পোস্ট বার দেখা হয়েছে
আরাধনা আরাধনায়
দে বা শী ষ
একটা বিজ্ঞাপন এলে কেমন যেনো বিরক্ত হয়ে যায় মন ,
খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে খুব বেশী ঘটে,
সেই বিজ্ঞাপনে প্রিয় মুখ কিংবা প্রয়োজনীয় জিনিস দেখালে ততোটা অনীহা হয়না,
হয়না হয়নি হতে না পারা নিয়েই যতোটুকু টিকে থাকা,
বিরুদ্ধে যেতে গেলে যতোটা বলিদান , এই আর কী।
আয়নায় আয়নায় ধ্বংস হয়েছে অস্তিত্ব -
দিল্লির সেই অচেনা গলি থেকে সরস্বতী পুজো পর্যন্ত যে পথ -
বেমানান বিজ্ঞাপনের মতো ,
ধরাশায়ী সমগ্র চেতনা গবেষণা।
আধার সংকটে ধর্ম বিভাজন -
আরাধনা আর আরাধ্য উপাদানের বিভেদ কেবলমাত্র নয়,
ইচ্ছে আর উপায়ের ফারাকে ফারাকে অশিক্ষিতকরণ প্রণালী -
জোরজবরদস্তি ভুলভাল গিলে খাওয়ানো,
ছয় ইঞ্চিময় সভ্যতার ধারা,
কোথাও পুরাণ আর নজম এক হয়ে যায়,
পিছিয়ে পড়ছি জেনেও ভুলের ঘাটে খুশীর ডালি ,
নস্টালজিক ঘুড়ি, সেই রাত জাগা দুচোখে অপরিণত প্যাণ্ডেল থেকে পরিপূর্ণ সকাল দেখা,
গালিব জানে গড়তে গেলে বোধ জরুরী,
আরাধনায় বোধেরা ক্রমাগত আড়াল হয়ে পড়ছে,
বাসন্তী রঙা শ্যাম্পু করা চুলে সেই চাহনি -
সেই পিছু ধাওয়া অঞ্জলীর বাহানায় ,
স্কুলের হিসেব নিকেশ নীলডাউন ভুলে ,
উচ্ছ্বাস আর উচ্ছ্বাস - মাঝে ঝরে গ্যাছে গোটা তিরিশ বছরের বেশী সময়,
ঘরবন্দী শিক্ষায় শিকলের আরাধনা হয়,
গালিব জানতো ঠিক -
কোনটা আশ্রয় কোনটা প্রশ্রয়।
আমরা সুযোগ পেলেই বিভাজন করে ফেলেছি,
তারপর নিজেদের ফালাফালা করে কেটে -
ছড়িয়ে দিয়েছি তাড়নায় ,
তবু আশ্রয়, বিশ্বাসে শিক্ষার আশ্রয় ।
''বেদ-বেদাঙ্গ-বেদান্ত-বিদ্যা-স্থানেভ্য এব চ।।
এস স-চন্দন পুষ্পবিল্ব পত্রাঞ্জলি সরস্বতৈ নমঃ।''
****************************************
ছয় থেকে পাঁচ
শিবাজী সান্যাল
ওরা ছয় জন
সবাই সত্তরের ওপরে
রোজ সকালে এই পার্কে দেখা হয় ওদের
ওরা সব একসঙ্গে হাঁটে , অনেক কথা বলে
হাঁটা শেষে গোল হয়ে বসে পুরোনো দিনের স্মৃতিতে
মুখর হয়ে ওঠে , সবাই মন খুলে হাসে।
ওদের খুশি দেখে
অনেকে চলতে চলতে দাঁড়িয়ে পরে
একঝাঁক পাখিও গাছে সরব হয়ে ওঠে
সুনীল আকাশে ছেড়া মেঘ আনন্দে ভেসে যায়।
ওরা আজ
কেউ কথা বলছে না। কেউ একসঙ্গে হাঁটেনি
ওরা গোল হয়ে বসে চুপ করে আছে
গাছের পাখিরা সম্পূর্ণ নিরব হয়ে আছে।
ওদের দলে
আজ হরনাথ নেই । কাল রাতে ও চলে গেছে
আকাশের মাঝে মেঘেতে মিশে গেছে।
ওরা ছয় জন থেকে , পাঁচ জন হয়ে গেছে।
****************************************
ঘেঁটু ফুল
জয়তী
পলাশ তো গাছে ফোটে
তাকে প্রথম ছুঁয়েছে কে?
শূন্যের ডিঙি শেকড় চেনে না।
ও মেয়ে, তোকে ও পলাশ দেবো না।
অন্যের হাত হয়ে তোর কাছে যাবো?
স্বর্গের পুতুল তুই? তোকে সাজাবো!
ও মেয়ে ক্লান্ত দুই পা আমার কোলে দে না।
তোর তো ঘর ছিলো না। ঠিকানা বেভুল,
গ্রহ নক্ষত্রের ঘড়ি সেদিন ঠিক ছিলো না।
ও মেয়ে, তোর জন্য আমি মন্ত্রও পাঠ করবো না।
নদীর নাম না হলো সরস্বতী। বোকা কালিদাসেরও ছিলো দুর্মতি।
মমতার আঙুল ছোঁয় কারুর হয়না মতি।
আর কত তুই কাঙাল হবি? হৃদয়ে উনুন জ্বেলে পরমান্ন সাজিস!
সে আঁচ জ্বলে জ্বলে তামাটি কাঠ -
কুয়াশার বুদ্বুদে কোথায় হারিয়ে যাস?
ও মেয়ে, আমার সারদা, মাটির কুসুম থেকে বীজমন্ত্র নিলি কানে!
এমন নিরাভরণ ঢং রাজৈশ্বর্যে বাঁধে
তাইতো তোকে চেনেনা গরিবীখানা।
ওসব পলাশ আমি তোকে দেবোনা
ব্রহ্মজ্ঞান তোর নাভিকুণ্ডে শ্বেতকমলে রচনা।
****************************************
হলুদ ছোঁয়া দিন
অরিজিৎ রায়
টিপের মাঝে আগুন লেগে আছে
ঠোঁটের কোণে জমাট বাঁধা তিল
হলুদ শাড়ি ঘিরলো শহর আজ
ভালোবাসায় কাঁপছে অনাবিল।
চাঁদের সাথে রাতের আজ আড়ি
দু'জন মাপে আকাশ ভরা তারা
মন হারালে উসকানি দেয় রাত
হাতের পরে হাত ছুঁয়েছে যারা !
ছোট্ট মেয়ের হলুদ ভেজা শাড়ি
গাঁদার মালায় দীনের বেচা কেনা
সুরের জালে তোমায় ছুঁয়ে যাওয়া
বসন্ত-রাগ ষোড়শী আনমোনা।
পৃথিবীর শ্বাস দূষণ মাপে রোজ
অবিশ্বাসের পাহাড় ঘেরা জমি
বাঁচতে শেখায় ভালোবাসার রোগ
বোধের ঘরে বসন্তপঞ্চমী।।
****************************************
"কাঁচা স্বপ্নের ঘর
স্বপ্না চ্যাটার্জী
মেয়েলি স্বপ্ন গুলো নাকি অচিন্তন অন্তহীনা হয়!
ওরা যে ভালোবাসা রুপি বিশ্বাসে কাঙাল হয়ে যায়।
আগুনে পুড়ে নিজের শরীরের ঋণ থেকে মুক্ত হয়, সাঁতপাকে বাঁধা মেরুদণ্ডের বোঝাটা নিজের কাঁধেই রেখে বলতে পারে ভালো থেকো।
পরুষালি গন্ধ বাতাসে কাঁচা স্বপ্নের ঘর বেঁধেও
ঝাঁঝালো রোদ বৃষ্টির স্পর্শে যজ্ঞকাঠের
সংসার করে।
ঘোলাটে অভিমানে কতো বোঝাপড়া নিয়ে বাঁচে,
মুঠোয় হিসেবনিকেশ না কি পুতুল খেলা সাঁচে
একবার ঘুরে এস তো স্বপ্নই তো!!
****************************************
সরস্বতী
সায়ন্তিকা
প্রতিটা সরস্বতীকে আমার ভারতবর্ষ মনে হলে ,
সেটা আমার ভ্রম !
সতীদাহ প্রথা উঠে যাওয়ার সময়ে সোনাগাছির দরজায় দাঁড়িয়ে ছিলো রাষ্ট্র ,
তার ছায়া দেখলে আজ নিজেকে ভয় হয় !
সরস্বতীরা আসলে বাঁকুড়া অথবা কাশ্মীরে থাকে ,
তারা বর্ণপরিচয়ের বিদ্যাসাগরকে কোনোদিনও দেখেনি ,
তাদের কাদামাখা শৈশব আগেই যুবতী হয়ে যায় ,
তারাই আজ মন্দিরের বিগ্রহ !
অথচ ঘরে ঘরে আজ অঞ্জলি ,
আর
প্রেমিক প্রেমিকার কাঁচা হলুদ শাড়ি এবং পাঞ্জাবিতে পঞ্চমী !
এমন সময়ে বাঁকুড়ার প্রত্যন্ত গ্রামে রাইফেল হাতে সরস্বতী !
সেও কী দেবী ?
আমার ভারতবর্ষ আজ সৃজনশীল !
****************************************
হারানো ছাদ
তন্ময় রাণা
প্রতি বছরই বসন্ত পঞ্চমীর দিনটা সামনে এসে দাঁড়ায় !
ব্যস্ত যাপনের মাঝে,সুপ্ত হয়ে
জমে থাকা,
মাথার ওপর থেকে ছাদ হারানোর যন্ত্রণাটা,
স্মৃতির আস্তরণ ফুঁড়ে বেরিয়ে,
মনের মাঝে,
একটা বিষাদের ঘোর মাখিয়ে
যায়!
প্রায় দু-দশক হয়ে গেছে পার l
পলেস্তরা খসা,
নোনা দেয়ালের মাঝে পেরেকে ঝুলে থাকা,
ফিকে হয়ে আসা ফটোয় তোমার চাউনিতে
আজও সেই তীক্ষ্ণ ধারl
নিস্পলক চোখের সেই চাউনিতেই হয়তো
জরিপ করে চলো আমার রোজের
যাপন l
মাঝে মাঝে নিজেকে বড়ো অপরাধী মনে হয়
যতোটা ভালো রাখতে হতো
ততটা ভালো
রাখতে পারিনি যে তোমায়, অক্ষমতায়!
আধুনিকতার ছোঁয়াচ লেগে থাকা
সমাজের থাবায়,
কংক্রিট দানবের গ্রাসে,ভাঙা পড়তে চলেছে তোমার সাধের বাড়ি !
তুমি থাকলে জানি কখনো,হতোনা
এমন l
মনের গহীনে জমা হয়ে থাকা তোমার-
ছোঁয়াচ মাখা,ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা
সব-
টুকরো স্মৃতিগুলো,অমূল্য সম্পদ
মনে হয় যেনো,
সেগুলো তাই আগলে রাখি শুধু এখনl
উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া দায়িত্ব কর্তব্য বোধ গুলো
যথারীতি ভেতরে জাঁকিয়ে বসে গেছে ভীষণ রকম l
তোমার মতোই শুধু নিজেরটা
নিয়ে ভাবতে শিখিনি কখনো তেমন l
ওগুলো মাথায় নিয়েই চলে এখন রোজের যাপন
জানিনা কতটা ছাদ হতে পারবো
তোমার মতন l
****************************************
0 মন্তব্যসমূহ