দর্পণ || কবিতাগুচ্ছ || দেবাশীষ ভট্টাচার্য্য




পোস্ট বার দেখা হয়েছে

লিখিত 


এই যে আমি লিখছি ,

তুমিও লিখছো , ওরাও লিখছে -

লিখেই চলেছে,  কেউ হাঁপাচ্ছেনা,

কারো কোন শোক নেই -

ব্যার্থ প্রেমের প্যানপ্যানানি নেই,

উল্লাস নেই, খিদে নেই।

লিখছে সবাই লিখে চলেছে!

লিখতে লিখতে রক্তের গান গাই,

দলছুট হয়ে রেললাইনে শুয়ে সদ্য কাটা পড়া মৃতদেহের মতো -

শুকনো গাছের পাতার মতো ,

সবাই লিখছে , ঘাড় গুঁজে - দম নিয়ে এবং ছেড়ে।


শব্দ ঘুরে ফিরে আসছে -

কবিতা - গল্প - উপন্যাস কতো খাবার,

কলমে চেটে চেটে খাচ্ছে,

কেউ আকাশে উঠছে, কেউ শুয়ে থাকছে কবরের পাশে - শ্মশানের ভিটায় ,

অথচ, সবাই লিখছে - লিখেই চলেছে ;

তোমরা পড়তে পারো ;

যদি লেখার পর কিছু সময় পাও! 

====

পাষাণ সোপান 


পেতে দেখিনি কতোটা মসৃণ কিংবা ক্ষতঃ,

সবাই তো ছিটকে চলে যায়,

সবাই টানে -

দড়ির বদলে দূরত্ব,

শূন্যতার বদলে স্বার্থ ;

কথাবলা পুতুল হাতে -

খিঁচুনি ধরা রাত -

আবর্জনার মতো ব্যথা ।

স্মৃতি চাও!

আমি জেগে আছি প্রতিদিন,

মায়াবী ভালোবাসার মিছিলে স্বশরীরে,

কতো অভিনয় আসল হয়ে যায়,

জমাট জমাট খেলা,  

দিনান্তে কষ্টভেজা বিছানায় স্বপ্নের ঘেঁটি ধরে শেখাই পথ চলা ;

খুলির ভিতরে রাতের ট্রেন -

তারা ছড়াতে ছড়াতে ছুটে যায় গভীরে,

ঘষে ঘষে ক্ষয়ে আসে কবিতারা ; 

লিখে ভুলে যাইনা এখনও,

রোজ ভাবি একটা অন্যরকম কবিতা লিখবো ;

ঘুরে ফিরে অভিমান হয়ে যায়। 

=====

তবু অঘটন ঘটে 


কিছু বিষয় বুঝতে ও জানতে গেলে বয়স বেড়ে যায়,

শিশুরা যেভাবে সমাজটাকে দ্যাখে,

চাষার ভিতরে ঘনীভূত হয় বিপ্লব ,

শ্রমিকের পাঁজর ঠেলে যন্ত্রাংশের সংসার,

অঙ্কুরোদগম নেই - উপোষ গন্ধের রুটি পুড়ে যায় নিরালায়।

অথচ আমরা দৈবিক গতি রাখি,

ফুলে ফুলে ঘষাঘষি -

খবর আর খবর - টি আর পি মোড়া সকাল, 

প্রবল উচ্চাভিলাস - কাঙ্ক্ষিত কাঙাল ব্যালট কাঁদে,

নিটোল সমৃদ্ধি কোথায় পাবো জানা নেই -

রক্ত পতাকা তোমার ও তোমাদের জন্য নয়।

যাও!

দূষিত করো উলঙ্গ শরীর শহরে শহরে,

গ্রামে লাশের সমতা ;

বেশ্যার শরীরে অজানা রোগ পুড়ে উল্লাস করো,

রোজগেরে চাকা - কন্ডাক্টারের ডাক ক্ষীণ হয়ে আসে,

রাজপথ তোমাদের বিকারগ্রস্ত সোপান,

দাপাদাপি - রেষারেষি - আগুন,  

গোপনে বিতৃষ্ণা বলে কিছু নেই,

শিক্ষার পবিত্র টিলায় খরপোশের মাচা ,

ধোঁয়া বয়ে আসে পাহাড়ের গা বেয়ে মিইি জীবনে বাস্তবের খোঁজে,

কিছু বিষয় বুঝতে গেলে -

একটা জীবন যথেষ্ট নয়। তবু অঘটন ঘটে -

===

সমাজের কবিতা লিখবো বলে 


নিজেকে চিনতে  গিয়ে -

উড়ন্ত মেঘের বুক ছুঁয়ে,

শিশুর খেলনায় অচেনা দারোয়ান হয়ে জাগি,

ভোরের সব আলো - কথাবলা পুতুল,

আমার নয় - 

নিয়ে যেতে পারো ফেরত যেকোনো সময়,

কোয়ারেন্টাইনে প্রেমিক যুগল,

ফেরত পেতে চায় আকাশ আর কিছু ফুল,

ভাইরাস পাতে - হেসে ওঠে মায়াবী সভ্যতা,

ট্রামের টলমলে চাকা আর নেই,

সারারাত হন্যে হয়ে কুকুরের সাথে - নদীর কালো জল ছুঁয়ে -

সময়ের মরক লাগে ।

পথ আর পথ,  

কোনোটা আলাদা কোনটা একসাথে মেশে ,

বোঝাতে বোঝাতে শুকিয়ে যায় পাহাড়ে টাঙানো জামা,

বনানীর ডাইনিং টেবিল -

পাতারা রান্নার কাজ ছেড়ে ভোটাধিকার খোঁজে,

তন্ত্র নির্বিকার -

নিজেকে উজাড় করতে গিয়ে,

হারিয়ে ফেলি বেনামী কতো চিঠি,

কতো সংলাপ ;

অপেক্ষা অপেক্ষা খেলা ;

আর সময় দেইনা বলে বিপ্লব অভিমান করে ওঠে ,

আমি সকলকে ঘুম পাড়ানী গান দিয়েছি,

দিয়েছি ফলিডল মেশানো গোলাপ,

উন্মাদ মরু আমার বুকে জেগে,

বালি শুধুই বালি -

পা পুড়ে যায় উষ্ণতায় -

হরিধ্বনী আমার কাছে আছে ;

সমাজের কবিতা লিখবো বলে ।


====

ক বি তা 


আমার ভিতর থেকে তোমার অস্তিত্ব পর্যন্ত,  

খামখেয়ালি দিনে - সম্পর্কের মতো , 

বোঝাই করে রাখা খিদে - 

যতো দোষারোপ নেমে আসে আকাশ থেকে - কাঁদে,

ফরমায়েশী বেলুনে চেপে নেশাতুড় - 

কবিতা আমাকে জাপটে ধরে রাখে,  

নিয়ে চলে দূর , গভীরে বহুদূর ।


এই গভীরতা অবুঝ পরিমার্জনাহীন গোধূলি,  

ফাগুনে কুহুক আর পলাশের ব্রজবুলি ,

বিপ্লবে - আঁধারে,

মৃত্যুর দেশে শহরে শহরে,  

কবিতা আমাকে জাপটে ধরে রাখে,  

নিয়ে চলে দূর, গভীরে বহুদূর ।


পরিযায়ী শ্রমিকের ভীড়ে , খেটে খাওয়া মানুষের জ্বরে,

ক্লান্তির অছিলায় - শব্দেরা যখন অসহায়, 

ইতিহাসে - আশেপাশে, দুর্বলতায়,  হতাশায়,

জেগে থাকে অবোধ দুচোখ,

 ঝরাপাতাও উড়ে যায় ঘাসের শরীরে শরীরে,  

ঠিক এভাবেই ডেকে নেয় আমায় - 

কবিতা আমাকে জাপটে ধরে রাখে,  

নিয়ে চলে দূর , গভীরে বহুদূর ।

====

নিখোঁজ ঈশ্বর 


আমিও শক্ত হতে পারতাম,

সবুজ মাঠে - ধর্মতলার জনবহুল মোড়ে ,

একদিকে পৃথিবী অন্যদিকে আমার ঈশ্বর ,

এখানে পৃথিবী বলতে রোজ অচেনা ইতিহাস,

ঈশ্বর বলতে দুচোখ বোঝার চেষ্টা -

চেতনায়, চেনা পরিচয়ে কিংবা আত্মবিশ্বাসে, 

চেষ্টা করতে করতে একটা সময় বিশ্রাম নাম দিয়ে ফেলি,

উপলব্ধি করতে থাকি খাঁচা,

আত্মজীবনী আর কলম,

কবিতা গোছের কিছু - আমাকে তুলে ধরে ক্রুশে,

বিদ্ধ করে একের পর এক পেড়েক -

যন্ত্রণা হয়, ভাবনা গুলো যন্ত্রণা দেয়,


কিন্তু সুখ?


ফিরে তাকায় -

 ভালোবাসার রাস্তা খোলে,

তর্কের খাতিরে যাকে বলি পৌঁছে যাওয়া, কিংবা প্রাপ্তি,

উপলব্ধি ঘুমায় - ঘুমাতে থাকে অকাতরে,

শূন্যতা জড়িয়ে আমার পৃথিবী-

 ঈশ্বরের খোঁজে কবিতা লেখে রোজ। 

=====
ঘর
   

নিউটন ছিলোনা ,আমার আপেল খাওয়া নিঝুম  দুপুরে , 
হোমারের শেষ হাসি , কবিতার খাতায় ছাপানো বিশ্বাস - 
আমি বর্ণময় হয়ে উঠেছি প্রতিদিন - 
আশেপাশের সম্পর্ক গুলো উচ্ছাসের মতো আসে যায় - 
ঘুটঘুটে গলির চারপাশে গ্যালিলিও ঘুরে বেড়ায় !

আমি জানতে পারিনি হর্ষবর্ধনের কলিঙ্গ জয়ের ইতিহাস,  
সবকটা পাতা ইঁদুরের পেটে - সব বিন্যাসে নতুনত্বের মোমবাতি - 
জ্বলতে জ্বলতে কষ্টের ছোঁয়াচে স্বপ্ন গিলে খাও - 
ওরা কথা বলতে শিখেছে সকলে - 
ছুটে আসে একে একে চারপাশে যতজন যেভাবে আসে - 
আমি নিজের মতো করে ভালোবাসা গুছিয়ে রাখি - 
সর্বনাশা একাকিত্বের বন্যায় সত্যজিতের ফেলুদা - 
সক্রেটিস আমায় সমাজের ঘেন্না দিয়ে গ্যাছে - মার্কস আমায় দিয়েছে বিপ্লব - 

তোমাদের জড়িত ভাবাবেগে আর্কিমিডিসের আঁচড় - 
সুতরাং ঘুম না আসাই স্বাভাবিক -

রাতটা বোকা, জুলুম খুঁজে - কলম আর আমার বন্ধুত্বের ঘর।

====
কবিতা আপডেট 

মাঝে মাঝে রাত্রি করে ঘোলাটে যন্ত্রণা হয়,
কর্তব্যের পরেও দূরত্ব ঘোষণা,
নিঝুম নিঃশ্বাস -
পাশ ফিরে শুলে স্বপ্ন দেখি -
এগিয়ে চলার।

||২|| 

চুম্বক কিংবা তড়িৎ ক্ষেত্র,
কতোটুকু আকাশ রাখা থাকে,
টেনে টেনে কাছে আসাআসি,
নিরপেক্ষ কিছু মাটি -
মাটি আঁকড়েই সভ্যতা বেড়ে চলে,
আমি কেবলই বয়স গুণতে শিখলাম।

|| ৩||

ভালো আছি খুব - 
ভালো আর ভালোত্বের কাছাকা‌ছি,
প্রাপ্তি আর পরিণতি একই ফসল,
মাঠের মাঝখানে পোঁতা দুঃখজনক কাঠফাটা রোদের মতো ,
ভরদুপুরে যন্ত্রণা শীতল হতে চায়,
আমি শীতলতা চাইনি কোনদিনই -
ভালো থাকতে চেয়েছিলাম ।


|| ৪|| 

করুণ চৈত্র শেষে,
অবৈতনিক ফুটিফাটা কাঁধে,
প্রত্যাখ্যান করে শীতের সকাল,
গভীরে আঁচল টেনে ধরে প্রাকৃতিক বুকের -
গাছে'গড়া সবুজ স্তন -
বস্তুতঃ ঘাসের তৈরী কোমর,
আরও কিছু ছিলো,
সমস্ত নারীকেন্দ্রিক বিষয়ে উষ্ণতা থাকে,
প্রবল দাবদাহের মতো পোড়ায় -
নিয়ে যায় নতুন বৈশাখে ।

====
জেগে আছি .... 

বোঝাই করা জাহাজ - ঠায় দাঁড়িয়ে মাস্তুল ,
তোমার গল্প মুড়ে রাখে হাওয়ার বুকে -
তোমার চলে যাওয়া,  ফিরে আসার মাঝে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রাখে কবিতা,
সমুদ্রের বালুরাশি - পাহাড়ের দৈন্যতা,
স্কুলছুট পাখির ঝাঁকে গান শোনায় - বলে কতো কথা।

কেমন আছো নিলোফার?
কয়েকশো বছর পর স্মৃতির পাতা খুলে -
কয়েকলক্ষ আলোকবর্ষ ছুঁয়ে জ্যোৎস্নার বুকে ঝুলে,
রাতের তারারা ভাবনা শেখায়?
নিয়ে যায় সেই অজানা দ্বীপপুঞ্জে ? 
আমার তোমার মিশে থাকা সকালবেলা ?

এখানে তোমার প্রেমিক নেই,
এখানে নেই তোমার অবুঝ দপুর,
একে অপরের ঠোঁটে ঠোঁট দিয়ে কখন ঘুমিয়ে পড়েছে লতানো গাছগুলো -
ভাঙা টেবিলে শুকিয়ে যাচ্ছে শিহরিত মোমবাতির শিখা -
এক ঝটকায় উল্টে দিয়ে ক্যালেন্ডারের পাতা ,
প্রশ্ন করে একাকী মন -
আরও পথ চলা বাকি যখন 

নিলোফার , তুমি আজও জেগে আছো জানি ,
এই ভালোবাসায় একটা জীবন জেগে থাকা যায় -
ঠিক যেভাবে শত দূরে -
আমিও জেগে রয়ে গেছি - আমার কবিতায় ।

====
পুড়ন্ত কবিতা পাঠক খুঁজতে ফেসবুকে যায় 

একটু একটু লেখার আগেই অনেকটা হয়ে যায় -
অনেকটা লেখার পর একটু আর চোখেই পড়ে না ;
তন্দ্রা তন্দ্রা শব্দ - শীতল জেদের মতো গড়ন ;
হাত পা ছুঁড়ে কাঁদতে থাকা ভাবনাদের আপন করে নিতে পারে;
বস্তুত ঝড়ের প্রেম আর আচমকা ঝলসে ওঠা ভালোবাসার কথা ছিলো,
এক্ষুনি লোডশিঙের পর গরম ঘিরে ধরে - ঘাম ঝরায় যেমন -
কবিতা, অন্ধকারে আলোর দিশা পায় ;
সংকল্প মাটির ঝাঁকুনি মুড়ে - ভূমিকম্পের মতো রেখটার স্কেল জুড়ে,
হিসেব দিয়ে যায় প্রবণতার ; আর!
বেহুঁশ লোলুপ পৃথিবীর ঢেউ খেলানো মেঘে -
রাতের আকাশে বৃষ্টিরা থাকে জেগে,
আমার কবিতায় শ্রাবণ ঝরা রং -
লিখতে পারছি এটুকুই অনেক, এ আর কি এমন।

ভালো থাক মন -
ভালো থাক ইচ্ছেরা ,
গুষ্টিশুদ্ধ এক নিমেষে শেষ নেই -
এই চিতা অমোঘ - নিরাকার আজীবন জ্বলবেই,
তারপর স্বার্থের সকাল হলে -
বুদ্ধির গরম জলে বসে ,
পুড়ন্ত কবিতা পাঠক খুঁজতে ফেসবুকে যায়। 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ