পোস্ট বার দেখা হয়েছে
মা-এর গল্প
দে বা শী ষ
ভাগ্যের ক্যাঁচক্যাঁচানি অন্যরকম ঘেরাটোপে আমার বেড়ে ওঠা,
সকল ধুলো ময়লা , পরিশ্রান্ত কথনে কথনে,
কখনো অদ্ভুত ভাবে আকাশটার দিকে তাকিয়ে থেকেছি,
য্যানো কতো কথা জড়িয়ে রেখেছে মেঘ -
য্যানো কতো উদ্রেক,
পাশের বাড়ি পর্যন্ত যতোটুকু চোখ যায় -
কতো জীবন কতোই তাদের পরিশ্রম কিংবা নিয়মামুবর্তিতা ;
এপাশে ওপাশে শব্দদের একসাথে বেড়ে ওঠা ,
কখনও আত্মীয়স্বজন কখনও নিজের মতো ,
পরিযায়ী সংসার যেভাবে একটু ছাদের জন্য মরে ;
ফুটপাতে যেভাবে খাবারের জন্য দৈন্যতা -
আমার সাগরে কংক্রিট ছিলো বেশী -
সারি সারি বেঞ্চে বসে থাকা শৈশবের সবটুকু চাওয়া পাওয়া ;
ওরা কখনও স্রোত পেয়েছে খুঁজে কখনও পেয়েছে হতাশার নিরবতা ।
সব শৈশবে এমন হয়না জানি - সবার শৈশব আলাদা আলাদা ভাষা ;
তবুও নিজমনে 'মা' এর পরমান্ন খুঁজি আজও -
আঁচল থেকে শ্মশান পর্যন্ত যে পথ তার সবটুকুই পুড়ে গ্যাছে কবেই -
তার সবটুকু আত্মপ্রকাশ পায়না এখনও।
সেই ঝড়ের রাত কিংবা পরীক্ষায় পাশ করার অনন্দের মুহুর্ত গুলো সুখ দুঃখের পৃথিবী ওইটুকুই থেকে গ্যাছে ।
ন্যাড়া মাথায় নদীর পাড়ে কড়জোড়ে আজও দাঁড়িয়ে আছি য্যানো -
'মা'এর মুখ দেখবার আশায় আশায়।
আমি বারেবারে ফিরে এসেছি আবারও খুঁজতে গেছি তোমায় 'মা' -
আমার নিরবতায়, তোমাকে দেখবার আশায়।
*****************************
সব নিয়ে যাও
শিবাজী সান্যাল
যা ইচ্ছে নিয়ে যাও , এখনও যতটুকু আছে
শান্ত নিশীথের আড়ালে ,দক্ষিণ হাওয়ার গুঞ্জনে
মৌমাছিদের পাখায় , ফুলেদের রঙে , পাখির ডাকে
গোধূলির স্নিগ্ধতায় , সব নিয়ে যাও ।
যত আমার ভাললাগা অহেতুক , সাগরের আহ্বান
নিশ্চুপ বিস্ময় তারাদের আকাশ , সবুজের সমারোহ
বড় ভাল লাগে , সত্যি বলছি , বারবার মনে পড়ে
তবুও নিয়ে যাও , আমাকে নিঃস্ব করে নিয়ে যাও।
এরাই এতদিন দিবারাত্রি আমাকে রেখেছে জড়িয়ে
বাকি যা কিছু কষ্টের স্মৃতি , এরাই রেখেছে ঢেকে
আর কতকাল মিথ্যে হাসিতে লুকোবো হৃদয়
জীবন দিগন্ত নয় , সীমারেখা আছে তো কোথাও ?
সব তুলে নাও , যা কিছু আছে সাজানো বা অগোছালো
ঘরে বা অন্তরে , সব নিয়ে যাও একে একে বেছে বেছে
কিছুই রেখোনা এখানে , নিয়ে যাও , শুধু নিও না
দয়া করে আমার অবিন্যস্ত কবিতার খাতাগুলি
ঐ যে দেখ , রাখা এক কোণে ।
*****************************
বামুন প্রজাতি,,
জয়তী
মজার ব্যাপার এটাই হলো,
কান যন্ত্রটি প্রতিটি তরঙ্গ ছেপে রাখলেও
মন অক্ষর বুঝলো না..
শব্দ যে এত ভারী হয়!
বাগানের পাতাগুলো শুধুই কান থেকে ঝেড়ে ফেলে-
জলজ আঁকশি বেয়ে শেষ সূর্যের রং
অবেলার বন্ধুজনের সাথে খেলা সেরে কোথায় যায় কে জানে...
পাঁচিলের ওপর দিয়ে প্লেন উড়ে চলে
পাখির পালক হেঁটে আসে মধ্যম দরজায় -
চারিদিকে এত করাঘাত- নবম দরজা খুলতে খুলতে
পৃথিবীতে দৃষ্টান্ত রাখে আশ্চর্য অন্ধকার!
বেড়াল রাতকানা! চারপায়া যদি চেয়ারের হাতল ধরতো
উটের পিঠ বয়ে কুবেরের ধন সাঁতরাতে দিতো না..
আসলে সবাই জানি, কিছুই শুনিনা
পাশকাটিয়ে হেঁটে বাঁচাই যে স্বভাব
সভ্যতা গড়ে যাই বোবা কালা ইঁটের ঘুনসিতে,
বুকের পাটায় হাতুড়ি ছেনির ধকল দুর্বল হাড়ে সয় না
*****************************
মা মা গন্ধ
সায়ন্তিকা
একটা বয়েসে এসে মায়ের গন্ধটাও মিলিয়ে যায় শরীর থেকে !
প্রতিদিন জেগে ওঠা , তারপরেই আবার ঘুমিয়ে পড়া ۔۔۔
যতটুকু ছুঁতে পারে স্বপ্নরা ,
ততটুকুই তো ছিলো মায়ের বিশ্বাস !
"আমি কি পারবো ?"
অদ্ভুত আলো আঁধারির ঘেরাটোপে পৌঁছে গ্যাছে জীবন ,
সকল বিষন্নতা কাটিয়ে আমি দেখতে পাই ফুলের পাপড়িগুলো শুকিয়ে গ্যাছে ,
প্রতিবেশীর কচকচানিগুলো থেকে শুধুই আঁশটে গন্ধ !
এ য্যানো লেপ্টে থাকা সময়ের সাথে ۔۔۔
ধুলো মাখা পায়ে পা মিলিয়ে এগিয়ে চলে তারিখগুলো !
একপেশে নিয়মগুলো ঘনীভূত হয়ে ওঠে ۔۔۔
"আমি নারী ! আমি স্ত্রী ! আমি মা !"
য্যানো নিজের মধ্যেই বেছে নেওয়া নিজের শ্রেষ্ঠ চরিত্রে অভিনয় !
খুব ভোরের এলার্মে ,বাংলা ব্যাকরণে কিম্বা ঠাকুরঘরে একটা মা মা গন্ধ থেকেই যায় !
যে ভাবে কবিতা লেখার নিয়মগুলো দুর্বোধ্য হয়ে ওঠে ,
ঠিক সেভাবেই মুঠোফোনের গ্যালারিতে ভেসে ওঠে শোক , দুঃখ আর গিলতে আসা সংখ্যাগুলো !
ছাদে শুকোতে দেওয়া বড়ি কিম্বা লাল শাড়ি۔۔۔
মা মা গন্ধটা নাকে আসে আজও !
কবিতার কারখানায় প্রতিদিনই মেরামত হয় জীবনের ۔۔۔
কারিগরি দক্ষতা আর একটা গা গুলিয়ে ওঠা গন্ধ ভেসে আসে নাকে !
আমি নতুন বইয়ের প্রতিটা পৃষ্ঠায় নিঃশ্বাস নিতে গিয়ে খুঁজি মা মা গন্ধটা ۔۔۔۔
সারাদিনের ঘামে ভিজে যাওয়া ব্লাউজে লেগে আছে যা আজও ۔۔۔۔۔
রাতের ঘুম ঘুম অভ্যাসে , খুব নীরবে শুধুই ভেসে ভেসে আসে ۔۔۔۔۔
"আমি পেরেছি মা "!
মায়ের গন্ধটা শরীরময় ۔۔۔
ভীষণ জ্বর আসছে আমার !
*****************************
ছাতিমের গন্ধ
তন্ময় রাণা
সম্পর্কগুলো অনেকটা হেমন্তের খসে যাওয়া পাতার মতো l
বেশ কিছুটা সময় ঘসাঘষির পর
ক্রমশ ফিকে হয়ে আসে l
নতুন পাতা গজানোর মত নতুন সম্পর্কেরাও,
সবুজ পাতার মতো ডালপালা মেলে
প্রলেপ দিয়ে যায় l
পুরোনো ফ্যাকাশে হয়ে যাওয়া সম্পর্কের মাঝেl
তার মাঝেও কিছু সম্পর্কের স্মৃতি বুকের বাম পাশের ত্রিকোণ জমিটাতে,
সবুজ বনানীর মত জেগে থাকে চিরদিন চিরহরিৎ অরণ্যের মতো l
ছাতিমের গন্ধের মতো গাঢ় একটা গন্ধ ভেসে আসে নাকে,
সেখান থেকে নিঃসঙ্গতা মাখা একাকী একলা প্রতি রাতে l
যা আমায় বাঁচিয়ে রাখে সুমধুর স্মৃতি মন্থন আর কাঙ্খিত অপেক্ষাতেl
*****************************
শোন প্রিয়
মঙ্গল মিদ্যা (রিপল)
শোন প্রিয়....!
খিদিরপুর থেকে ধর্মতলা ওই যে ট্রাম লাইন,
একদিন দুজনে ঠিক চড়বো।
জানালা দিয়ে ঘোড়া দৌড় মাঠ,
তোমায় আমি আঙুল বাড়িয়ে দেখাবো।
উল্টো দিকে সাউথ গেট,
একটু দূরে গড়ের মাঠের কথা বলবো।
তুমি ঠোঁটের কোণে মুচকী হেসে,
আমার দিকে একটু তাকিয়ে আবার চোখ সরিয়ে নেবে।।
শোন প্রিয়....!
আমরা একদিন হঠাৎ প্রিন্সঘাট যাবো।
মাথার উপর দ্বিতীয় হুগলীসেতুকে রেখে,
পিছুনে পবিত্র গঙ্গার ধারে দুজনে বসবো।
জানি, তুমিও আমার মত সেলফী তোলার চক্করে যাবে না।
প্রকৃতির রূপ দেখতে দেখতে চক্ররেল ধরে মাঝেরহাট নামবো।
তুমি আমার হাতে মৃদু চাপ দিয়ে ইসাড়ায় জানাবে
আনন্দ আর খুব খুসি হয়েছো।।
জানো প্রিয়....!
২৫৯ নং বাস আর আকড়া বজবজ যাওয়া ট্রেনের
বিশেষভাবে সক্ষম সিটের দিকে তাকাই,
তোমায় সেখানে খুঁজে বেড়াই।
জানো প্রিয়.....!
আমি তোমার গোল মুখে হাত দিতে চাই,
তোমার কোঁকড়ানো চুল ছুঁয়ে দেখতে চাই,
জানো প্রিয়.....!
আমি তোমাকে একটা কবিতা শোনাতে চাই,
যা শুধুমাত্র তোমাকে শোনানোর জন্য লেখা।।
0 মন্তব্যসমূহ