পোস্ট বার দেখা হয়েছে
অতৃপ্ত হৃদয়ে
শম্পা চট্টোপাধ্যায়
পৃথিবীর দুচোখ ভরা ক্রান্তি !
খোলামকুচির মতো কিছু লড়াই বিছানো সুদূর জুড়ে।
ছুড়ে দেওয়া কিছু মৌসুমী স্বপ্ন !
কিছু অতৃপ্ত সংকল্প ইতিহাসের পাতায়,
খুব প্রিয় সম্পর্ক অবলীলায় অলিখিত খামে
মুখ লুকায়,
মমিকৃত পিরামিড হয়ে স্বার্থপর ইতিহাসের বুকে।
দূরত্বের বসত আজ ঐ মিথ্যের কাছাকাছি,
সারিসারি বাতিস্তম্ভ নিয়ন আলোয় মুখ ঢাকে সভ্যতার বিজ্ঞাপনে।
উদাস বাতাস বয়ে আনে দূরত্বের সুবাস।
অখণ্ড অবসরে অণুজীবন আঁকড়ে অনলে দগ্ধ ডানা।
সুপ্ত আগ্নেয়গিরির উত্তপ্ত লাভায় শতাব্দী
যুগযুগ ধরে দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলি।
শব্দ বারুদে লিখি ভগ্ন ইতিহাস !
কবিতা বহন করে আমার অতৃপ্ত হৃদয়ের ভার।
=====
ভবিতব্য
মালা সেন দে
খুব একটা চাহিদা আমার তেমন ছিল না কোনোদিন,
আমার কি হবে, হাত দেখাতেও খুব একটা বিশ্বাসী নই ।
একটু স্বাচ্ছন্দ্য, দুবেলা পেট নামক জায়গাটিকে শান্ত রাখা,
আর কখনো আমার চারপাশের সাথে একটু পরিচিত হওয়া।
এর বেশী আমি কোনোদিন চাইতে সাহস দেখাইনি,
সাধারণ বলে পেয়েছি বিদ্রুপ, লাস্ট বেঞ্চের ছাত্রীর গন্ধ মেখে ।
উড়তে চাইনি পড়ে যাবার ভয়ে, আকাশ দেখেছি সবার অলক্ষ্যে,
ভীত হরিনীর মত আড়াল থেকে ছুঁতে চেয়েছি ভালোবাসা ।
মাঝে মাঝে মনে হয়েছে আমাকে বধির করে দাও,
একজন কাঁদলে কি আরেকজন শুনতে পায়!
তবে এত কান্না নাইবা শুনলাম, না পাওয়ার এত যন্ত্রণা!
সম্পর্কের হাটে কবেই তো বিক্রি হয়ে গেছে মূল্যবোধ ।
সব সম্পর্করা আজ প্রদীপের শেষ সলতে, তেলের অভাবে নিভু নিভু,
অন্ধকার নামে যদি, আমি সেখানে এক মুহূর্তও থাকি না ।
আমি বেশী কিছু চাইনি, কার ভাগ্যে বিধাতা কি লিখে রাখে "দেবা না জানন্তি",
দেখি একদিন ভোর দেখলাম সোনালী স্বপ্নের মত ।
বিধাতা একটা কলম দিল উপহার, বললো পেছনের বেঞ্চ থেকে সামনে আয়, এক গ্রাস ভাতের লড়াইকে লিখতে হবে ।
বুকের মাঝে জমানো কথাগুলো আসর বিছায়,
আঙুলগুলো নড়েচড়ে,পেয়েছে সময়,আমাকে কেউ দেবেনা জায়গা সামনের সারিতে ।
এখন শুধু এটুকু জানি, পাওয়ার ঘরে থাকি,
আর না পাওয়ার ওই ঘরের হিসাব তখনও করিনি, আজও করিনা ।
শুধু একটা কথাই বলবো যা পাইনি তা আমার ছিল না,
আজ এই যা পেলাম সবই সেই অদৃশ্য শক্তি ছায়া হয়ে দিয়েছে সাহস।
আজ দুর্বলতা বলতে খিদে, এক আকাশ শব্দের খিদে ॥
=====
ইচ্ছার অপমৃত্যু
মুকুল রায়
দিগন্তের এলোমেলো বাতাসে
সবুজ বনানী হতে চায়
উদ্বেলিত।
কিন্তু
বসন্তেই পাতা গুলো
ঝড়ে গেছে
শাসকের শাসানিতে।
স্তব্ধ তটিনী আছরে
পড়ার অপেক্ষায়
অমা নিশায়।
ওদিকে
ষোড়শীর উদ্দাম ঢেউ
মিলিয়ে গেছে
মধ্য গগনে, বালখিল্যে।
সিংহের গর্জন তর্জন লালসা
সার হয়
পলকে।
আর
রাত্রি শেষের যুদ্ধে জয়ী নাগিনীটা
খোলস ছেড়ে
গর্তে প্রবেশ করে।
দেখে
শাবকটা পড়ে আছে
এককোণে।
আদুল গায়ে।
সদ্য বিধবার যৌবন ঘট
উল্টে গেছে
বিসর্জনের আগেই।
তাইতো সে
নৈবিদ্যের ডালা সাজাতে চায়
নতূন করে।
কিন্তু
পারে না।
সংস্কার গলাটা টিপে ধরে।
=====
বিস্মৃতিতা যাই
সোনালী দাস সরকার
দম বন্ধ হওয়া স্মৃতির শহরে আনাচে-কানাচে ধ্বংস স্তুপ
ধাপার গন্ধ এলাকা জুড়ে আলোর সন্ধান পাইনি অন্ধকূপ।
ষোলকলা পূরণেও কুরবানি অপরিহার্য বিনাশীর এই চিত্ত
সময়ের কাছে সুসময়ে আশা বদলাক এখনের মানচিত্র।
নিজের নজিরে বসিয়ে সবাই যে যার শহরঘর সাজায়
আমি তুমি সাধারণ,নামকীর্তনে মাতি ওদিকে কে যায়?
সবাইকে শুধরাতে অপারগ পরিচিত দের করছি বাছাই
কঠিন সময় কাটিয়ে সহজ করি দার্শনিক মতামতে এগাই।
জীর্ণ চাদরে তবু স্বপ্ন বুনি গালিচায় উজাড় করে
পুরানো পাটাতনে নতুনের আহ্বান বিনি সুতার ডোরে।
ক্ষীণ আশার ঝিলিকে পরিত্রাণ পাই অনিষ্ঠকর উপাদনে
বৃহৎ আকাশে গ্রহ বাড়ুক মানুষের অভাবের বাসস্থানে।
শ্বাস অস্ফুটস্বরে ক্রন্দনরত হতবিহ্বল প্রত্যক্ষদর্শীরা
মূল্যবান জীবনে কর্মফলের পাশে থাকুক প্রিয়দর্শীরা।
ভৌগোলিক ভালবাসায় মুক্তিরোগ চাই,দৈনিক শান্তিতে
পৃথিবীর রূপকথার বাস্তব সৌন্দর্য ফিরুক প্রভুর নেতৃত্বে।
ঝড় থামে,বৃষ্টি কমে রাত কেটে দিন উজ্জ্বল হবেই
তবে কেন আলোর সন্ধানে বাঁচতে মরিয়া সবাই?
0 মন্তব্যসমূহ