দর্পণ | সাপ্তাহিক পরিচালক কলম | কাব্য গাঁথা




পোস্ট বার দেখা হয়েছে









ইরফান / দে বা শী ষ


জীবনটা অদ্ভুত আঁচড় - আঁচল,

কখনও ছায়া দেয় - রক্তাক্ত করে ভিত ,

গভীরে নিশ্চুপে আমরা সবাই য্যানো অতিথি -

সবাই আপনমনে পর - আবার আত্মবিশ্বাস হয়ে উঠি,

সময় যায় কি ভুলে ? 

এই পথে সবাই ইতিহাস , সবাই বাউন্ডুলে ,

ভালোবাসা শেষ থেকে শুরু - আবার শুরু থেকে শেষ,

লড়ার একটাই পথ এগিয়ে চলো, আসুক দরকষাকষি -বিদ্বেষ ; 


সময়ের গল্প বলে আয়ু -

দুচোখের আলো আজও ঘর সাজায়,

মাটি থেকে উঠে আসা ফসল যখন প্রতিভার গান শোনায়।


নিষ্ঠার একটাই বাণী , আগামী জানবে নির্ঘাত।

তুমি যে চলে গ্যাছো দূরে - কেবলমাত্র সময়ের সাথে শরীরের আঁতাত।


ভালোবাসি বলেছি তোমায়, ভালোবাসার হয়না সীমারেখা।

প্রতিদিন ঘুম থেকে জেগে - হাজারো "ইরফান" শোনায় মুগ্ধতার কথা।




*****************************



কৃষ্ণার জীবন / শিবাজী সান্যাল


কয়েক দশক পরে এসেছি ফিরে

শৈশব স্মৃতিময় এই ছোট্ট গ্রামে । তেমনই আছে

বিদ্যালয় , খেলার মাঠ , পুকুর পাড়

মন্দির চত্বরে বিশাল অশ্বথ গাছের শীতল ছায়া

তেমনই সকাল হল একঝাঁক পাখির কূজনে

তেমনই আছে দীর্ঘ রাঙাপথ , সোনালি ধানের ক্ষেত 

দূরের বসতি , কলাগাছ , লিচু , নারকেল , সুপুরি। 


প্রভাতী ঘাসের সবুজ শিশিরে রাত ছুঁয়ে আছে 

এখনও আলগোছে। মাছরাঙ্গার ব্যস্ততা , কিছু খেয়া

বৈঠার জল ভেঙে ভাটিয়ালি , নৌকোয় রঙিন পাল

সব আছে ঠিক তেমনই , কয়েক দশক পরেও । 


পিন্টুকাকার দোকানে দেখা সনাতনের সঙ্গে 

বেশ বদলে গেছে বয়সের ভারে , মাথায় টাক

চা হাতে বলল , “ কৃষ্ণার খবর জানিস ? বেচারি

স্বামী হারিয়ে ফিরেছে গাঁয়ে , পায়নি ছেলেটাও

নিত্যদিন ভাইয়ের সংসারে , ভাল নেই রে মোটে - - । ”


কৃষ্ণা !! দুরন্ত বাতাসের মত ছিল অস্থির 

ভরা যৌবন ষোড়শী। বারবার আসত কাছে

কতবার বলেছে , “ একটি কবিতা লিখবে আমাকে নিয়ে । ”

হয়নি লেখা । শেষ দেখা হয়েছিল বিয়ের আগে একদিন 

কিছুই বলেনি , শুধু কেঁদেছিল অঝোরে আঁচল চেপে। 


এখন সন্ধ্যা । চারদিকে অগণিত জোনাকি

অবিরাম ঝিঁঝিঁর ডাক , তেমনই আগের মত


সব তেমনই আছে । শুধু বদলে গেছে একটি জীবন ।


*****************************



ধরা দিয়েছি গো / জয়তী


আজকাল আর কীবোর্ড টিপে কথা বের করতে ইচ্ছে করেনা। গরম যে অদ্ভুত কোনো গ্রীষ্ম নিয়ে আসেনি, সেটা একটু চিন্তা করলেই বুঝি সবার ভেতরেই দাহ হচ্ছে একটি আইসল্যান্ড। গলে যেতে যেতে বলে উঠছে উফ... সব থেকে উষ্ণ দিন। 


বিরক্তি প্রকাশ করতেই, একজন প্রতিবেশী অভয় শান্তির দুহাত তুলে বললেন কী সুন্দর পাঠ করছে গোসাঁই। শোনো শোনো কৃষ্ণনাম। মন শান্ত হবে। বলতে বলতেই খোল করতাল সহযোগে শুরু হলো কীর্তন। আন্দাজ করলাম শ্রাদ্ধ বাসরে ওনার তিনদিন পেটের বন্দোবস্ত। খুব কাছাকাছি কিনা। এমন হলে হাজার ডেসিবেলও বড়োই মধুর। 


কিন্তু আমার তো উনি কেউ নন। কানের পর্দায় অসহ্য শব্দের অত্যাচার। তারওপরে এই ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যেখানে যত চর্বি জমে আছে গলতে শুরু করছে গলগল উত্তপ্ত ধারায়। 

বললাম,পাড়ার মোড়ে মোড়ে যে ট্যাপ কল লাগানো থাকে দেখেছো কখনও? পাড়ার কুকুর বেড়াল গুলোও জানে কখন ঘড়ি ধরে জল আসে। আর ওরাও কতটা তৃষ্ণার্ত।

তবে এটা বুঝেছি তোমার চরম বৈরাগ্য ভাব এসেছে। এবার কোনো মঠের সন্ধান করো। ধুত্তোর তেমন কিছু না খেয়েই দেখি বদহজমের ঢেকুর। সে তাকিয়ে নিলো কটমট....


আবারও চুপচাপ। মোবাইলে মাঝেমাঝেই আলো জ্বলছে নিভছে। হাজারটা অ্যাপ ডাউনলোড। লাফিয়ে লাফিয়ে জানিয়ে যাচ্ছে নিত্য নতুন খবর। ইঁদুরেরা কেমন করে দূর থেকেই খোঁজ পেয়ে যায় ভেতরের চাবির। অমনি ইমেলে সাজিয়ে দেয় বেড়াল ধরার ফাঁদ। 


"ধরা দিয়েছি গো আকাশের পাখি.....।" সেই যে ক্যাসিনোতে কয়েন পেয়ে গেলে দু'একটা এমন লোভ ধরে যায়.... তোমাকে কিছুতেই আর ছাড়া যায় না প্রাণনাথ। দূরে গেলেই আবার একটা কয়েন ধরিয়ে দাও হাতে। বুলবুল নাচলেই আলো জ্বলে ওঠে স্ক্রিনে। মন্ত্রপাঠ করতে করতে পুরোহিতের দু'ঠোঁটে চলকে ওঠে হাসি। 


না কিছুতেই তোমাকে আজ ছোঁবই না। আজ আমার ষষ্ঠী,সপ্তমী, অষ্টমী। এভাবে যেতে যেতে নবমীতে মনসা কাঁটার সামনে একটা ব্যাঙ বলি দেবো। ছোটোখাটো মানত। যদি বৃষ্টি আসে। ব্যাঙ মরলে পৃথিবীর কি আর এমন এসে যাবে? কোটি কোটি জুতো চাকার তলায় থেঁতলে যায় কত ব্যাঙের দেহ। পিচ রাস্তায় দেখেছি কতবার চারহাত পা চারিদিকে ছড়িয়ে লেপ্টে আছে। হায় জন্ম.... ৮৪ লক্ষ ছুঁয়ে শেষমেশ এই মনুষ্য জন্ম। শিরদাঁড়াটা ভিন্ন হলেও স্পাইনাল কর্ডের সমস্যাটা থেকেই যায়...।


কী আবোলতাবোল ভাবনা! এতক্ষণে কত কবিতা লিখে ফেলেছে বন্ধুরা। কত গল্প, উপন্যাস, বেশ কয়েক খন্ডের ধারাবাহিকতা। কি লেখা আছে সেখানে? এই জীবনের বাইরে আরোও কিছু রহস্যময় অজানা কিছু? পৌঁছাতে পারলাম না যেখানে সেখানে কিলবিল করা হাজার অপরাধের নতুন কোনো সমাধান! নানা জনে নানা মত। অমিলের মধ্যেই রয়ে যায় কোথাও একটা মিল। 


কত ছবি পোস্ট হয়ে গেলো। গাছের সাথে, নদীর সাথে, ভালোবাসার প্রিয়জনের সাথে। কত অদেখা রয়ে গেলো তোমাদের। আসা বা বলা কোনটাই হলোনা সময়মতো। দুরত্বের ভিতরেই কুয়াশা জমলো। অথচ বাগানের ইষ্টিকুটুম, শালিক, কাক সবাই যে যার মতো ডালে ডালে লাফিয়ে বেড়ালো। তবে ভেতরে বাইরে যেখানেই আমরা থাকিনা কেন তুমি এলেই হৃদয় ভিজে যায়। আসলে এটাই সত্য, আমরা ফিরতেই চাই। 


যাক আপাতত একটু স্বস্তির বাতাস বইছে চারিধারে। বাংলার মাটির কলসিতে কাকের বুদ্ধিতে জল ছাপিয়ে যাবেই পাথর ফেলতে ফেলতে। তাই ধর্ণা দিয়েছিলাম জিউসের কাছে। উনি গ্রীক পুরাণে বজ্রের দেবতা। এখানকার দেবতারা এ দেশের দাবানল কিছুতেই রোধ করতে পারছেন না। ভীষণ ব্যস্ত ওনারা এখন৷ এই ফাঁকে আমার প্রার্থনা মঞ্জুর হতেই পাশের কোথাও ঝমাঝম বৃষ্টি। সেই ঠান্ডা হাওয়া এদিকে গড়াতেই ব্যাঙেরা সমবেত ডাক ঘ্যাওর ঘ্যাওর... 


মোবাইল স্ক্রিনে ক্রমাগত আলো জ্বলছে নিভছে। যন্ত্রের যন্ত্রণায় অভ্যস্ত হতে হতে কখন যে বিক্রি হয়ে গেলাম জানতেও পেলাম না৷ 

ফোনটাও মাঝেমাঝে কেঁপে উঠছে.... বিপ...বিপ...বিপ..


*****************************






*****************************


কোলকাতা কলিং / সায়ন্তিকা 



কোলকাতা আজ পর্যন্ত চেরাপুঞ্জি হতে পারেনি ,


বৃষ্টির শহরটা রোজ রাতে মরুভূমি হয়ে ওঠে ,


"আহা !" 

ট্রামের পদাবলী বুকে জড়িয়ে কী সুখ!


কোলকাতা রোজই ভেজে ۔۔۔۔۔

কখনো জোড়াসাঁকোর ঘরগুলোতে ,

কখনো হলুদ ট্যাক্সি ছেড়ে এপ ক্যাবে ,

কখনো লরেটোর প্রেয়ার রুমে !


মেয়ো রোডের প্রতিটা গাছের নাম ক্লিওপ্যাট্রা অথবা সিস্টার লিলি !


আর আকাশের নাম রামকিঙ্কর !


এখানে মাটির দেয়াল ভেদ করে উঠে আসে এক অপরূপ অন্ধকার ,

প্রতিটা গলির মোড়ে মোড়ে কোনো না কোনো মেঘ পাট ভাঙে , ভেঙেই চলে !


এ এক অদ্ভুত ভাঙা গড়ার খেলা ۔۔۔۔

চলতেই থাকে এই শহরের বুকে !


আমরা শুধু রোজ রাতে জানালার পারদ মেপে চলি ,

তারপর একটা সময়ে ঘড়ঘড় শব্দ করতে করতে কখন জানি লাশ হয়ে উঠি !


অথচ আমাদের কখনো মনে হয়নি আগুনে পুড়িয়ে দেবো এই শহরের অহংকার ,

কিশোরী ভিক্টোরিয়াকে সঙ্গে নিয়ে কখনো টক জলে ডুবে যেতে ইচ্ছে হয়নি ,

কিম্বা 

কাঠফাটা রোদে কখনো চুমুক দিইনি কোনো প্লে۔বয়ের ঠোঁটে !


তবুও ۔۔۔

 আগের রাতের হ্যাংওভার কাটিয়ে ওঠা এই শহরটা আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে মাপে কোমরের মেদ ....

বত্রিশ নাকি ছত্রিশ ইঞ্চি ?


বেড়ে গ্যালো বুঝি ?


তারপরেই অবিরাম ছুটে চলা ۔۔۔۔

অবকাশ নেই !


ঘড়ির কাঁটায় তখন ঘুড়তে থাকে পাখার ব্লেড ,

তারপর ,

থেমে যাওয়া !


আমরা শুধু ট্রেডমিলে দৌঁড়ে বেড়াচ্ছি ,

পেছন থেকে শুনতে পাচ্ছি ۔۔۔

"কোলকাতা কলিং!"


টিং টং ! টিং টং !

বেজে চলেছে , বেজেই চলেছে !


চায়ের দোকানে তুমুল তর্ক চলছে ۔۔۔۔

কোলকাতা এবারে লন্ডন হবে নাকি ?


দূরে দাঁড়িয়ে রামকিঙ্কর আঁকছে এই শহরটার মৃত শরীর !


অবনী আজও বাড়ি নেই !



*****************************


 ভালো থেকো / তন্ময় রাণা



বলেছিলে "ভালো থেকো"

তারপর,

এক আকাশ অভিমান বুকে নিয়ে

হারিয়ে গেলে,

বুভুক্ষ এই সমাজের মাঝে আমায় একেবারে একলা করে।


উত্তর পাইনি কোনো! 

অভিমানের সে তল খুঁজতে

খুঁজতে,

একরাশ ব্যার্থতার গ্লানি মেখে, নিজেকে-

ভাঙতে ভাঙতে,জীবন আজ

সময়ের বাড়ন্ত বেলায়।


ছুঁয়ে থাকার মুহূর্ত গুলো রক্তের সাথে মিশে আজও,

রাঙা পলাশের মতো টকটকে লাল।

ওগুলোই এখন বেঁচে থাকার

সম্বল। 

বলেছিলে "ভালো থেকো",...

আছি,

হয়তো এখনো তাই 


*****************************


        ছন্নছাড়া / রতন চন্দ্র রায়

        


      নষ্ট করা মানুষগুলো হাসে আড়ালে 

অচেনা পথের মাঝে আমাকে ঠেলে দিয়ে। 

      বুকভরা অভিমান পাথর চাপা দিয়ে 

চলছি... 

      পিচঢালা পথে এক সীমাহীন সুখের সন্ধানে। 


সুখতো ছিলনা এ ভাগ্যে লেখা 

      তবুও সুখ নামক অচিন পাখির পিছু ছুটছি,

ছন্নছাড়া জীবনটাকে বাঁধতে চাই 

      সুখের নতুন কুঠুরিতে। 


অচেনা এক দমকা হওয়া উড়িয়ে নিয়ে গেল 

     অচেনা এক মাঠের কোণে,

চোখ মেলে দেখি কালী মায়ের চরণ তলে 

     কালী মায়ের মুখ হাসি, অগ্নি ঝরা চোখ। 


কালবৈশাখী ঝড়ের হাওয়ায় 

     মায়ের চরণ তলে পেয়েছি শেষ আশ্রয়, 

দুঃখ আমার ঘুচবে জানি মায়ের আশিসে । 


    নষ্ট আমায় করেছে যারা 

ভাসবে তারা নয়ন জলে 

     দেখব আমি সকাল সাজে 

মায়ের মন্দিরের দরজা খুলে। 


    স্বার্থের সংসারে আমি বড় অসহায়

মা আমায় দিয়েছে আশ্রয়

    শেষ খেয়া দেবো পাড়ি মায়ের নামেতে।



*****************************



 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ