দর্পণ || কবিতাগুচ্ছ || পিন্টু বেতাল




পোস্ট বার দেখা হয়েছে

উপসংহারে কবিতা


শিখতে গেলাম কবিতা লেখা-

সে-এক মস্ত মহান কবি;

উপসংহারে কবিতা দিয়েই,

বুঝিয়ে দিল, "কবিতা"টা কি!!

           কবিতা হলো প্রাণের ভাষা,

           কবিতা হলো প্রেমের নেশা,

           কবিতাটা যে, মনের বন্ধন-

           কবিতাটা যে, হৃৎস্পন্দন-

           কবিতাটা তাই বুকের মাঝে

           নতুন পাওয়ার আশা।


সুখেই শুধু কবিতা আসে, এমন ভাবনা মন্দ,

দুঃখটাতেও চিত্ত তোমার- দেয় কবিতায় ছন্দ।

প্রাণের সুরে মনের খাতা- যখন ভরায় সাদাপাতা

তখন সেথায় কথাকলি- জন্ম দিয়ে যায় "কবিতা"।


কবিতা হলো, কবির মনের- মোহময়ী সেই প্রেয়সী,

যাহার পরশ পেলেই চিত্ত, সুবাসে তার হয় উদাসী;

যাহার ডাকে- উন্মুক্ত ওই, বন্ধ মনের দরজাগুলি,

অপরূপা "কবিতা" সে, হৃদি-ময়নার কলকাকলি।


কবিতা হলো- অলীক মায়ায়, ভিড় করা সেই স্বপ্নগুলো-

ছুটে বেড়ায় স্মৃতির পাতায়, জুড়িয়ে কষ্ট, উড়িয়ে ধূলো।

ছন্দ-সুরে কবিতা-রা তাই, নির্জনে, প্রান্তরে-

যায় ভরিয়ে ভালোবাসায়, সবার মনের অন্তরে।


চিত্ত যখন মগ্ন সুখে,

কবিতা তখন থাকে বুকে;

চিত্ত যখন ছুটি পায়,

কবিতা তখন প্রকাশ পায়;

চিত্ত যদি শূন্য হয়-

কবিতা কেবল অসহায়!

কবিতা বিনা চিত্ত সদা- মরুভূমি মৃতপ্রায়।


চিত্তটাকে জাগিয়ে তোলো, কবিতারা আসবে কাছে;

"কবিতার"ই জন্ম দিয়ে- জানবে বড়ই শান্তি আছে ।।


কবির মনের রুচীটা যে, প্রকাশ পাবে কবিতাতে,

কবির দেখা স্বপ্নগুলো- কবিতাকে পথ দেখাবে,

কবির সুপ্ত বাসনাটা, লেখা রবে কবিতাতেই,

কবিতার ওই জীবন-খাতায়- কবির জীবন ধন্য হবে।

কোলাহলের জগৎটাকে, কবিতাটাই ছন্দ দেবে,

নয়ন মেলে থাকবে জীবন- কবিতারই কথা ভেবে।


হোক কবিতার জয়গান, থাকবে তবেই কবির মান,

বিষাদ সুরের কবিতাটাও- হয় না কভুই ম্রিয়মাণ ।।


মহান কবি উপসংহারেই, দেখিয়ে দিলেন কাব্যরূপ;

বুকের মাঝে ইচ্ছেটা মোর- খুঁজে পেলো স্বর্গসুখ। 

তাই- কবিতাকে দিয়ে মন, কবিতাতেই জীবনপণ-

কবিতারই সংজ্ঞা খুঁজে- করি কবিতার উদযাপন ।।

=====

কবিতা যখন সঙ্গীন


হাবিজাবি কিছু লেখা- ডায়রীর সাদা পাতায়

গুমরে কাঁদে আজও, প্রত্যেকটা দিন;

যারা, হয়ে উঠতে পারেনি কোনোদিনই-

বাৎসল্য হৃদয়ের স্বপ্ন রঙীন।


ছাই পাঁশ কিছু অক্ষরের জটলা রাশিরা- মনের অলিন্দে ভিড় থাকে আজও,

তবুও এখনো হয়ে উঠতে পারেনি কবিতাটা-

অল্প একটু সারল্যে খুশী সীমাহীন।


কিছু শব্দ অবশ্যই হাত পা ছুঁড়ে জানান দিয়ে যায়-

ডায়েরীর সাদা পাতায় জমে থাকা কিছু অকথ্য যাতনা সবই,

যা, প্রতিনিয়ত ক্রমবর্ধমান…. আমৃত্যু, অন্তহীন।


কলমের কালিটা নিশ্চিৎ ফুরোবেই একদিন,

সাদা পাতা ডায়রীটাও হতে বাধ্য পাংশু ও মলিন,

ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা হাবিজাবি ছাই পাঁস আঁচড়গুলোও

কঁকিয়ে উঠবে ঘুণপোকা দেরই দৌরাত্ম্যে!

প্রস্বস্তি শুধু একটাই-

সব অনুভূতি ও অন্ধমোহ স্মৃতিগুলো জীবনের যতিচিহ্নেই অনিবার্য বিলীন।


ওঃ, সে এক অমায়িক প্রশান্তি;

এক পরম পাওয়া পরিতৃপ্তি।


হয়তো বা সেই অসীম মায়ার টানেই, হাবিজাবি যত লেখা-

ডায়রীর সাদা পাতায় আজও গুমরে কাঁদে প্রত্যেকটা দিন।।

=====

 "কবিতারা কাঁদে হায়"


চাপা কান্নাটার গলা টিপে, কিছু শব্দের বিন্যাসখানায় নিতান্তই কবি হওয়ার সখ…!


গহীন আর্তনাদটার তন্নতন্ন পোস্টমর্টেমে মুখ থুবড়ে পড়া- যত ছন্দ মাত্রা অনুভব….!


এরপরও, যদি ঘটে যায় কোনো- সহৃদয় অনুভূতির সাড়া জাগানো আবির্ভাব….

নিশ্চিৎই কবি তকমার চেয়েও- আরো বেশিই তৃপ্তিদায়ক, একখানা কবিতার অবয়ব।


যতিচিহ্নগুলো সমস্তই- হতে পারে অবৈধ হস্তক্ষেপ প্রক্রিয়া;

তবুও একটা কবিতা অর্থে--

বুকের ভেতর গজিয়ে ওঠা দুর্ভেদ্য পাহাড়টার বিরূপ প্রতিক্রিয়া।


অবশ্য, ব্যতিক্রমটাই বোধহয় সবচেয়ে বেশি শ্রেয়….


তাইতো, কোন রসের কবিতা- আজও সকলের প্রিয়;


প্রশ্নখানা থমকে শুধু সেথায়--

"শব্দের ভিড়ে নিঙড়ে কষ্ট- এত সহজেই কী কবি হওয়া যায়?"


….কে দেবে জবাব, আকুল অভাব, কলম নিরুপায়-

     বৃথা সম্ভ্রম, মিছে বন্ধন, কবিতারা কাঁদে হায়!

     কবিতারা কাঁদে হায়! কবিতারা অসহায়।।

=====

 "কবিতায় কালের বার্তা"


ওরা রোজই আসে,

এসে পাশে বসে,

একটু একটু করে জড়িয়ে ধরে ইচ্ছের নাগপাশে,

তবু আমি ছুটে চলি- অশান্ত সাগরে;

জানিনা, কী আছে নেশা- ঐ কবিতার ঘরে!!

শুধু রেখে যায় ছাপ- ক্লান্ত আঁখি পথে, বিধ্বস্ত কোঠরে।


আসলে কবিতা বোধহয় কালো!

পথ করে দেয় তাকে- রাতের তারাদের আলো;

কালিমা আঁধার আর কবিতার ভার-

তাই বুঝি ওরা রাতে এতো এলোমেলো।

একটা সকাল যখন, ছায়া হয়ে ফিরে আসে ভোরে-

ছড়ানো কলম ছুঁয়ে সাদা পাতা জেগে ওঠে শত অক্ষরে….

….."ওরা এসেছিল কাল রাত্রি জুড়ে,

      ওরা এসেছিল সমগ্র পৃথিবী ঘুরে,

      ওরা এসেছিল সময় চক্র বয়ে,

      ওরা এসেছিল শেষের কবিতা হয়ে,

      ওরা ফিরে গেছে আজ,

      তবু রেখে গেছে ছাপ- বিন্যস্ত পাঁজরে…"


আসলে ওরা এরকমই

গভীর না হলে ক্ষণ, হয় না চোখের সুখনিদ্রা!

যত বলি খ্যামা দে বাপ্

তবুও নিশুতি রাত- বুনে চলে কবিতার মাত্রা।


বলীয়ান পৃথিবী বিলাপ

কী দেবে সংজ্ঞা ওদের?

কবিতার দোষ, নাকী কুলোপনা ব্যথার অনিদ্রা!!


বিনিদ্র রজনীই শুধু বোঝে-

ওরাই নিয়তি সময়! ওরাই কালের বার্তা….।।

====

 "কবিতা আর হলো কই!"


কাগজ কলম হাতে নিয়ে, কবিতা লেখা যায় কিনা! জানা নেই;

লেখা গেলেও, শুধু কবিতার মতো দেখতে হবে না- গ্যারান্টি কই?

রঙ তুলি দিয়ে আঁকলেই ছবি- কথা কয় বুঝি!!


তবু কেন লোকে, দাবী তোলে শোকে- সাবাস কবি!


আমি, লিখতে পারিনি কবিতা কখনো- সাজিয়ে ভণিতা

আমি, আঁকতে চাইনি গল্প কখনো- কল্প ভাষায়

আমি চেষ্টা করেছি- লিখতে জীবন, অদেখা আশায়;

আমি সাজিয়ে তুলেছি, অনুভূতি যত- না বলা কথায়।


আমি মেলাতে পারিনি- ছন্দ কখনো, কিম্বা মাত্রা;

শব্দ সাজিয়ে- ভরিয়েছি পাতা, সেধেছি বার্তা।


তবুও পারিনি, লিখতে এখনো 'কবিতা' তেমন…


রঙ-তুলি আর কাগজ কলমে- "সময়" শিখিয়েছে ঐ জীবন যেমন।


শুধু কবিতার মতো দেখতে নয় যে, গ্যারান্টি কই!!

অক্ষরগুলো পড়ে থাকে তবু ঝুলধরা খাতে! বুকে নিয়ে ঐ কান্না অথৈ।।

=====

"আমার কবিতা, করুণ…!"


আমার কবিতা কাঁদেনি অনেককাল- 

কারণ, তার জলটুকু হায় শুকিয়ে গেছে চোখের;


আমার কবিতা হাসেওনি বহুকাল, 

কারণ তার মুক্তোহাসি- অকালে লুপ্ত ঠোঁটে!

আমার কবিতা- নীরব বধির অধীর,

আমার কবিতা- নিরাশ বিনাশ প্রাচীর,

কারণ তার সব স্বপ্নই- ভগ্ন মলিন চৌচির।


আমার কবিতা বলেনা এখন, কথা-

আমার কবিতা খোঁজেনা এখন, ব্যথা- 

কারণ তার সব শব্দেই উহ্য থাকে 'জীবন'!

উহ্য থাকে, দুর্বিপাকে- দুঃখ আমরণ,

উহ্য থাকে, ঘূর্ণিপাকে- কষ্ট কোন গোপন;


তাই বুঝি আর, আমার কবিতা- কাঁদেনি অনেককাল 

যেমনটা ঠিক, হাহাকারে- কাঁদতো আগের মতন;

আমার কবিতা হাসেওনি বহুকাল, 

যেমনটা ঠিক, আগের মতন- হাসতো বহুক্ষণ।


আমার কবিতা, বাঁচতে শিখে- হয়েছে কেবল নতুন।

আমার কবিতা- না পাওয়াতেই, একফালি 'লয়'- করুণ।।

=====

"কবিতা! সে তো গল্প গোপন"


আমাকে পৃথিবী কবিতা লিখতে বলেছিল---- 

আমি লিখেছিলাম, "মা";

আমাকে পৃথিবী, গল্প লিখতে বলেছিল- 

আমি লিখেছিলাম "বাবা";

আমাকে পৃথিবী, বলেছিল লিখতে জীবন…. 

আমি লিখে গেছি-  পুত্র-কন্যা, প্রতিবেশী, ভাই-বোন;

আমাকে পৃথিবী বলেনি- লিখতে ভালোবাসা! 

আমি লিখে গেছি- স্ত্রী, বন্ধু, আশা।


আসলে, 

পৃথিবী- 

সময়- 

উভয়েই খুব জ্ঞানী, 

আমাকে দিয়েই লিখিয়ে নিয়েছে বাণী----


…."শব্দ, সময়, অনুভূতি, যত কথা- 

      যাকিছু আপন, যাকিছু গোপন, 

      সবটুকুতেই- শুধু কবিতা"


তবু, দৃষ্টি বৃষ্টি সৃষ্টিতে- হলো নতুন,

আমার লেখা সব চেতনায়- কবিতার ভাব গোপন;


"ম" দিয়ে হলো মায়ার বাঁধন- 

"প" দিয়ে হলো পাহাড়,

ক-খ-গ-ঘ, বা, হ-য-ব-র-ল 

সবই কবিতার আধার,

"ভ" দিয়ে যদি ভালোবাসা হয়- 

"ব” দিয়ে তবে ব্যথা, 

কান্না-হাসি, দুঃখ-সুখের সমস্তটাই গাথা।


আবারও পৃথিবী বলেছে লিখতে, একটা কবিতা নতুন- আমি লিখে গেছি- হাজার যাপন, যেটুকু লিখেছে জীবন;


আমাকে পৃথিবী বলেছে লিখতে, একটা গল্প- নতুন।  

আমি লিখে গেছি- হাজার কবিতা, সবই তো গল্প- গোপন।।

====

"কবিতা যাপন"


শব্দ, সময়- কন্ঠে ধারণ, 

অনুভূতিদের থামতে বারণ, 

অক্ষরসম ইচ্ছেগুলোর- 

কলম ছুঁয়েই লক্ষ্যপূরণ, 


নাই যদি হয়- কবিতা কোনও,

দেখতে ধরো, প্যাঁচার মতন- 

ছন্দ মাত্রা বসিয়ে তাতে, 

নাও গড়ে ওই লক্ষ্মী বদন;


তারপরও যদি, যায় হারিয়ে, 

যদি পড়ে রয়- কাঁটা মাড়িয়ে, 

সন্তান স্নেহে আগলে তাদের- 

হোক কলমের স্বপ্নপূরণ।


শব্দ, সময়- কন্ঠে ধারণ, 

অনুভূতিদের থামতে বারণ, 

অক্ষরসম ইচ্ছেগুলোর- 

প্রকাশটুকুই, কবিতা যাপন।।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ