পোস্ট বার দেখা হয়েছে
কেনো যুদ্ধ
মালা সেন দে
উড়ে যাচ্ছে গোধূলির কাক ,
পাতাঝরা গাছটার ডালে ডেকে যাচ্ছে একটা পাখি ।
৬টার লোকাল ঢুকলো হুইসেল বাজিয়ে ,
শঙ্খ কি উলুধ্বনি দিয়ে সন্ধ্যার আরতি হয়নি !
কেউ জ্বালেনি প্রদীপ তুলসীতলায় ।
আমি বসে আছি খোলা আকাশের নিচে ,
সামনে এখানে ওখানে ছড়ানো ভাঙা কলসী ,
পোড়া কাঠ আর টিনের দোমরানো হাড়ি থালা ।
সবাই গেলো কোথায় ? একটা চাপা আর্তনাদ থমকে দিয়েছে সময়টাকে ।
এখন মাঝরাত , ধোঁয়ার কুণ্ডলী পাকিয়ে পাকিয়ে উঠছে আকাশে ,
একবারে নিশ্চিহ্ন হতে বাকী আছে আরও কিছু ।
যুদ্ধের বীভৎস গোঙানি, আর বারুদের গন্ধ বাতাসে,
কে দেবে ওদের ভরসা, অভুক্ত আর ভয় নিয়েই নিরাপত্তাহীন সময় ।
দূরের গাছটা থেকে পলক হীন দৃষ্টি শকুনের ,
কারা এসে ধূলিসাৎ করে দিয়েছে নগর , জনপথ ।
লোভ , হিংসা ক্ষমতার আস্ফালন আনে যুদ্ধ,
পরিণতি অপরিমেয় ক্ষয় ক্ষতি ।
কোনো যুদ্ধই কাম্য নয় ,
আজও রাতের প্যাঁচা রইলো নারকীয়তার সাক্ষী ।
বয়ে চলা নদীতে রাতের তারারা জ্বলে ওঠে ,
জানিনা আমি আমার আগামী ছাই সরিয়ে জমিতে কবে রাখবো পা ।
পোড়া গন্ধে বিষিয়ে যাচ্ছে ভাবীকাল , ভূগোলের সীমা ছাড়ায় নাম না জানা ভূগোলে ,
আমি বুঝিনা যুদ্ধ অভিশাপ না আশীর্বাদ , যেখানে হারায় আমার উজ্জ্বল শৈশব , খেলার মাঠের কৈশোর , ভালোবাসা যৌবন ।
নতুন এক অপরিচিত জনপদ ,
অর্ধ দগ্ধ , বিকলাঙ্গ শরীরের লেখা হয় ইতিহাস ॥
======
ফসিলের পট চিত্র
শুক্লা চ্যাটার্জি
এ কোন ফসিল তৈরিতে ব্যস্ত!
নীল অন্ধকারে সরীসৃপ শীতলতা ক্রমশ জমাট,
পথভ্রান্ত সভ্যতা পাক্ খাচ্ছে কূট স্বার্থের ঘূর্ণিঝড়।
ক্ষেপণাস্ত্র নয়, মেশিন গান নয়---
চাই অস্ত্রবিহীন এক শান্তির নোঙর,
আর যুদ্ধ নয় শান্তি চাই।
হজরত দিয়েছেন শান্তির পরশ,
বুদ্ধ বলেছেন সত্যের বারতা--
তাহলে আজ এত কেন হানাহানি?
চাই আজ এক যুগাবতার দেখাতে মানবিক পথ।
কত হোল বলি চারিপাশ!
দুশ্চিন্তার বুদবুদ ফুটেই চলেছে ক্রমাগত,
জ্বলছে সারা খারকিভ আজ!
তার তীক্ষ্ণ খবরের আগুনে রক্তাক্ত সবার মন।
যুদ্ধের ডামাডোলে ভাতের আশায় ,
হাহাকার ধূমায়িত চারিপাশ জন কোলাহল।
লাখো লাখো কন্ঠের কাতর আওয়াজ দিক দিগন্তে!
স্বামী পুত্র শিশু হারা হাহাকারে মুখর বাতাস।
আকাশে বাতাসে আজ যন্ত্রণার বিভীষিকার ভীমরুল!
রুশের উগ্রবাদের চরম রোষে---
শুধুই ব্যথানীল আগুন বারুদ ,
একটাও প্রাণ নেই বুঝি আর!
অনেক তো হোল এবার অস্ত্র ছাড়ো ,
ধ্বংসলীলার অবসান হোক।
ঘুচবে কবে এই নৃশংসতার আঁধার রাতি।
শ্লোগান তোল জনে জনে---
আর যুদ্ধ নয় শান্তি চাই শান্তি চাই।
রুটি রুজির নিরাপত্তার বলয়--
অনিশ্চিত অন্ধকারে ভয় সন্ত্রাসের আবহে নিমজ্জিত।
বাটি হাতে ভীত শিশু রাজপথে ভাতের আশায়,
নারীর বুক ফাটে আতঙ্কিত রণ জীবনে!
অব্যক্ত যুদ্ধ যন্ত্রণার শ্বাস গাছের পাতায় পাতায়---
অশান্ত অশুভ শক্তির দামামা সরিয়ে,
যুদ্ধ অবসানে অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো--
হোক সব মানুষের মন্ত্র আজ।
জোট বাঁধো সবে শান্তি বাণী বদলের বিপ্লবী পথে,
আর কোনো ধ্বংস নয় যুদ্ধ নয় ---
নৃশংসতাকে দূরে ঠেলে ভালোবাসো দৃষ্টিকে।
খুঁজে নিতে হবে স্বাধীকার সম্প্রীতি সৌহার্দিকতা,
ভয়ঙ্কর পৃথিবীর নাশকতায় নয়----
সুন্দর সৌরভের দৃশ্যায়নে ভরুক শান্তি বাণী,
সৌন্দর্যায়ন ফুটে উঠুক ফসিলের পট চিত্রে।
=====
সেই মূল্যহীন স্লোগানটা
সুরেশ নন্দন আচার্য
বলো নদী......
এগিয়ে চলার নামই কি ভাঙন...?
সেই ভাঙনের নামই কি যুদ্ধ...?
আর যুদ্ধই কি অগ্রগতির পরিণাম..?
তবে আস্ফালনের নলে কেন এত
আগুন বর্ষণ.....?
এই মৃত্যু বিভীষিকায় বলো হে বিশ্ব..!
ক'ফোঁটা চোখের জল ফেলেছো ---
তাদেরই জন্য খোলস হতে বেরিয়ে---
যারা বাংকারে বাংকারে অসহায়
ডাঁয়ে-বাঁয়ে, সামনে-পেছনে যাদের
মৃত্যুভয় অক্টোপাসের মতো জড়িয়ে
গলিপথে-রাজপথে, শহরে-নগরে
যারা ঝলসানো লাশ হয়ে গেছে...?
শুধুই বুদ্ধের ভাব দেখিয়ে সাধু হয়ে
সেই মুখস্থ মূল্যহীন স্লোগানটা বিড়বিড়িয়ে বসে বলছো--
" যুদ্ধ নয়, শান্তি চাই ।
রক্ত নয়, ভাত চাই। "
বলো হে সভ্যতা.....
প্রগতির নাম কি আস্ফালন....?
আর আস্ফালনের নাম কি মৃত্যুদান...?
তবে সম্প্রীতিময় জীবনের অর্থটাই বা কী বলো...??
=====
পুনরাবৃত্তি
নীলাঞ্জনা ভৌমিক
কতো হাজার লাশের উপরে একটা সভ্যতা গড়ে ওঠে !
রক্তের নদী বয়ে যায়,বাতাসে বারুদের গন্ধের সাথে-
মিশে থাকে শিশুদের কান্না,হাজার নারীর দীর্ঘশ্বাস!
ঘরবাড়ি জ্বলে ,দেশ হারিয়ে পুরুষের ওঠে নাভিশ্বাস।
পৃথিবী বিরাট প্রশ্ন চিহ্নের মুখে! আবার কি বিশ্বযুদ্ধ ?
দেখবে বর্তমান প্রজন্ম ?অতিমারিতে হয়নি বুঝি তৃপ্ত?
জীবাণুযুদ্ধ দেখেছে মানুষ লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে,
মুখোশধারী বলছে কথা মানবিকতার অভিনয়ে।
সৃষ্টি ছুটে চলেছে ধ্বংসের দিকে ,প্রলয় অনিবার্য,
বৃথাই যাচ্ছে এতদিনের সীমাহীন যত ভালো কার্য।
আগুনের সমুদ্রে মিশে যাচ্ছে শৈশব,কৈশোর,যৌবন
প্রশ্ন আবার ওঠে-এতো বিদ্ধংসের কি খুব প্রয়োজন!
শান্ত হও, ঐ শোনো বোমায় আহত ঐ শিশুর কান্না-
ছোট্ট শরীর জুড়ে রক্ত!ওর তো কোনো দোষ ছিল না!
যুদ্ধ সমাধান নয়,অগ্রগতিও নয় , ভেবে দেখ একবার,
উন্নতি,বৈভবের সাথে শান্তিরও আছে খুব দরকার।
=====
যুদ্ধ চাই না শান্তি চাই
চন্দন চক্রবর্তী
রাইফেলটা গর্জে উঠে পড়ল মোটে একটা লাশ
কামান বলে আহা ছি ছি এতো দেখি সর্বনাশ,
এমন হলে চলবে কেন খরচাপাতি পোষায় কি
সত্যি যেটা দেখনা চেয়ে নইলে খা না নাকের ঘি ।
কামান এবার গর্জে ওঠে লাশ পড়েছে বিশটা যেই
রকেট দেখে বলল একি লাভ তো দেখি শূন্য সেই,
ওমনি দিল বোমা ছুড়ে ঘায়েল হল কয়েক শো
এটম বোমা হেসে হেসে বলছে তখন ছ্যা ছ্যা ছো ।
হঠাৎ এবার রোবট দেখে হাসছে তখন হা হা হা
তোরতো সবই ওল্ড মডেল এখন ওসব চলবে না,
আমি যদি করি শুরু এক নিমেষে সবতো শেষ
আমি হলাম যন্ত্র দানব কম্পিউটারে পাই আদেশ ।
যুদ্ধ যুদ্ধ এই খেলাতে ভাঙছে যারা সুখে ঘর
হুশ হারানো মানুষ তারা কংসরাজের বংশধর,
সংখ্যাতে যে গ্যাছে বেড়ে তাইতো এখন দেখতে পাই
অস্ত্র নিয়ে ঝন ঝনানি বাড়ছে আরো দেখছি তাই ।
বিশ্বজুড়ে লাশ পোড়া ছাই তাইতো দেখি উড়ছে রে
মানবতা ন্যাংটো হয়ে তাইতো দেখি ঘুরছে রে,
তবু জানি আমরা মানুষ তার ওপরে কিছুই নাই
জবাবটাও আমরা দেবো দ্বাপরে তো দেখতে পাই ।
"যুদ্ধ চাই না শান্তি তো চাই" স্লোগান তুলে ছুটব রে
ভাইয়ের রক্তে ভাইয়ের সিনান বন্ধ এবার করব রে,
যুদ্ধবাজের কেরামতি এবার তবে করব শেষ
ভেক ধরা সব বিজ্ঞানীদের রাখবো না আর অবশেষ ।
একা তো আর হয় না কিছু লড়ব সবাই একসাথে
কেউ তো তখন পথ দেখাবে ফল তো পাবো ঠিক হাতে,
কংসবংশ ধ্বংস হবে আমরা দেব হাত তালি
তিনি তখন বাঁশি হাতে কলি যুগের বন্ মালী ।
0 মন্তব্যসমূহ