দর্পণ | কবিতা কোলাজ | কবি শুভ্রা পাল




পোস্ট বার দেখা হয়েছে

 


*বার্তা *  ( পেলিং থেকে দেখা কাঞ্চনজঙ্ঘা )


কৃষ্ণ গহ্বরে পড়ে যাবার যন্ত্রণাকে 

নিংড়ে নিয়েছি প্রথম রবি কিরণের ওমে, 

'তার ' ঠিকরে পড়া সাতরঙে লিখেছি আমার সুখ, 

রামধনু রঙে তুলি ভিজিয়ে এঁকেছি আমার সুপ্তি, 

নিজের মনে রয়েছি, সত্যের পসরা সাজানো মায়াকাননে।


পদ্মপাতার মতো আঁজলা বিছিয়ে, মহাশূন্যকে বলেছি -

শত সহস্র বার, ' শক্তি দাও, সাহস দাও..

আমি ' বুড়ি বামনী ' সন্ন্যাসীনি'কে দেখতে চাই ।

পিঁপড়ের ডিম খেয়ে বাঁচা মানুষ গুলোর মতো; 

সামান্যে অসামান্যের তৃপ্তি পেতে চাই ।


সেই মুহূর্তে কে যেন বললো কানে কানে 

'স্বত্ব' গুনের আধারে 'রজ' ও 'তম' গুন বিরাজ করে, 

সেই সত্যকে বুকের খাঁচায় বন্দি করে 

আত্ম উপলব্ধির পথে চলতে শুরু করি, 

মধুর আবেশে দেখি, শুরু হয়ে গ্যাছে লাল পিঁপড়ের চড়ুইভাতি ।।


সমীকরণ 


আকাশ তখন খেলছিল ফাগ নিয়ে 

বৃন্তচ্যুত পলাশ তখন পড়লো খসে ভূঁয়ে, 

লালে'লাল হলো শুকনো মাটি, ঘাস জমিন ,

ঘন সবুজের আধারে বিছানো লালিমা ।


আমি তখন চপল অন্তঃপুরে 

ঘুম জড়ানো ছায়া বাসর ঘরে 

রচে চলেছি মিলনান্তক সমীকরণের দ্রাঘিমা ।


আমার শহর উঠেছে কি ওঠেনি 

গঙ্গার ঘাটে মৃদু কলরব শুনি 

' ওম্ জবাকুসুম সঙ্কাশং ---- '

লয় ছুটেছে পেরিয়ে মধ্যমা ।


নেয়ে ধুয়ে মন হেঁসেল পেরিয়ে খোলা রাস্তায় ,

অফিস কাছারি বন্দি নেট দুনিয়ায়  

হতাশার পারদ ঘিরেছে হৃদয় রাত্রি ত্রিযামা ।


সামাজিক মুখোশের ক্রিয়া প্রক্রিয়ায় 

দিনের পরমায়ু যাচ্ছে সচ্ছ সলিলে ভেসে 

কফিন আঁকড়ে শেষ পেরেক হাতে দেখছে সময় !

কে ঢালে তলানি ঘৃত - এই অবিবেচক 

নাটুকে সংলাপের মেলোড্রামায় !!!



পারদ চড়ছে 


রাহূগ্রস্থ পৃথিবী কাঁপছে ধূম জ্বরে ,থার্মোমিটার ভেঙে খান খান 

পারদ ছড়িয়ে পড়েছে চতুর্দিকে !

জুলজুল চোখে দেখছে কিছু ধূর্ত শেয়াল , ভিখারী মেয়েটা কুড়াচ্ছে ওটাকে !

কে যেন বলছে ইশারায় - রূপোর বলটা মুখে পুড়ে দে ---- দে !

মুক্তি মিলে যাবে আলোয় আলোয় !!

বোবা চাউনিতে চেয়ে আছে মেয়েটা ,

মাথার উপরে চিল ঘুরছে ,অসতর্ক হলেই - ছোঁ ওও

একরতি পারদের দাম অনেক ।


এই বিশ্বের জ্বর আর নামবে না তবুও 

কড়া সতর্কীকরণ সত্ত্বেও- ঐ যে শহুরে হাইহিল

রাস্তা পেড়িয়ে পাশের বাগানে ঢুকলো ,

প্রেমের থিসিস লেখা বোধ হয় বাকি !

লেকের শান্ত জল চেয়ে আছে ওর দিকে --

শুকনো পাতাদের মিটিং আজ চোখে পড়লো না ,

মালি বুঝি ঝাঁট দিয়ে তাদেরও গেটের বাইরে করে দিয়েছে ,

দুর্দশাগ্রস্থ বাতাস শুধু ছুটছে সময়ের পিছুপিছু 

মহাকাল বসে আছেন চাবুক হাতে !


এইভাবে সব গেট বন্ধ হয়ে যাবে একদিন 

দিনরাত্রির মাঝে ঝুলবে শুধু বড় বড় তালা 

রোজের নবারুণ চেয়ে থাকবে মিলনের আশায় 

নাগরিক মনন দোআঁশলা !!


উত্তরণের পথ 


গল্প বলাটা ছিল নিছক একটা অজুহাত ,

চোখ'দুটো আটকে ছিল তার চলার পথে প্রতি পদক্ষেপে ,

ঘাম ঝরা খালি গায়ে ছিল না কোনো দামী সুগন্ধির সুগন্ধ 

কালো শরীরটা ঘষেও কোনো কালি ওঠেনি !

শুকনো খোঁচা খোঁচা চুলগুলোতে তেল পড়েনি কতদিন কে জানে !

তবুও পান্তা খাওয়া ঢাউস পেটটার তলানিতে -

কোনো ভেঙে পড়া শোকের টুকরো চোখে পড়েনি ,

বয়সের ব্যারিকেড পেরিয়ে দিব্য হেঁটে চলেছে !

পিঠে বাঁধা একুশোর্ধ পহেলী ও তার ফসল ।

সম্পূর্ণ নিরুত্তাপ, দারিদ্র্যতাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে -

যেন ভেসে চলেছে দৈত্যাধিপতি কালা পাহাড় ।

ওর তেজদীপ্ত মুখাবয়বের কাঠিন্য বলে দিচ্ছে -

এই শূন্যতার অন্তরীক্ষ পেরিয়ে, 

শীঘ্রই সে পা রাখবে সৌভাগ্যের চৌকাঠে ;

উত্তরণের সোপান বেয়ে সপরিবারে জ্বালাবে 

দীপাবলির রোশনাই , শান্ত মনে বসবে আপন চাঁদের হাটে ।

ভাঙাবে দুর্ভাগ্যের দীর্ঘ অপেক্ষা ...



আগামীর চোখ 


দিগন্তের পরিখা জুড়ে নিশ্ছিদ্র অন্ধকার ।

একমুঠো সিঁদুর রাঙা আলো দিতে পারো ?

মেদহীন হেমন্তের ভোরে কিংবা 

ফসলের ক্ষেত ছুঁয়ে ধাওয়া বিলাপী রোদ্দুরে; 

চুলবুলি খুনসুটিরা যখন আচার চুরি করে খায় 

দুষ্টুমিষ্টি আবদারে ।


ধূলোট কাগজে মোড়া ঘুম ভাঙা সকাল, 

কুয়াশার ঋজু আলপথ ধরে 

পথভোলা মুক্ত ছন্দ ঘোরে যেথায়, বেপথু ঠিকানায় ,

চুপকথারা ধেয়ে আসে আলোর দিশায় ;

জড়ো করা পাবক মনের অন্তঃপুরে !


ফিরে পেতে চাই সেই বহু বর্ণিত আলোর ঠিকানা 

পাঠভাঙা কোনো অলস দুপুরে 

নির্মল বন্ধুত্বের ছোঁয়ায় ।


যাযাবর মন, ঘোর অমাবস্যার রাতে -

কাঠের আগুনে সেঁকে নেয় জমে যাওয়া দুই হাত ।

দশটি আঙুল ঘোরে ক্লান্ত চোখের ইশারায়, 

ওরাও যেন ভাবে ঠিক আমাদেরই মতো !

দশটা বন্ধু পেলে মেহফিল জমে যেত !

মেঘের দেশে লুকিয়ে গ্যাছে যে মনন 

স্মৃতির কুহেলি জড়ানো আলোয়ান গায় !

চারপাশের শূন্যতা বিষন্ন চোখে তাকায় ।


স্বচ্ছ সলিলা সবুজের পাড়ে নীল নির্জনে

জ্বলন্ত চিতার মতো জ্বলছে আগামীর চোখ ,

আঁধার ঘোচানো বালুকা বেলায় -

আবার স্বয়ংবরা হবে কলুষ মুক্ত ধরণী, 

আবির রাঙা সূর্য শিখায় ।



একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ