পোস্ট বার দেখা হয়েছে
নিবেদিতা দে ( জয়া)
সুর সম্রাজ্ঞী লতা জী...
চলে গেলে দিকশূন্যপারে কোন এক অচিনপুরের দেশে!
নিঝুম সন্ধ্যায় পান্থ পাখিদের মতো।
চলে যাব বললেই কি চলে যাওয়া হয়! আসা মানে যাওয়া, আবার যাওয়া মানেই আসা। যেন ফিরে ফিরে তোমায় দেখা।
তোমার জাদুকরী সুর শুনিয়ে সা রে গা মা আরোহ থেকে অবরোহে ফিরে আসা। সাত সুরের বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে লতার মতো জড়িয়ে কোমল গান্ধার ছুঁয়ে ছুঁয়ে থাকা।
সব পথ একদিন শেষ হয়, সুরম্য পথ, দুর্গম পথ, ফুল ফোটায় ভ্রমরের উড়ে যাওয়া পথ, এমন কি বাউলের গান গেয়ে চলা রাঙা মাটির পথ।
তারপর শীতল রাতের শেষে ভোর নেমে আসে তোমার সুর শুনিয়ে কোমল উষ্ণতা জড়িয়ে নতুন দিনের সূচনায়।
সাইবেরিয়ান রাজহাঁস যেমন গুটিয়ে নেওয়া পা বুকে করে পাখনা মেলে জল ছেড়ে উড়ে যায়! তেমনি করে তুমিও চলে গেলে পৃথিবী ছেড়ে।
রোজ যেমন নিয়ম করে দিনের পর দিন পৃথিবী কিংবা সূর্য পথ চলে ঠিক তেমন গতিতেই প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে তুমি সুর সম্রাজ্ঞী হয়ে রইবে সবারই অন্তর জুড়ে!
শ্রাবন্তী অবিরাম
অমর লতাজী
লতাজী অমর । হ্যাঁ ,আমি বক্তব্যের আগাগোড়া শুরু এভাবেই করব। সঙ্গীতের সঙ্গে আমার দূর দূর পর্যন্ত কোনো সম্পর্ক নেই । এই শিল্পটি সম্বন্ধে আমি অজ্ঞাত। কি তাল, কি সুর আর কি সা রে গা মা পা এসব আমি কখনো শিখিনি , কেবমাত্র বোঝার মধ্যে এতটুকুই বুঝি যা, তা হলো 'লিরিক্স'।যে শব্দগুলো ছন্দ ও সুর মিশিয়ে কোনো গায়ক বা গায়িকা তার শিল্প নিদর্শন সৃষ্টি করে।যে গান গুলি মানুষের মন ছুঁয়ে যায় সেগুলি অর্জন করে অমরত্ব। গত ৬ই ফেব্রুয়ারি,২০২২ এই দিনটি দেবী সরস্বতী বিসর্জনের দিন ছিল আপামর জনসাধারণের কাছে । কিন্তু সত্যি কি বিদ্যা- জ্ঞান - শিল্পসাধনার সৃষ্টি কর্তাকে এভাবে বিসর্জন দেওয়া যায়? রীতি অনুযায়ী এটা ঘটলেও পরের বছর আমরা ফিরে পাই দেবীকে স্বমহিমায়। তবে লতাজী কেনো নয় ? আমরা তাঁকে সরস্বতী যদি বলতে পারি তবে কেনো ফিরে পাবো না তাঁকে? দেবীর বরদানের একটি রূপ ছিলেন তিনি । তাঁর কণ্ঠে দেবীর বাস তা আমাদের অজানা নয়।
তিনদিন ধরে সারা বিশ্ব ও বিশ্বকে একটি মুঠোয় ধরে রাখা সোশ্যাল নেটওয়ার্কস facebook এ লতাজীর অগণিত ভক্তের দল নিজেরা নিজেদের মতো করে তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করছেন । কিন্তু আমি ভীষন ভারাক্রান্ত মন নিয়ে আঙ্গুলগুলোকে নাড়তে লাগলাম মনের কথা ব্যক্ত করতে। কারন কষ্ট হচ্ছে, বড়ো কষ্ট হচ্ছে, অনুভব করতে পারছি যন্ত্রনা ।
" চাইনি লিখতে মৃত্যু
চাইনি বলতে পরোলোকবাসী
চাইনি বলতে ত্যাগ শেষ নিশ্বাস
চাইনি বলতে না ফেরার দেশে
তাই করিনি ঘড়ি দেখে পোস্ট তোমার যাত্রার খবরের"----
কারন অজস্র সৃষ্টি গান কোনোদিন, কোনও কালের আবর্তে শেষ হয়ে যাবেনা। কেউ পারবে না ভুলে যেতে এই বিশ্বজনীন ব্যক্তিত্বকে। কারোর আনন্দে, তো কারোর দুঃখে,নয়তো বা কারুর একান্ত মন খারাপে , আর নয়তো চরম বিপদের সাহস জোগাতে-- সর্বক্ষেত্রে আমরা যে তাঁর গানকে উপভোগ করি। অভ্যস্ত আমরা লতায়, অভ্যস্ত আমরা তার সুরেলা কণ্ঠে। এতো লক্ষ সৃষ্টি কখনো হারিয়ে যেতে পারে না,তা আমরা বেশ জানি। কারন এই সার্কাসের মত জীবনে প্রতিনিয়ত আমরা বাঁচি তাঁর কণ্ঠে, স্বস্তি আসে তাঁর গানে । হারিয়ে তারা যায় যাদের নিদর্শনগুলি হাতে গোনা যায়। সমুদ্রের মতো (লতাজী) সৃষ্টিকে কখনো শেষ করা যায়না।
আমি সুরজ্ঞানহীন এমন একটি মানুষ যে শুধু শব্দ বোঝে, লতাজি কে নিয়ে কিছু লেখার কোনো দুঃসাহস আমার নেই,আমি কতটাই বা জানি তাঁর সম্বন্ধে। কিন্তু তবু আমি বলবো তার সুরে বাঁধা বিখ্যাত লাইন গুলো রসদ হয়েছে জনগণের, মুক্তি, শান্তি, আরাম, মলম হয়েছে অন্যের।
🎵চালতে চালতে য়ুহি কোহি মিল গায়া থা .....
🎵লগ যা গলে কে ফির ইয়ে হাসি রাত হো না হো....
🎵তেরে বিনা জিন্দেগি সে কোহী সিকওয়া তো নাহি...
🎵ইয়ে কাহা আ গ্যায়ে হুম য়ুহি সাথ সাথ চালতে.....
🎵জিন্দেগি পিয়ার কা গীত হে,ইসে হার দিলকো গানা পারেগা..
🎵 এ মেরে বতানকে লোগো.....
🎵হুমকো হামিসে চুরালো ,দিল মে কাহি তুম ছুপালো ....
🎵দো পাল কি থি ইয়ে দিলো কি দাস্তান....
এবং আরো অজস্র গানের এমন সৃষ্টিকর্তা কখনও তার শিল্পকে নিঃশেষ ও নিঃস্ব করে রেখে যেতে পারেনা। পাঁচের দশক থেকে বর্তমান কাল পর্যন্ত এভাবে ধারাবাহিকতা বজায় রেখে জনপ্রিয়তার তুঙ্গে থাকা, বিশ্বের শ্রেষ্ঠ পুরষ্কারগুলির অধিকারিণী লতা মঙ্গেশকর আমাদের মধ্যেই অমর হয়ে রইলেন।
দিন,বছর তারিখের কোনো গবেষণাধর্মী প্রতিবেদন এটি নই, এটি শুধুই আমার মনের শান্তির ভাষা। যেখানে কোনো উদাহরন দিয়ে লতাজীকে ব্যাখ্যা করার সাহস আমার নেই।
0 মন্তব্যসমূহ