দর্পণ | সাপ্তাহিক নির্বাচিত কলম | কবিতা ও গল্প




পোস্ট বার দেখা হয়েছে

 


#কবিতা


ক্যানভাস / চন্দ্রনাথ অধিকারী


ক্যানভাসের সীমানা ছাড়িয়ে ইচ্ছে ছিল তৈলচিত্রের মুখ হবে তুমি আর আমি আঁকি


তেলরঙে জল ছিল ভরা ; নিপুন ভাবে ছেঁটে ফেলা হয়েছিল কাঠবিড়ালি লোম তু


আকাশ জুড়ে কালোবৃষ্টি নামলো ঠিক তখ

এখন তুমি ক্যানভাস জুড়ে কান্না!


আমি কেমন মূল্যহীন হয়ে পড়লাম সে সম

চুপপুস বৃষ্টি ভেজা ; দু'হাত জুড়ে তেল-জলে মিশ না খাওয়া দৃশ্যমান কিছু, আর ভোঁতা তুলি!


অথচ ক্যানভাস জুড়ে কালোবৃষ্টির আলাপনে- সুস্পষ্ট তুমি ; নাভিমূলে তোমার প্রিয় পদ্ম

লালরঙা!!


******************


ভালো থেকো বনলতা / অর্জুন



বহুকাল হয়ে গেল তোমার সাথে দেখা হয়

কথা হয়নি।

তা বলে ভেবো না আমি তোমায় ভুলে গেছি।

তোমাকে ভুলতে হলে,

সবার আগে নিজেকে ভুলতে হবে।

সেটা কি সম্ভব?

তুমি নিজেই সেটা ভেবে দেখো।

তোমার আকন্দ ফুল নদীর ঘাট  ক্ষেতের আল তুলসী মঞ্চ,

তোমার বেণী তোমার কাজল চুড়ি কিছুই আমি ভুলিনি।

বৈশাখের আম মাখা,

বর্ষার চুনোমাছ বানভাসি ঠাকুর দালান,

লেবু পাতাসহ কুল ছ্যাচা সবই আমার মনে আছে,

আর মনের সিংহভাগ জুড়ে তুমি আছো।

গাঙ শালিকের ডাক,

ঝিঝি রাত প্যাচার ডাক শুনলে মনে কেমন করে ওঠে।

জোনাকীর আলোয় আমি পথ দেখতে পাই,

যে পথে তুমি আমি একসাথে হাঁটতাম।

শিউলি বিছানো উঠানখানি যেন তোমার আঁচল,

আঁচল বিছিয়ে আমি শুয়ে রই।

আকাশ দেখি,

রাতের কালো আকাশ যেন তোমার খোলা চুল,

আর ফর্সা চাঁদ তোমার প্রতিচ্ছবি।


বনলতা

কোনো দিন আর নাটোরে যাওয়া হবে না,

তোমার সাথে দেখা হবে না,

মুখোমুখি বসা হবে না।

সেই দীঘির জল,

মনের শান্তি,

তপ্ত রোদে তোমার চুলের ছায়ার অন্ধকার,

কিছুই আর পাওয়া হবে না।

এই সব ভাবতে ভাবতে ভেঙে পড়ি,

আমার চোখ থেকে বিন্দু বিন্দু শিশির পড়ে।

জলকণার ভারে নুয়ে পড়া ঘাসের ডগার মত ডানা ঝাপটে আবার উঠে দাড়ায়,

নাবিকের মত হাল ধরি,

এই সহাসমুদ্রে ভেসে যাই।


জানি একই ভাবে তুমিও আমাকে ভুলতে পারোনি

হয়তো তুমিও বাদলা মেঘের পারে চেয়ে আমায় খোঁজ।

ঘরে ফেরা বকেদের সারি দেখে ভাবো,

আমিও হয়তো কোনো এক গোধূলিতে ফিরে আসবো।

দারচিনির গন্ধে আমার অস্তিত্ব অনুভব করো।

মাঝ রাতে ঘুম ভেঙে গেলে তোমারও বুক আনচান করে ওঠে।

আমার দুজনেই সব পেয়েও বড় শূণ্য হয়ে রইলাম।

এক বুক শূণ্যতার মাঝেও ভালো থেকো বনলতা


****************


ঈশ্বর_বনাম_এলোকেশী / সুজাতা দে


কুমিরডাঙা খেলায় "জলকে-চল"- এর হাত ধরে টান দেওয়া আদর আজও  গোপনে পুষে রে


আব্বুলিশের আচমকা ধাক্কায় কুঁড়িবুকের প্রথ

ব্যথাকে অনুভব করয়েছিলি তুই,অজান্তেই


আজ জ্বলন্ত আগুনে দাঁড়িয়ে কিশোরীবেলার পরম মিত্রকে মনে পড়ছে খুউ


মনে আছে একবার তুই, ডুবন্ত আমার চুলের মুঠিকে টেনে তালপুকুর থেকে বাঁচিয়েছিলি


ওরা যখন গায়ে আগুন ধরিয়ে দিল তখন তোকেই প্রথম স্মরণ করেছিলাম,বিশ্বাস ক


পড়শী মেয়েরা পরিত্রাহি চিৎকার আর কান্নায় ভেঙে পড়ে,শেষ আশায় নিজেদের মুক্তি চাইছি


বাঁজা মেয়েমানুষ আমি, নিজের প্রাণের কথা ভুলে গিয়ে  পড়শীদের সন্তানদের প্রাণভিক্ষা চাইছিলাম। নিজের প্রাণের বিনিময়েও শিশুদের মুক্তি মেলেনি


বন্দীদশায় জীবন্ত দগ্ধ হওয়ার মুহূর্তে তোর মুখটা প্রথমেই ভেসে উঠলো। যেমন দ্রৌপদী লজ্জাবস্ত্র পেয়ে গিয়েছিলেন সখা কৃষ্ণকে স্মরণ করে। ঠিক তেমন করেই মনে মনে আকুল হয়ে ডেকেছি পার্থসখাকে,থুড়ি-তো


পার্থসখার মতো পরিত্রাণে এগিয়ে আসা সখা সকলের ভাগ্যে জোটেনা। সকল নারী বা পুরুষের জীবনে এমন একজন সখা থাকবার খুব প্রয়োজ


না, স্বামী আমাকে- বেজায় ভালোবাসে। কিন্তু কয়দিন ভর ওদের অমানুষিক অত্যাচারে নারী পুরুষ সকলেই কম্পিত। হয়তো নারীদের ছাড়ছুট মিলবে। কিন্তু পুরুষদল? তাই  ভয়ে  পুরুষরা সকলেই গ্রামছাড়া


ওদিকের দাওয়ার একপাশে ডালের হাঁড়ি উনুনে চড়ানো। বাতাসে ডালপোড়ার গন্ধ ভাসছে। এদিকে ঘরের খুঁটিতে বাঁধা পিছমোড়া হাতের বেষ্টনীর দড়িটার বাঁধনও বেজায় শক্ত


ঘৃণায় থুথু ছুঁড়ে দিলাম ওদের মু

ওরা আরও উল্লাসে উন্মত্ত হয়ে পেট্রোল ঢেলে দিল আমার,গায়ে, মাথায়


দেশলাই জ্বালানো দেখতে দেখতে আমি কিছুতেই বলতে পারলাম না, ঈশ্বর তুমি এদের ক্ষমা কোরো


আগুন ভক্ষণ করতে করতে চিৎকার করে বললাম; আমার ঈশ্বর তোমাদের অকারণ অন্যায়ের যথাযথ বিচার করবেন। শুধু সময়ের অপেক্ষা


আমার ঈশ্বর হতে আরও একটিবার আসবি না সখা

ন্যায় বিচারের দাবিতে গণ-প্রতিবাদ গড়ে তুলবি তো


লজ্জাহরণের প্রতিবাদে এক দশকেরও বেশি সময়  নিজের কেশ খুলে রেখেছিলেন কৃষ্ণা। দুঃশাসনে

বুকচেরা রক্তে চুল ধুয়ে ফেলার পরেই ফের কেশসজ্জা করেছিলে


ন্যায়বিচার পেয়ে তবেই ক্ষান্ত হওয়া কৃষ্ণারা কি হারিয়ে গেছে আজ


নারী, যদি পারো তবে এ

এলোকেশী হও,আরও একবার


*****************

কারা পুড়ছে এভাবে! / কাজল দাস




একটা পোড়া গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে

দেশ জুড়ে

অদ্ভুত রহস্যময় একটা গন্ধ

কিছুতো একটা পুড়ছে

চামড়া পোড়া গন্ধ, ঝলসে যাওয়া চো

না কি শিশুর আঙুল পোড়া গন্ধ

আধপোড়া অভুক্ত ছাই মিলিয়ে যাচ্ছে বিষন্ন অন্তরিক্ষে

দাউ দাউ করে জ্বলছে মনুষ্যত্বের আহুতি

একটা পোড়া গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে

সমাজের অন্দরে

নাকে কাপড় চাপা দিয়ে হাতরে মরছি

কয়েক টুকরো অভুক্ত জঠর

কুন্ডলি পাকিয়ে পড়ে আছে আগুনে

অচেনা মানুষের মজ্জাগত রক্তের

পোড়া গন্ধে আকাশ ছুঁয়েছে- টি আর পি

বিশেষজ্ঞেরা চায়ের কাপের,

উষ্ণ ঘ্রাণে মাপছে-

সাফোকেশনের তথাকথিত কারণ

ঝলসে যাওয়া চোখের মণিতে চশমা এঁটে

নতজানু দেশের বুদ্ধিজীবী

আসলে কে পুড়ছে,

কারাই বা পুড়ছে এভাবে


আমার চোখের সামনে পুড়ে যাচ্ছে

অগণিত শিরদাঁড়া


*****************


তোমাকে ফিরতেই হবে মানুষের পাশে হে ঈশ্বর —

ফেরা / সঞ্জীব সাহা


আমার পাশে পড়ে থাকা 

কিছু ভেজা কম্বল 

আর কিছু স্মৃতি,

আমি কি 

অন্যমনস্ক বিহ্বলতায় 

ফিরে ফিরে যাই !


কে দিয়েছে সেইসব নিভন্ত 

আলোয় মেশা সুখ,

নিষ্ঠুর চোখে তাকিয়ে

কেউ কেউ বেঁধেছিল বুক । 

আমি দৃষ্টি খুলে রেখে

শুয়ে থাকি মাটির আধারে,

এটাই তো নেহাৎ ভবিতব্য—

সকালে গোবরছড়া দিয়ে 

আঙিনায়,

মা ডাকে — আয় তোকে 

কোলে তুলে রাখি। 


যতবার পা বাড়িয়েছি,

একটা স্মৃতিময় গন্ধ

ফিরতে ফিরতে 

একদম সেঁধিয়ে গিয়েছে

বিছানায় লেপে তোশকে,

ঘরের মেঝেতে ধুলোয়। 

আমি আঁশটে মুখ ,

তুলে নিয়ে উড়ে গেছি 

সজনে পাতায়,

অবিরাম বৃষ্টি ঝরেছে

গর্ভের গহ্বরে

সারারাত ধরে,

এখন কি অত সুখ মানায় —

চাপা পড়া ধুলো উড়িয়ে 

আর কতদিন 

ভেসে যেতে পারি,

এই লতা- পাতা গাছ

অস্থির শিকরে। 

নিরন্তর বিপাশার ঢেউ

ছুঁয়ে ছুঁয়ে বয়ে যাই,

এখনও কি কথা 

হা পিত্যেশ করে 

বসে থাকে

বিষন্ন সন্ধ্যায় !

আমি ফিরে যেতে চাই —

ফিরে যেতে যেতে

তাকিয়ে দেখি ,

তাকাই এদিক ওদিক,

একদিন অবসন্ন চোখ নিয়ে 

তাকিয়েছিল যে নারী,

তার বুকে ভাষা ছিল,

ভালবাসা কি 

এত তৃপ্তি নিয়ে

পৃথিবীকে তৃপ্ত করে ?

সবটুকু কোষের অন্তরে

কার কথা লেখা থাকে —

কাকে নিয়ে পা ছড়িয়ে

 বসে থাকে কিশোরী। 

মাঠ পাড়ি দিতে দিতে 

চলে যায় সময়,

রোদ গায়ে মেখে মেখে

উজ্জ্বল হয় কত সুন্দরী,

এক পাখি ডাক দিলে

ডানা ঝাপটায় অন্যপাখি,

মানুষ কি এমনি করেই

ফিরে ফিরে আসে বার বার ?

প্রত্নযুগ পার হয় কত,

কৃমিকীট পড়ে রয় ,

মানুষ এগিয়ে যায়। 

এতবার খুলে রাখে 

খোলস,

তবু ঢুকে যেতে হয় খোলসে,

পারাপার করি কতবার

তবু ফিরে যেতে হয়,

ফিরে আসতে হয়,

সময়ের পাশে বসে থাকে 

সময়। 

বুক পেতে ধরে নিতে গিয়ে

কতকিছু কান্না- সুখ- ব্যথা,

বয়ে নিয়ে এসে 

সহস্র হাতে উপচে দিতে গিয়ে

হাত ফসকায়, 

তবু তো সন্তান মুখ চেয়ে থাকে,

ওর হাতে কী দিয়ে গেলাম, 

শুধুই পাপ আর পূণ্যে ভরা

পাহাড় সমুদ্র,

যা চেয়েছি তা কি পেয়েছি,

এই মাটি গায়ে মেখে

কতদূর যেতে পারে মানুষ,

আমি সেই নিভন্ত আলোয় 

মাখামাখি অবয়ব নিয়ে

ফিরে যেতে পারি — 

ফিরে যেতে হয়,

ফিরে আসতে হয় 

নিরন্তর এই পৃথিবীতে। 


****************

#ছোট গল্প 


শ্রদ্ধাঞ্জলি / ধর্মেন্দ্র রাওয়াত


মেয়েটির বয়স তিল তিল করে বাড়ছিল । খোলামকুচির মতই বাড়ছিল।১১ , ১২,১৩ ---।অনির সঙ্গে মাঝে মধ্যে খেলাও করে এই ক্ষুদে মেয়েটি। অন্যপাড়া থেকে আসে এই পাড়ায় খেলতে। অনি দেখে- ভনভন করে কিছু মাছি বসছে তার জামায়। ঢুকে পড়ছে জামার ভেতরে। হ্যাচকা মেরে সরিয়ে দিয়ে চিৎকার করে বলে ওঠে- শালা কুত্তা কা বাচ্চা । মাদারচোদ

তার জ্বলন্ত চোখ দুটো দেখেছে অনি। যেন আগুনের লেলিহান শিখা। পুড়িয়ে ছারখার করে দেবে সব।কাকুরা "আনুরুয়া "বলে পকেট থেকে লেবেঞ্চুস বার করে দেখালেই আনুরুয়া শান্ত হয়ে যেত তৎক্ষণাৎ। তারপর ধান ক্ষেতের মধ্যে কোথাও কিছুক্ষণের জন্য হারিয়ে যেত তারা।  অনি দেখল কয়েক বছরের মধ্যেই লজেন্স থেকে দশ কুড়ি টাকার রেন্ডি হয়ে গেল আনুরুয়া । অনি শুনতো খাবলে খুবলে খাচ্ছে তার পরিচিত কাকুরা তাকে প্রতিদিন।

চোখে আর সে আগুন ছিলনা আনুরুয়ার। একদিন খুব গোপনে প্রখর দুপুরে ধান ক্ষেতের মধ্যে অনি দেখেছিল  আনুরুয়ার শারীরিক যন্ত্রণা। একের পর এক--- । কাকুরা চলে যেতেই  দুই হাতে লজ্জা ঢাকতে পারলেও রক্ত ঢাকতে পারিনি অনির কাছে ।

কয়েক বছরের মধ্যেই রক্ত বমি করতে করতে আনুরুয়া চির মুক্তি পেল


ভূলেই  গিয়েছিল অনি আনুরুয়াকে ।ফুলন দেবী ছবির প্রথম দৃশ্যেই মনে পড়ে যায় হঠাৎ তাকে। সেই জ্বলন্ত চোখ! মাদারচোদ


কিন্তু আনুরুয়া ফুলন দেবী হতে পারিনি



****************


রাহু_গ্রাস / দিব্যেন্দু_প্রসাদ_বন্দ্যোপাধ্যায়


কথামুখ

    ২০২০ সালের ২৭শে জানুয়ারী মধ্য চীনের হুবেই প্রদেশের রাজধানী উহান থেকে আগত একজন কুড়ি বছরের মহিলা কেরালার থ্রিস্যুর জেনারেল হাসপাতালে কোভিড-১৯ এর যাবতীয় উপসর্গ নিয়ে ভর্তি  হয়।  কাগজে কলমে  সেইটাই  ভারতবর্ষের প্রথম করোনা সংক্রামিত পেশেন্ট। ভারত সরকার দেশ জুড়ে লক ডাউন শুরু করবার ঠিক দু দিন আগে, অর্থাৎ ২২শে মার্চ ২০২০ সালে টাইমস অফ ইন্ডিয়ার কলকাতা সংস্করণের ভেতরের একটি পাতায় একটা ছোট্ট খবর বেরিয়েছিল , যার শিরোনামটা  ছিল, "china exonerates the whistle blower doctor [dr. li wenliang]  who was reprimanded for warning about corona virus before he died of the disease

কথাশুরু

     ইয়াংশী ও তার উপনদী হান এর সঙ্গম স্থলে অবস্থিত উহান শহর টি চীনের ন'টি বড় শহরের মধ্যে একটি । ফেব্রুয়ারী মাসে শহরের আবহাওয়া সাধারনতঃ শীতল ও শুকনো হয়ে থাকে । পুরো দিনভর তাপমান ১০°    সেন্টিগ্রেদের আশে পাশে ঘোরা ফেরা  করে । আর রাতের দিকে ঠান্ডার প্রকোপ আরো তীব্র হয়ে যায় , তাপমান  ১° তে নেমে আসে । আর একটু নীচে নামলেই হিমাঙ্ক হাতের মুঠোয় তখন 

       উহান সেন্ট্রাল হাপাতালের লম্বা করিডর দিয়ে একা নিঃসঙ্গ হেঁটে যাচ্ছিলো ফু জুয়ে জী। তাকে  মানসিক ভাবে পিড়ীত ও বিধ্বস্ত দেখাচ্ছিল । দূরে লম্বা করিডরের একদম  শেষ মাথায় একটা সেপারেটর লাগানো, তার সামনে একটা টেবিল ও চেয়ার পেতে একজন সিকিউরিটি গার্ড  বসে আছে । সেপারেটর পেরিয়ে ভেতরে প্রবেশ করলেই সামনে আইসোলেশন ওয়ার্ডে যাওয়ার জন্য একটা ফোল্ডেড গেট রয়েছে 

      .... প্রতিদিন কোভিড জনিত মৃত্যুর সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে । সেপারেটরের কাছে গিয়ে  পৌঁছাতে পৌঁছাতে তার মাথাটা হটাৎ যেন দুলে উঠলো । তার মনে হলো বোধহয় পড়ে যাবে সে ! সিকিউরিটি গার্ডের ছোট্ট টেবিলের কোনাটা আঁকরে ধরে সে নিজেকে কোনমতে সামলে নেওয়ার চেষ্টা করলো । গার্ড সন্ত্রস্ত হয়ে চেয়ার থেকে উঠে দাঁড়িয়ে জিজ্ঞেস কর

- নি জুএতে বু সুফুমা (শরীর খারাপ) 

- সি দা লুয়ে (ও কিছুনা, সামান্য ) 

   ফু জুয়ে জী  টের  পাচ্ছিলো একটা দুঃস্বপ্ন কালো মেঘের মতো তার মনের কোণে ঢুকে পরার অবিরাম  চেষ্টা করে চলেছে ! সে হাত নাড়িয়ে চিন্তাটাকে দূরে  সরাতে চাইলো । সে নিজেকে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিল । এখনও বিপদে পড়লে ও ওর দাদুর মত তথাগতর শান্ত মূর্তিটা চোখের কনীনিকায়  ধরে রাখার চেষ্টা করে  । যখন বরাভয়ের হালকা হাসি মুখে জড়িয়ে মূর্তিটা তার মানস পটে স্থির হয়ে যায়  সে অনুভবে টের পায় তার  আত্মবিশ্বাস এখন তুঙ্গে । কিন্তু আজ কিছুতেই শাক্যমুণির ইমেজটা স্থির হচ্ছেনা ।  জলাশয়ের  ভেতরে স্থিত কোন জিনিষ  উপরি স্তরের জলের সঞ্চরণের সাথে সাথে যেমন দৃশ্যের বাইরে চলে যায় ঠিক সেইরকম সততঃ কম্পমান বুদ্ধের ইমেজটা আজ কিছুতেই তার চোখে স্থির হয়ে ধরা দিচ্ছেনা ।  সে অস্থির হয়ে উঠছিলো । বেলা ভূমিতে দুটো সংকীর্ণ পাথরের খাঁজে ক্রমাগত ঢেউ এসে আঁছড়ে পরলে যেমন পুরো সত্ত্বাটা সেই শব্দ রোষে বিবশ হয়ে পরে, তার মনটার মধ্যেও সেই রকম এক আকুলি বিকুলীর তুফান উঠেছে ।  এই তীব্র শীতের মধ্যেও সে টের পাচ্ছিল তার কপালে  ফোঁটা ফোঁটা স্বেদ বিন্দু ফুটে উঠেছে ।

      তাদের একমাত্র সন্তান - তিন বছরের ছেলেকে সে নিজের বাবা-মায়ের দায়িত্বে রেখে এসেছে । ইদানিং পুত্র তার বাবাকে খোঁজে । ছোট ছোট শব্দ দিয়ে বাবার কথা জানতে চায় । সে জুনিয়র লী কে বুকে চেপে ধরে হয়তো নিজেকেই সান্ত্বনা দেয়

      জমে থাকা বিষাদ গলিত লাভার মতো বেড়িয়ে আসতে চাইছে।  অনৈচ্ছিক ভাবে তির তির করে কেঁপে ওঠা  আঙ্গুল গুলো কে শান্ত করার জন্য সে হাতের পার্সটাকে চেপে ধরলো জোরে । সে প্রাণপণে যখন নিজেকে সংযত করছে তার একটা চোখ হাসিতে উদ্বেল হয়ে পেছন পানে ছুট লাগাতে চাইছে 

     ২০১৯ সাল, অক্টোবরের শেষ সপ্তাহ। উহান শহরের সরকারী আবাস স্থলে  সে তখন তার স্বামী ডঃ লী ওয়েন লিয়াঙের সঙ্গে থাকতো 

      এইতো মাত্র কয়েক মাস আগেই তারা দুজনেই ছিল সুখী বিবাহিত দম্পতি । তার স্বামী তেত্রিশ বছরের ছটফটে যুবক, আর সে তার থেকে চার বছরের ছোট । সেদিন লী এর জন্ম দিন পালন করা হচ্ছিল ! দুজনেই  পরিপূর্ন । খুশি যেন ছলকে পড়ছে আকাশে, বাতাসে ও চরাচরে যেমন করে শ্যাম্পেনের বোতল খোলার পর বোতলের গা বেয়ে ফেনা গড়িয়ে পরে ঠিক সেই রকম ! তাদের দুজনকে যেন ভগবান তথাগত তাঁর নিজের অদৃশ্য হাতে ফাইন টিউনিং করিয়ে রেখেছেন !

 .... ফু জুয়ে জী যখন কখনো আনমনে কিচেন থেকে ঘরে ঢুকছে, হাতে , মুখে ও সামনের খুচরো অলকদামে 'সে-শান' (schezwan) সস  বা ভাতের দানা অথবা টুকরো মাংসের কুঁচি  লেগে আছে কিচেনে জিভে জল আনা ডিলিশিয়াস ডিশ দৌপি বানাবার জন্য অথবা যখন  লী দুর থেকে ওর চেক্যার্ড অ্যাপ্রন টা দেখতে পায় , তখন লীর সমগ্র অনুভূতি হাওয়ার নাচনে কেঁপে ওঠা বাঁশ পাতার মত  তির তির করে কি যেন অজানা খুশির ঝলকে শিউরে ওঠে খুবই সংগোপনে ঠিক যেমন ভাবে সূর্য ওঠার পর, বৃষ্টি ভেজা দিনটা সহসা ঝলমল করে ওঠে । একটা তীব্র সুখের অনুভুতি জীবনের পাত্রটা কে

যেন কানায় কানায় ভরে রেখেছে । একটু টোকা লাগলেই বুঝি ছলকে পড়ে যাবে

     আর ফু জুয়ে জীর  কাছে লীর উপস্থিতি টা একটা, না পড়া থ্রিলার এর মত তীব্র আকর্ষণীয় ! লীর মুখে যখন একটা হালকা হাসির আভাস ছুঁয়ে যায় তখন অবশ্যম্ভাবী ভাবে তার গালের টোল টা সহসা জীবন্ত হয়ে ওঠে । ফু জুয়ে জী তখন বাঁধন ছেড়া আবেশে শরীরের রুধির স্রোতে দুরন্ত গতির ঘোড় সওয়ারের আওয়াজ টের পায়

    আজকে পার্টিতে শুধু পরিচিত মুষ্টিমেয় কয়েকজন  এসেছিল। সবাই বয়সে নবীন, ফলে অফুরন্ত উৎসাহ ! গল্প গানে  আড্ডায় পার্টি  শেষ হলো ।  সবাই বিদায় নিয়ে  চলে গেল । ফু  লীর দিকে তাকিয়ে হাসলো। লী দরজা লক করে ফিরে আসার আগেই ফু তার পা দুটো কে  জুতো থেকে মুক্ত করে নগ্ন পায়ে হেঁটে খাটের কিনারায় গিয়ে পা ঝুলিয়ে বসলো । লী ঘরে ঢুকে দেখল ফু রিলাক্স মুডে খাটের কিনারায় বসে আছে । লী তার ব্লেজার টা খুলে ছুড়ে দিল অব্যর্থ নিশানায় ম্যান্টেল পিসের দিকে । গোল্ড কাফলিং দুটো খুলে বেড সাইড টেবিলের ড্রয়ারে রেখে দিলো । জামার স্লিভস দুটো গোটাতে গোটাতে ও এগিয়ে আসছিল, ওর মুখে একটা দুষ্টু হাসি খেলা করে বেড়াচ্ছে । ওর শরীরে গ্রীক ভাস্কর্যের মতো অপ্রতিরোধ্য আকর্ষণ। ফু এর চোখের দৃষ্টি যেন কোন অমোঘ চুম্বকীয় টানে  লী এর প্রতি নিবদ্ধ । ঘোড় সওয়ারদের দ্রুত ধাবমান গতি তার রক্তে টের পেল ফু । লী এসে ফু এর সামনে হাঁটু গেড়ে ফ্লোর ম্যাট্রেসের ওপর বসে পরলো ।  ফু এর দৃষ্টি ওকে স্পর্শ করল। কিন্তু লী গ্রাহ্য করলো না । লী অবুঝ ছেলের মতো ফু এর নরম ছোট পায়ের পাতা দুটো তুলে ওতে আঙ্গুল দিয়ে আঁকি বুকি  কেটে দিল।  ফু এর সুড়সুড়ি লাগছিল। সে পায়ের পাতা দুটো কুচকে তরঙ্গিনী  ঝরনার মত খিল খিল করে হেসে ফেললো। পায়ের পাতা দুটো হাত দিয়ে ঢেকে বলে উঠলো - এই না না  সুড়সুড়ি লাগছে । ফু লী এর হাত দুটো সরিয়ে আবার হেসে উঠলো।

-  নি ক্যান জিলাই জেন পিয়াওলিয়া ( ইউ লুকড বিউটিফুল ) 

- শি ডা ওয় জী দাও ( ইয়েস আই নো ) 

  লী আর একটু কাছে এগিয়ে এলো। ফু এর ডানা দুটোর নিচ দিয়ে হাত ঢুকিয়ে দিয়ে ওকে খাট থেকে তুলে দাঁড়  করিয়ে দিল।  লী আর একটু কাছে টানতে ফু এর পায়ের পাতা দুটো লী এর পায়ের পাঞ্জার ওপর ফিট হয়ে বসে গেলো।  ফু ওই অবস্থায় লী এর মুখটা দুই তালুর মধ্যে ধরে ওর মাথাটা টেনে নামিয়ে আনলো ওর বিভাজিকা র ঠিক ওপরে। লী ওর ডান হাত টা নিয়ে কি করবে বুঝতে পারছিলনা। ফু ওর উষ্ণ কম্পিত হাত টা নিয়ে নিজের মসৃণ পেটের ওপর রাখলো। লী ওর মুখটা এক তাল মাখনের মধ্যে গুঁজে দিয়ে খুব অস্ফুটে একটা বিশেষ ঢং এ  বলে চলছিলো তুমি আর একবার স্ফীত হয়ে যাও। ফু ধীরে ধীরে তার মাথা ভর্তি চুলে বিলী কাটছিল আর ঘুম পাড়ানোর ঢং এ হাত দিয়ে আস্তে আস্তে মাথাটা ঠুকে দিচ্ছিল

     .... এই সমস্ত গোলাপের পাঁপ়ড়ির মত ফুরফুরে  মুহুর্ত গুলো আদৌ কী কখনো ঘটেছিলো ? খুব ক্লান্ত মনে হলো নিজেকে। লী এর কথা রাখতে সে পুনরায় অন্তঃসত্ত্বা হয়েছে ! ফলে চলা ফেরায় অনেক টা মন্থর হয়ে পড়েছে সে

 সেপারেটর পর্যন্ত হেঁটে আসতে সে কাহিল হয়ে পরলো, মনে হচ্ছে যেন সমস্ত এনার্জি তার শেষ হয়ে গেছে।

     .....২০১৯ এর ডিসেম্বরের  শেষ দিকে ফু, লী কে খুব বিচলিত ও চিন্তিত দেখলো। একদিন লাঞ্চ আওয়ারে ও আবাসনে এলো। ফু টেবিল লাগালো। তারা দু জনে নিঃশব্দে বসে খাবার খেলো। লাঞ্চের পর লী একটা ডেক চেয়ার এ বসলো। টেবিল পরিষ্কার করে ফু এসে টেবিলের হাতলে বসে পড়লো

- তুমি কিসের জন্য দুশ্চিন্তা করছো 

- একটা ল্যাব রিপোর্ট 

- ওতে কি আছে 

- অত্যন্ত গোপনীয় 

- দেখো মজা ! ল্যাব রিপোর্ট কিভাবে গোপনীয়  হয় 

- হুম্ !  কিন্তু রিপোর্ট টা কে  তৈরী করেছে জানো ?

- যেই করুক 

- যেই করুক না, না ! রিপোর্টটা   অরিজিনেট হয়েছে,  নির্দেশক, ইমারজেন্সি ডিপার্টমেন্ট থেকে

- তো 

- ডিরেক্টর রিপোর্ট দেখে নিজে হতভম্ব, ম্যাডাম পেশেন্ট কে দেখেছিলেন, পেশেন্টের ইনফ্লুয়েঞ্জার মত সিমটম,   কিন্তু প্রথাগত চিকিৎসায় কিছুতেই সাড়া দিচ্ছেনা 

- আশ্চর্য্য ! ফু ওর হাতে একটু আলতো করে টোকা মেরে আর একটু কাছে গিয়ে লী এর গালে ওর মুখ টা ছুঁইয়ে দিলো

- রিপোর্ট এ একটা শব্দ বন্ধ আছে - "sars sub type cov2" ! লী ফু এর হাতে আঙ্গুল  ছুঁইয়ে  দিয়ে বলল!

- সমস্যাটা তাতে কোথায় 

প্রশ্ন টা শুনে ডঃ লী গম্ভীর হয়ে গেল ! ফু বুঝতে পারছিল লী এর মুড টা হটাৎ খুব খারাপ । সে লী কে কাছে টেনে নিল, দু হাতে ওর মুখটা চেপে ধরে জিজ্ঞ্যেস কর

- তুমি এখন কি করবে 

- আমি একটু বিড়ম্বনার মধ্যে  রয়েছি । এটা একটা নূতন ভাইরাস যা sars থেকে উদ্ভূত হয়েছে এবং এর মারণ ক্ষমতা আরো বেশী তীব্র। লী উঠে দাঁড়াল হাসপাতালে যাওয়ার জন্য

         চক্ষু বিভাগে পেশেন্ট দেখতে দেখতে ও এই  খবর টা তার চ্যাট গ্রুপে শেয়ার করল, সঙ্গে লিখে পাঠালো সি ফুড অ্যানিমাল মার্কেট থেকে সাতটা কনফার্ম sars  কেস হাসপাতালে রিপোর্ট করেছে । এরা প্রত্যেকেই

cov2 এ আক্রান্ত। সর্বশেষে সে তাদের উপদেশ দিলো তারা যেন যথোপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করে যাতে এই মারণ ভাইরাসের হাত থেকে তারা নিজেদের  রক্ষা করতে পারে। ঘটনা চক্রে মেসেজ টা

ভাইরাল হয়ে যায়। তার মেসেজের স্ক্রীন শট চিনা সোশাল সার্কেল একটার পর একটা মোবাইলে ডেলিভারী হতে থাকলো । এবং অচিরে  খবরটা ব্যাপক প্রচার পেয়ে গেলো।  ডঃ লী ওয়েনলিয়াং এর নাম,  এর ফল স্বরূপ একটা হাউস হোল্ড নামে পরিণত হয়ে গেলো।

     কিন্তু সরকারও এই ব্যাপারে নজর রাখছিল, এবং একদিন, যেমনটি আশঙ্কা করা হচ্ছিল,  সুপারভিশন বিভাগ থেকে তার নামে শমন এসে হাজির হলো। তার বিরুদ্ধে চার্জ লাগান হলো গোপনীয় তথ্য সার্বজনীন করে দেওয়ার প্রচেষ্টা ! ফু সেই দিনটার  স্মৃতি যেন এখন এই মুহুর্তে প্রত্যক্ষ করতে পারছে, যেদিন এলাকায় পুলিশের দায়িত্ব প্রতিপালন করা  psb লী কে ডেকে পাঠালো ।

     .... লী আগের দিন রাত্রে প্রচণ্ড আপসেট ছিল। রাতের খাওয়া সেরে সে ফু এর সঙ্গে সাধারণত গল্প গুজব করে, কিন্তু সেই রাতে সে প্রচণ্ড উত্তেজিত ও চিন্তিত ছিল। ফু সন্ধ্যে থেকেই তাকে লক্ষ রাখছিল । সে অস্থির ও আনমনা ছিল। ফু তাকে ধরে ধরে খাটের কাছে নিয়ে গিয়ে বিছানায় শুইয়ে দিল। তারপরে লাইট অফ করে দিয়ে ওয়াশ রুমে গেলো।  সে সেই রাতে মুখে চোখে কেবল একটু জল দিয়ে মুখ হাত ধুয়ে এবং কোন নাইট ক্রিম না লাগিয়েই দ্রুত তার প্রিয় মানুষটির কাছে ফিরে আসে।

    লী ততক্ষণ বিছানায় মাথা ঠেকিয়েছে , নিজের ডান হাতটা তুলে চোখ দুটো ঢেকে রেখেছিল সে। ফু কাছে এসে তাকে আলতো করে স্পর্শ করলো। লী তার হাতটা তুলে নিলো চোখ থেকে এবং খুব ক্লান্ত মানুষের মতো একটা বিবর্ণ হাসি তার মুখে দেখা দিল

- তুমি কি একটু গ্রীন টি খাবে লী ? ফু এর গলার স্বরে চিরন্তন  কোমলতা ও তার  সঙ্গে একটা নরম  সিল্কি মসৃণতা মিশে আছে। লী তার হাতটা ধরে থাকলো,  আর ইশারায় বললো পাশে শুয়ে পড়ার জন্য। ফু শুয়ে পরলো পাশে। তারপরে পাশ ফিরে   লী এর নাইট ড্রেস অত্যন্ত মমতার সঙ্গে খুলে দিল, লেপটা টেনে দুজনের গায়ে ঢাকা দিলো। লী এর সমগ্র  শরীরে পালকের ছোঁওয়ায় মত  ফু এর  আঙুল গুলো ঘোরাফেরা  করছিল ।  লী নিজেকে ফিরে পাচ্ছিল, একটা রিম ঝিম নেশার মত ভালো লাগা তাকে তির তির করে একটা ক্লাইম্যাক্স অভিমুখী ট্রাজেক্টরিতে বসিয়ে দিচ্ছিল । সে ফু এর কোলে মুখ গুঁজে কিছু কথা বলছিল, তার কথা গুলো, সে বুঝতে পারছিল,  ফু এর শরীরে খাঁজে চাপা পড়ে যাচ্ছে !  কিন্তু তৎসত্বেও ফু বুঝতে পারছিল লী কি বলতে চাইছে । সে লী এর হাতটাকে ধরে তার পেটের স্ফীত স্থানে রাখলো যেখানে তাদের না জন্মানো দ্বিতীয়  শিশুর উপস্থিতি অনুভব করে লী আনন্দে উদ্বেল হয়ে পড়ছিল। সে স্থানটায় ধীরে ধীরে মুখ  ঘষছিল সে ! তার জিভটা সেই সময়  ফু এর বেলি বাটন  স্পর্শ করল। ফু এর শরীরে একটা শিহরণ খেলে গেল। সে আশ্লেষে লী কে বাহুডোরে বাঁধলো। লী সেই পরম নির্ভরতার বন্ধনে নিজেকে  সুরক্ষিত মনে করছিল, সে অপার শান্তি অনুভব করছিল তার সমগ্র অনুভুতি তে 

         ..... ফু টের পাচ্ছিল তার চোখে জল ভরে আসছে। সে হাত তুলে উল্টো পিঠ দিয়ে চোখ দুটো মুছে নিলো। পরের দিন সন্ধ্যায়  লী  psb লোকাল ব্রাঞ্চ থেকে ম্যারাথন ইন্টারোগেশন এর পর ফিরে এলো। ফু তার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিল। দরজায় হালকা আওয়াজ হতেই সে ছুট্টে গিয়ে এক টানে পাল্লা খুলে হাট করে দিল এবং হাত ধরে তাকে ভেতরে নিয়ে এলো। খুলে দিল সে তার ওভার কোট, টাই এর নট আলগা করে ক্রমে বাকি আবরণ থেকে মুক্ত করিয়ে ওয়াস রুমে ঢুকিয়ে দিলো। লী ওয়্যাশ রুম থেকে বের হলে ফুল লেংথ উলেন হাউস কোট দিয়ে তাকে মুড়ে দিলো। লী চেয়ারে বসে চায়ের কাপ হাতে নিয়ে যখন বসলো তখন ফু এর নজর গেলো লী এর দিকে । লী কে অপমানিত ও বিধ্বস্ত দেখাচ্ছে। লী আপাদ মস্তক একজন ভালমানুষ, psb এর হাতে ওর এই হাল হওয়ার জন্য ও মনে মনে ভীষণ কষ্ট পাচ্ছিল

- ইন্টারনেট এ তুমি মিথ্যা অভিযোগ করেছো যেটা আমাদের সোশাল ফেব্রিক কে ভেঙে তছ নচ করে দিয়েছে। psb এর বসের ব্যবহার অত্যন্ত রুক্ষ । তার শাব্দিক হুমকি লী এর শারিরীক আঘাতের মত মনে হচ্ছিল। সে ভীষণ ভয় পেয়ে গিয়েছিল। এবং অথোরিটি'র সমস্ত চার্জ সে  নিগ্রহের ভয়ে স্বীকার করে নেয়।

        ..... ফু চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়ালো সেপারেটর টা ক্রস করার জন্য সিকিউরিটি গার্ডের রেজিস্টারে সই করে ভেতরে ঢুকে প্রোটেক্টিভ গিয়ার পরে ভেতরে ঢুকলো

তার জীবনের সবথেকে প্রিয় মানুষ লী  রেসপাইরেটরি ট্রাবল নিয়ে এখানে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে। তাকে লাইফ সাপোর্ট এ রাখা হয়েছে। যখন সে ওয়ার্ডে ঢুকলো, দেখলো লী এর বেড টা খালি । সে সহসা খুব ভয় পেয়ে গেল। সে নার্সদের কিউবিকলে দৌড়ে গেল।মাট্রনের  মুখটা ভাবলেশহীন । সে লী এর সম্বন্ধে জানতে চাইলো। প্রশ্ন করতে গিয়ে সে দেখলো তার গলা বসে গেছে  আওয়াজ  একদম বের হচ্ছেনা। তার পেছনে সহসা কিছু লোক ভিড় করে এলো। তারা লী এর চ্যাট গ্রুপ এর বন্ধু। লী যে মারণ ভাইরাসের সঙ্গে লড়াই করতে করতে হেরে গেছে সে ব্যাপারটা ফু এর মাথায় ঢুকতে সময় নেবে...

কথাশেষে

    কেন  লী এর ওঠানো একটা আওয়াজকে জবরদস্তি থামিয়ে দেওয়া হলো কেউ বুঝতে পারল না। কিন্তু তার ওপরে করা psb এর ক্রূ্রতা  সোস্যাল মিডিয়ায় ঝড় তুলে দিল। এটা চোখে আঙুল দিয়ে চীনের দমন মূলক নীতি কে সামনে তুলে ধরল। হ্যাসটাগ মেসেজ টি ছিল,  "if your response to a dangerous health emergency is for the police to harass a doctor trying to blow the whistle , then your structure is obviously broken!" ( ভয়ঙ্কর স্বাস্থ্য সম্বন্ধিত এক আপাত কালীন প্রশ্নের জবাবে যদি অবৈধ কার্য কলাপের খবর দেওয়া সেই ডাক্তারকে নিগ্রহ করা হয় তবে ধরে নিতে হবে সমাজে অবক্ষয় শুরু হতে আর বাকী নেই।)





একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ