পোস্ট বার দেখা হয়েছে
সময়
বলে বন্ধুরা ,এবার একটু সামলা নিজেকে
বানপ্রস্তের সময় তোর ,তবুও ঘুরিস মুক্ত মেজাজে ?
এখনো লিখিস কবিতা প্রেমের
তোর ফেসবুক ভরা গৌরিদের মন্তব্যে
কী যে করি পাইনা ভেবে ।
মনটা যে সবুজ আমার ,পাখনা মেলে নীল আকাশে
আর নেচে ওঠে বৃস্টিমাঝে ।
এখনো যে নীলাঞ্জনা, মধ্যরাতে পুর্নিমায়
অপার হাসির ঝর্না নামে ।
ফুল তুলে আনি ভোরবেলাতে
একাই ছড়াই মিস্টি হাওয়ায়
একাই ভাসাই খুশির নাও
অতীন ঘাটের স্বপ্ন মেলায় ।
বয়স সেতো বাড়ছে সদা
গুনছে সময় ক্ষণে ক্ষণে
আমায় তোমরা থাকতে দাও
খুশির নেশায় আপনমনে ।
====
ভবঘুরে
অনিমেশ বললো , আছিস ভাল
কখনত্ত সভা , কখনত্ত আবৃত্তি
দেখি তোকে টিভির বিগ্গাপনে
একটা ছবি লাগাস ফেসবুকে
একঝাক মহিলা লাইক মারে আনন্দ উল্লাসে ।
যখন কিছুই নেই , বসে লিখিস কবিতা
যার অর্থ বুঝিনা মোটেই । তবুও কিছু লোক আছে
যারা বলে “ কবি ” তোকে ।
দেখেছি ভবঘুরে ঘুরিস শহরে
ফুটপাতে বসে পড়িস পত্রিকা
এসব তুই পারিস কী করে ?
আমি বলি , এক পা দেখ না বাড়িয়ে
আত্মবন্ধ খাঁচার বাইরে । পৃথিবী বড়ই সুন্দর
আছে অনেক মানুষ , বাড়ায় হাত ভালবেসে
তাই প্রতিটি সূর্যদয় হয় আমার
আশাভরা এক রঙধনু হয়ে ।
====
সপ্তর্ষি
সময়ের স্রোতে ভেসে যায় , জোনাকি স্মৃতি
রাতভেঙ্গে সূর্যদয়ে , ছেড়া মেঘ ওরে হাল্কা বাতাসে
স্বরলিপি , অসমাপ্ত কবিতা , কিছু বেহালার সুর
কোলাজ হয়ে মিশে যায় দিগন্তে বালুকায় ।
আর কিছু কথা , গান , হাসি , মিষ্টি ভাললাগা
ঘড়ির গ্রন্থি ভেঙে , যখনই একাকী , নিরিবিলি শুদ্ধতায়
পাশে এসে বসে , খোলা নৌকোয় , ভাঙে জল নিরবধি
হাজার তারার মাঝে , ভিন্ন দীপ্ততায় এযেন সপ্তর্ষি ।
====
তুমি
অনেকেই ছিল সেদিন সাহিত্য সভায় । এক কোণে
চা হাতে বললে তুমি , “ দারুণ কবিতা লেখেন আপনি । ”
কতজনই তো বলে , কিন্তু তোমার কথায়
না জানি কেন ছুঁয়ে গেল হৃদয়ের গহিনতল
মনে হল সার্থক হল কবিতার প্রাণ ।
এরপর সাতদিনে সাতখানা লিখেছি কবিতা
তাতে ছিলে তুমি , প্রেরণার শব্দ যেন বাঁশির সুর
শান্তমন নদীতীরে , দখিনা হাওয়ায় যেন পাতার মর্মর
যেমনি জানালায় দাঁড়িয়ে কেউ , হাত নাড়ে
যাতে ফোটে শুভ্রসুন্দর জুঁই আর শেফালীরা শত ।
কতবার সারা শহরে খুঁজেছি তোমায়
প্রতিটি সভায় , পার্কে , ভীড়ে , বাজারে সর্বত্র
কেউ পারেনি দিতে তোমার ঠিকানা , সুখযন্ত্রনা
রইল শুধু আমার হয়ে , সবার অজানা ।
====
কবি
এ বড় অসহনীয়
পায়চারি করি ঘরময় , বারবার বসি
লিখি কিছু লাইন , আবার নিজেই কেটে ফেলি
শব্দগুলো মনের আরশিতে , তবুও
পারি না সাজাতে । অবিন্যস্ত মন ময়
এ বড় কষ্টকর , কী করব আমি ?
তুমি এলে কাছে , জড়ালে দুহাতে , বললে
” পারবে লিখতে , শান্ত হও তুমি
বেলা শেষে সমুদ্র সীমান্তে গৈরিক সূর্যোসম । ”
তুমি গেলে বাগানে , দেখি জানালায়
পিঠময় ভেজা চুল , নীল শাড়ি , দুহাতে তুলছো
রঙিন ফুল , ফুলদানি সাজাবে বলে
মুহূর্তে মনে হল , তুমিই কবিতা
এমনিই থেকো পাশে , মনমাঝে , বাগানে
হে মোর নীলাঞ্জনা ।
====
ভালবাসা
কেন তুমি , এত ভালবাসো আমায় ?
লোকে বলে উদাসীন , ভবঘুরে শহরময়
ঝোলা থেকে খাতা নিয়ে হঠাৎ বসি লিখতে কবিতা
কোনো দায়দায়িত্বের কখনত্ত দিই নি পরিচয়
কী চাই ? খুঁজে ফিরি অহর্নিশ ,নিজেই জানিনা
বুঝিনা শুদ্ধ বা মন্দ ,চিনিনা কে বন্ধু বা শত্রু
যারা দুরে ঠেলে , তাদেরি করি জয়গান
সব অবজ্ঞাকেও না দেখা করে বাড়াই দু হাত
মাতাল হয়ে ফিরি মধ্যরাতে , তবুও তুমি
বিনা প্রতিবাদে ঘরে তুলে নাও
সামনে সাজাও গরম খাবার , নির্বিকার
আমি ক্ষত বিক্ষত হই নিজস্ব অপরাধে
চেপে রাখি পাঁজরের হাহাকার ।
কেন তুমি , এত ভালবাসো আমায় ?
যতই দিই না ফাঁকি , হয়ত জেনে গেছো খাঁটি
আমি কতখানি ভালবাসি , শুধু তোমায় ।
0 মন্তব্যসমূহ