পোস্ট বার দেখা হয়েছে
সাম্যের সৌম্যতা
জাফর পাঠান
নীলাভ নীলাকাশ যখনি- নীলাম্বুতে হেলে পড়ে
সৌম্য সাম্য সৌহার্দতার প্রেম যেন নির্ঝরে ঝরে,
নীলাম্বরী শাড়ি পরে- নীলোৎপল যখন হাসে
তামাম সৃষ্টিকুল- নৈসর্গিক ভাস্বরে ভালোবাসে।
নেই জাত-পাত- ধর্ম-বর্ণ বিভেদ- সম বন্ধনে
পারেনি বাধাতে কোনো দাঙ্গা দুষ্ট চক্রের ইন্ধনে,
ঢেউয়ের আছড়ে পড়ায়- তৃপ্ত পাহাড়ের বুক
মোহনার মিলনে মোহিত জল চাখে মৌনী সুখ।
মানুষ কেন ভুগে- হীনমন্যতার মোহতে পড়ে
ভুলে গিয়ে সাম্য সৌম্যতা অহমের হালটি ধরে,
সীমান্তের পর সীমান্ত এঁকে, গড়ে বিভেদী ঘর
আর মনুষ্যত্ব বিলয়ে- মানবকুল কাঁদে ঝরঝর।
আমি কে! আগমন কারবা ইশারায় অতঃপর
ভুলে যাই কোন্ কাজটি- আমায় করবে অমর,
ছুটে চলে নদী, অর্ণব মিলনের সুখ যাত্রায়
মানুষ ছোটে- প্রলয় বিলয়ের- ধিকৃত মাত্রায়।
কবে মানুষ জাত- প্রকৃতি চরিত্রে মেলাবে হাত
ভুলে গিয়ে সংঘাত, হবে পরস্পর মোলাকাত।
=====
"বেঁচে থাকার কবিতা "
কৌশিক গাঙ্গুলি
এখনও মাঝে মধ্যে সকালের উনুনের ধোঁয়া কাটিয়ে মাদারির খেলা হয় মফঃস্বলে , এখন দমকা ঝড়ে মশা মরে না তারা জায়গা বদল করে ঐখানে -সেইখানে - এখানে , শীতে বেশ ভিড় হয় স্কুল পড়ুয়াদের ঝিংকাস সার্কাসে , একই খেলা দেখে বারবার মজা পায় বিন্দাস ,খুদে জোকারদের বন্ধু না হয়েও প্রাণভরে হাসে । আমরা এখন জামা পাল্টাতে ওস্তাদ , নানা রঙের জামা - লাল , গেরুয়া ,সবুজ কিংবা সাদা যখন তখন পড়তে পারি , আমাদের বিবেক যদি জামার মতন রকমারি হতো ?
অবশ্য অনেকে বিবেক হারিয়ে ধান্দাচারি , সুবিধাবাদী যতো । আমাদের হারুবাবুর শীতে গরম আর গরমে শীত , বর্ষার বৃষ্টির মতন যখন তখন বত্রিশ দাঁতের ছত্রিশ ধরণের হাসি । গেনুপিসি অম্বলের সময় কম্বল চাপায় কুটকুটে , কানা ভিখারী ফাঁটা গলায় গান গায়ঃ প্যায়ার দে.... । দিঘি , পুকুর বুঝিয়ে প্রমোটার বৃন্দ উন্নয়ন করে , আবাসন শিল্প বাড়ে । পরিবেশের উন্নতির জন্য দূষণের পরোয়া না করে গাছ কাটা হয় , ফার্নিচার শিল্পের কাচামাল সাপ্নাই দেয় দালাল । কাটমানির টাকায় নেতারা টবে ক্যাকটাস এর বাগান করে । আমরা দাঁত কেলিয়ে হে হে করি , খেকুড়ে শকুন চোখ মেরে দাঁড়ায় জলহীন ট্যাঙ্কের ওপর । সময়ের আঁচড় নিয়ে খাদ্যদ্রব্য পাচার হয় সীমান্তে , ভিখারীর কাছ থেকে তোলা নেয় ফুটো মস্তান , নকল ভদ্রতায় আর মিথ্যা প্রতিশ্রুতিতে ভরে যায় সমাজ ,বোধের রক্তক্ষরণে থমকে যাওয়া সভ্যতা কাঁদে ,বারবার ফিরে আসে ভূমিকম্প ।
0 মন্তব্যসমূহ