদেশের তাওয়াং এর মাঝে এর অবস্থান ।
ভূপৃষ্ঠ থেকে উচ্চতা 4,633 মিটার
বা 15,200 ফুট ।
এটি অরুণাচল প্রদেশ ভ্রমণকারীদের কাছে সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিন্দু । তাওয়াং ভগবান বুদ্ধের মঠ এবং ভারত চীন যুদ্ধের স্মৃতি বিজড়িত স্থান।
এটি ভারতবর্ষের মানচিত্রের পূর্ব দিকের শেষতম বিন্দু । এখানকার সর্বকালের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা চোদ্দ ডিগ্রি সেলসিয়াস। খারাপ আবহাওয়ার জন্য অনেক সময় ভ্রমণ পিপাসু মানুষের কাছাকাছি গিয়েও এই অপরূপ সৌন্দর্য স্বচক্ষে দেখার অনুমতি মেলে না। সেদিক দিয়ে বিবেচনা করলে আমরা ভাগ্যবান।
এই জায়গার স্বর্গীয় সৌন্দর্য যেমনটি দেখেছি, সত্যি বলছি তা জীবনে ভোলার নয় ।





0 মন্তব্যসমূহ