দর্পণ | সাপ্তাহিক পরিচালক কলম | কবিতা




পোস্ট বার দেখা হয়েছে


 
ইস্তেহার

দে বা শী ষ


তা'বলে ভেবোনা যেতে পারবো না!

একটু একটু করে ফুরিয়ে আসা সময়ের পিঠে চেপে,

সূর্যের কয়েক লক্ষ্য বিস্ফোরণ-সুখ মুঠোয় বন্দি আছে,

শাখের করাত মোড়া ঠাঁই - আর অদম্য প্রশ্রয় বুকে চেপে।

যেতে পারবো না জেনে উল্টেপাল্টে দিওনা ঝড়ের গতি,

তছনছ করোনা ইস্তেমাল হওয়া স্বপ্নের চিঠিপত্র,

দস্যি দস্যি চেতনা আর পালকি পালকি ভাবনার পালতোলা,

ভেসে যেতে যেতে হারিয়ে ফেলোনা সামঞ্জস্যের ইতিকথা 


এখানে কয়েদ হয়ে আছে পথ - 

নুড়ি -কাঁকড় - হিসেবের দরবারে,

সমজটা বদলাবে জেনে যে আইন আশ্রয় নেয় জেদে,

এখানে রোজ জমছে অভিজ্ঞতা - সবাই পথ খুঁজে নেয়, ক্লান্তি বাদে ।


অসুখ আসে , সেরে যায় - 

মিছিলে সমাবেশে দিন বদলের ডাক , 

শোরগোল পৃথিবী ফুঁড়ে শরীরে মজ্জায় বাসা বানায় ,

সহজ সিঁড়ি বেয়ে পৌঁছে যেওনা নোংরামির ঘরে -

এখনও শেষ তাশ আসা বাকি - 

এখনও বাকি আছে হুঙ্কার - গর্জন - আঘাত ;

প্রাপ্তির লোভনীয় আশায় - ধরোনা শামুকের হাত,


অলীক কল্পনায় মিশে - 

নিজেকে আবদ্ধ করি অবশেষে,

পরিচিতি সবকিছু নয় - 

মানুষ হতে গেলে বোধের প্রয়োজন হয়।


**************************************

জীবন তরী

শিবাজী সান্যাল


নিত্যদিনের চলার পথে

জড়িয়ে ধরে লতার কাঁটা

পিছন ফিরে যতই খুঁজি

একই দৃশ্য জোয়ার ভাটা। 


কি আর করা ? অপুর মত

কাশ ছুঁয়ে যাই মুক্তি মাঝে

স্বপ্নে যত সুদূর আকাশ 

ছায়া হয়ে নামে শান্ত সাঁঝে। 


জীবনভরই ছিন্ন ঘুড়ি 

টালমাটাল খেয়ায় চলা

ঘাট থেকে ঘাট বৈঠা নেড়ে

নিজের কাছে নিজেই বলা।


************************************

জৈবচক্র 

জয়তী


প্রত্যেকটা অঙ্গই ঝোলা বহন করে 

সব নরম দৃশ্যের ওপরে হেঁটে যাবে.. 

পাবে কোথায়? 


অন্যদিকের পাল্লায় চলে কাঁকড়া হিসেব,

তারও দু'হাতে কড়ায়-গণ্ডায় ভার-

ফুলও দরদামী আজ! 


তবুও এই অঙ্গাঙ্গী চাওয়া-পাওয়া 

টুপ টুপ জলে ঘামে মোছা ঘাট পথ 

ফাঁদ পেতে রাখি জালে পাখিটার.. 


যদিও সহজ পালকে ছুঁই 

শজারুর কাঁটা তুমিও বিছিয়ে দাও 

কখন যে ছাপিয়ে যায়!


**************************************

 আবহমান

  অরিজিৎ রায়

             

নৈবেদ্য সাজিয়ে রেখেছি চৌকাঠ জুড়ে

অন্তঃসারশূন্য তিতিক্ষার প্রান্তরে 

মেলে ধরা নিজেকে, 

অসহায় উন্মত্ততার মাঝে ক্ষণিক 

জলমেঘের লুকোচুরি। 


আলতো পা'য়ের আনোগোনা অধরা হলে 

তেতে ওঠা কাঠকয়লায় মরণ ঝাঁপ, 

বিশ্বাসে অগুন্তি মেনে নেওয়া 

নিছকই ছেলে ভোলানো দুপুর যেন! 


স্টীমারের জলপথ ভোঁ ছেড়ে চলে গেলে 

তরঙ্গের প্রতিকূলে সাঁতার কাটে ওরা -

বাতাসের অবাধ্য ঝাপটা সামলে 

যেভাবে ভেসে যায় কচুরিপানার দল 

সেভাবে এক থেকে সবাই হয়ে ওঠা হয় না ! 


একলা দুপুরের ইতিহাস লিখে রাখি

ঝিনুক ভাঙা কলমের বিস্তারে, 

এক খোঁজ, নিজের সাথে নিজের 

কুণ্ড-হাঁড়ির আয়না জুড়ে বিসর্জন 

আঁকতে আঁকতে ভেসে যাই , 

গলে যাওয়া ধুনোর - ধোঁয়ার মতন। 


**************************************

আশ্রয় খুঁজি তাঁরই কাছে

এ কে আজাদ 


জেগেছে আজ তিতুর কন্যা 

আমরা আজও ঘুমাইয়া, 

সত্য পথে হাঁটতে সঠিক 

ডাক দিয়ে যায় সুমাইয়া। 


নেকড়ে আসে তেড়ে তবু

সিংহী ভীষণ গর্জে,

মাথার ওপর সত্য আলো

সাহস ভরা বর যে।


মানবতার সোপান কেটে 

হয় কি সভ্য যাত্রা?

সমপ্রীতির বুকে আগুন

কষ্ট ভীষণ মাত্রা।


আবরু ধরে টানে যখন

শয়তানী সব পাণ্ডে,

বুকের ভেতর জ্বলে আগুন

নিঃমানুষী কাণ্ডে।


এখন কি আর সময় এমন

নীরব হয়ে থাকবার?

সহায় খুঁজি তাঁরই কাছে

আল্লাহু সে আকবার।


**************************************

"যদি জানতাম"

 স্বপ্না চ্যাটার্জী

 

কালো সাদায় জড়িয়ে ভোরের আলো, 

শ্রাবনের মেঘ ঘুমিয়ে নিঃসঙ্গ রাত্রির মোহে।


এক চিলতে সুখের কোন নাম জানা নেই,

অজুহাতের আয়নায় ছবিটি বড্ড অচেনা।


নীলচে আকাশে আঁকা দিগন্তের বিষন্নতা,

বাতাসে চন্দন ও কস্তুরির ঘ্রাণ মাতাল করে।


আবেগের ঢেউ ছুঁয়ে নক্ষত্র অদ্ভুত নেশায় 

মিশে যায় কালো সাদা মায়াবী জোৎস্নায়।


**************************************

ম্যানিফেস্টো 

সায়ন্তিকা 


ছায়ারা আলোর মধ্যেই দীর্ঘাঙ্গী হয়ে উঠছে ! আর শীতঘুমে অন্ধকার নিয়ে কাড়াকাড়ি নেই ! আমি অন্তর্বাসের স্বস্তিকা চিহ্ন নিয়ে খেলা করি ! ছাদে শুকিয়ে দেওয়া বলিরেখা মেলে দিই জানলায় ۔۔۔۔

এটা আমার সাফল্য বুঝে রেড রোড বলে উঠলো ۔۔۔"চিয়ার্স"!

নীল বাড়ির পায়রার ডানায় ভর করে দাঁড়িয়ে আছে সন্ধ্যা ! তারা উন্নয়নের পরিকাঠামোর চিঠি নিয়ে যেতে প্রস্তুত ! এটা আসলে ভ্রুর নিচের কালসিটে ! এটা "ভালোবাসা" ! 

তোমার নখের র۔ফলা য্যানো সিজারের মতনই তীক্ষ্ণ , প্রবল ! 

রাষ্ট্র খুঁজে۔খুঁজে গুপ্তচর নিযুক্ত করেছে , তবে অবশ্য এটা কোনো অপরাধ নয় যে তোমাকে অন্য কোনো দেশের নাগরিত্বর জন্য লাইনে দাঁড়াতে হবে ! রাইফেলের বারুদে ছিন্নভিন্ন হয়ে যাওয়া সাদা পকেট۔ময় আজ শুধুই বিক্ষোভ !

সেই দলের সাথে আমিও মিছিলে হেঁটেছি !


শিশু প্রশ্ন করেছে ۔۔۔"ভাত কাকে বলে ?"

কবি উত্তর দিয়েছে ۔۔۔"খিদের কোনো রঙ নেই !"


এসব দেখলে আমার করুনা হয় ۔۔۔তোমাকে এবং তোমার দেশকে !সেন্ট হেলেনায় শিশু এবং কবিদের আমার কেমন য্যানো কয়েদিদের মতন মনে হয় ! অনেকগুলো চিৎকার একসাথে বন্দি হয়ে আছে বাকিংহাম প্যালেসে ! আজ পর্যন্ত আমি কাউকে উলঙ্গ দেখিনি বলে , তোমাকেও দেখতে চাইনা ! বলা নেই , কওয়া নেই ۔۔۔রাজা শুধু উলঙ্গ হয়ে দাঁড়িয়ে আছে রাস্তায় !কে য্যানো ভিক্ষা চেয়েও ফিরে যেতে শিখছে ۔۔۔শৈশব , শিক্ষা নাকি আন্দোলন ?

এবারে ফণা তুলতেই হবে ! তোমাকে ভালোবাসলে , আমি সাপ হয়ে উঠবোই ۔۔এ আর নতুন কী ?


তবে এখন জঙ্গলে যেতে হবে ! সেখানে হরিণীর মাংসটা কষানো হচ্ছে ! এখন আর কিচ্ছু লিখবো না ! 


তুমি কোনো কমরেড না যে প্রতিবাদ করবে !


**************************************

 হারানো ছাদ

  তন্ময় রাণা 


প্রতি বছরই বসন্ত পঞ্চমীর দিনটা সামনে এসে দাঁড়ায় !

ব্যস্ত যাপনের মাঝে,সুপ্ত হয়ে 

জমে থাকা, 

মাথার ওপর থেকে ছাদ হারানোর যন্ত্রণাটা, 

স্মৃতির আস্তরণ ফুঁড়ে বেরিয়ে,

মনের মাঝে, 

একটা বিষাদের ঘোর মাখিয়ে 

যায়!


প্রায় দু-দশক হয়ে গেছে পার 

পলেস্তরা খসা, 

নোনা দেয়ালের মাঝে পেরেকে ঝুলে থাকা, 

ফিকে হয়ে আসা ফটোয় তোমার চাউনিতে 

আজও সেই তীক্ষ্ণ ধার


নিস্পলক চোখের সেই চাউনিতেই হয়তো 

জরিপ করে চলো আমার রোজের 

যাপন 


মাঝে মাঝে নিজেকে বড়ো অপরাধী মনে হয় 

যতোটা ভালো রাখতে হতো 

ততটা ভালো 

রাখতে পারিনি যে তোমায়, অক্ষমতায়!


আধুনিকতার ছোঁয়াচ লেগে থাকা

সমাজের থাবায়, 

কংক্রিট দানবের গ্রাসে,ভাঙা পড়তে চলেছে তোমার সাধের বাড়ি !

তুমি থাকলে জানি কখনো,হতোনা 

এমন 


মনের গহীনে জমা হয়ে থাকা তোমার- 

ছোঁয়াচ মাখা,ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা 

সব-

টুকরো স্মৃতিগুলো,অমূল্য সম্পদ 

মনে হয় যেনো, 

সেগুলো তাই আগলে রাখি শুধু এখন

 

উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া দায়িত্ব কর্তব্য বোধ গুলো 

যথারীতি ভেতরে জাঁকিয়ে বসে গেছে ভীষণ রকম 

তোমার মতোই শুধু নিজেরটা 

নিয়ে ভাবতে শিখিনি কখনো তেমন 


ওগুলো মাথায় নিয়েই চলে এখন রোজের যাপন 

জানিনা কতটা ছাদ হতে পারবো 

তোমার মতন ।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ