পোস্ট বার দেখা হয়েছে
শব্দহীন সাঁতার
বালিমাখা ঝাউ জানে কখন দুর্যোগ
কখন উন্মত্ত ঝড়ে উড়ে যায় সন্ধিপত্র
ভেঙে যায় বালির পাহাড়
ঢেউ জানে নষ্টচন্দ্রে
কখনই বা নৌকো ডোবে
ডুবে যায় প্রতীকী পাথর
তোমার উঠোন জানে
কোন ঘরে কে কখন জ্বালায় প্রদীপ
অস্পষ্ট অক্ষর জানে
না লেখা চিঠির কাছে কতটুকু ঋণ
লোভহীন ঠোঁট জানে ‘ভালোবাসা’ শব্দটির
শুদ্ধ উচ্চারণ
আমি প্রায় কিছুই জানি না
দায়মুক্ত স্মৃতিজলে
শব্দহীন আমার সাঁতার
=====
অদৃশ্য পাঁচিল
কিছু কৃতজ্ঞতা আমি
কিনে এনে রেখে দিই বাহির বাগানে
তুমি তাকে ভালোবাসা ভেবে
ছুটে যাও অন্দরমহলে
পুরনো চিঠির ভাঁজে জমে থাকা
মিষ্টি কোন দাগ নিয়ে
উচ্ছ্বাসবিহীন
সারাক্ষণ খুঁজে ফেরো লুকনো ভ্রমর
গোপন ঝর্ণার কাছে ফেলে আসা পুরনো শপথ
মাধবীলতার ঋণ
বিতর্কিত সুখ
আর কিছু যাপনঅভ্যাস জানে
নিঃশব্দে কিভাবে পোড়ে
সহবাস
স্মৃতিমাখা স্বপ্নময় শোক
মায়াবী চৌকাঠ কিংবা মেঘের আড়ালে
কিভাবে দাঁড়ায় এসে
অদৃশ্য পাঁচিল
=====
যদি পারো
সমীকরণের লোভে
ভেঙেছিল সমস্ত নির্মাণ
অবসন্ন পাখিদের ঠোঁটে শস্যদানা নয়
দিয়েছিলে আগুনের স্মৃতি
দু 'চোখের মণি ও পাতায়
কিছু অবিশ্বাস দিয়ে
ভেবেছিলে খাঁচায় ফেরাবে
যে ডানা ছুঁয়েছে ওই নিসর্গের সুখ
তাকে তুমি কতদিন বাঁধবে শিকলে
রাজার সমাধি থেকে একটু দূরেই
চিত্রময় রঙিন মাদুরে শুয়ে
যে নারী জরিপ করে রাতের আকাশ
তাকে তুমি বশ্যতা মানাবে
যাও যত্নে রাখা ছেঁড়া বেনারসি
এলাচের গন্ধ মাখা মেঘ
আর শব্দহীন বাঁশি নিয়ে
যদি পারো ফিরে যাও নদীর
উজানে
ছায়াযুদ্ধে জয় কোনো জয় নয়
শুধু এক মলিন শূন্যতা
====
রবীন্দ্রনাথ
অর্জুন গাছের নীচে
নক্ষত্রসমান
যিনি একা উদাসীন শূন্যতার দিকে
তিনি কি রবীন্দ্রনাথ
সোনাঝুরি গাছের আনন্দে
যখন কবিতা ওড়ে
অস্পষ্ট শাঁখের শব্দ
উলুধ্বনি বসন্তের গানে
মাধবী লতার গায়ে উড়ে বসে অলৌকিক প্রেম
তখন নিঃসঙ্গ যিনি
একা একা ছায়ার আড়ালে
তিনি কি রবীন্দ্রনাথ
ব্যতিক্রমী মাটির ওপরে
স্বপ্নহীন অজস্র নির্মাণ নিয়ে
অভিমানী প্রকৃতিপ্রেমিক যিনি
গোলাপকুঁড়ির গায়ে জমে থাকা
বিষাদের রঙ মুছে
মিশে যান চেতনাপ্রবাহে
তিনি কি রবীন্দ্রনাথ
লালমাটি
চরণধুলোয় রাঙা শান্তিনিকেতন
নতুন প্রজন্ম
ক্ষয়ে ক্ষয়ে ক্রমশ খোয়াই।
0 মন্তব্যসমূহ