পোস্ট বার দেখা হয়েছে
পুজোর ছুটি
পাপু মজুমদার
রূপম পুজোর ছুটিতে ওর বন্ধুর মামাবাড়িতে বেড়াতে গেছে। ওর বন্ধু কৌশলের মামাবাড়ি হাতীবান্ধা গ্রামে। মামাবাড়ির সাথে কৌশলদের দীর্ঘদিন কোনো যোগাযোগ নেই । তখন মোবাইল ফোন ছিল না। তখন খুব চিঠির প্রচলন ছিল । কৌশল যে পুজোয় হাতীবান্ধা গ্রামে আসছে, সেটা সে পত্র যোগে জানিয়েছিল। কিন্তু হাতীবান্ধা গ্রামে এসে প্রায় দু ঘন্টা ষ্টেশনে দাড়ানোর পর ওরা বুঝতে পারে যে, বাড়ি থেকে আর কেউ আসবে না। বোধহয় চিঠি পায়নি। আর তাই সময় নষ্ট না করে ওরা হাটতে থাকে। গ্রামের পথ রাত ন'টা মানেই জমকালো অন্ধকার। কৌশল ওর ব্যাগ থেকে টর্চ টা বের করবে এমন সময় কে যেন কাঁপা গলায় বলতে লাগলো- "চলো, বাবা আমি তোমাদের নিয়ে যাচ্ছি! রবীন দের বাড়ি যাবে তো?" পেছন ফিরে তাকাতেই ওরা দেখতে পেল একজন বৃদ্ধলোক হাতে হ্যারিকেন নিয়ে দাড়িয়ে। ওরা ঐ লোকটার পেছন পেছন যেতে লাগলো। লোকটা খুব তাড়াতাড়ি হাটতে লাগলো। আর হাটতে হাটতে ওরা দেখলো একটা বিরাট ছায়া যেন ঐ লোকটার সাথে সাথে যাচ্ছে। প্রায় অনেকটা পথ হেটে একপ্রকার ক্লান্ত হয়ে ওরা কৌশলের মামাবাড়িতে এসে পৌঁছয় । ওরা গেইট খুলে ভেতরে প্রবেশ করে দেখলো ঐ লোকটা আর কোথাও নেই। মামাবাড়িতে মাত্র তিনজন মানুষ। মামা, মামী, মামার ছেলে পান্তু। রাতের খাবার খেতে খেতে রূপম কৌশলের মামার সাথে কথা বলার সময় জানতে পারলো, গতকাল থেকে গ্রামে কারেন্ট নেই। গোয়ালা মদন বুড়ো কারেন্টের শর্ট খেয়ে গতকাল মারা গেছে। মদন রাত বেরাতে এদিক ওদিক ঘোরাঘুরি করতো। ওর একমাত্র ছেলে পুকুরে ডুবে মারা যাওয়ায় সে পাগল হয়ে গেছিল। সর্বদা হ্যারিকেন হাতে ঘুরে বেড়াতো।
রবীন বাবুর মুখে এসব কথা শুনে রূপম যেন বেশ ঘাবড়ে গেল। তবে কৌশল তেমন একটা ভয় পেল না। ওরা পূজোর কদিন গ্রামে থেকে তারপর শহরে ফিরে যাবে বলে ঠিক করলো। কিন্তু রূপম একদিনের জন্যও এখানে থাকতে চাইছিল না। রবীন বাবুর কাছে রূপম জানতে পারে মদন বুড়োর ছেলে রবীন বাবুদের বাড়ির পেছনের পুকুরে ডুবে মারা গেছে। সেকথা আর আসার সময়কার ঘটনা ভাবতে গিয়ে রূপমের যেন আত্মা শুকিয়ে আসছিল। সে একপ্রকার অসহায় হয়ে রাতে কৌশলের পাশে চুপচাপ শুয়ে ছিল, আর সকাল হবার অপেক্ষা করছিল।
0 মন্তব্যসমূহ