পোস্ট বার দেখা হয়েছে
কবিতা :-
"গোত্রহীন ঈশ্বর" / রীতিশা পাল
মৃত অরণ্যের বুকে তীক্ষ্ণ প্রেমের বান ছুঁড়েছি,
কাঁটাতার পেরোতে পারেনি...
জোনাকের থেকে আলো ধার করে কি ঈশ্বর দর্শন হয়!
তীর গিয়ে গাঁথল সমুদ্রের বুকেতে,
ততক্ষণে বানের গায়ে লেগে থাকা প্রেম অভিশপ্ত,
উত্থিত বেদনায় হাহাকার করে ওঠে ঢেউ,
দীর্ঘশ্বাস মই বেয়ে উঠে আসে আমার বুকেতে,
নিভে গেছে আগুন, তবুও চারিদিক ধোঁয়াময়,
পুড়ে যাচ্ছে আগামী, তবু অতীতের দখলদারি রয়ে গেছে।
নিজেকেই যদি মুছে ফেলি ! শান্ত হবে অতীত ?
আমার চিতার অনলে তোমার লজ্জা অবনত হবে নাতো?
নাটকের সংলাপে মূর্ছা যাবে নাতো আরো একবার!
শিরোনামহীন যে আকাশ ছুঁয়েছিলাম,
অচল কুয়াশা ঝরে পড়ে সেই আকাশ থেকে।
ধ্বংসস্তূপে আমি ঈশ্বর খুঁজি, পথ ভুলেও যে ঈশ্বর বুকের মাটি ছুঁয়ে যায় না।।
-------------/-----/--------------------
বাদামি বিকেলগুলো সব / হাসান ফরিদ
নিষিদ্ধ লোবানের মতো তুমি এলে--ফোটালে কিছু অপরিপক্ব ফুল
সেই ফুলের নির্যাস গড়াতে গড়াতে--কখন যে রক্তগোলাপ হয়ে গেল! বুঝতেই পারলাম না
জীবনের বহির্নোঙরে পড়ে থাকতে থাকতে--সেই গোলাপ: এক সময় ধূপছায়া ধূপ হয়ে পড়ে রইলো।
অবশেষে জ্বললো, জ্বালালো এবং অন্যকে জ্বালাতে সাহায্য করলো...
এভাবেই মুহূর্তের মরদেহ সৎকার করতে--
মিথ্যের কাটা গুঁটি ছাড়তে ছাড়তে--চাঁদের ঘর থেকে সুতা কাটা বুড়ি--উধাও হয়ে যায়; কলঙ্কহীন চাঁদকে মনে হয়--বড় অসহায়!
খাপছাড়া তলোয়ার ধারালো কথায়--কাটা পড়ে--বাদামি বিকেলগুলো সব...
এই গোধূলিবেলায় এসে--শেষ বিকেলের গান;
বড়ই বেমানান! জলরঙা আকাশে স্মৃতিময় মেঘেরা--শবযাত্রা মিছিলের জোরেশোরে করে মহড়া; এর থেকে নেই আর কোনো পরিত্রাণ!
আহা রে! কোথায় গেল--বাদামি বিকেলগুলো সব...
-------------/-----/--------------------
উপলব্ধি / সানি রাহমান
জীবন
-----------
জীবন মানে ফিরে যাবার -
চুড়ান্ত ব্যস্ততা ,
কক্ষ পথ ঝড়িয়ে যাওয়া -
রক্ত কিংবা ঘাম ,
জীবন মানে প্রাণে প্রাণে
জীবন্ত সংযোগ ,
লক্ষ স্মৃতি অপ্রাপ্তি আর
আক্ষেপের এক নাম ।।
মৃত্যু
---------
মৃত্যু মানে অবশিষ্ট -
রইলেনা আর কিছুই৷,
কারো কারো এর- ই মাঝে-
অবাধ বেঁচে থাকা ,
মুত্যু মানে হারিয়ে যাওয়া-
অনন্ত আসীমে
খানিটা ভুল- ভালো পথে-
পদচিহ্ন আঁকা ।।
-------------/-----/--------------------
আগুনের_পরশমণি / প্রশান্ত_মুখার্জ্জী
আষাঢ়ের ভরা যৌবনে, বৃষ্টির সাথে সঙ্গমে লিপ্ত হয় মাটি..!
ধুলোরা রূপ বদলে, কাদায় পরিণত হয়, গর্ভবতী হয় খানাখন্দ..!
প্রতিযোগিতার আসরে নাম লিখিয়ে ফ্যালে, কচুরিপানা ভর্তি ছোট্ট ডোবা..! বৃষ্টির মুষল-ধারায় গর্ভবতী হতে চায় সেও..!
সহস্র শতদলে মোড়া দীঘি মুচকি হাসে, মনে পড়ে, যৌবনে এমনই সঙ্গমে লিপ্ত হয়েছিল সে..!
এর আগে বহুবার বাঁধ ভেঙেছে তার, প্লাবিত হয়ে প্রসব বেদনায় ছটফট করেছে সেও..!
আবার হেমন্তের শেষ লগ্নে শুকিয়েও গ্যাছে যৌবন,
মাতৃহারা হয়েছে তার সহস্র সন্তান..!
আজ তাদের মধ্যে কেউ জীবিত কেউ মৃত, আবার কেউ কেউ ছুঁয়ে ফেলেছে আগুনের পরশমণি..!
জীবিতরা কোনো নদী বা সমুদ্রের বুকে বেড়ে উঠেছে, মৃতরা ফসিল হয়ে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগে গবেষণার কাজে লেগেছে..!
যৌবনে নদী নালা খাল বিল সকলেই সঙ্গমে লিপ্ত হয়, আবার বয়স বাড়ার সাথে সাথে শুকিয়ে যায় তাদের সকল জৌলুস..!
জীবন আর মৃত্যুর মাঝে দাঁড়িয়ে থাকে সময়,
সময় জানে, প্রকৃতির বুকে সঙ্গম কোনো অন্যায় নয়..।
বাতাস ঢেউ তোলে দীঘির বুকে,
আকাশ অশ্লীলতা খোঁজে নগ্নতার সুখে..!
তবুও সময়ই বদলে দেয় সবকিছুকে..! সময় বাঁধা আছে পৃথিবীর কাছে, এ দোষ কারো একার নয়..!
সময়ে সব ঠিক, আর অসময়ে সবই বেঠিক..!!
-------------/-----/--------------------
চক্রব্যুহ / প্রহ্লাদ ভৌমিক
পালকের মতো উড়তে উড়তে বাতাসের
যে স্পর্শটুকু ছুঁয়ে গেলো
সে এক অদ্ভুত স্পর্শ-রোমাঞ্চ,
স্মৃতির আশ্চর্য শিহরন...
ভাবতে ভাবতে জীবনের প্রতিশ্রুত শব্দগুলি
সমস্ত বিষাদ ভুলে বুকের ভিতর ভরিয়ে দিল
যে প্রেমের স্বরলিপি,সময়ের সংলাপ
ও স্বপ্নের জলতরঙ্গ আর মাটির গান
বেঁচে থাকার সেও এক অনন্ত স্বর ও অনন্ত সুর...
অন্তরে এই যে অনন্তের বোধ,
শিকড়ের টান
ও হৃদয়ের আকুতি
একে একে সংকেত জানায় নিশ্চিত গন্তব্যের;
অথচ এই মগ্নতা যাপনে এখনও তেড়ে আসে
রক্ত চক্ষুর ভ্রুকুটি ও ছলনার প্রবঞ্চিত উচ্চারণ
আর হা- মুখ বিশাল শূন্যতা...
সব জেনে বুঝেও ক্রমশঃ ঝুঁকে যাচ্ছি যেন
তবুও অদৃশ্য কোনও সংবৃত চক্রব্যুহের দিকে
ভাগ্যিস,টেনে ধরে রাখছে অনপেত অস্তিত্ব
আর অভিভূত আত্মবিশ্বাস... ।
-------------/-----/--------------------
অণুগল্প :-
নীতি / বীরেন আচার্য্য
শেষকালে নীতি মারা ই গেল । বড়লোকের মেয়ে নীতি । নীতি'রা তো বড়লোকেরই হয় । কি যে হলো মেয়েটার ? বড় ভালো ছিল । কেউ বললো - নীতিই যখন মারা গেল তখন আর থাকলো টা কি। উদাস দৃষ্টিতে তাকিয়ে সভ্যতা।
সভ্যতার কোল খালি করে চলে গেল নীতি । ভাইটাও বেকার । গান্ধী পাদদেশে আন্দোলন রত । ও কি খবরটা জানে ?
পঁচাত্তুরে ঠাকুমা শুধু চিৎকার করে - ও নীতি ! নীতি লো- ও পাড়ার গঙ্গার এগারো বছরের মেয়েটাকে
হায়নাতে খেয়েছে ....। নীতি - নীতি লো ।
বাবা বিবেকের চোখ দুটো জবাফুলের মত লাল । একটা অব্যক্ত যন্ত্রণা। নিরুত্তর।
খবর পেয়ে খোঁজ নিতে এসেছেন শিবু মাস্টার ।
নীতি শুয়ে আছে । চোখদুটো বোজা । শেওলা ধরা পাঁচিলটায় একটা গিরগিটি তখন একটা গঙ্গাফড়িং কে ধরেছে ।
শিবুমাস্টার চশমার কাঁচটা মোছে । হো - হো করে হাসে । নীতি মরে । বিবেক বাকরুদ্ধ, বেকার ভাইয়ের অনশন, আর দেখ ও ব্যাটা পাঁচিলের ওপর কেমন খাচ্ছে । গিরগিটির উপদ্রবটা ক্রমেই বেড়ে চলেছে ।
চলে যেতে যেতে শিবু মাস্টারের কানে আসে পঁচাত্তুরে ঠাকুমার কান্না - ও নীতি ! নীতি লো ......।
-----------------×--------------

0 মন্তব্যসমূহ