পোস্ট বার দেখা হয়েছে
" চাঁদের ঘরবাড়ি-!"
গীতা ভট্টাচার্য
আর কোন রইলো না তো চিন্তা-
পৃথিবীর মানুষ আজ বেঁচেবর্তে থাকতে পারবে চাঁদে ঘরবাড়ি--তৈরি করে
বড়ই সু-সংবাদ ----!!
এই ছবিটি ভালো করে দেখ না-তারই তো ব্যবস্থা হচ্ছে-- তাই নয় কি-?
ও হে শ্রমিকগণ তোমরা আর থাকবে না বেকার---তোমাদের কষ্টের দিন উধাও
চাঁদের ঘরবাড়ি বানাবার কাজে নিয়োজিত হয়ে পর!
দুটি টাকা রোজগার হবে- ঘরে
এবার দুই বেলা পেট ভরে ভাত খেতে পারবে- ছেলে পুলে আর অনাহারে থাকবে না রে-- ওহে শ্রমিকগণ--
আনন্দ কর আনন্দ --!!
ভাবলে অবাক হতে হয়-চাঁদে আবার ঘরবাড়ি হবে----!!
এই সব কিছু বিজ্ঞানের দান!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি কতো কতো আবিষ্কার করে মানুষের উপকার করেছে!
আমরা ছোট বেলায় কখনো ভাবতেই পারিনি- এমন কিছু হতে পারে!
এখন বুঝতে পারছি জীবন পরিবর্তনশীল- তাই তো চারদিকে শুধু পরিবর্তনই
পরিবর্তন-তাই নয় কি-?
এই পরিবর্তন কখনো ভালো কখনো আমাদের জন্য বড়ই কষ্টের!
যাই হোক জীবন যে ভালো মন্দে জড়ানো-এই টাই আমাদের জীবনের
কাহিনী-সুখ দুঃখে গড়া-
হাসি কান্নায় মাখামাখি-!!
====
চাঁদের ঘরে
ফাতেমা খাতুন মুক্তা
নিশুতি রাতে স্বপ্ন দেখে চমকে উঠি,
এ আমি কোথায় আছি!
কখনো ভাসছি কখনো দুলছি,
আমার নির্মাণাধীন ঘরখানি চাঁদের বুকে হামাগুড়ি দিচ্ছে,
ঘুম ভেঙ্গে যায়!
আমি কল্পনার নদীতে সাঁতরে যাচ্ছি নিরবে নিভৃতে,
আহ্! কি যে ভালোলাগা ছুঁয়ে ছুঁয়ে যাচ্ছে প্রতিটি ক্ষণ,
আর বেশিদিন নয়
এবার আমি খুব শীঘ্রই চাঁদের বাসিন্দা হবো,
একলা চাঁদের সর্বক্ষণের সঙ্গী হবো,
আর কেউ কখনো বলতে পারবে না,
"কিভাবে তুমি সম্পত্তির মালিক হতে চাও,
আর কিভাবেইবা একদিন তুমি পৃথিবীর মালিকানা অতিলোভে ছিনিয়ে নিয়েছিলে",
নিজস্ব মালিকানায় আমি চাঁদের ঘরবাড়িতে থাকবো অনন্তকাল,
এখন আর এ পৃথিবীতে ভালো লাগে না,
ভালো লাগে না
পুরো পৃথিবী জুড়ে ল্যাম্প পোস্টের কৃত্রিম আলো,
অবশ্য এ পৃথিবীতে
চাঁদের আলো কে এখন আর কেউই বৃথা খুঁজেও না,
নিজ পৃথিবীতে
ঘিরে থাকা প্রিয় প্রাণগুলোকে
ভালোবাসতে গিয়ে বারবার ব্যর্থ হতে হয় এই আমাকেই,
সেই সাথে যত অবজ্ঞা সইতে হয় ঐ কপালপোড়া চাঁদটাকেও,
কেউই যেন মমত্বকে বোঝে না,
আর ভালোবাসা সেতো মূল্যহীন,
দিনশেষে সবই শূণ্য,
যতটা ভালো সবই বিবর্ণ, সবই ফ্যাকাশে,
সবই আজ ধুয়ে মুছে সাফ!!
যুগ যুগ ধরে আলো দিয়েও
আমাকে আর ঐ দূরের চাঁদটাকেই
কেন জানি যত অবমাননা সইতে হয়,
সবশেষে
সব দোষই পড়ে ঐ কপালে চিড় ধরা পূর্ণ চাঁদটার গায়ে,
বলতে পারো, কেনো এতটা দোষী হয়ে যাও তুমি হে চাঁদ?
আজ যে
কেউই আর তোমার ধার ধারে না,
কেউ তোমার আলোকিত দিকটাকে মূল্যায়িত করে না,
কেউই তোমাকে বুঝে না,
দোষের তকমা তোমাকে কেন বইতে হবে সবসময়!!
কলঙ্কের বোঝা মাথায় নিয়ে কেন তোমায় পূর্ণিমার আলোয় পৃথিবী রাঙাতে হবে!!
হয়তো এটাই নিয়তি,
হয়তো এটাই নির্মম বাস্তবতা,
সারাজীবন শত অবজ্ঞা, অবমাননা, নিন্দুকের নিন্দা
কেন একমাত্র তুমিই মুখ বুজে সয়ে যাও চাঁদ!!
নিজের কষ্টকে বৃষ্টির মতো আর ঝড়তে দিও না,
অন্ধকারে তলিয়ে যেও না,
অমাবস্যায় হারিয়ে যেও না,
নিজ উদারতায় তুমিই ধন্য সর্বদা,
তাইতো চন্দ্র গ্রহণে কখনোই পৃথিবীকে দীর্ঘক্ষণ ঢেকেও রাখনি,
হে চাঁদ, তোমার বিমুখতায় কেবলই পথ হারাবে তোমার স্নেহ নিঃসৃত অতি আপন ক্ষুদ্র কিছু প্রাণ।
সুতরাং এ ঝুটঝামেলার পৃথিবীতে আর নয়,
এবার আমি চাঁদের দেশে যাবো,
চিরকালের জন্য চাঁদের মাটিতে বসত গড়বো,
দুর আকাশের ঐ ছোট্ট চাঁদের ঘরে
অনন্ত জীবন আবাস গড়ে
আমি চাঁদকে নিক্ষেপিত সকল অবমাননা হাসিমুখেই আকণ্ঠ পান করব।
====
"চাঁদের ঘরবাড়ি"
মো. হাকিম
চাঁদের দেশে যাবো আমি,
যদি
সঙ্গে তুমি যাও,
চাঁদটাও তোমায় এনে দেবো
যদি তুমি চাও!
যদি তুমি চাও তবে,
চাঁদনী রাতে, চাঁদের সাথে
সখ্য তোমার হবে,
চাঁদ আর তুমি দুজনেই,
চিরদিনই
পাশাপাশি রবে।
চাঁদের ঠিকানা হবে, চাঁদের ঘরবাড়ি হবে,
ঠিক তোমার আঙিনার ওপাশটায়,
তোমার জানালা খুললেই
তুমি দুচোখ ভরে চাঁদকে দেখতে পাবে,
তুমি হাসলে চাঁদও হাসবে,
তখন চাঁদের আলোয়
তোমার আঙিনাও হেসে উঠবে,
চাঁদ আর তোমার মাঝে
অনেক ভাবও হবে, ভালোবাসাও হবে,
তোমরা জানালা
খোলা রেখে
চাঁদের জ্যোৎস্নায় পাশাপাশি দুজনে ঘুমাবে,
তোমরা দুজনে দুজনার সাথী হবে,
খোলা জানালায় চোখ রেখে তোমরা
আকাশ দেখবে,
নক্ষত্রের আলোয় সুখের
ছন্দও খোঁজে বেড়াবে,
ঠিক ওখানেই তুমি আমাকে পাবে,
কথা দাও,
সারা জীবন তুমি চাঁদের চেয়েও
আমাকেই
বেশি ভালোবাসবে।
====
বৈষম্যের শিকার
রতন চন্দ্র রায়
দৃষ্টিহীন সমাজে
হতাশায় জীবন যাপন
নারী-পুরুষের দল।
আর্থিক অনটনে
বৈষম্যের শিকার হয়
নারী মজুরের দল।
হতাশার জীবন গোছাতে
পাড়ি জমায় শহরের বুকে
নিন্ম আয়ের লোক।
হতাশা তাদের পিছু ছাড়ে না
শত চেষ্টার পরও
ইট ভাঙ্গে বালিটানে
টানে জীবনের ঘানি।
দু'মুঠো ভাতের জন্য
দেহ হতে ঘাম ঝরে
সকাল হতে রাত্রি।
রূপ যৌবন দিয়ে মাটি
পরবাসে কাটে জীবনখানি
টানের সংসারের ঘানি।
ন্যায্য মজুরি হতে বঞ্চিত তারা
স্বার্থপর শহরের মাঝে।
0 মন্তব্যসমূহ