দর্পণ | সাপ্তাহিক সেরা নির্বাচিত পরিচালক কলম | কবিতা ও গল্প




পোস্ট বার দেখা হয়েছে

 


ক্যারিড ফরওয়ার্ড 

দে বা শী ষ


যে যার মতো বলে যাই। বলতে চাওয়া গুলো উজার হয়ে জড়ো হতে থাকে। চোখের নিমেষে গোপন মন পড়ে ফ্যালার পরে ভাবে , ভাবতে ভাবতে আরেকটা সকাল, নিজস্বতা নিয়ে পরাক্রমশালী পথচলা শুরু। তারপরেই সময়ের গুহা। চারপাশে চলমান পাথুরে সভ্যতা। ঘষতে ঘষতে রং চটে গিয়ে উন্মাদ যন্ত্র। মাথায় মাথা , চটি জুতোয় রাস্তার ধুলো - পকেটে নৃশংস উপার্জন। রেষারেষি , দরাদরি, ওলটপালট রঙে , নির্বিচারে সময়ের ঘোল ঢেলে পদাতিক, আমি ও তুমি।


কখনো মিছিলে , কখনও বিদ্রোহের উপলব্ধি ফেলে ছুটে চলা কর্মজীবনের নদীর পাড়ে পাড়ে।

যাঁরা ভেসে থাকে, যাঁরা ভিজে থাকে সকলেই রাতের গল্প বলে এবং সংসারের নিরবিচ্ছিন্ন প্রণালী ঘেটে মহান হতে চায়। 


তবুও পথচলা, পুরোটা পৃথিবী জুড়ে মেখে রয়েছে মানুষের দল। কতোটা বুঝতে পারা যায় কিংবা বুঝতে পারি চলার ধরণ।


কেবলই এক ভাবনা থেকে আরেক ভাবনা , এক আদর্শের শেষ থেকে আরেক আদর্শের শুরুর দুনিয়ায় - পৃথক ভাবে ক্যারিড ফরওয়ার্ড হওয়া নিয়মের ক্যালেন্ডারে হাত রেখে বছরকে বিদায় জানাই।



ছোটগল্প 



হ্যাপি নিউ ইয়ার

শিবাজী সান্যাল


               দুরন্ত ট্রেন ধরে বিভূতি আর কল্যাণী মুম্বাই এসে পৌছল । অরিন্দম স্টেশনে ছিল । ওদের বাড়িতে নিয়ে এল । সারা রাস্তায় এক ব্যস্ততা , আকাশচুম্বী সব অট্টালিকা আর হাজার ছুটন্ত গাড়ি ওরা অবাক্ হয়ে দেখছিল । ছোট্ট ময়নাগুড়ি শহরে ওদের বসবাস । এখানে সব কিছুই অন্যরকম লাগে । 

                            কল্যাণীর জোরেই শেষ পর্যন্ত আসতে হল । কারণ ইদানীং মাঝে মধ্যেই বিভূতির শরীর খারাপ হচ্ছে । পা ফুলে যায় , জ্বর আসে আর প্রচণ্ড কাশিতে ও একদম পর্যুদস্ত হয়ে পরে । সবাই বলল , “ ছেলে মুম্বাইতে আছে , একবার চলে যাও । দেখাও হবে আর ভাল ডাক্তার দেখিয়ে চিকিৎসাও হবে । ” তাই আসা । 

                                          পুত্রবধূ রুমা খুবই যত্ন করছে । সকাল থেকে দুপুর অবধি ও একটি কাজে বাইরে থাকে , তারপর বাড়িতে । কিন্তু ওর সাজগোজ , কথা বলার ধরন যেন বউ বলে মনেই হয় না । তেমনি নাতি বিভান । বাংলা কমই বলে । বিভূতি তবু ওর স্কুল মাষ্টারির দৌলতে কোনরকমে কথাবার্তা চালিয়ে নেয় । কিন্তু ও কাছে এলে কল্যাণী বড়ই বিব্রতবোধ করে । একদিন ওকে জড়িয়ে একটা চুমু খেল । পরে বিভূতি বলল , “ বল , কেমন লাগল ? ”

                                                        অরিন্দম একদিন বিভূতিকে নিয়ে গিয়ে বড় ডাক্তার দেখিয়ে , নানা রকম টেস্ট করে এক গাদা ওষুধ নিয়ে ফিরল । বলল , “ চিন্তার কিছু নেই , বাবা সত্বর পুরোপুরি ঠিক হয়ে যাবে । ” কিন্তু কল্যাণী সপ্তাহ পরেও তেমন কোনো উন্নতির লক্ষণ দেখতে পেল না । বিশেষ করে সেই কাশিটা । 

                                                                      ওদের খাওয়া দাওয়া সব অন্য রকমের । রান্নাঘরে নানারকম রান্নার সব ব্যবস্থা । বিভূতি তবু খেয়েও নেয় , কল্যাণী একেবারেই পারে না । ডাল ভাত আর একটি তরকারি পেলেই ও খুশি । অফিস থেকে ফিরে একটু বিশ্রাম করে অরিন্দম বাবার কাছে এসে বসে । অনেক গল্প করে , বেশ ভাল লাগে । কিন্তু কল্যাণী ওর মুখ থেকে মদের গন্ধ পায় । শুনে বিভূতি বলেছিল , “ দেখ , এসব থেকে নযর দূরে রাখো । আর এ নিয়ে তুমি যেন অরুকে কিছু প্রশ্ন কর না । ”

                                                                                    পরের সপ্তাহে বর্ষশেষ এসে গেল । একটি সাজ সাজ রব চতুর্দিকে । রুমা বিউটি পার্লার থেকে সেজে এল । সন্ধ্যেবেলা ওরা সবাই ভাল পোষাক পরে তৈরি হল । অরিন্দম বলল , “ মা , আমরা ক্লাবে যাচ্ছি । ওখানেই সব বন্ধুরা পার্টি আয়োজন করেছে । ফিরতে অনেক রাত হবে , তোমরা খেয়ে নিও । আর দরকারে আমাকে অবশ্যই ফোন কর । ”

                                                                                                  ওরা চলে গেল । জানালা দিয়ে কল্যাণী দেখল শহর রঙিন বাতিতে সেজে উঠেছে । বেশ কিছু লাউড স্পিকার থেকে গান ভেসে আসছে । চারদিকে একটা আনন্দ সোরগোল । রাত বাড়তে লাগল । হঠাৎ বিভূতির শরীর খারাপ মনে হল । ও একটি ওষুধ খেয়ে নিজকে সামলাতে চেষ্টা করল । কিন্তু একটু পরেই সেই কাশিটা শুরু হয়ে গেল । যেন দম আটকে আসছে । কল্যাণী ওর বুকে হাত বুলিয়ে দিতে লাগল , জল খাওয়াল । কিন্তু কিছুতেই কাশি কমছে না ও ছুটে খিয়ে ফোনটা তুলে নিতেই , বিভূতি বলল , “ না , ওদের আজকের এই আনন্দটা নষ্ট কর না । এতো আমার নতুন কিছু নয় । কমে যাবে - - - । ” ঠিক তখনই বারোটা বাজল । চারদিক থেকে বাজির শব্দ ছেয়ে গেল । আকাশে একরাশ আতস বাজি । আস্তে আস্তে মাথা তুলে , হেসে বিভূতি বলল , “ ও গো , হ্যাপি নিউ ইয়ার । ”



অটুট বন্ধনে 

জয়তী


এতদিন জাঁতিটা কুচি কুচি সুপারির ভেতরে পানের বরজ লুকিয়ে রেখেছিলো -

কী নিবিড় ঘন সবুজ ভেজা রোদ্দুরে... 


পানপাতায় শুধু কি কনের পরিণয়ের দরজাই খোলে? 

ও আমার উত্তরের পরিযায়ীরা তোমরা দেখেছো কি, 

মাদুরের ছেঁড়া ঠোঁটে সুতো গুলো কেমন ফাঁকা হয়ে আসে... 


তুমি ভাবছো কোনো নব পরিণীতার অঙ্ক কষতে বসেছি এই রাতে? 

তুমি ভাবছো পান সাজতে বসেছি শেষ পাতে... 

জন্মের পরেই বন্ধনের শুভ উদ্বোধন প্রতিটি লতায় শাখায় -

ঘরে -বাইরে, স্বজন গৃহ বান্ধবে... 


দুটি দৈত্য দ্বার, মানুষের হা গর্ভের সিংহদুয়ার, 

চুন খয়েরে জারিত লালচে আগুনে হোমাস্ত ছাইয়ের অর্ঘ্যে

কত ফেরত চিঠির জবাব উড়ে যায় অন্য শীতের দেশে -


মজলিস যেমন আদুরে আলোয় ভাসে, গান গায় অলস দুপুরে -

তেমনই জাঁতির আঙুল আচমকা ফসকালে বিষাদ কাল নেমে আসে -


সম্পর্ক তো ঢিলা সুতো নয়... 

অটুট এক বন্ধন... পেরেছো বাঁধতে?









বো_ব্যারাক 

সায়ন্তিকা 


কলকাতায় নেতিয়ে পড়েছে কবিতারা ,

মিছিলে চলকে পড়া মেয়েলি ঘাম পায়ের নিচ দিয়েই বয়ে যায় !


আটশো স্কোয়ার ফিট উন্মুক্ত সম্পর্কগুলো নিজস্বীতেই ব্যস্ত ۔۔۔۔


একটা ট্রাম হেঁটে চলে বেড়াচ্ছে শরীরের ভাঁজে ভাঁজে ,

সাদা ফ্যাটফ্যাটে চাদরগুলো ধোপা বাড়ি যেতে গিয়ে কুঁচকে গ্যালো !


এই প্রথম লক্ষ্য করলাম অক্ষরবৃত্ত মাত্রা ছাড়িয়ে গ্যাছে জলাভূমি ,

ব্যান্ডেল লোকালের সস্তার সোনপাপড়িতে ভেজে না ঠোঁটও !


প্রত্যক্ষদর্শীরা দিক নির্ণয় করতেই অভ্যস্ত ۔۔۔

ডান দিকে বেড রুম ,

বামে গ্যালে একটা গর্ত !


ম্যাড়ম্যাড়ে কাগজে বো ব্যারাক থেকে বেরিয়ে পড়ে আরও একটা নতুন মিছিল ۔۔۔۔

কাউন্টডাউন শুরু হোক ۔۔

আরও একটা বছর ۔۔۔

টেন , নাইন , এইট , সেভেন ,۔۔۔۔۔۔۔


ফস্কে গেলেই গিট পড়তে বাধ্য !


তবুও রাস্তায় এতো লেখা কেন ?





উড়ান 

শুভ্রাপাল 


সূর্যমুখী উড়ান ভরেছি ছোট্ট দুটি ডানায়, 

মুখটি তুলে দেখছি কেবল, আদুড় চিত্র'ছায়ায়

অগোছালো কথার তোড়ে নাও যে ভেসে যায় -

ও মাঝি ভাই --- দাঁড়াও না গো, ফিরবো আমি গাঁয় ।


ডুবডুব ঐ সূয্যি ডোবে কথার শহরে, 

সন্ধ্যা নামে ডাঁয়ে -বাঁয়ে, বিলিকাটা ব্যাস্ত নহরে, 

জীবন হয়তো চলছে সঠিক কিম্বা যেমন তেমন -

ট্রাম রাস্তা, রেলের গাড়ি, লাগে একই রকম ।


সুখটানেতে ভরেছি উড়ান নীলের গভীরে, 

সবুজ নদী, সবুজ পাহাড় মোহের তিমিরে, 

ছোট্ট ডানা, পলকা জীবন স্বপ্ন হাজারো -

মনটা কেনো স্বৈরাচারী, পাখি তুমি -- বলতে কি পারো ?



ইচ্ছে

 তন্ময় রাণা 


ভীষণ ভিজতে ইচ্ছা করে 

আজকাল! 

মন চায় একটা বৃষ্টি নামুক জোরেl 


ফি'বছর উপোষী রুক্ষ যতো মন, 

না'হয় 

ভিজতে থাকুক কিছুক্ষন l 


তোমার বুকেতে মৌসুমী বায়ু জমা,  

রোজ ভেতরে 

তোলপাড় করে জানি l  


মনের জানালা কবেই রেখেছি খুলে, 

আছড়ে পড়ো-

যদি কোনোদিন বুকে প্রবল বৃষ্টি সাথে নিয়েl   


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ