পোস্ট বার দেখা হয়েছে
অসময়ী বৃষ্টি কথা
নিবেদিতা (জয়া)
শরতের মেঘলা আকাশ মেঘলা মন,ভোরের শিশিরে টুপটাপ ঝরতে থাকা শিউলি ফোটা হাসিতে শিশিরের বিন্দু, বৃষ্টি মন, মন কেমন।
মেঘের কোলে হূ হূ বাতাস আর পূবের আকাশের জমাট বাঁধা কৃষ্ণ কালো মেঘমল্লার জানান দিচ্ছে অসময়ী অকাল বর্ষায় ঝিরি ঝিরি রিমঝিম সুরে আগমনীর আগমন।
শীতল বাতাসের জলীয় বাষ্প বার্তা আনে প্রকৃতির কোলে। ঢেউ আছড়ে পড়ে,পাড় ভাঙে, ভাঙে মন, অভিমানীর অভিমানে সমুদ্র বুকে ওঠে প্রবল জলোচ্ছাস। আবহাওয়া অধি দপ্তরে একমাত্র খবর নিম্নচাপ, আরো নিম্নচাপ।
ঘন কালো মেঘে বৃষ্টি আরও প্রবল বৃষ্টি
একি অনাসৃষ্টি!
জলমগ্ন শহর কল্লোলিনী কোলকাতা।এক হাঁটু জলে ডুবে বাড়ি ফেরে অফিস যাত্রীরা, কতো পথচারী কিংবা ফেরিওয়ালারা।
আমি তখন ঘড়ির কাটায় টিক্ টিক্ শব্দে প্রহর গুনি তোমারই অপেক্ষায়। সাঁঝ সন্ধ্যায় পূর্ব আকাশে চেয়ে থাকি, আকাশ যে কখনোই নীল কিংবা সাদা ছিল বোঝাই যায় না।
আকাশ জুড়ে কাজল কালো মেঘে,আকাশে রঙ, গোধূলির রঙ, বৃষ্টি ভেজা প্রকৃতির রঙ, সবুজ ভেজা গাছের রঙ সব রঙ মিলেমিশে এক অদ্ভুত পরিবেশ সৃষ্টি করেছে!
দমকা হাওয়ায় অসময়ী বৃষ্টি আমায় ছুঁয়ে আরো কিছু যেন বলতে চায়। হঠাৎ চেয়ে দেখি একটি বালক চারাগাছ নিয়ে দাঁড়িয়ে বলছে দিদি চারা গাছ নেবেন! গাছ লাগাবেন গাছ! নিন না, তাহলে দু মুঠো ভাত মুড়ি কিনে খাই!!
এক ঝাঁক বৃষ্টি
মালা সেন দে
রাত্রির অবসরে একঝাঁক বৃষ্টি,
হুড়মুড় করে ঝাঁপিয়ে পড়লো
জানালার সার্সীতে ।
পাহাড়ি আলখাল্লায় লুকিয়ে নিজেকে
ঢুকে পড়ল জন বসতিতে ।
এবার বৃষ্টি কেবল বৃষ্টি ঝমাঝম —
বঙ্গোপসাগরী অকাল বায়ুর হানা ।
একাকী নির্জন বিছানায় ভিজে যাওয়া ব্যাথা ,
কান্না ঝরে মাতাল বৃষ্টির সঙ্গমে।
ভিজে যায় যত্নে রাখা সেদিনের আলমারিটা,
জব জবে স্মৃতিরা সব হারিয়ে যায় ।
পুড়ছে শিরদাঁড়া , পুড়ছে সুখ
আজ বৃষ্টি ছড়িয়ে দিচ্ছে তার আদিমতা ।
কলরব মুখর শহরের রাস্তা নিস্তব্ধ,
আজ শুধু হঠাত্ বৃষ্টির আন্দোলন ।
একা এক ঘরে জ্বলছে সলতে পোড়া মনটা ,
একদিন এই ঘরেই অদ্ভুত লাবণ্যধারা বইতো।
শব্দহীনতায় পরিপূর্ণ বাড়ি এক,
তার মাঝখানে পুরোনো একটি প্রাণ।
শব্দহীনতাও যে মুখর হতে পারে,
জানা ছিলো না তো, সেই শুধু জানে।
বিষণ্ণ বেহালার আলাপে প্রলাপে মন খারাপের সুর।
বৃষ্টির ঝাপটা আনে স্মৃতির দঙ্গল,
রুদ্ধ দরজায় কড়া নেড়ে ক্লান্ত ওরা।
উঠোনে নেমে প্রতিবাদ করে ঝুম বর্ষণে,
পুরোনো স্মৃতি দাঁড়ায় বাক্সবন্দী সারিবদ্ধ হয়ে।
একাকী বিষণ্ণ উৎসবে শেষ কান্নায়,
শেষ মোমবাতিটিও পুড়ে নিভে যায়॥
অকাল বর্ষা
রীনা নস্কর
অকাল শ্রাবণ কেড়ে নিল
কাশ বালিকার হাসি,
নীলাকাশে মেঘের দাপট
বড়ই সর্বনাশী !
শুভ্র শারদ সিক্ত বসন
মলিন মুখে সকাল,
আগমনী করুণ সুরে
কাঁদে অনর্গল !
কালো মেঘে গ্রাস করেছে
পেঁজা তুলো রাশি,
দানব সাজে সর্বত্র
অবাধে যায় ভাসি ।
জল থৈ থৈ ব্যস্ত পথ
ভরা নদী নালা,
জলের তলায় ডুব দিয়েছি
শুকনো উঁচু টিলা ।
শিউলি ঝরা আতরে আর
নেই কোন সুগন্ধি,
মন ভ্রমরা দুশ্চিন্তার
কালো গুহায় বন্দি !
অথৈ নীরে তলিয়ে গেল
গচ্ছিত সব ধন
অকাল বারিধারার রোষে
সব হল নিধন !!
THE RAINY CUDDLE
Moitree raju
As I stand by the window
in a thoughtful crescendo,
thinking about life's
innumerable innuendos,
I see all at once
Nature's dramatic stance!
It's the cumulonimbus clouds
that gather with aplomb;
darting all around the sky
like a big black stallion;
announcing the arrival of rainfall
with its distinguished decorum.
The streaks of lightning
and the sound of thunder
are now, all too eager
to release the rainy wonder!
The earth below waits
with outstretched arms
as if saying,
"Oh come soon,
and sing me your rainy psalm."
The rain answers
at first with large pearly droplets;
Making the earth remember
its last joyous dreamlet;
Then the watery breeze
creates a seducing tease,
coercing the tall palm trees
to shake in unison,
while bending a little
in the winds direction.
The rain has its own symphony;
orchestrating music
that caresses the periphery.
It's drumming and humming
gives the heart
a lively tuneful strumming.
I look far and wide
and rainfall is all what I find;
On the road on the roof on the pane on the lane
now rainfall is visible in every terrain!
The earth looks
puddled and muddled,
the greenery looks subtle,
and the mind...?
The mind leisurely begins to relish
the rainy cuddle!!
অসময়ের বর্ষণে
ফাতেমা খাতুন মুক্তা
ঝলমলে রোদ্দুরে চকচক করছিল সবুজ ধরনী,
প্রজাপতি মন দিগ্বিদিক জ্ঞানশূন্য হয়ে ছুটতেই
ঘন ঘন নিম্নচাপ,
খাল, নদী, পুকুর, বাইদের জমিতে
কখনোবা ধীরলয়ে পানি বাড়ছে
কখনোবা একটু একটু করে কমছে,
ভাদ্র আশ্বিনের একরোখা অকাল বৃষ্টি
হঠাৎই আসছে হঠাৎই থামছে;
আর সেই সুবাদে প্রকৃতিও রঙ বদলাচ্ছে,
গাছে গাছে নিয়ম মেনেই ফুল ফুটছে, ফল ধরছে পাতা ঝরছে,
শুধু ঝার জাঙলার সবজিগুলো পচে যাচ্ছে
বাড়ন্ত ধানের কচি চারাগুলো ডুবে যাচ্ছে তুমুল বর্ষণে,
তবুও রোজ সকালেই চোখে পড়ছে
পাশের বাড়ির উঠোনের একপাশে
দুটি খরগোশের নিয়মমাফিক মুখোমুখি কি তুমুল খুনসুটি,
প্রকৃতির নিয়ম অনিয়মে ওদের কিইবা যায় আসে,
অসময়ের বর্ষণে
অর্ধযুগ আগের নকল রড বালি সিমেন্টে গড়া দ্বিতল বাড়িটির প্রতিটি দেওয়ালেই এখন চোখ আটকে যায়,
স্থানে স্থানে
চুন সুড়কি আস্তরণের প্রলেপ খসতেই
বুকের ভেতর থেকে অজান্তেই বেরিয়ে আসে কয়েকটি দীর্ঘশ্বাস,
তাই বলে কি থেমে থাকে জীবনের গতি !!
অথচ ক্লান্ত জীবনে শত ব্যস্ততার মাঝেও ভালোই লাগে একটু আনন্দের উঁকি,
মাঝে মাঝেই অতি সাজানো মধুময় দু-একটি শান্ত বিকেল,
পথের ধারে ঝরে পড়ে থাকা গাছের হলুদ পাতা
মাঝে মাঝে ভেসে আসা গাছেদের দৈব হাহাকার
একটু শান্তি, কখনো প্রশান্তি, কখনো অপ্রত্যাশিত অশান্তি
আর এসব নিয়েই গভীর রাতে কখন যেন ঘুমিয়ে পড়া,
বিকেলে চায়ের কাপে ক্লান্তি দূর হতেই
সন্ধ্যার বিছানায় শরীর এলিয়ে চোখ বুঁজতেই
চৌকোণা ঘরের একপাশের দেয়ালে
সময়ের ঘড়িটা কি অযথাই ঢং ঢং করে!
কতকিছুই তো জানান দিচ্ছে ঘড়িটা
কখনো চলে যাওয়া ক্ষণের বিদায়ী বার্তা
কখনো নতুন সময় আগমনের তীব্র উচ্ছ্বাস।
মাঝে মাঝে তীব্র ঘনঘন বর্ষণে জীবন থমকে যায়,
পাশবালিশটা তখন কেবলই ভিজতে থাকে
যেন আর শুকোবে না,
আবার
মাঝে মাঝে তীব্র উত্তাপে কেন জানি সবকিছুই পুড়ে যায়
কারণটাও অজানা,
অবশ্য
সব কারণের পেছনে যুক্তিও থাকেনা,
হয়তো যুক্তি থাকলেও থাকে
তবে কোনো সংজ্ঞা ও ব্যাখ্যা মিলে না,
দিনের শেষে রাত আসবেই,
রাতের ঘোর অন্ধকার কাটতেই দিনের সূর্যটা উঠবেই,
শুধু বৃত্তের বাইরে যেতে পারে না ছন্দময় সম্পর্কগুলো।

0 মন্তব্যসমূহ