পোস্ট বার দেখা হয়েছে
হাত পেতে রাখি
দে বা শী ষ
হাত পেতে রাখি, প্রবল ইচ্ছে বুকে চেপে,
প্রবল সুখে, সান্তনায়,
আশায় বেঁচে থাকে শহর, বেঁচে থাকে খিদের ফুটপাত -মাঠ ,
এভাবেই কতোশত ভীড়ে , একদিন কেউ খুঁজে পাবেনা আমায় জানি,
স্রোতের শব্দহীন রাতে, পাহাড়ের চাবুক হাতে সকালের যানবাহনের ডাকে ,
ফেসবুকের অন্ধকার থেকে গুগল পর্যন্ত এই পথে,
ভাইরাল থেকে একাকী কমেন্টহীন কবিতার কাছাকাছি,
কিবোর্ডের মৃতদেহে আমার আঁতুড় হবে লেখা ,
নেশার মুঠোফোন আর আত্মবিশ্বাস,
যে পাখি উড়ে গ্যাছে দূরে - কিংবা মরে আছে টাওয়ারের তাড়নায়,
বেসরকারি প্রহসন চেপে রেখে,
আমায় খুঁজে পাবেনা আর বইমেলা এলে,
দেখা হাঁটা গানের প্রহর - হারিয়ে যাওয়া সভ্যতার কাজের ভিক্তিগুলো , মিলেমিশে আমার মতো দেখতে হবে,
আমি রয়ে যাবো কবিতার দুর্বোধ্য চিতায়,
ভালোবেসে -মানুষের পাশে , অবহেলায় ...
≈===================================
কাঁচের মহল
শিবাজী সান্যাল
আকাঙ্ক্ষা বেড়ে ওঠে প্রতিদিন ,অপরাজিতার মত
সাজিয়ে জানালা ,ছেয়ে যায় পাহাড়ী ঝর্ণার খুশিতে
দেয়ালে ,দুয়ারে ,ছাতে । একসময় স্বপ্ন জ্যোৎস্নায় ভিজে
লাল নীল সবুজ বেলুন হয়ে ভাসে হাওয়ায়
সুনীল আকাশে মেঘেদের সাথে ।
সেই উৎসবে শ্রাবণের জমা জল ভেঙে দুপায়ে
তুমি আর আমি হাতে হাত ধরে হাঁটি ময়দানে
ওড়ে তোমার আঁচল আনমনে , আমার অবাধ্য চুল এলোমেলো
সময় হিসেবহীন , দিন শেষে রক্তিম সূর্য তাকায় দিগন্তে
নাড়ে হাত শুধু আমাদের দেখে ।
তুমি তো জানোনা কিছুই এসব। তুমি এলে
কত কথা বল , আমি নিশ্চুপ শুনে যাই । দেখি
তোমার দুচোখ , সেখানে সাগরের শতশত ঊর্মিমালা
তোমার ঠৌঁটে দেখি পদ্মের কোমলতা , নির্মল কম্পন
তুমি এলে বাতাসে মেশে সঙ্গীতের মূর্ছনা ।
কেন তুমি বোঝোনা আজও , তোমার অজান্তে
ভরে যায় বাগান আমার অগণিত ইচ্ছের কবিতায় , গোলাপে ?
ভেবেছি অযুত বার বলব তোমাকে , পারিনি বলতে কখনও
দ্বিধা নয় , হারাবার ভয় , যদি শুনে ফেরাও মুখ
দীর্ঘদিন ধরে তৈরি এই কাঁচের মহল আমার
মুহূর্তে বিচূর্ণ হবে নিঃশব্দ আর্তনাদে ।
≈===============================
"মহৌষধী,,
---জয়তী
রাস্তাটা নরম জেলির মতো ছিলো,
জানতো কি পাশে তার ছাউনির নীচে জেগে আছে শীতকাল!
কখনো ভাবিনি হৃদয় এক ঘর -
তারজালি দিয়ে আটকানো পতঙ্গের চোখ -
ভ্রমরের দৃষ্টিতে জেগে থাকে রূপসীর রূপ..
নেত্র কোণা থেকে ভূ-তলে গড়ানো নিঃস্ব নদীর- সাদাখড়ির দেশ!
কেঁদে ওঠে বাঁশির বুকে শূন্য বাতাস -
কাকে জানাতে কে লিখে রাখে আত্ম পাঁচালী...
দূর বিভূঁইয়ে কে লণ্ঠন জ্বেলে- কাছের প্রতিবেশী!
পোকাকাটা পাণ্ডুলিপিতে শুয়ে জোনাকির লাশ,
মানুষের মিছিলে জনারণ্যে হেঁটে যেতে যেতে -
যা কিছু ফিরিয়েছো বাঁ'হাতে -
গর্ভগৃহ লিখে রেখেছে পরম মমতায়- গভীরতম জ্বর।
≈===================================
সাদাকালো পর্দা
স্বপ্না চ্যাটার্জী
বদলে গেছি রঙ্গমঞ্চের মুখোশ টা এবার,
খুলে ফেললাম চোখ দুটো খুঁজছে।
আশেপাশের মুখ গুলো সব ঝাপসা আলোয়,
পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছে না।
রঙিন কাঁচের দরজার ওপারে ওলট পালট,
কটা চরিত্র শুধু সময়ের অপেক্ষায়।
পর্দা উঠলেই ওদের অভিনয়ের শট শুরু,
কে জানে এমন করে ওরা দৃশ্যান্তরে মিশে যাবে।
দর্শকের মতো সাধারণ শুধু অনর্গল কথা বলি,
অদ্ভুত নারী পুরুষ নিকোটিনের ধুয়োয়
কি সুখ খোঁজে পিছিয়ে যাচ্ছে বুদ্ধি বিবেক!
এই সাদা কালোর পর্দায় রক্তের রং কালো দেখায়,
আসলে সমারোহ শেষে প্রশংসা কুড়োতে কুড়োতে,
রক্ত রাঙা চোখে বিনিময়ের চোরা হাসি!!
≈===================================
ভ্রান্ত মৈথুন
অরিজিৎ রায়
আগুনের গোলায় পাটকাঠি দিতে দিতে
অতসী বলেছিল "আগুন বড় ভালোবাসি!"
শীতের রাতে গনগনে ভাতের হাঁড়ি থেকে
যখন ধোঁয়া ওঠে,
আমি-" ভরা সংসার দেখতে পাই।"
হাড় ভাঙা খাটুনির পরে রাতে যখন
শুতে আসে, ঘড়ির কাঁটা একটার ঘরে।
সাদা খেসের মধ্যে শরীরটা তলিয়ে গেলে
দুটো শক্ত হাত চেপে ধরে বুক দুটো ,
এরপর আঙুলগুলো খেলা করতে করতে
নেমে যায় নিচে, ঝুপড়ি বস্তিতে আবারও
গনগনে আগুন জ্বলে ওঠে, লাভার স্রোতের মতন
এই গরম স্রোত, অতসী বড়ো ভালোবাসে।
সোঁদা গন্ধ খুঁজতে খুঁজতে ওর মাথাও নেমে যায়
দীর্ঘল শরীরের অন্তভাগে, প্রাণ ভরে টেনে নেয় সুধা।
ভালোবাসার রূপ রস গন্ধে ভরা পেট ,
খোঁজে ভালোবাসার আত্মিক পূর্ণতা।
বাবার চিতার দিকে তাকিয়ে অতসী ভাবে
সে-আগুন বড়ো ভালোবাসে!
দুই বোন, বিধবা মা আর এই দৈন্যতার সংসারে
আই বুড়ো অতসী একমাত্র রোজগেরে।
তবু সে আগুন বড়ো ভালোবাসে,
সে পুড়ে খাঁটি হতে বড়ো ভালোবাসে,
ধোঁয়া ওঠা ভাতের হাঁড়িতে সে খুঁজে পায়
নিজের মনগড়া সংসার, মরদের খুনসুটি!
দৈন্যতাতেও ভালোবেসে পুড়তে বড়ো
সাধ জাগে অতসীর ।
******************************************
যাত্রা
সায়ন্তিকা
একটা বছর শুধু হেঁটে চলে যাওয়া ,
নিয়মের পথে এগিয়ে চলে গ্যাছে আলোরা ,
স্বাগতম প্রচ্ছদে ভিড় করে আসে কেবলই ওরা ,
বারবার , কয়েকবার , প্রতিবারই !
তারপরেও লোডশেডিং গর্তে পড়ে থাকে কবিতারা ,
সেখানে আলো নেই , অন্ধকারও নেই ,
সেখানে শুধু কয়েকটা চমৎকার শব্দের ফিসফিসানি !
ক্লিভেজ দেখানো খাতার এক পাশে পড়ে থাকে ভালোবাসা ,
আরেক পাশে শুধুই প্রতিষ্ঠানিক নিষ্ঠা !
তবুও কলমটা কষ্ট পায় ۔۔۔۔۔۔۔
"কবি হওয়ার অপরাধে !"
অথচ এতো কিছু খতিয়ে দ্যাখে না কেউই !
"কী হবে এতো কিছু ভেবে" , অথবা "কেনই বা ভাবতে যাবো "۔۔۔۔ভাবনাগুলো থেকে বেরিয়ে আসে নষ্ট ভ্রূণের দুর্গন্ধ !
লোক দেখানো প্রাপ্তির চৌকাঠে উথলে পড়ে বাসি রোদ ,
পথ শিশুর কান্না কিম্বা ছোট চারাগাছের নিচে লেখা থাকে একটাই শব্দ ۔۔۔۔"স্বাধীনতা"!
দেখতে দেখতে পার হয়ে যায় ۔۔۔۔
যাত্রার একটা বছর !
মিছিলের স্লোগানে তবুও আবেগের ছেলেমানুষি ,
খিদের ভাবনায় এঁকেবেঁকে যায় বইমেলা সংখ্যার লাইনও ,
পরিচালকের ইশারায় মঞ্চস্থ হয় নাটকের প্রথম দৃশ্য ۔۔۔۔۔۔
"টেক ওয়ান ,
টেক টু ۔۔۔۔۔۔"
বাকিটা থেকে গ্যাছে নির্ভুল !
তবুও মাঝে মাঝে হোঁচট খাই ,
হাঁটতে হাঁটতে মনে হয় ۔۔۔۔۔
"কেউ তো ভালোবাসুক !"
যৌনতা মোড়া সিলেবাসে সম্পাদকীয় কাটাছেঁড়াগুলো চুমু খেয়ে নেয় আমাকেও ,
সামাজিক উন্নয়নে ভেসে ভেসে আসে শুভ কামনা !
তখন আবারও আমি উঠে দাঁড়াই লড়াইয়ের প্রবণতায় ,
ময়দানের মাঠে উঁচু হয়ে যায় দেয়ালগুলো !
আমি এগিয়ে চলতেই থাকি,
এগিয়ে যাওয়ার যাত্রায় পড়ে থাকে শুধুই ভালো থাকা এবং আমার প্রথম ভালোবাসার শপথ বাক্য !
অপরিচালকিয় বৈঠকে তখনও কানাকানি ۔۔۔
"মেয়েটা বোধহয় শরীর দিয়ে ছিলো ۔۔۔۔সামাজিক স্তরে !"
≈===================================
ভ্যালেন্টাইন্স
তন্ময় রাণা
এখন আর,
আমি তোমার ভ্যালেন্টাইন্স নই l
সময়ের সাথে,
বদলে যাওয়া আবহাওয়া মতন,
কিংবা
সোশ্যাল মিডিয়ায় তোমার বদল
হতে থাকা,
রোজের ওয়াল যেমন,
আমার অস্তিত্বও তোমার কাছে বদল হয়েছে ঠিক তেমন l
কথায় আছে যা'হয় ভালোর জন্যই
হয়,
আর কোনো কিছুই চিরস্থায়ী নয় l হয়তো,তাই!
এখন আর গোলাপ দিবসে,ভিড়ের মধ্যে থেকে-
সব চেয়ে বড়ো,টাটকা গোলাপ কেনার জন্য,
আর তেমন কোনো তাড়াহুড়ো
থাকে নাl
সারাদিনে দুটোর বেশি সিগারেট
খাবোই না
এমন মিথ্যে,প্রমিসও করতে হয়নাl
মাঝরাতে-
চকলেট খাবার জন্য বায়না ধরে
কোনো,
ফোনও আসেনা আর l
কিংবা সব থেকে নরম টেডিটা বাছার জন্য,
লজ্জা শরমের মাথা খেয়ে কচিকাঁচাদের-
ভিড়ে মিশে,এখন আর টেডি হাতড়াতে হয় নাl
আগুন মাখা আবেগের ঝড়
থামাতে,
আজ আর আমার নিকোটিনের গন্ধ মাখা ঠোঁটের চুম্বন,
তোমার তেমন অপরিহার্য নয় l
তোমার,
দুই চোখে এখন শুধুই নীল সমুদ্রের হাতছানি l
তারই মাঝে কিভাবে যেন নাব্যতা
হারালো,
আমার মনের নদী !
শুধু স্মৃতি গুলো এখন এমন
ভাবে
আষ্ঠেপিষ্ঠে জড়িয়ে থাকে'যে,
কিছুতেই
পিছন ছাড়তে চায় না! ওগুলো
ছাড়া,
আর তেমন কিছু,জড়িয়ে থাকতে
হয় না!
সময়ের বহমানতায় হয়ে গেছে
অনেকগুলো বসন্ত পার!
ফিকে হয়ে গেছে বারেবারে ফাগুনের ফাগ,এসে বহুবার!
আমি হারিয়ে গেছি ক্রমশ নতুনের ভিড়ে!
স্বপ্নের ঘর ধুয়ে গেছে সেই ফেলে আসা বালু চরে !
তবুও আমরা আছি!
এক সমাজের মাঝে,এক আকাশের নিচে আজও
পরস্পরকে ছেড়ে,দিব্যি বেঁচে আছি!
তবুও,
জীবনের শেষ বেলায় খুব জানতে ইচ্ছা হয় l
কোনো এক রোদেলা দুপুরে শীতের রোদ মাখার পরে,
শেষ বিকালের ম্লান হয়ে আসা আলোতে,
কিংবা একলা রাতের আঁধারে একটু একলা হলে,
তোমার ফোনের পড়ে থাকা
ব্লকলিস্টের-
ভেতর থেকে,কিংবা তোমার মনের
গভীরে চাপা
পড়ে থাকা কোনো অন্তস্থ কোনের অন্তরালের-
থেকে একটা করুণ চাপা
আর্তনাদ,
কখনো কি শুনতে পাও ?
≈===================================
বিয়ের পিড়ি
রতন চন্দ্র রায়
কিরে রমা
তুই নাকি আবার বিয়ের পিড়িতে বসতে যাচ্ছিস।
কি বলবো তোমাকে দাদা....
মনতো চায় না!
কিন্তুু মনের ইচ্ছার বিরুদ্ধে বিয়ের পিড়িতে বসতেছি। বাবার কারনে আজ আবার দ্বিতীয় বারের মত বিয়ের পিড়িতে বসতে হচ্ছে। বাবাকেতো বাঁচাতে হবে।
তোর বাবার কি হয়েছে?
দাদা তুমি কিছু জানো না......
নারে আমিতো একবছর পর বিদেশ হতে গ্রামে এসেছি।
ও তাই বলো
তাহলেতো তুমি কিছুই জানো না..
বাবা ক্যান্সার রোগে আক্রান্ত হয়েছে , আজ তিন মাস হলো। এই কয়েকমাসে ভিটে জমিজমা সব বিক্রি করে পথে বসেছি। তাই বাবার চিৎকিসার খরচ আর ব্যায় করতে পারছি না। তাই নিজের মনের ইচ্ছার বিরুদ্ধে হলেও দ্বিতীয় বারের মত আবার বিয়ের পিড়িতে বসতেছি।
দাদা কি আর করবো বলো
রমা
আমি বাজারে চায়ের দোকানে বসে শুনেছি,
যার সাথে তোর বিয়ে হচ্ছে, সেতো বেশিদিন বাঁচবে না। তার বয়স আশির কোঠায়।
আরও শুনেছি
তার ঘরে নাকি দু'জন বিয়ের উপযোক্ত মেয়ে আছে। কথাটা কি সঠিক।
হ্যা দাদা কথাটি সঠিক। তাহলে তুই ওখানে কি ভাবে সংসার করবি।
দাদা সংসার করার স্বাদতো সেই পাঁচ বছর আগেই শেষ হয়ে গেছে। যে দিন উনি আমাকে ছেড়ে পরপাড়ে চলেগেছে।
0 মন্তব্যসমূহ