দর্পণ || কবিতাগুচ্ছ || শিবাজী সান্যাল




পোস্ট বার দেখা হয়েছে

সময়


বলে বন্ধুরা ,এবার একটু সামলা নিজেকে 

বানপ্রস্তের সময় তোর ,তবুও ঘুরিস মুক্ত মেজাজে ?

এখনো লিখিস কবিতা প্রেমের 

তোর ফেসবুক ভরা গৌরিদের মন্তব্যে

কী যে করি পাইনা ভেবে । 

মনটা যে সবুজ আমার ,পাখনা মেলে নীল আকাশে

আর নেচে ওঠে বৃস্টিমাঝে । 

এখনো যে নীলাঞ্জনা, মধ্যরাতে পুর্নিমায়

অপার হাসির ঝর্না নামে ।

ফুল তুলে আনি ভোরবেলাতে

একাই ছড়াই মিস্টি হাওয়ায়

একাই ভাসাই খুশির নাও

অতীন ঘাটের স্বপ্ন মেলায় ।

বয়স সেতো বাড়ছে সদা 

গুনছে সময় ক্ষণে ক্ষণে

আমায় তোমরা থাকতে দাও

খুশির নেশায় আপনমনে ।

====

ভবঘুরে


অনিমেশ বললো , আছিস ভাল 

কখনত্ত সভা , কখনত্ত আবৃত্তি 

দেখি তোকে টিভির বিগ্গাপনে

একটা ছবি লাগাস ফেসবুকে

একঝাক মহিলা লাইক মারে আনন্দ উল্লাসে ।


যখন কিছুই নেই , বসে লিখিস কবিতা 

যার অর্থ বুঝিনা মোটেই । তবুও কিছু লোক আছে

যারা বলে “ কবি ” তোকে ।


দেখেছি ভবঘুরে ঘুরিস শহরে

ফুটপাতে বসে পড়িস পত্রিকা 

এসব তুই পারিস কী করে ?


আমি বলি , এক পা দেখ না বাড়িয়ে

আত্মবন্ধ খাঁচার বাইরে । পৃথিবী বড়ই সুন্দর 

আছে অনেক মানুষ , বাড়ায় হাত ভালবেসে

তাই প্রতিটি সূর্যদয় হয় আমার 

আশাভরা এক রঙধনু হয়ে ।

====

সপ্তর্ষি


সময়ের স্রোতে ভেসে যায় , জোনাকি স্মৃতি 

রাতভেঙ্গে সূর্যদয়ে , ছেড়া মেঘ ওরে হাল্কা বাতাসে

স্বরলিপি , অসমাপ্ত কবিতা , কিছু বেহালার সুর 

কোলাজ হয়ে মিশে যায় দিগন্তে বালুকায় ।

আর কিছু কথা , গান , হাসি , মিষ্টি ভাললাগা

ঘড়ির গ্রন্থি ভেঙে , যখনই একাকী , নিরিবিলি শুদ্ধতায়

পাশে এসে বসে , খোলা নৌকোয় , ভাঙে জল নিরবধি 

হাজার তারার মাঝে , ভিন্ন দীপ্ততায় এযেন সপ্তর্ষি ।

====

তুমি


অনেকেই ছিল সেদিন সাহিত্য সভায় । এক কোণে

চা হাতে বললে তুমি , “ দারুণ কবিতা লেখেন আপনি । ”

কতজনই তো বলে , কিন্তু তোমার কথায়

না জানি কেন ছুঁয়ে গেল হৃদয়ের গহিনতল

মনে হল সার্থক হল কবিতার প্রাণ ।

এরপর সাতদিনে সাতখানা লিখেছি কবিতা 

তাতে ছিলে তুমি , প্রেরণার শব্দ যেন বাঁশির সুর

শান্তমন নদীতীরে , দখিনা হাওয়ায় যেন পাতার মর্মর 

যেমনি জানালায় দাঁড়িয়ে কেউ , হাত নাড়ে

যাতে ফোটে শুভ্রসুন্দর জুঁই আর শেফালীরা শত ।

কতবার সারা শহরে খুঁজেছি তোমায়

প্রতিটি সভায় , পার্কে , ভীড়ে , বাজারে সর্বত্র 

কেউ পারেনি দিতে তোমার ঠিকানা , সুখযন্ত্রনা

রইল শুধু আমার হয়ে , সবার অজানা ।

====

কবি


এ বড় অসহনীয় 

পায়চারি করি ঘরময় , বারবার বসি

লিখি কিছু লাইন , আবার নিজেই কেটে ফেলি

শব্দগুলো মনের আরশিতে , তবুও

পারি না সাজাতে । অবিন্যস্ত মন ময়

এ বড় কষ্টকর , কী করব আমি ?

তুমি এলে কাছে , জড়ালে দুহাতে , বললে

” পারবে লিখতে , শান্ত হও তুমি 

বেলা শেষে সমুদ্র সীমান্তে গৈরিক সূর্যোসম । ”

তুমি গেলে বাগানে , দেখি জানালায়

পিঠময় ভেজা চুল , নীল শাড়ি , দুহাতে তুলছো

রঙিন ফুল , ফুলদানি সাজাবে বলে

মুহূর্তে মনে হল , তুমিই কবিতা 

এমনিই থেকো পাশে , মনমাঝে , বাগানে

হে মোর নীলাঞ্জনা ।

====

ভালবাসা


কেন তুমি , এত ভালবাসো আমায় ?

লোকে বলে উদাসীন , ভবঘুরে শহরময়

ঝোলা থেকে খাতা নিয়ে হঠাৎ বসি লিখতে কবিতা 

কোনো দায়দায়িত্বের কখনত্ত দিই নি পরিচয়

কী চাই ? খুঁজে ফিরি অহর্নিশ ,নিজেই জানিনা

বুঝিনা শুদ্ধ বা মন্দ ,চিনিনা কে বন্ধু বা শত্রু 

যারা দুরে ঠেলে , তাদেরি করি জয়গান

সব অবজ্ঞাকেও না দেখা করে বাড়াই দু হাত

মাতাল হয়ে ফিরি মধ্যরাতে , তবুও তুমি 

বিনা প্রতিবাদে ঘরে তুলে নাও

সামনে সাজাও গরম খাবার , নির্বিকার 

আমি ক্ষত বিক্ষত হই নিজস্ব অপরাধে

চেপে রাখি পাঁজরের হাহাকার ।

কেন তুমি , এত ভালবাসো আমায় ?

যতই দিই না ফাঁকি , হয়ত জেনে গেছো খাঁটি 

আমি কতখানি ভালবাসি , শুধু তোমায় ।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ