দর্পণ | পিনপোষ্ট বিষয়ভিত্তিক প্রতিযোগিতা | " হেমন্তের আগমনে শীতের পরশ "




পোস্ট বার দেখা হয়েছে




হেমন্তের রোদে শিশিরের উষ্ণতায়

দেবাশিস বসু


ঘাসেদের ডগায় এখনো হীরের নাকছাবি

কড়াইশুঁটির শিখরে রামধনুর প্রতিচ্ছবি

গোলকুণ্ডার খনি এখন গোটা মাঠ জুড়ে

সোনার ফসল আভূমি কুর্নিশ করেছে সঙ্কীর্ণ আলপথ ভরে

সাদা বলাকার দল উঞ্ছবৃত্তিতে

উঞ্ছক সবুজ তোতারাও উদরপূর্তিতে

নীল আকাশে উড়ে চলে মুখপোড়া ময়ূরপঙ্খী

ছাড়তে ছাড়তে সুতো শেষ- লাটাইয়ের সাথে বাঁধা গ্রন্থি


যখন সুনীল আসমান ভাসে কুয়াশার সখ্যতায়

বুঝি আলোয়ান  জড়িয়ে রয়েছে গাছের পাতায়

যখন কুয়াশারা শুয়ে থাকে মাঠে খেতে খামারে -

হেঁটে বেড়ায় সবুজে ঘেরা সাদা পথ ধরে

যেখানে গোধূলি হাঁটে -কুয়াশা দৌড়ায়

বর্ষার হাওড়ে পরিযায়ী রোদ পোহায়

দীঘির শীতল বাষ্পে 

হাজার মাইল উড়ে আসা ক্লান্ত শরীর জুড়ায়

দোতলার নিষিদ্ধ বাতায়নে  লতানো গোলাপ চুমু খায়

মুঠোভরা প্রেম বুঝি হেমন্তের রোদে শিশিরের উষ্ণতায়


উবে যায় ভেসে যায় যত ভালোবাসা জাগতিক বাসনায়

নাকি ভাত রুটি কম্বল বা একটা হোগলার ছাউনির কামনায়


 কবিতা_সহচরী

কলমে_সুব্রত_হালদার 


বড় দ্রুত ফুরিয়ে আসে বেলা..


পেঁজা তুলো সাদা রঙ মেঘের মিছিলে ..

শারদীয়া আকাশ ভেসে গেলে..

চলো আরো একবার পাখির ডানার কিছু খসখস শব্দ আর কিছুটা অবাক  নৈঃশব্দ্য নিয়ে সঞ্চয় করে রাখি  হেমন্তের কিছু হলুদ বিকেল ... 


এই নরম নরম  রূপসী আলোয় আরো নিবিড় হয়ে এসো..

এসো উদাসী হেমন্তের চাদরে চাদরে জড়ানো  মায়াময় স্নিগ্ধ শীতলতায়..

এসো নুয়ে  নুয়ে পড়া ধানের শীষে.. 

এসো  নতুন ফসলের ঘ্রানে। 


তারপর হাঁটতে হাঁটতে চলো চলে যাই  অরণ্যের কাছে..

নতজানু হয়ে বলি আরো কিছু শুদ্ধ বাতাস দাও ..


মৌন পাহাড়ের বুক চিরে  যে জলধারা নদী হয়ে  সমুদ্রের পথে  গেছে ভেসে ..

চলো তার কাছে যাই..

স্নিগ্ধ অবগাহন শেষে বলি ধুইয়ে দাও সব আবিলতা, সব পঙ্কিলতা...


তোমার নাভি মূলে  আবারো পদ্ম ফুটুক..


আমি রাত ভোর শিশিরের জলে ভিজতে ভিজতে সারা গায়ে মেখে নেব সোহাগের রেনু..


ঝির ঝিরে উত্তুরে হাওয়ায় কুয়াশারা ঘন হয়ে এলে হিমেল স্পর্শ এঁকো  রাতের শরীরে.. 

নক্ষত্রের নিবিড় আলোয় আমার কবিতাগুলো খুঁজে নেবে তোমার চুম্বনের ওম..


তারপর কোন এক অলৌকিক মুহূর্তে আমরা ভেসে যাব হেমন্তের ধূসর কুয়াশায়...



হেমন্তের_সায়রে

মালা_সেন_দে



রিক্ততার মধ্যে সৌন্দর্য্য ছড়িয়ে আছে অসাধারণ,

ত্যাগের প্রশান্তি জুড়ে আছে মুক্তির আস্বাদন ।

বৈরাগ্য ধারণ করে কে তুমি বৈরাগী পথের কথা বল, 

গোপন ব্যাথাটা তোমার মতই মাটিতে চায় হতে লীন ।

ভোর হয়, হলুদ পাখিটা ডেকে গেল দূরের পথ যে থাকে অপেক্ষায়,

হলুদ পাতার মত বিবর্ণ কিছু ঝরা পাতার বৈঠকি আলাপচারিতায়।

বার ঘর এক উঠোনে  কাঞ্চনবর্ণ মেয়েটি ব্যস্ত,  হেমন্তে সেকে নিচ্ছে  আলুলায়িত হলুদ যাপনে আদ্যোপান্ত।

স্মৃতির দোলনায় দোল খায় নিরালা দুপুর ব্যালকনির পাতাবাহারে,

দূরের সারি দেওয়া  তালগাছেরা হেমন্তে রিক্ত নিঃস্ব মাঠের ধারে ।

ঘুঘুদের একটানা সুরের মূর্ছনায় অশ্রু নদীও গান গায়,

তাড়াহুড়োয় কাছে আসতে গিয়ে ভালোবাসার বেড়া ভাঙতে চায়।

একরাশ ঝিমুনি নামে, হলুদ স্বপ্ন  নামে চোখে,

চঞ্চুতে চঞ্চুতে চুমু গভীর তৃষ্ণায় বহু যুগের ওপার থেকে।

পশমিনার  আদরে অস্থির ডানা ঝাপটায় ক্ষণিক সুখানুভূতিতে,

হলুদের ছায়া পড়া গলির মোড়ে প্রথম প্রেম হাঁটে নিভৃতে ।

আস্তে আস্তে গোধূলি ছায়া ফেলে ধানক্ষেত আর জলা জংলায়,

বকের ডানায় মেখে নেয় সোনালী স্বপ্ন, ঘূঘুর দল হলুদ সোনা খুঁটে খায়।

কখন চুপি সারে জল রোদ চিকচিক করে হেমন্তের সায়রে,

আবার প্রতিক্ষা, আমি হাঁটতে চাই এক আলোক বর্ষ পথ ভেজা শিশিরে।

কুয়াশা ছুঁয়ে দেবে আমার আমিকে নতুনের বেশে,

সোনা মাখা রোদের পথ ধরে হলুদ ফুলের দেশে॥



Cărarea

 Daniela Marian 



Pe cărarea ce am mers

au crescut buruieni

și nu mă mai pot întoarce

De ce m-aș mai întoarce!

Nu mai pot repara ceva...

Ceva din viața mea.

A trecut și toamna

cu ultimile zile din prag

Copacii s-au dezgolit,

Frunzele zac ruginite.

Simțeam o sufocare.

Aerul poluat geme.

Strigam: "Vino brum-o

dezinfectant din nori"

Iarba e cu petece,

Zorii în mantia albă

Au așternut-o fin,

Ozonul s-a înveselit.

Avem nevoie de el

Împreună putem

reuși să respirăm

Aerul acela proaspăt.

Ce faceți voi, hrăpăreți?

Și copii voștri suferă

Defrișări de păduri,

Planeta este în pericol.

Acum e și virusul,

Are împânziți țepii.

Pământul suferă,

Anotimpurile zac.

Primăvară, vară,

toamnă, iarnă

Unde ești copilărie?

Mai vine zăpada?

E frig și înnourat

În suflet dragă!



বার্তা

মেখলা ঘোষদস্তিদার 



এ মনতো জানে হেমন্ত মানে

হিম হিম অনুভবে

বিলাসী চিত্তে সোনালী রোদ

ভালোবাসা সে নীরবে,


আলো ভেজা নূরে হেমন্ত  সুরে

শীতের বার্তা আসে

দিন যে ফুরোয় বড়ো অসময়

রজনী আবেগে হাসে,


কুয়াশা মাখা নির্জন শাখা

রিক্ত পলক পরে

মর্মর গাঁথা ঝর্ঝর পাতা

দেবকাঞ্চন চরে,


জীবন চলে যায় যাপন তারায়

তরুণ আলো ঘুরে

সবুজে সবুজে হলুদের ছোঁয়া

পড়ন্ত বেলা জুড়ে,


আনন্দ মাঝে বিবর্ণ সাজে

এ শুধু ক্ষণিক মাত্র 

কুড়োনো খামে হেমন্ত নামে

রক্তিমে ভরে পাত্র।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ