দর্পণ || স্মরণে লতা মঙ্গেশকর || পর্ব -৪




পোস্ট বার দেখা হয়েছে

সুচন্দ্রা বসু 

পুনরুত্থান


ভারত যখন সরস্বতী বন্দনায় নিবিষ্ট চিত্তে

 মগ্ন সেই মুহূর্তে সুরসম্রাজ্ঞীর জীবন প্রদীপ নিভে যায়।যে নাইটিঙ্গেলের সুর সকলের হৃদয় স্পর্শ করেছিল  মুহূর্তে শোকের ছায়ায় অন্ধকার  নেমে আসে।আর তারপর থেকে  শুরু হয় বিশিষ্ট মহলে তাঁকে নিয়ে স্মৃতিচারণা। তিনি যেন মা ‘সরস্বতীর বরপুত্র'। ১৯৬০ সাল থেকে একের পর এক সুপার হিট গানের মাধ্যমে সাফল্যের চূড়ায় উঠেছিলেন তিনি।তাঁর এই সফলতাকে কেউ কেউ সহ্য করতে  পারেনি।একরাশ দুঃখ নিয়ে জীবনে  চলার পথে তাঁকে এক গোপন ষড়যন্ত্রের স্বীকার হতে হয়েছিল। খাবারে বিষ মিশিয়ে তাকে স্লো পয়জন

 করে মারার চেষ্টা করা হয়। সেটা জানাজানি হতেই রাধুনিরা বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যায়।এরপর 

 লতা মঙ্গেশকর ভেবেছিলেন তিনি আর কোনদিন

 গানের জগতে ফিরে আসেতে পারবেন না।তিনি

 খুব ভেঙে পড়েন।মনমরা হয়ে দিন কাটতে থাকে।

সেসময় তাঁর পাশে এসে দাঁড়ান কবি মাজরুহ সুলতানপুরী।দিনের পর দিন তাকে কবিতা শুনিয়ে 

তাঁর ভাঙা মন সারিয়ে তোলেন।বলতে গেলে তাঁরই প্রেরণায় লতাজী আবার গানের জগতে 

ফিরে আসার শক্তি ও সাহস পান।সে সময় তিনি 

পাশে না থাকলে পরবর্তীকালে আমরা লতাজীকে

পেতাম কিনা কে জানে।এরপর পুনরায় গানের

জগতে ফিরে এসে 'কহিন দীপ  জ্বলে কহিন দিল ‘ এই সুপারহিট গানটির গীতিকার হেমন্ত মুখার্জির গান রেকর্ডিং করেন।

ঝুমা মল্লিক

সাবধানে যেও রাণী


যেতে হয় ,সেকথা জানি।

কিন্তু মেনে নিতে, কি করে পারি?

বেড়ে যায় বেদনা, চোখে অশ্রুবারি ।

তুমি সুরের রাণী।

তুমি ঘুমিয়ে আছো,মনে মনে তোমায় জাগিয়ে রাখতে জানি


আজ বাতাসে কান পেতে শুনেছি সেই গান।

সুরে সুরে ভরে ওঠে আমাদের  প্রাণ।

যাবে,যাবে চলে এই পথে,পথ কেঁদে ওঠে

এক সমুদ্রে ঢেউ বেড়ে ওঠে।


জানি,যেতে হয়

সময় হলে থাকেনা কেউ,

নদী,যদিও আজ তোমার খুব দুঃখ  ,তবুও পৌছে দিও তাকে

রাণী ,শ্বেতপদ্ম সাথে নিও।

সাবধানে যেও ।


সব রয়ে গেলো,

সুরে সুরে ভরিয়ে দিলে বিশ্বসংসার।

সুরের রাণী সঙ্গে কি নিলে?ভালোবাসা !

পঞ্চমী শেষে বিদায় পত্রে  তোমার নাম লিখে দিলে।

চিরবিদায় নিলে!

সাদা শাড়ির আঁচলে  ভালোবাসা বেঁধে নিও।সুরে থেকো।

ভালো থেকো,সুখে থেকো রাণী।

সাবধানে যেও।

শঙ্কর তালুকদার

 অমর সুর সাধিকা লতা মঙ্গেশকর

 

শুকনো ফুলের স্মৃতির মতই রইল পড়ে সবই,

থাকলও তবু জল না লেগে কেবল সাদা রঙই,

যাবার দিনেও চিহ্ন রেখেই থামল যে সে তাজ,

বিষর্জণের আয়োজনেও সে বাগদেবীর আওয়াজ!

জীবন যুদ্ধের সৈনীক হয়েই কৃষ্টি ছিল ভাবনায়,

স্বার্থকতাও যেন ছিল তাঁর অভ্যাসের আঙ্গিনায়-

অভিনয় দিয়ে প্রকাশ হলেও ছিল সঙ্গীত তায়;

ভারতরত্ন, কোকিলকন্ঠীই ছিল নিবেদিত সাধনায় !

গভীর ছোঁয়ায়, দোলনায় যেন, তাঁর সে সব সুর-

সঙ্গীতেরই সে শিল্প মেলায় সুর ছিল কত মধুর!

মাধুরী ঝরাণো সে সুরেই প্রাণ-সঙ্গীত যেন গায়!

কত ভাষার স্বরযন্ত্রে মিলেছে যে সঙ্গীত সে ধারায়!

ক্লিষ্ট শরীর জড়ার ভারে বিছানার সাথেই ছিল-

পার্থিব সব আকাঙ্খাতে তবুও গান গুনগুনিল-

বাজল সরোদ, সিম্ফনিতেই নিদ্রা এল শেষের-

পোষাক ছেড়ে পার্থিব জীবনের মৃত্যু শেষ শ্বাসের !

প্রাণেরই সাথে,গানের সাথে জীবন মিলে গেলে,

মৃত্যু এসেও জ্বালিয়ে আলো সুর ও তালে চলে;

শেষ যাত্রায় তারই গানে শেষ শ্রদ্ধার আয়োজন-

সা থেকে সা যেমন তাঁর সুর বিস্তারের সে মনন!

সেই বিষাদেরই সময়ে আমরা শ্রদ্ধা জানাই তাঁরে

অমর কন্ঠ ও গানে অনন্য, শ্রেষ্ঠ সে মহামানবেরে ;

হৃদয় জোড়া শূন্যতায় যে এ কোকিল ডেকে যাবে-

গানের দেশে দেশেও তাঁরই সে সুর সাধনা রয়ে যাবে!

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ