দর্পণ | সাপ্তাহিক নির্বাচিত কলম | কবিতা ও গল্প




পোস্ট বার দেখা হয়েছে


 # কবিতা : 


টিপ / ঝুমা মল্লিক


একটা দেশ,দেশের মাটি,মাটির মেয়ে

একটা বিপ্লব আর একটা টিপ ।

তাই নিয়েই সমাধির পরে ।


দুটি ভুরুর মধ্যিখানে

চন্দ্র জানে, টিপের মানে

ঘর,বর,ও মেয়ে তুই তো পর ,

পরের ঘরে আলো জ্বেলে ,তুই কেন অন্ধকারে ?


শরীর জুড়ে বিষাদ ,জমা-খরচ হিসেব লেখা আছে ঐ টিপে

অভিমানের আগুন ঐ টিপে,

অভিশাপ রেখেছি ঐ টিপে ।


এগিয়ে যাচ্ছে দেশ ?

দেশদ্রোহী যারা ,তারা পিছনের সিটে বসে আছে

ফন্দী করছে ,পাখিদের বন্দী করছে ।

কেউ কেউ দেশটাকে গিলছে ।


এইবার সময় হয়েছে উলুপী,

মশাল জ্বালিয়ে ,মিছিলে এসো।

এইবার নিজেকে,নিজেই ভালোবাসো 


=====================================


প্রবাহ / মালা সেন দে



রাতের ঝলমল পোশাকের আড়ালে,

এখন একটা গভীর ভালোলাগা জড়িয়ে থাকে ।

প্রতি দিনের সম্পর্কের ওপর দিয়ে একটা সম্পর্ক,

কুঞ্জলতার মত জড়িয়ে ধরছে আমার অস্তিত্বে ।

নাভিমূলের নিচে জমা হচ্ছে ভালোবাসা,

একদিন সমস্ত প্রত্যয় নিয়ে আসবে এই পৃথিবীতে ।

কখনো মেঘের পালকের মত নরম অনুভূতি হৃদয় স্পর্শ করছে,

আমার চোখ জুড়ে ক্লান্তির ঘুম নামে,সেতো অবসর ছিল না!

ছিল বিরামহীন আনন্দের নিবিড় সুখ শয্যা ।

স্বপ্নে আমার প্রাণের ভিতর থেকে ভেসে আসে,

একটা সুর আমাকে জাগিয়ে রাখে ।

আমায় জাগিয়ে রাখো,যদি ঘুম আসে চোখে,

স্বপ্ন তুমি নেমে এসো দুচোখে আমার 

রাতের আকাশ থেকো আলোয় ভরে,স্বপ্ন উপহার দেবে জীবন,

অসমাপ্ত স্বপ্ন নিয়ে আমি বসবো ভোরের অপেক্ষায় ।

হলুদ নরম রোদ শাশ্বত করবে সময়কে,

হাজার রকম ফুলের সন্ধান পেয়েছি এইমাত্র ।

নাম না জানা পাখির ডাকে আলগোছে চুম্বন দেবো গালে,

রোদ্দুর হাত ধরাধরি করে আসছে,রোদ্দুরের আদরে একটা গন্ধ খুঁজে পাচ্ছি।

স্বপ্ন তুমি আমার রাতের জানালায় উঁকি দেওয়া শুকতারা ,

ভোরের স্বপ্ন নামুক উঠোনে,আমি অপেক্ষায় আছি।

শুধু একটা স্বপ্নই ,সত্যি হয়ে তার প্রবাহ পাবে বলে ॥


=====================================


নিঃশব্দ ভালোবাসা / গোপেশ রায় 



নিঃশব্দে এসেছিলে, তাই বলি

তুমি আমার নিঃশব্দ ভালোবাসা ।


নিঃশব্দ ভালবাসার কাছে 

আমি অবনত

তুমি, কেমন করে ফোটাও ফুল

তাতো জানিনা

ভালোবাসা তুমি ঠিক আমার

ভগবানের মতো --

সাকার - নিরাকার কিংবা

সবকিছু ...পৃথিবীর কবিতার মতো 

নদী হয়ে আছো, নারীতে-নরেতেও আছো ...


তরতরিয়ে বয়ে যাও সমুদ্র স্নানে,

শব্দ তোল কুলুকুলু কান পাতি স্রোতে

তারই তরে উঠানের তীরে যারা আসে

তারাও তো তোমার মতোই নিঃশব্দেই ভাসে

সংসার সীমানায় সাগরের তীরে 

ঢেউ তোলে তুফান ওঠে, তুফান পড়ে

ভাঙাগড়া অহঃরহ পৃথিবীর পাড়ায়

কাননের কুঞ্জলতায় তুমি খেলা কর

কথা বল নদীরই ভাষায় আচমন করে

ভাঙ নীরবতা

তুমি আমার মুগ্ধতা

নিঃশব্দ ভালোবাসা !


=================================


ভালো_আছি... / মনিকান্ত           



একটু এগিয়ে গেলেই এক নির্দায়ী শূন্য হাত অপেক্ষায়, 


একটু এগিয়ে গেলেই তোর কোলে শায়িত এক কালো পাহাড়, 


আর একটু এগোলেই উলঙ্গ কিছু জমি আর বিবর্ণ এক আকাশ --


ঠিক তার অল্প আগেই থেমে যাওয়া। হয়তো থেমে যেতে হয় -


ডান হাতে একগুচ্ছ উত্তরবিহীন প্রশ্ন, আর

বাম চোখে অপ্রিয় আগামীর বেশ কিছু স্বপ্ন রেখে

হয়তো এভাবেই থেমে যেতে হয়। বারবার। 


তারপর বিস্তীর্ণ এক ফিরতি পথ। নিঃশব্দ। 

অপেক্ষার শেষ প্রান্তে এসে অচেনা হয় সে ও, 

সামনে ততক্ষণে আলো আঁধারি সাঁঝ ও নিস্তব্ধতা। 


-------- ভালো আছি। হয়তো এভাবেই ভালো থাকতে হয়... 


                           

=====================================



মৃত্যু / নীল


অবশেষে সেই অন্তিম, প্রতীক্ষার অবসান,

আমি প্রস্তুত, মৃত্যু আজ শিয়রে দণ্ডয়মান |

গভীর রাত, নিশ্চুপ প্রকৃতি, নেই কোন সাড়া,

পৃথিবী নিস্তব্ধতায় মুড়ে, মৃত্যু যেনও দিচ্ছে তাড়া |


বড্ড অসময়ে, অতীতের সুখ-দুঃখ দিয়ে গড়া,

ক্ষয়ে যাওয়া প্রাচীরটাকে, আজ শুধুই মনে পড়া |

স্মৃতির কাব্য থেকে, দূরে, আরও দূরের আঙিনায়,

মৃত্যু যাচ্ছে নিয়ে কোনও অজানা শান্তির ঠিকানায় |


চারপাশটা একবার দেখে নিলাম, শেষ বারের মতন, 

অতীতের নোনা স্মৃতি, স্বাদ, আহ্লাদ, রঙিন স্বপন |

ধমনীর প্রবহমান রক্ত স্রোতে, অবিরত বয়ে যাওয়া,

গোপন ভালোবাসা, অপূর্ণই থাক সেই শেষ চাওয়া |


মুক্তি নিলাম জীর্ণ কদাকার কুৎসিত শরীর থেকে,

মুক্তি নিলাম তোর আঁকা সাদাকালো ছবি থেকে।

না হয় কোনও একদিন বন্দী হবো মৃত্যু-সহবাসে,

এক অজানা কাব্যে, কোন এক অদেখা স্বর্গে |


রংচটা পথিক হয়ে শত সহস্র পথ পাড়ি দিতে দিতে,

বকুলের গন্ধ গায়ে মেখে মুক্তি নিলাম দুঃস্বপ্ন থেকে |

বিকেলের গোধূলি বেলার স্মৃতি নামক কাব্য থেকে,

মুক্তি নিলাম অসমাপ্ত কবিতার শব্দের ছন্দ থেকে |


সময় শেষ, এবার যেতে হবে, মৃত্যু খুব তাড়া দিচ্ছে,

আস্তে আস্তে শরীরটা কেমন নিথর হয়ে আসছে |

আগুনের লেলিহান শিখা ক্রমশ গ্রাস করে চলেছে,

এক অসমাপ্ত স্বপ্নের ছাই আকাশ বাতাসে ভাসছে |




=====================================

#গল্প : 


 পরিপূরক / মেহেলি ঘোষ


" দিদি বাইরে থেকে এসে রান্নাঘরে রাখা ডেটল সাবান দিয়ে ভালো করে হাত ধুয়ে তারপর কাজ শুরু করেন তো ? " উদ্বেগের সহিত জিজ্ঞেস করে প্রফুল্ল ।


আজ সকাল থেকেই প্রফুল্ল সারা বাড়ি মাথায় তুলে নিয়েছে । একটা দিন ছুটি পেয়ে কি করবে কি না করবে দীসা পাচ্ছেনা । সকলের উপর চিল্লে চলেছে । বাচ্চাদেরকে পরিষ্কার কাপড়ে প্রায় পুরো মুরিয়ে দিয়ে বিছানায় বসিয়ে সারা ঘর ডেটল জল দিয়ে ধুয়ে জীবাণুমুক্ত করছে । সকালে মিনতি দি ঘর মুছে গেছে তবুও ওর মনের শান্তি হয়নি । কিছু বলাও যাচ্ছেনা কারণ যা করছে সবার ভালোর জন্যই করছে। বেচারা নিজেও দুশ্চিন্তায় রয়েছে । কি করবে ওর তো আর ঘরে বসে থাকার উপায় নেই এমন চাকরি যেতেই হবে । তবু শান্তি বিদিশার এখন না বেরোলেও চলবে । ও বাড়িতে থাকতে পারবে । বিদিশা প্রফুল্লর স্ত্রী, পেশায় স্কুল টিচার এবং প্রফুল্ল পেশায় পুলিশ । ভবানীভবন কন্ট্রোলরুমের এমার্জেন্সি শাখায় পোস্টেড । এমন সময় লক্ষ্মী দি এসে পরেছে প্রশ্নের মুখে । লক্ষ্মীদি হোলো ওদের রান্নার দিদি। 


লকডাউনে বেশ কিছুদিন দিদি কাজে আসেননি । প্রফুল্লই আসতে দেয়নি কিন্তু বিদিশা দুটো বাচ্চা সামলে,অনলাইন ক্লাস সামলে আর একা হাতে সবটা পেরে উঠছিলো না । প্রফুল্লকে তো রোজ বেরাতে হচ্ছে কাজে আর এখন করোনার কল্যাণে কিছু বাড়তি কাজও বেড়েছে । তবে বিদিশা নিজের অসুবিধার কথা কিছুই জানায়নি প্রফুল্লকে । হাপিয়ে গেলেও নিস্তব্ধে সে সবটা সামলে চলেছিল । হয়ত আজও প্রফুল্লর উপর সেই অর্থে তার অধিকারবোধ জন্মায়নি । 


আসলে তথাকথিত ঘটক দিয়ে সম্বন্ধ করে তাদের বিয়ে । বিদিশা বরাবরই শান্ত, বেশ শিক্ষিত এবং সুন্দরী ফলে প্রফুল্ল তথা তার বাড়ির সকলেরই তাকে দেখে পছন্দ হয়ে যায় । স্কুলের চাকরিটা সে বিয়ের পরেই পায় । পরীক্ষা আগেই দিয়েছিল তবে ফল বের হয় বিয়ের পর । স্কুল শিক্ষিকার চাকরি বলে কেউ আপত্তি করেনি তবে প্রফুল্ল যে মন থেকে চায়নি তার স্ত্রী চাকরি করুক তা সে একবার প্রকাশ করে ফেলেছিল তাদের প্রথম সন্তান হওয়ার সময় । হয়ত তখনই বিদিশার নরম মনে মানুষটির কঠোর ছবি ফুটে ওঠে । 


বিদিশা কোনদিনই সংসারের প্রতি তার কর্তব্য বিমুখ হয়নি তাই প্রফুল্লও কোনদিন আর তার চাকরি নিয়ে কথা তোলেনি । তবুও হয়ত আজও বিদিশার মনে সেই দিনের সেই প্রফুল্লই রয়েছে যাকে তার কঠোর, আত্মকেন্দ্রীক বলে মনে হয়েছিল এক সময়, তাই আজও সে ভালোবেসে তার কাছে তার অধিকারের আধিপত্য বিস্তার করতে পারেনি । বিদিশা বরাবরই শান্ত ও চাপা স্বভাবের ফলে আর পাঁচটা মেয়ের মত প্রতিবাদী কন্ঠে নিজের অধিকার বুঝে নিতে সে পারেনা । যেখানে আঘাত পায় সেখান থেকে মনে মনে নিজেকে নিস্তব্ধে গুটিয়ে নেয় । 


বিদিশার শাশুড়ীমা তাকে খুব স্নেহ করেন । ফলে তার চোখ এরায়নি বিদিশার প্রতিদিনের অক্লান্ত পরিশ্রম ও শারীরিক কষ্ট । তাই তার শাশুড়ীই দায়িত্ব নিয়ে প্রফুল্লকে বলে পুনরায় কাজের দিদির আসার ব্যবস্থা করেন । প্রফুল্লও মায়ের কথা ফেলতে পারেনা । 


প্রফুল্ল এমনিতে মানুষটি নিজের কাজের প্রতি যথেষ্ট দায়িত্বশীল এবং নিজের পরিবারের প্রতিও বেশ কর্তব্যপরায়ণ । তবে এটুকুই যথেষ্ট নয় । এর বাইরেও প্রতিটি মেয়েই তার স্বামীর মধ্যে তার সবচেয়ে কাছের বন্ধুকে খুঁজে পেতে চায় যার কাছে নির্দিধায় নিজের মনের কথা বলা যায়, তার স্বপ্নের প্রেমিককে খুঁজে পেতে চায় যার বুকে মাথা রেখে নিজেকে নিশ্চিন্তে হারিয়ে ফেলা যায় । যা বিদিশা পায়নি কারণ প্রফুল্ল বেশ রাশভারী মানুষ । হয়ত এর জন্য অনেকাংশে তার পুলিশের চাকরি দায়ী ।


দুদিন আগে পর্যন্তও মানুষটিকে বিদিশার বড় বেমানান লাগত নিজের সাথে কিন্তু তা সে কোনদিনই তার ব্যবহারে প্রকাশ করেনি । দুজনের চিন্তাধারায় বিস্তর ফারাক তাই দশ বছরের বিবাহিত জীবনে সেই অর্থে প্রেমের উপলব্ধি তার হয়নি । বিয়ে করলে সংসার করতে হয় তাই সে করে চলেছে নিস্তব্ধে । সংসারের দায় দায়িত্ব অস্বীকার করার শিক্ষা যে সে পায়নি ! তবে কোনদিন সেই অর্থে ভালো না বাসলেও দুজনের মধ্যে অদ্ভুত এক বোঝাপড়া তৈরী হয়ে গেছে নিজের অজান্তেই মনের গভীরে । সেই বোঝাপড়ার ফল স্বরূপ তাদের দুই সন্তান সহ দশ বছরের ভরা সংসার ! 


সকাল থেকে বাড়ির সকলেই ভয়ে গুটিসুটি হয়ে রয়েছে । বাড়ির সকলেই কমবেশি প্রফুল্লকে ভয় পায় তার রাশভারী স্বভাবের জন্য । কিন্তু বিদিশার কেন জানিনা আজ এই রাশভারী মানুষটিকে দেখে বড় অসহায় লাগছে । মানুষটিকে মানসিক ভাবে বিভ্রান্ত মনে হচ্ছে । আজকাল আর বিদিশার মানুষটিকে ভয় করে না । বরং মানুষটির উপর করুণা হয় । গত তিন চার মাসে এটুকু তো সে বুঝেছে যে মানুষটি আতঙ্কিত তার পরিবারের সুরক্ষা নিয়ে । 


যবে থেকে লকডাউন শুরু হয়েছে বাড়ির কাউকে সে বাইরে বেরোতে দেয়না । বাজার হাট, ওষুধ পত্র আনা থেকে শুরু করে বাইরের যাবতীয় কাজ সে করে । তাকে কর্মসূত্রে বাইরে বেরোতে হয় বলে সে নিজেকে পরিবারের সকলের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা করে নিয়েছে । এমনকি খাবারটা পর্যন্ত সে খাবার টেবিলে বসে খায়না সকলের সাথে একসঙ্গে । নিজের ঘরে একা একা বসে খায় । আজ দীর্ঘ চার মাস ধরে পরিবারের সুরক্ষার কথা ভেবে এইভাবেই সরিয়ে রেখেছে নিজেকে । তবে আজ যেন একটু বেশিই ক্ষেপে উঠেছে । টানা দুঘন্টা ধরে পুরো বাড়ি স্যানিটাইজ করে স্নান সেরে অবশেষে সে নিজের ঘরে গিয়ে বসে । বিদিশা এক কাপ চা নিয়ে প্রফুল্লর কাছে যায় ।


 "চা !"


" একি তুমি ঘরে ঢুকে এলে কেন ? দরজায় নক করে ঘরের বাইরে রেখে দিলেই তো আমি নিয়ে নিতাম !..." কথাটা বলতে বলতে চায়ের কাপটা নিতে হাতটা বারিয়ে বিদিশার দিকে তাকিয়েই আতকে ওঠে প্রফুল্ল..." এমা তুমি মাস্কও পড়নি ! তোমার কি বুদ্ধি লোপ পেয়েছে ? জানো আমাকে বেরোতে হয় মাস্ক ছাড়া আমার সামনে এলে ? আবার বাচ্চাদের কাছে যাবে !".....


প্রফুল্লকে অবাক করে থামিয়ে দেয় বিদিশা । হঠাৎ দুঃসাহসী হয়ে উঠে চায়ের কাপটা খাটের পাসের কর্ণার টেবিলে রেখে প্রফুল্লর মুখটা চেপে ধরে বিদিশা । এই প্রথম বিদিশা প্রফুল্লর চোখে চোখ রেখে অধিকারের সাথে বলে ওঠে ..." চুপ ! একদম চুপ ! কারুর কিচ্ছু হবেনা । অযথা ভয় পাচ্ছো তুমি । চুপচাপ চা টা খেয়ে মাথা ঠান্ডা করো । আমার উপর ভরসা নেই ? "


প্রফুল্ল অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকে বিদিশার দিকে । এইরূপ ঔধ্যত্ব বিদিশার স্বভাব বিরুদ্ধ । মুখ থেকে হাত নামিয়ে বিদিশা আসতে করে প্রফুল্লর পাশে বসে জিজ্ঞেস করে...." কি হয়েছে ? তোমাকে এতো টেনশড লাগছে কেন ? "


" নির্মলের করোনা হয়েছিল । আজ ভোরে এক্সপায়ার করেছে । "


কথাটা শুনে বিদিশার গায়ে কাটা দিয়ে ওঠে । নির্মল প্রফুল্লর সহকর্মী ছিলেন । বিদিশা চুপ করে বসে থাকে । প্রফুল্ল উঠে গিয়ে আলমারি থেকে একটি মেরুন রঙের ফাইল বার করে এনে বিদিশার হাতে দিয়ে বলে..." এই ফাইলটা নিজের কাছে রাখো । আমার কিছু হয়ে গেলে একদম ঘাবড়াবে না । যা কিছু আমি রাখতে পেরেছি তোমাকে নমিনি করে দিয়েছি । এতে সবকিছু আছে । তোমার কোনো অসুবিধা হবেনা । এবার যাও । আমার থেকে দূরে থাকাই ভালো । নিজেও সাবধানে থাকো বাকিদেরও সাবধানে রাখো । যাও !!"


বিদিশা প্রফুল্লকে জড়িয়ে ধরে । " কিচ্ছু হবেনা তোমার । "


প্রফুল্লর সারা শরীরে কাটা দিয়ে ওঠে । আজ প্রথম সে বিদিশার শরীরের স্পর্শে কেপে ওঠে । এতো বছরের সংসারজীবনে এই প্রথম বিদিসা তাকে এইভাবে আলিঙ্গন করে । প্রফুল্ল কাছে এলে সে কোনদিন ফিরিয়ে দেয়নি ঠিকই তবে এভাবে আঁকড়েও ধরেনি । প্রফুল্লর শরীর মন জুড়ে পূর্ণতার তৃপ্তি বয়ে চলে । এদিকে বিদিশার সুরক্ষার ভয়ে তার হাত দুটো ছাড়িয়ে দূরে ঠেলে দিতে ইচ্ছে করলেও সে তাকে ছাড়াতে পারল না । তাকে আরও শক্ত করে নিজের বুকে জাপটে ধরলো । আজ তারা পূর্ণ । আজ বিদিশাও বুঝতে পারে যে তাদের মধ্যে রাবীন্দ্রিক প্রেম না থাকলেও তারা একে অপরের পরিপূরক । মানুষটি নিজের পরিবারের জন্যই বাঁচেন । সেদিনও তিনি পরিবারের কথা ভেবেই উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন । বিদিশাকে চাকরি না করতে দিয়ে তার ব্যাক্তি স্বাধীনতাকে খর্ব করা তার উদ্দেশ্য ছিলনা ।


                               (সমাপ্ত)


=====================================



শিশু দিবস ও ভবতোষ বাবু / মুকুল রায়


 

রামু গাড়িটা তাড়াতাড়ি বের কর...বড্ড দেরি হয়ে গেল, জগা মিষ্টির প‍্যাকেট গুলো গাড়িতে তুলেছিস?....চিৎকার চেঁচামেচি করে সকলকে অস্থির করে তুলছেন ভবোতোষ বাবু।

ভবোতোষ বাবু নামকরা এক রাজনৈতিক দলের ব্লক প্রেসিডেন্ট। আজ শিশু দিবসে তাঁর অনেকগুলো প্রোগ্রাম আছে। 


সাদা ধুতি পাঞ্জাবী, পায়ে নাগরা জুতো আর চোখে গোল্ডেন ফ্রেমের চশমা......মানিয়েছেও দারুন।

সারাদিন প্রায় হাজার খানেক শিশুকে মিষ্টি মুখ করিয়ে পার্টি অফিসে বিশ্রাম নিয়ে বাড়ি ফিরছেন। বুড়ো রামুকে বলছেন---বুঝলি রামু শিশুদের নিষ্পাপ মুখ গুলো দেখে এতো শান্তি পাই, এতো আনন্দ পাই যে তোকে বলে বোঝাতে পারবোনা। ওদের জন‍্য সবসময় কিছু করতে মন হয়....কিন্তু কিছু করতে পারি না রে। চোখে জল এসে যায়। ধুতির কোঁচাটা দিয়ে চোখটা মুছতে মুছতে বলেন...গাড়িটা মাধবের বাড়ির সামনে একবার লাগাস রামু।


দলের কর্মি মাধবের বউটা খুব অল্প বয়সে বিধবা হয়েছে।

প্রেসিডেন্ট বাবু তাই নিয়ম করে একবার আসেন মাধবের বউয়ের খবর নিতে। 

রামু প্রতিদিনের মত মাধবের বাড়ির সামনে ভবতোষ বাবুকে নামিয়ে দিয়ে চলে যায়।


ভবতোষ বাবু ঘরে ঢুকেই মাধবের বউটাকে জড়িয়ে ধরে। মাধবের বউ কিছু বলতে যাবে এমন সময় মাধবের বছর আটেকের বাচ্চাটা ঘরে ঢুকে পড়ে বলে.... সবাই কে বলে দেব।

ভবতোষ বাবু বাচ্চাটার দিকে পায়ে পায়ে এগিয়ে আসে। বাচ্চাটা কে ধরে বলে কি বলে দিবি?

বলব...তুমি মাকেএএএ......আর বলা হয় না.....মুখ দিয়ে তাজা রক্ত গড়িয়ে পড়ে।






একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ